BREAKING:
কর্মরত মায়েদের জন্য ডে-কেয়ার: অধিকার নাকি বিলাসিতা? এসআইআর: সুপ্রিম-পর্যবেক্ষণ স্পষ্ট, ভোটার তালিকা খেয়ালখুশির বিষয় নয় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগে জেলাশাসকের কাছে স্মারকলিপি তৃণমূলের বসিরহাটে এস আই আর ‘হেয়ারিং’-এর নামে চরম হয়রানি সর্বভারতীয় অংকন প্রতিযোগিতায় জয়নগরের মেয়েদের উজ্জ্বল সাফল্য সাম্রাজ্যবাদ, সমাজতন্ত্র ও আজকের বিশ্ব বসিরহাট মালিতিপুর হাই স্কুল-এ বাৎসরিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ইসলামপুরে পূর্ণাঙ্গ সরকারি হাসপাতাল নির্মাণের দাবিতে বাংলা পক্ষের স্মারকলিপি আল্লাহতায়ালা করুণাময়, ক্ষমাশীল রাজনগরের লাউজোড় উচ্চ বিদ্যালয়ে হীরক জয়ন্তী উদযাপন, বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের সূচনা নাগপুরে আজ সম্মান পুনরুদ্ধারে নামছে টিম ইন্ডিয়া শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে নায়ক ওকস্ এসআইআর: কোচবিহারে জমিয়তে উলামার ডেপুটেশন রায়গঞ্জে আইন সচেতনতা কর্মসূচি: নাটক, বিশেষজ্ঞ বক্তৃতা ও আউটরিচ কার্যক্রমে জোর এসআইআর হিয়ারিং-এর নামে হয়রানির অভিযোগে খণ্ডঘোষে সিপিআইএমের মিছিল জয়নগরে বিডিওদের কাছে বিএলওদের অব্যাহতির আবেদন ভোটার তালিকা নিয়ে কারচুপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তৃণমূলের বিক্ষোভ, ইন্দাস বিডিও অফিস ঘেরাও এক বিদ্যালয়ে ছাত্রী ছয়জন, শিক্ষিকা তিনজন ইসলামপুরে পূর্ণাঙ্গ সরকারি হাসপাতাল নির্মাণের দাবিতে বাংলা পক্ষের স্মারকলিপি মালদায় আন্তঃকলেজ জেলা ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সূচনা; অ্যাথলেটিক্সে চ্যাম্পিয়ন কালিয়াচক কলেজ পড়লে পড়ো, না হয় গাছে চড়ো ক্ষুদ্র শিল্পের প্রসারে কেন্দ্রকে কাউন্সিল গড়ার প্রস্তাব হাটজনবাজার ওভারব্রিজ ঘিরে বিতর্ক, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে স্কুল পড়ুয়াদের উপস্থিতি ও উদ্বোধনের আগেই যান চলাচলের অভিযোগ এসআইআর আতঙ্কে আবারও প্রাণহানি, রামপুরহাটে আত্মঘাতী যুবক স্ত্রীকে লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সির নোটিস, করিমপুরে আতঙ্কে আত্মঘাতী গৃহ শিক্ষক, নির্বাচন কমিশনকেই দায়ী করল পরিবার বাংলাদেশকে ‘ডেডলাইন’ আইসিসির ডব্লুপিএল: ৫ ম্যাচে ৫ জয়, প্লে অপে বেঙ্গালুরু ছুটছে রয়্যাল সিটির অশ্বমেধের ঘোড়া, আজ পরীক্ষা ব্যারেটোর দলের নাটকীয় জয় সেনেগালের! রেফারির সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ মেহতাব, বিএসএলে দল তুললো সুন্দরবন লজ্জার ইতিহাস গড়ে নিউজিল্যান্ডের কাছে হার ভারতের, দাম পেল না কোহলির শতরান ইন্দোরে আজ মরণবাঁচন ম্যাচে দলে হয়তো অর্শদীপ সিং ভারত-বাংলাদেশ ছোটদের ম্যাচেও ‘হ্যান্ডশেক-বিতর্ক’। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজে চমকের নাম শ্রেয়স, বিষ্ণোই বয়সভিত্তিক লিগে জয় মোহনবাগানের দুই টিমের,পয়েন্ট নষ্ট লাল হলুদের ছোটদের মৃত্যু ও জানাযার মূল বার্তা নতুন প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল গবেষণা ও সত্যের সন্ধানে কলকাতায় ইতিহাস সম্মেলন বিজেপি-শিণ্ডে দর কষাকষি, কাউন্সিলররা হোটেলবন্দি গ্রেটার মুম্বইয়ের মেয়র পদ আড়াই বছর করে ভাগাভাগি হবে? কেন্দ্রের দাবি, মূল্যবৃদ্ধি মাত্র ১ শতাংশ রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সমীক্ষায় অস্বস্তিতে কেন্দ্র সরকার শংকরাচার্যকে পুণ্যস্নানে বাধা, সাধুদের প্রহার, প্রয়াগরাজে ধু্ন্ধুমারকাণ্ড মুর্শিদাবাদ: মুর্শিদকুলি থেকে মমতা পুরভোটের পর মহারাষ্ট্রে রিসর্ট রাজনীতি! ঘোড়া কেনাবেচার ভয়ে জয়ীরা হোটেল-বন্দি প্রসঙ্গ: বাংলায় মুসলমানদের অবদান আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে জামাআতের সেমিনার ‘বিদ্রোহী’ কবিতার প্রথম ইংরেজি অনুবাদ প্রসঙ্গে ‘দিল্লির জল্লাদদের কাছে মাথা নত নয়’ সিঙ্গুরের জবাব চোপড়া থেকে দিলেন অভিষেক সিঙ্গুরে শিল্প নিয়ে নীরব মোদি ট্রাম্প কালপ্রিট: খামেনেয়ি জ্যোতি বসু: কিছু অজানা কথা (৮ জুলাই ১৯১৪–১৭ জানুয়ারি ২০১০) গোয়েবলসের ফর্মূলা শিক্ষায় ইসলামের ঐতিহাসিক অবদান ও বর্তমান প্রাসঙ্গিকতা শিক্ষা কি কেবল চাকরির সিঁড়ি? প্রতিরক্ষা খাতের নিয়ন্ত্রণ কি বিদেশের হাতে? এফডিআই-এর সীমা বাড়িয়ে ঝুঁকির মুখে কেন্দ্র মালদা-মুর্শিদাবাদে দাঙ্গার কারণ অনুপ্রবেশ: মোদি ডিএ মামলার রায় এত প্রলম্বিত হচ্ছে কেন? আল আমীন মিশন পুনর্মিলন উৎসব ২০২৬ বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূলের উন্নয়নের পাঁচালী, চুঁচুড়ায় সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রীর সভার আগেই পোস্টার পড়ল, দাবি নতুন রেল স্টেশনের কালিয়াচক কলেজের উদ্যোগে ‘ফিট ইন্ডিয়া ম্যারাথন রেস’, রাজ্য ও ভিনরাজ্যের প্রতিযোগীদের অংশগ্রহণ ৮০ জনেরও বেশি বিশেষভাবে সক্ষম মানুষের অভিনয়ে ব্যতিক্রমী চলচ্চিত্র ওয়ান লিটল ফিঙ্গার কালিয়াচক বনি চাইল্ড মিশনে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা: উচ্ছ্বাসে মাতলো ছাত্রছাত্রীরা টিটোয়েন্টি থেকেও ছিটকে গেলেন সুন্দর, বিশ্বকাপেও অনিশ্চিত ম্যাচ জিতলেও, হতাশ করলো বৈভবরা বিতর্কিত নাজমুল ইসলামকে বহিষ্কার করলো বিসিবি সপ্তগ্রামের কেষ্টপুরে ৫১৯ বছরের অভিনব মাছের মেলা, ভোর থেকেই ক্রেতাদের ভিড়ে জমজমাট ভুল বিধানসভা কেন্দ্রের উল্লেখে এসআইআর নোটিশ ধূপগুড়ি রেলওয়ে স্টেশনে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের স্টপেজের দাবিত অবস্থান বিক্ষোভ! খুদেদের উদ্যোগে অভিনব ফুড ফেস্টিভ্যাল, উৎসবে মাতলো তারঘেরা এস পি প্রাইমারি স্কুল জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিবাদ কর্মসূচি, শাসক দলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ হুমায়ুন কবিরের কান্দিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সভা ইমাম সংগঠনের উদ্যোগে ডেটা অ্যানালিসিস ও এআই বিষয়ক কর্মশালায় নতুন দক্ষতার আলোকপাত এসআইআর নোটিশ ঘিরে উত্তাল মাটিয়া, দিনভর টাকি রোড অবরোধ ২০৩৯ সালে হবে ৩টা ঈদ এবং ২টা হজ বয়স মাত্র দশ বছর কিন্তু সাফল্যের নিরিখে সে অনেক বড়দেরও অনুপ্রেরণা  সুন্দরবনের মৈপীঠে অবাধে ম্যানগ্রোভ নিধন চলছে, প্রশাসন নির্বিকার সমুদ্রের জলের স্তর মাপতে গঙ্গাসাগরে ব্যবহার হচ্ছে রিমোট অপারেটেড ভেহিকেল এসআইআর ঘিরে উত্তেজনা ভাঙড়ে, রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ এসআইআর প্রক্রিয়ার নামে হেনস্থার অভিযোগ মকর সংক্রান্তিতে গঙ্গাসাগরে রেকর্ড জনসমাগম নলহাটি ২নং ব্লকে SIR তালিকায় ৩১ হাজার গরমিল আজ শুরু ছোটদের বিশ্বকাপ, প্রথম দিনেই মাঠে নামছে ভৈবরা ব্যর্থ বিরাট, ব্যর্থ ভারতও; কাজে এল না রাহুলের দুরন্ত সেঞ্চুরি শীর্ষে বিরাট, ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে ড্যারিল মিচেল ইন্দাসে আনুমানিক ৪০০ বছরের পুরানো শ্রী শ্রী বাঁকুড়া রায়ের কুড়চি মেলার শুভ উদ্বোধন ভাঙড়ে আইএসএফ-তৃণমূল সংঘর্ষ, আহত উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী কালিয়াচক কলেজের উদ্যোগে ‘ফিট ইন্ডিয়া ম্যারাথন রান আরামবাগে পঞ্চদশ বর্ষের গ্রন্থমেলা ও নাট্যোৎসব ২০২৬ বেশ জমে উঠেছে শীতের রাতে ভরসা হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিশ কর্মসংস্থান ও শিল্পে ব্যর্থতার অভিযোগ, পূর্ব বর্ধমানে তৃণমূলকে আক্রমণ অগ্নিমিত্রা পলের কালিয়াচকে শীতবস্ত্র বিতরণ: দুঃস্থদের পাশে সুজাপুরের আব্দুল হান্নান বিলুপ্তির পথে কালিয়াচকের শেরশাহি ও মোথাবাড়ির বাবলা এলাকার ঐতিহ্যবাহী তাত শিল্প ছবি এঁকে দিল্লিযাত্রা কৃতি ছাত্র ইমরানের পৌষের শেষে ফসল ঘরে, ধর্ম ও সংস্কৃতির মিলনে গ্রামবাংলায় মকর সংক্রান্তির উৎসব শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে নায়ক রাজা। হরমনপ্রীতের দুরন্ত ব্যাটিংয়ে উড়ে গেল দিল্লি ক্যাপিটালস আজ জিতলেই সিরিজ ভারতের, বেগ দিতে মরিয়া নিউজিল্যান্ডও বাংলাদেশের দাবিকে নস্যাৎ করলো আইসিসি বার্সার কাছে হেরে চাকরি হারালেন রিয়াল কোচ জাভি আলান্সো জগন্নাথ ধাম শুধুমাত্র পুরীতে দিঘায় নয়, দাবি পুরীর শঙ্করাচার্যের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্ মুহুর্তে গেরুয়া শিবিরে ভাঙ্গন ধরালো ঘাসফুল শিবির

সুলতানি আমলে বাংলার শিক্ষাব্যবস্থা

প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারী ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৫১ | আপডেট: ২১ জানুয়ারী ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৫৮
সুলতানি আমলে বাংলায় প্রাথমিক শিক্ষার ব্যাপক প্রচার-প্রসার ছিল। শিক্ষা ছিল সামাজিক সম্মান অর্জনের মাধ্যম। বাংলার সুলতানরা তাই শুরু থেকেই শিক্ষার প্রসারে মনোযোগ দিয়েছিলেন। এমনকি ধনাঢ্যরাও পিছিয়ে থাকেননি। প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হত মক্তব থেকে। প্রায় প্রতিটি মসজিদে এবং ধনী ব্যক্তিদের বাড়ির সামনে থাকত মক্তব। বাংলায় এসব মক্তবকে পাঠশালাও বলা হত। সাধারণত চার-পাঁচ বছর বয়সে শিশুদেরকে মক্তবে পাঠানো হত।

সঈফ উদ্দীন মণ্ডল,নতুন পয়গাম: সুলতানি আমলে বাংলায় প্রাথমিক শিক্ষার ব্যাপক প্রচার-প্রসার ছিল। শিক্ষা ছিল সামাজিক সম্মান অর্জনের মাধ্যম। বাংলার সুলতানরা তাই শুরু থেকেই শিক্ষার প্রসারে মনোযোগ দিয়েছিলেন। এমনকি ধনাঢ্যরাও পিছিয়ে থাকেননি। প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হত মক্তব থেকে। প্রায় প্রতিটি মসজিদে এবং ধনী ব্যক্তিদের বাড়ির সামনে থাকত মক্তব। বাংলায় এসব মক্তবকে পাঠশালাও বলা হত। সাধারণত চার-পাঁচ বছর বয়সে শিশুদেরকে মক্তবে পাঠানো হত।
ভারতবর্ষে সাধারণত বছর ও মাসের মিল রাখা হত, যেমন চার বছর চার মাস বয়সে কিংবা পাঁচ বছর পাঁচ মাস বয়সে শিশুদেরকে মক্তবে পাঠানো হত। শিক্ষক কুরআনের একটি আয়াত পাঠ করতেন, শিশু তা পুনরাবৃত্তি করত। এভাবেই শুরু হত শিশুর শিক্ষাজীবন। ধনীরা এই উপলক্ষে খাবারের আয়োজন করতেন। এই অনুষ্ঠানকে বলা হত ‘বিসমিল্লাহ-খানি’। সেসময় ফার্সি ছিল রাজভাষা। ফলে সালতানাতের চাকরি পেতে হলে ফার্সি ভাষা জানতে হত। মক্তবে আরবি ও ফার্সি পড়ানো হত। অমুসলিম বা হিন্দু শিশুরাও মক্তবে পড়ত। সুলতানি আমলে অনেক হিন্দু কর্মকর্তা সাম্রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন।
সাইয়েদ সোলাইমান নাদভি তাঁর ‘হিন্দুয়ো কি তালিমি তরক্কি মে মুসলমান হুকুমরানো কি কোশিশে’ — গ্রন্থে এমন অনেক হিন্দু কর্মকর্তার পরিচয় দিয়েছেন, যাঁরা বাল্যকালে মক্তবে মুসলিম শিশুদের সাথে পড়াশোনা করেছেন।
সেকালে প্রতিটি মসজিদের জন্য লা-খেরাজ ভূমির ব্যবস্থা ছিল। এই জমির আয় থেকে মসজিদের ব্যয় নির্বাহ করা হত। সাধারণত মসজিদের ইমামই মক্তবে পড়াতেন। প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষায় ধর্মীয় শিক্ষাদানই ছিল মূল পাঠ্যক্রম। কবি বিপ্রদাস লিখেছেন, মুসলিম ছেলে-মেয়েদেরকে মক্তবে অজু করা ও নামায পড়ার পদ্ধতি শেখানো হত। এসময় হস্তলিপিও শেখানো হত।
প্রাথমিক শিক্ষার পরের ধাপ ছিল মাধ্যমিক শিক্ষা। মাদ্রাসাসমূহে এই স্তরের পাঠ দেয়া হত। সুলতানি আমলে শুরু থেকেই এই অঞ্চলে প্রচুর মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়। ঐতিহাসিক মিনহাজ-ই-সিরাজ লিখেছেন, বখতিয়ার খলজি লখনৌতি জয়ের পর সেখানে মসজিদ, মাদ্রাসা ও খানকাহ নির্মাণ করেন।
সুলতানি আমলের অন্য সুলতানরাও এই ধারা অব্যাহত রাখেন। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য লা-খেরাজ জমি বরাদ্দ দেয়া হত। শিক্ষকদের জন্যও ভাতা নির্ধারণ করা হত। সুলতানি আমলে শিক্ষকদের এই ধরনের ভাতাকে বলা হত মদদ-ই-মাআশ। সদরুস সুদুর ও শায়খুল ইসলাম নামে দুটি পদ ছিল। এই দুই পদে আসীন কর্মকর্তারা এসব মাদ্রাসা ও শিক্ষকদের দেখভাল করতেন। প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রচুর লা-খেরাজ জমি ওয়াকফ করে দেয়া হত। নওগাঁর মহিসন্তোষে তকিউদ্দিন আরাবি প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসার জন্য বরাদ্দ জমির পরিমাণ ছিল ২৭০০ একর। রাজশাহীর বাঘাতে প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসার জন্য ৪২টি গ্রাম দান করা হয়েছিল। এসব মাদ্রাসায় ছাত্ররা বিনা খরচে আহার, পোশাক, প্রসাধনী, পান্ডুলিপি নকল করার জন্য কাগজ-কলম ইত্যাদি সবই পেত।
সেসময় ধনাঢ্যরা তাদের সন্তানদের পড়াশোনার জন্য গৃহশিক্ষক নিয়োগ করতেন। এলাকার দরিদ্র ছাত্ররাও এই শিক্ষকের কাছে পড়ার সুযোগ পেত। সুলতানি আমলে প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই কালের আবর্তে হারিয়ে গেছে। তবে এখনো গুটিকয় মাদ্রাসার নিদর্শন টিকে আছে। এর মধ্যে নওগাঁর মহিসুনে তকিউদ্দিন আরাবির মাদ্রাসার কথা বলা যায়। এখানে পড়েছিলেন বিহারের বিখ্যাত সুফি শারফুদ্দিন মানেরির পিতা ইয়াহইয়া মানেরি। এই মাদ্রাসার পাঠ্যসূচিতে চিকিৎসাবিজ্ঞান, রসায়ন, জ্যামিতি, ইতিহাস ও অন্যান্য বিষয় পাঠ্য ছিল। সেসময় মহিসুন ছিল সোহরাওয়ার্দি তরিকার সুফিদের আবাসভূমি।
ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষদিকে শায়খ শারফুদ্দিন আবু তাওয়ামা সোনারগাঁওতে একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। ঐতিহাসিক তথ্যমতে, বাংলায় সর্বপ্রথম এখানেই হাদিসের দারস দেয়া হয়। ১৫০৩ খ্রিস্টাব্দে সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ দরসবাড়ি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। চাঁপাই-নবাবগঞ্জে এখনো এই মাদ্রাসার পরিকাঠামো টিকে আছে।
আবদুল করিম লিখেছেন, সুলতানি আমলে যেখানেই মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হত, সেখানেই একটা Religious Complex গড়ে উঠত। মাদ্রাসার সাথে মসজিদ, খানকা, মাজার এবং সরাইখানাও নির্মাণ করা হত। কখনো কখনো শুধু মসজিদ ও মাদ্রাসাও প্রতিষ্ঠা করা হত। সুফিরা মাদ্রাসা নির্মাণ করলে সাথে তাঁরা খানকাহও নির্মাণ করতেন।
এই মাদ্রাসাগুলো ছিল আবাসিক। ছাত্র-শিক্ষক সবাই মাদ্রাসায় থাকতেন। জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ শাহের শিলালিপিতে তালিবুল ইলমদের জন্য ব্যয় করার কথা আছে। বিভিন্ন শিলালিপিতে মাদ্রাসাকে দারুল খাইরাত বা বিনাউল খাইরাত বলা হয়েছে। যা থেকে বোঝা যায়, সুলতান ও আমিরদের পাশাপাশি বিভিন্ন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিরাও মাদ্রাসা ও ছাত্র-শিক্ষকদের জন্য ব্যয় করতেন। জাফর খানের মাদ্রাসার শিলালিপিতে দেখা যায় কাজি নাসির তাঁর ব্যক্তিগত অর্থ থেকে এই মাদ্রাসায় দান করেছিলেন।
এসব মাদ্রাসায় সাধারণত কুরআন, হাদিস, ধর্মতত্ত্ব, আইনশাস্ত্র, তাসাউফ, নাহু-সরফ, ফিকহ, আদব ও অন্যান্য ইসলামী বিষয় পাঠ্য ছিল। এর পাশাপাশি যুক্তিবিদ্যা, গণিতশাস্ত্র, চিকিৎসাবিদ্যা, রসায়ন, জ্যামিতি ও অন্যান্য বিষয়ও পড়ানো হত। এই অঞ্চলে গ্রিক চিকিৎসাবিদ্যার অধ্যয়ন করানো হত। ‘শরফনামা’ গ্রন্থে আমির সাহাবুদ্দিন হাকিম কিরমানি নামে চতুর্দশ শতকের একজন বিশিষ্ট বাঙালি চিকিৎসকের উল্লেখ পাওয়া যায়। সুলতান জামালউদ্দিন ফতেহ শাহ চিকিৎসাবিদ্যায় দক্ষতা অর্জন করেছিলেন। মুহাম্মদ বুদাই লিখিত হিদায়াতুর রমি বা তীর চালনার নির্দেশিকা বইটি অনেক মাদ্রাসায় পাঠ্য ছিল। এ থেকে বোঝা যায়, কোথাও কোথাও প্রাথমিক পর্যায়ের সমরবিদ্যা বা যুদ্ধশাস্ত্র সম্পর্কেও ধারণা দেয়া হত। অনেক মাদ্রাসায় ক্যালিগ্রাফি বা লিপিকলা শেখানো হত।
সুলতানি আমলে মেয়েদের পর্দার কারণে সাধারণত তাদের পড়াশোনা প্রাথমিক স্তর পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিল। বালিকাদেরও ‘বিসমিল্লাহ-খানি’ অনুষ্ঠান করা হত। তারা বালকদের সাথে একত্রে মক্তবে পড়াশোনা শুরু করত। অভিজাত পরিবারের মেয়েরা তাদের ঘরেই কোনো শিক্ষকের কাছে উচ্চশিক্ষা সমাপ্ত করতেন। আলেমগণ অবসরে তাদের কন্যাদেরকে শিক্ষা দিতেন।
সেকালে শিক্ষকরা সমাজে সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন। শিক্ষকের হাতে সন্তানকে তুলে দিয়ে পিতা-মাতা নিশ্চিন্ত হতেন। ছাত্ররাও শিক্ষকের প্রতি প্রচণ্ড ভক্তি ও শ্রদ্ধা অনুভব করত।
রাজ দরবারের পক্ষ থেকে শিক্ষকদের লা-খেরাজ জমি ও ভাতা দেয়া হত। ছাত্ররা শিক্ষকদের সাংসারিক কাজকর্মেও সাহায্য করত। মাদ্রাসার শিক্ষকরা সামাজিক বিভিন্ন বিষয়েও জড়িয়ে যেতেন। যেমন বিয়ে-শাদি ও অন্যান্য অনুষ্ঠান পরিচালনা। ছাত্রদের অনুপস্থিতি, পাঠে অমনোযোগ, বেয়াদবির মতো অপরাধে শাস্তি দেয়া হত। কখনো বেত্রাঘাত, কখনো অন্য শাস্তি দেয়া হত।
প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা মেঝেতে খড়ি-মাটি দিয়ে লিখত। এরপর তারা কলাপাতা, তালপাতা এসবের ওপর লিখত। কলম হিসেবে ব্যবহার করত বাঁশের কঞ্চি, পাখির পালক বা নলখাগড়ার টুকরো। ছাত্ররা বসত মেঝেতে বা ঘর থেকে নিয়ে আসা মাদুরে। ছাত্ররা নিজেরাই লেখার কালি তৈরি করত। হরিতকি ও প্রদীপের নির্বাপিত ফুলকা দ্বারা তারা যে কালি তৈরী করত, তা কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত টিকে থাকত।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder