চাষের জমি নিয়ে বিবাদে উত্তেজনা: কান্দিতে আইসি-সহ তিন পুলিশ আহত, আটক ১৪
এজাজ আহামেদ, নতুন পয়গাম, কান্দি:
জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিবাদ শুক্রবার দুপুরে রূপ নিল মারাত্মক অশান্তিতে। ধান কাটা নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে গুরুতর আহত হলেন কান্দি থানার আইসি মৃণাল সিনহা-সহ তিন পুলিশ কর্মী। উত্তেজনায় থমথমে হয়ে ওঠে গোকর্ণ–১ পঞ্চায়েতের দ্বারকা নদী লাগোয়া মাঝেরধার গ্রাম।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ১ একর ১৭ ডেসিমেল জমি নিয়ে তাজের আলি ও জমির নব্য মালিকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। তাজের দাবি, ওই জমিতে তাঁদের বর্গার রেকর্ড ও পুরুষানুক্রমিক দখল রয়েছে। অভিযোগ, মালিক সুমন রায় ছ’মাস আগে তাঁদের না জানিয়ে জমিটি আইনাল হক, আকবর আলি ও হাসিবুর শেখের কাছে বিক্রি করে দেন। বিষয়টি নিয়ে তাজের হাইকোর্টে মামলা করেন।
এ দিন সকালে নতুন মালিকেরা মেশিন নিয়ে ধান কাটতে গেলে তাজেরের পরিবার বাধা দেয়। অভিযোগ, পুলিশ ধান কাটার অনুমতি দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর দু’পক্ষের মধ্যে মারপিট শুরু হয়। খবর পেয়ে আইসি মৃণাল সিনহা বিশাল পুলিশবাহিনী নিয়ে পৌঁছালে উত্তেজিত জনতা তাঁর ওপর চড়াও হয়। পুলিশের অভিযোগ, ভিড়ের মধ্যে আইসি-র মাথায় শাবল দিয়ে আঘাত করা হয়, ছিঁড়ে যায় তাঁর উর্দি। ইঁটবৃষ্টিতে জখম হন আরও দুই পুলিশকর্মী। আইসি-র মাথায় ন’টি সেলাই পড়েছে, এক এএসআইয়ের হাতও ভেঙেছে।
জখমদের প্রথমে গোকর্ণ ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে আইসি-কে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং তাঁর সিটি স্ক্যান করা হয়।
এ ঘটনাকে ঘিরে উঠেছে রাজনৈতিক অভিযোগও। কান্দি মহকুমা কংগ্রেস সভাপতি শফিউল আলম খান অভিযোগ করেন, “জমি কেনাবেচার সঙ্গে তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশ ও জমি মাফিয়া জড়িত। তাঁদের প্রশাসনিক মদত পাওয়ায় পরিস্থিতি অশান্ত হয়েছে।”
অন্যদিকে জমির নতুন মালিক হাসিবুর শেখের দাবি, তাজেরপক্ষ বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়, যদিও বোমা বিস্ফোরিত হয়নি। তাজেরের মেয়ে বেনুকা খাতুনের অভিযোগ, হাইকোর্ট তাঁদের পক্ষে রায় দিলেও পুলিশ তা মানছে না।
কান্দির এসডিপিও সাশ্রেক আম্বেরদর জানান, “আইসি-সহ তিন পুলিশকর্মী জখম হয়েছেন। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।” আটক হওয়াদের মধ্যে রয়েছেন তাজের আলি, তাঁর জামাই সাবিকুল রহমান ও ভাইপো মাফিকুল শেখ।








