সিঙ্গুরের সভা থেকে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্বের শুভ সূচনা
নতুন পয়গাম, সঞ্জয় মণ্ডল, বাঁকুড়াঃ রাজ্যের প্রাপ্য কেন্দ্রীয় বরাদ্দ আটকে রেখে বাংলার প্রতি বঞ্চনা করা হচ্ছে— দীর্ঘদিন ধরেই এমন অভিযোগ তুলে আসছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে বিজেপির পাল্টা দাবি, একশো দিনের কাজের টাকা-সহ কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থের যথাযথ হিসেব রাজ্য সরকার দিতে পারেনি বলেই টাকা আটকে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় দুর্নীতির অভিযোগও বারবার তুলেছে বিজেপি। এই অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের আবর্তে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজ্যের প্রান্তিক ও গরিব মানুষজন। এমত অবস্থায় কেন্দ্রের ওপর নির্ভর না করে রাজ্য সরকারের নিজস্ব উদ্যোগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের ঘোষণা করেন। সেই অনুযায়ী গ্রামীণ এলাকায় প্রকৃত উপভোক্তাদের জন্য এককালীন ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা সহায়তার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যার মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ৬০ হাজার টাকা ইতিমধ্যেই উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে গেছে।
এদিন সিঙ্গুরের সভা মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, রাজ্যের প্রায় ২০ লক্ষ পরিবারকে ‘বাংলার বাড়ি (গ্রামীণ)’ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্বের প্রথম কিস্তির টাকা প্রদান করা হবে। রাজ্যের অন্যান্য জেলার পাশাপাশি বাঁকুড়া জেলার বড়জোড়া বিধানসভা এলাকার ১১টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মোট ৪,১২২টি পরিবার ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা পেয়েছেন। বড়জোড়া পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ আমজাদ মণ্ডল বলেন, “বিজেপির প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির বিরুদ্ধেই দীর্ঘদিন ধরে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার বাংলার গরিব মানুষকে তাঁদের ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করছে।” তিনি আরও বলেন, “রাজ্যের সীমিত আর্থিক ক্ষমতার মধ্যেও মুখ্যমন্ত্রী সবসময় বাংলার মানুষের পাশে ছিলেন, আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।”








