অযোধ্যার বাবরি মসজিদের একটি ইটের কাহিনী ডোমকলের প্রাক্তন সেনার
এস খাতুন, মুর্শিদাবাদঃ
মুর্শিদাবাদ জেলার ডোমকলের বাজিতপুর গ্রামের প্রাক্তন সেনা জওয়ান মহম্মদ আলাউদ্দিন খান প্রায় ৩২ বছর আগে অযোধ্যার ধ্বংসপ্রাপ্ত বাবরি মসজিদের ধ্বংসস্তূপ থেকে সংগ্রহ করে রাখা একটি ভগ্ন ইট নিয়ে এসেছিলেন বাড়ি।
সেই কথা তেমন ভাবে কেও জানতে পারেনি।
ঠিক যখন গোটা দেশ জুড়ে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গায় বাবরি মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু হতেই প্রকাশ্য আসলো সেই আধ খানা ইটের কাহিনী। বিধায়ক হুমায়ুন কবিরের উদ্যোগে ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদের শিলান্যাস হওয়ার পর থেকেই এই ইটের কথা প্রকাশ্য আসে।
ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ ইতিহাসে বাবরি মসজিদ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। প্রায় পাঁচশো বছর ধরে মসজিদটি উপাসনার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হলেও ১৯৮০-এর দশক থেকে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
বাবরি মসজিদ ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর এক উগ্র রাজনৈতিক জনতার হামলায় মুহূর্তে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। সেই ঘটনার অভিঘাতে সম্পূর্ণ ভারতজুড়েই সাম্প্রদায়িক অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে, যার স্মৃতি আজও অনেকের মনে দগদগে।
এত বড় ঐতিহাসিক ঘটনার সরাসরি সাক্ষী ছিলেন ডোমকলের মহম্মদ আলাউদ্দিন খান – যিনি তখন সিআরপিএফ-এর র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সে কর্মরত।
বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিন উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকার কথা থাকলেও আলাউদ্দিনদের দলকে ফয়জাবাদের আর্মি ক্যাম্পে আটকে রাখা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর যখন তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেন, তখন দেখেন ৫০০ বছরের পুরনো স্থাপনার একটিও চিহ্ন অক্ষত নেই। চারদিকে শুধু ধুলো, ধ্বংস, আর কান্নার রেশ।
সেই মুহূর্তের বেদনা, হতভম্ব হওয়া সবই মনে গেঁথে যায় আলাউদ্দিনের। এই স্মৃতি আর ইতিহাসের প্রতীক হিসেবে তিনি ভেঙে পড়া মসজিদের একটি ইট সংগ্রহ করে নিজের ব্যাগে রাখেন এবং বহু বছর ধরে সযত্নে নিজের গ্রামে সংরক্ষণ করেন।
প্রায় তিন দশক ধরে ডোমকল থানার বাজিতপুর গ্রামের মানুষের কাছে ইটটি যেন এক ইতিহাসের নিদর্শন।
এই ইটের মাধ্যমে অতীতের ক্ষতকে সম্মান জানিয়ে ভবিষ্যতের শান্তি ও সংহতির দিকে এগিয়ে যাওয়ার বার্তাই ফুটে উঠছে।
বেলডাঙ্গায় বাবরি মসজিদ হওয়ার কথা শুনে তিনি এই ইটটি বের করেন এবং বেলডাঙ্গার বাবরি মসজিদে ইটটি দান করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।








