BREAKING:
জোড়াসাঁকোয় সাহিত্য-সংস্কৃতির মহোৎসবে কলম শিল্পী গ্র্যান্ড ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ খোশবাগ বাসস্ট্যান্ডের কাছে পথ দুর্ঘটনা, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন দন্ত চিকিৎসক বসিরহাট দরবার শরিফে হুমায়ুন কবীর, পেলেন উষ্ণ অভ্যর্থনা লাল বালির চড়া দাম, গ্রামবাসীদের ভরসা পাথরের গুড়ো   রমজানে অসহায়দের পাশে আল হোসাইনী হেল্প ফাউন্ডেশন সুন্দরবনের লবণাক্ত মাটিতে সূর্যমুখী চাষে সাফল্য, লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা হুগলি জেলায় এসআইআর এর প্রথম পর্যায়ের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করলেন জেলা শাসক খুরশিদ আলি কাদরি  বন্যপ্রাণীর উপদ্রব রুখতে তৎপর বনদপ্তর উত্তাপহীন ডার্বিতে মহামেডানকে ৫ গোলে উড়িয়ে দিল মোহনবাগান মরণবাঁচন ম্যাচে আজ সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিততেই হবে ভারতকে রাজনগরে চাঞ্চল্য: গাংমুড়ি গ্রামে বাড়ির ভিতর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার মোবাইল গেম খেলতে খেলতেই নিভে গেল ২১ বছরের তরতাজা প্রাণ  মুর্শিদাবাদের মুকুটে নতুন দুই পালক, বিশ্ববিদ্যালয় ও কাটরা মসজিদের তোরণ প্রকল্পের শিলান্যাস করলেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম! রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিশটি আসনে লড়বে পুকুর খনন করার সময় প্রাচীন বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার হল পান্ডুয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা। রানে ফিরলেন অভিষেক, জয়ে ফিরলো ভারত; বেঁচে রইলো সেমির স্বপ্ন এসআইআর  ইস্যুতে আতঙ্ক নয়, আইনি পথে আপিলের আহ্বান মিল্লি ঐক্য মঞ্চের কালিয়াচক আবাসিক মিশনে বিজ্ঞান বিভাগের প্রবেশিকা পরীক্ষা সম্পন্ন, উৎসাহ চোখে পড়ার মতো পরীক্ষার দিন আচমকা মৃত্যু অষ্টম শ্রেণির ছাত্রের, শোকস্তব্ধ সোনারপুর নাবালিকাকে বিবাহের অভিযোগে জয়নগরে গ্রেপ্তার যুবক জয়নগরে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা, আহত তিন শ্রমিক নেতা মহম্মদ ওয়েস এর নেতৃত্বে বড়জোড়ায় বিরাট মিছিল কুলতলির বিধায়কের উপস্থিতিতে ঢালাই রাস্তার কাজের সূচনা হলো নলগোড়ায় ঘুটিয়ারীশরিফে পুলিশের তৎপরতায় ৫৪ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার গঙ্গাকে দূষণমুক্ত করতে উদ্যোগ সুন্দরবনে বাঘের হামলায় ফের মৃত্যু, সরকারি ক্ষতিপূরণের দাবি এসআইও নিয়ে মিথ্যা মন্তব্যের প্রতিবাদে কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলন জামাআতে ইসলামী হিন্দের ইফতার সামগ্রী বিতরণ বই হোক সই, বইয়ের জন্য করিমপুরে পথে হাঁটল শত শত মানুষ রমজান মাসে ৩০০ দুস্থ পরিবারের পাশে সমাজসেবী হাফেজ নজরুল ইসলাম অবশেষে ধুলিয়ান গঙ্গা স্টেশনে বাংলা স্থান পেল  মুর্শিদাবাদে দুই মেগা প্রকল্পের শিলান্যাস ২৮ ফেব্রুয়ারি ভাঙড়ে ২৮ টি তাজা বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, গ্রেপ্তার দুই জন্মদিনে অবহেলিত ভূদেব মুখোপাধ্যায়, তালাবন্ধ গ্রীলে মালা ঝুলিয়ে জন্মদিন পালন করল বিজেপি বালিভর্তি ট্রাক চলাচল ঘিরে উত্তেজনা, সোনামুখীতে গ্রামবাসীর রাতভর বিক্ষোভ বসিরহাটে দলবদল ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ, তৃণমূলের সভায় বহু নেতার যোগদান ভোটের আগে বিরোধী শিবিরে বড় ভাঙন কুলতলীতে কালিয়াচকের বাহাদুরপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড চুঁচুড়ায় সোমবার সাতসকালে পথ দুর্ঘটনা, জখম যুবকের অবস্থা আশঙ্কাজনক নিহত সেনা জওয়ানের মরদেহ পৌঁছাল শেখপাড়ার বাড়িতে ব্লক প্রাণিসম্পদ বিকাশ দিবস পালিত জয়নগরে অনলাইন বাণিজ্যের প্রসারে ক্ষুদ্র ব্যবসা চাপে: মত বড়জোড়া চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশে ফের পরিযায়ী শ্রমিকের উপর হামলা উত্তরলক্ষীপুরের গর্ব: প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ হতে চলেছেন ডা: মোবারাক হোসেন পুনরাবৃত্তি চায় ভারত, দক্ষিন আফ্রিকা চায় প্রত্যাবর্তন; সুপার এইটে আজ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই টানা দুই ম্যাচে জয় ইস্টবেঙ্গলের, দুই ম্যাচেই জোড়া গোল ইউসুফের বৃষ্টিতে ধুয়ে গেল পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ডের ম্যাচ আজ শুরু সুপার এইটের লড়াই, প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি পাক বনাম নিউজিল্যান্ড আজ ইস্টবেঙ্গলের সামনে স্পোর্টিং দিল্লি, ভরসার নাম ইউসুফ আজ্জেরি প্রত্যাশিত হার, ঘরের মাঠে মহামেডান বধ এফসি গোয়ার ১৫ বছরেও শেষ হয়নি বক্সীপুর ব্রিজ নির্মাণ কাজ, জনস্বার্থ মামলা গড়াল কলকাতা হাই কোর্টে করিমপুর এলাকাবাসীকে বহরমপুর যেতে আর পেরুতে হবেনা বিপদ সংকুল রাস্তা এসআইআর এর চাপ, শ্রীরামপুরে মাঝ গঙ্গায় ঝাঁপ বিএলও’র ছেলেধরা সন্দেহে পুড়িয়ে খুনের চেষ্টার ঘটনায় বলাগড়ে ২৫ জন দোষীকে সাজা শোনালো চুঁচুড়ার ফার্স্ট ট্রাক কোর্ট বেআইনি মাটির গাড়ির ধাক্কায় ২ যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে জি-প্লটের আদিবাসী শিশুরা  জল্পনার অবসান, তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন বাম যুব নেতা প্রতীক উর রহমান কনকচূড় ধানের চাল পেল জাতিসংঘের ঐতিহ্য স্বীকৃতি, খুশির হাওয়া জয়নগর জুড়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসন-এনজিওর যৌথ উদ্যোগে সচেতনতা শিবির ঘোড়ামারা দ্বীপ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপের নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের, গঠিত হচ্ছে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি শেষ সময় ঘনাতেই যুব সাথী প্রকল্পের ফর্ম জমায় দীর্ঘ হচ্ছে লাইন পখন্না রামকৃষ্ণ আশ্রমে শ্রীরামকৃষ্ণের ১৯১তম জন্মতিথি উদ্‌যাপন বড়জোড়া কলেজে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত সায়েম চৌধুরী ওরফে বাবু: সংগঠন, সংগ্রাম ও সেবার রাজনীতি সোনার প্রতিমার প্রলোভনে ১১ লক্ষ টাকার প্রতারণা ঘুঁটিয়ারীশরিফে পুলিশের সাফল্য: ২৪ চুরি যাওয়া মোবাইল উদ্ধার হুগলি জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের উদ্যোগে খাদ্য সুরক্ষা মেলা’য় সুষম খাদ্য খাওয়ার পরামর্শ  উলুবেড়িয়ায় ১৫ টিয়া উদ্ধার, আন্তরাজ্য পাখি পাচারচক্রের সদস্য গ্রেফতার সরকারি জমি দখল ও নয়নজুলি ভরাটের অভিযোগে চাঞ্চল্য ধূপগুড়িতে কাবিলপুর হাই স্কুলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠা দিবস ঘটা করে উদযাপন পবিত্র রমজান মাস শুরুর ঠিক আগে ইফতার সামগ্রী বিতরণ জয়নগরে ২০২৬ নির্বাচন ঘিরে ফারাক্কায় জোর চর্চায় রেহেনা ইয়াসমিন  পিতা-মাতার স্মৃতিতে আট দিনব্যাপী ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন পুলিশকর্মী ছেলের উদ্যোগে সুন্দরবনের মৎস্যজীবীদের মৃত্যু মিছিল থামছেই না, সরকারি ক্ষতিপূরনের দাবি মাটি, মানুষ ও সংগঠন: রাবিউল ইসলামের রাজনৈতিক দর্শন দুবে ঝড়ে উড়ে গেল নেদারল্যান্ডস, বোলিংয়ে নায়ক বরুণ হঠাতই ব্যাটিং বিপর্যয়, রঞ্জি থেকে বিদায় বাংলার ফারহানের দুরন্ত সেঞ্চুরি, সুপার এইটে পাকিস্তানও ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে আজ নামিবিয়ার মুখোমুখি পাকিস্তান সামির ৮ উইকেটেও, ব্যাটিং বিপর্যয়ে হারের মুখে বাংলা চুঁচুড়ায় প্রার্থী ঘোষণার আগেই দেওয়াল লিখনে জোর তৃণমূল, পাল্টা কটাক্ষ বিজেপির কুলতলিতে আয়ুষ মেলা: বিকল্প চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগ রানীনগরে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীসভা ও জাকির হোসেনের উপস্থিতিতে উপচে পড়া ভিড়  কৃষকদের সমস্যা সমাধানে চালু ‘ভারত বিস্তার’ এআই টুল গোবর্ধনডাঙ্গায় তৃণমূল ট্রেড ইউনিয়নের কর্মী সভা কাবিলপুরে মানব সেবা ফাউন্ডেশনের পথচলা শুরু মালদা জেলায় হাই মাদ্রাসা, আলিম ও ফাজিল পরীক্ষা নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন পা দিয়ে লিখেই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা মানকুন্ডুতে সারা বাংলা একদিনের দাবা প্রতিযোগিতা মেরা যুব ভারতের উদ্যোগে মগরাহাটে জেলা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অপসংস্কৃতির স্রোতের বিপরীতে নাট্যচর্চার বার্তা – বাগনানে তিনদিনের নাট্য উৎসবে নজর কাড়ল বাঙালপুর বয়েজ ক্লাব দ্বীপাঞ্চলবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ: আমতায় নির্মীয়মাণ কংক্রিটের সেতুতে বাড়ছে আশার আলো মানসম্মত শিক্ষা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে কলকাতায় স্কুল ম্যানেজমেন্ট কর্মশালা জীবনে কিছু জায়গা থেকে চুপচাপ সরে আসতে হয় ১৪ই ফেব্রুয়ারি: ভালবাসার দিন হিসেবে কেন পালিত হয়? সুদ, মাদক ও জুয়ার অদৃশ্য জোট: সমাজ ধ্বংসের নীরব চক্রান্ত আদ্রায় ‘বিনা পয়সার বাজারে’ উপচে পড়া ভিড়, হাসি ফিরল অসংখ্য মুখে মেডিকেল ভর্তিতে কাট অফ বিতর্কে তোলপাড় দেশ হবু ডাক্তারদের মান, মেধা ও রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন কেরালার আদালতে নতুন অধ্যায় রচিত দৃষ্টিহীন তরুণী বিচারক গড়লেন নজির

তসলিমা থেকে তিলোত্তমা সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলছে

প্রকাশিত: ৭ নভেম্বর ২০২৫, দুপুর ১:২৫ | আপডেট: ৭ নভেম্বর ২০২৫, দুপুর ১:২৫

মনিরুল ইসলাম তপন

আরও পড়ুন:

তিলোত্তমা মজুমদার নামে এক লেখিকার সাম্প্রতিক চরম মুসলিম বিদ্বেষী কিছু মন্তব্যে পরিবেশ উত্তপ্ত। বিশেষত সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র বিতর্ক চলছে। এই বিতর্কের শিকড় অনেক পুরনো। মুসলমান সমাজকে সন্দেহের চোখে দেখা, অ-বাঙালি বানানো, অনুপ্রবেশকারী তকমা দেওয়া, কখনও পাকিস্তান, কখনও বাংলাদেশে পাঠানোর নিদান — এই সাম্প্রদায়িক খেলা বহুদিন আগে সাহিত্যেও ঢুকে পড়েছিল। বেশ কিছু বছর আগে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত তসলিমা নাসরিন সেই ছককে নাস্তিকতার নামে বাজারজাত করেন। আজ তিলোত্তমা সেই একই ছককে বিজেপির ভাষার সাথে মিলিয়ে বাংলার পরিবেশকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছেন।
তিলোত্তমার বক্তব্য কোনো সাহিত্যিকের ভাষা নয়, বুদ্ধিজীবীর কথা নয়, কোনো সুস্থ মানুষের ভাষা নয়, এ ভাষা হিমন্ত বিশ্বশর্মাদের মতো কট্টর হিন্দুত্ববাদীদের ভাষা। অসমে যেমন মুসলমানদের রোহিঙ্গা, বাংলাদেশী, অনুপ্রবেশকারী, বহিরাগত ইত্যাদি বলা হয়; তিলোত্তমার কথাও একই সুরে বাঁধা। এ ভাষা কোনো রুচিশীল লেখিকার ভাষা নয়, এটা সরাসরি গোবলয়ের হিন্দুত্ববাদী ন্যারেটিভের বাংলা সংস্করণ।
মুসলমানকে ‘অপর’করার এই ন্যারেটিভ আজকের নয়। এ রোগ অনেক পুরোনো। ঊনিশ শতকের ঔপনিবেশিক শিক্ষাব্যবস্থার প্রভাবে বাংলা সাহিত্যের কিছু অংশে মুসলিম চরিত্রকে দীর্ঘদিন খল হিসেবে দেখানো হয়েছে। গবেষকরা লিখেছেন, ব্রিটিশরা “হিন্দু সোনার যুগ বনাম মুসলিম অন্ধকার যুগ”এই ভ্রান্ত ইতিহাস আমাদের মগজে চাপিয়ে দিয়েছিল, যার প্রভাব বঙ্কিমচন্দ্রের রচনাতেও পড়েছিল। “আনন্দমঠ”, “রাজসিংহ” বা “দেবী চৌধুরাণী”-র মুসলিম শাসকরা তাই প্রায়শই বর্বর, বিদেশি, দখলদার হিসেবে চিত্রিত হয়েছে। বিষাক্ত ইতিহাস আর কলঙ্কিত সাহিত্য চর্চার পরিবেশে বেড়ে ওঠা তিলোত্তমার মুখের ভাষায় আজ সেই পুরনো ছকই প্রতীয়মান। হুবহু সেই সন্দেহ, সেই ঘৃণা, মুসলিমকে সেই ভিনদেশী বলে তুচ্ছ করার ভয়ংকর প্রবণতা।
বাংলার মুসলমানরা এই মাটির অন্তর্গত রক্তধারা। বাংলা সংস্কৃতির মূল সুর তাঁদের কণ্ঠে বেজেছে। লালন, আব্বাসউদ্দিন, বাউল-ফকির, হাসন রাজা — এই বাংলার আত্মাকে গড়েছেন। বাংলা ভাষা আন্দোলনের শহীদদের রক্তও ছিল মুসলমান বাঙালির রক্ত। বাংলাদেশের জন্মযুদ্ধে যে জীবনগুলি উৎসর্গ হয়েছে, সেখানেও বাঙালি মুসলমানদের নাম।
শতাব্দীর সেরা বাঙালিদের তালিকায় শীর্ষে থাকা শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ছিলেন মুসলমান বাঙালি। যাদের কণ্ঠ, যাদের সিদ্ধান্ত, যাদের সাহস না থাকলে আজ বাঙালি জাতি দাঁড়াতই না। মুসলমানরাই তো বাঙালিয়ানার সবচেয়ে উজ্জ্বল স্তম্ভ। হিন্দুত্ববাদীর চশমা পরিহিতা তিলোত্তমারা এসব বুঝেও না বোঝার ভান করেন। সাম্প্রদায়িকতার চশমা পরে ছদ্মবেশি সেকুলার তিলোত্তমাদের মুসলিমাতঙ্ক। মুসলিমদের সন্ত্রাসী হিসেবে দেখতেই ওঁরা ভালবাসেন। এদের সবথেকে বড় সীমাবদ্ধতা হল, সত্যিটা দেখেন না বা দেখতে চান না। ওঁরা মুসলমানদের শুধু দোষ দেখাতেই ব্যস্ত। কিন্তু বিশ্ব ইতিহাসে ধর্মীয় সন্ত্রাসের সবথেকে ভয়ঙ্কর উদাহরণগুলো মুসলমানদের নয়, বরং অমুসলিম রাষ্ট্র এবং সমাজের।
তিলোত্তমার সাম্প্রতিক মুসলিমবিদ্বেষী মন্তব্য কেবল একজন লেখিকার ‘ব্যক্তিগত মতামত’-এর প্রতিক্রিয়া নয়। এটি সেই বিদ্বেষেরই নতুন সংস্করণ, যেটি বহু বছর আগে তসলিমা নাসরিনের কলমে ফুটে উঠেছিল। তীব্র মুসলিম বিদ্বেষী তসলিমা একসময় নাস্তিকতার ছদ্মবেশে মুসলমানদের বিরুদ্ধে কলম ধরে যে ঘৃণার বীজ বপন করেছিলেন, তিলোত্তমা সেই বীজকেই বিজেপির জল, হাওয়া আর রাজনৈতিক সার মিশিয়ে পুষ্ট করছেন। নারী নির্যাতন, কুসংস্কার, সাম্প্রদায়িকতা, সন্ত্রাস — এসব সব ধর্মেই আছে; কিন্তু তসলিমা, তিলোত্তমাদের নজর শুধু মুসলিমদের দিকেই।
তিলোত্তমা তাঁর যথার্থ পূর্বসূরীর পথেই হাঁটছেন। তাঁর মুখে শোনা গেল সরাসরি বিজেপির ভোট রাজনীতির প্রতিধ্বনি। তাঁর ভাষা কট্টর বিজেপি নেতাদের কপি—পেস্ট। “মুসলমান মানেই সন্ত্রাসী”— এ ধারণা আসলে হিন্দুত্ববাদী প্রচারের প্রতিধ্বনি। ইতিহাস পরিক্রমায় দেখা যায়, ধর্মের সঙ্গে সন্ত্রাসের যোগসূত্র নেই, আবার সন্ত্রাসবাদীদের কোনো ধর্ম হয় না। রাজনীতির কারবারীদের একাংশ ভোটের স্বার্থে সন্ত্রাস করে বিশেষ জাত, ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি বা গোষ্ঠীর ওপর চাপিয়ে দেয়। অতীত বলছে, সবথেকে ভয়াবহ সন্ত্রাস ঘটেছে অমুসলিমদের হাতেই। বিশেষ করে খ্রিস্টান ও ইহুদীদের দ্বারা।
মায়ানমারে বৌদ্ধ সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর যে গণহত্যা চালিয়েছে, সেটি একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ অপরাধ। শ্রীলঙ্কায় বৌদ্ধ উগ্রবাদীরাও একই পথ অনুসরণ করেছে। তিব্বতে বৌদ্ধ মঠে সন্ন্যাসিনীদের উপর রোমহর্ষক যৌন নির্যাতনের খবর বহুবার এসেছে। ফিলিস্তিন, লেবানন, সিরিয়া তথা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ওপর ইসরাইল বা যায়নবাদীরা যে ধ্বংসযজ্ঞ ও গণহত্যা চালাচ্ছে, সেসব কি সন্ত্রাস নয়? ৯/১১ এর পর মিথ্যা অভিযোগ ও অজুহাতে ডজন খানেক মুসলিম দেশের ওপর কথিত সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে যেভাবে কবরস্থান ও এতিম, বিধবার দেশে পরিণত করেছে পশ্চিমা ন্যাটো জোট, তা কি সন্ত্রাস নয়? খ্রিস্টান ইউরোপে ক্রুসেডের নামে লক্ষ লক্ষ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। দক্ষিণ আমেরিকায় খ্রিস্টান মিশনারীরা আদিবাসীদের জোর করে ধর্মান্তর করেছে, উপাসনালয় ভেঙেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে “কু ক্লুক্স ক্ল্যান”নামে সাদা চামড়ার চরমপন্থী খ্রিস্টান সংগঠন শতাব্দীর পর শতাব্দী কৃষ্ণাঙ্গদের হত্যা করেছে, মুসলমান ও ইহুদিদের উপর নারকীয় প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ ও ইউরোপীয় সৈন্যরা নিরীহ মানুষকে হত্যা করছে।
যায়নবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল সাড়ে সাত দশক ধরে ফিলিস্তিনে প্রতিদিন রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালাচ্ছে। নারী ও শিশু হত্যা, হাসপাতাল ধ্বংস, গাজার ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া, সাংবাদিক হত্যা — এসব বিশ্বজুড়ে মানুষ চোখের সামনে ঘটছে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে তিলোত্তমাদের চোখে এসব সন্ত্রাস ধরা পড়ে না। গুজরাত দাঙ্গা, দিল্লি দাঙ্গা, মুজফফরনগর, খারগোন, হরিয়ানা, মণিপুর — সর্বত্র সংখ্যালঘু ও দলিতদের উপর হামলা হয়েছে, নারীরা গণধর্ষিত হয়েছে, ঘর বাড়ি জ্বালানো হয়েছে। কিন্তু এসব দেখেও তিলোত্তমারা চুপ থাকেন। তাঁদের ঘৃণা কেবল মুসলমানদের প্রতিই।
কট্টর হিন্দুত্ববাদীরা গোরক্ষার নামে অসংখ্য দলিত ও মুসলমানকে প্রকাশ্য রাস্তায় পিটিয়ে হত্যা করেছে, লাভ জিহাদের নামে মুসলিম যুবকদের নৃশংসভাবে পিটিয়ে মারছে, জয়শ্রী রাম স্লোগান না দেওয়ায় প্রহার, দাড়ি কেটে নেওয়া, মসজিদের সামনে গিয়ে হনুমান চাল্লিশা, নামাযের সময় তারস্বরে মাইক বাজানো, আপত্তি করলে ইমাম মুয়াজ্জিন সহ সবার ওপর হামলা, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে মুসলমানদের ঘরবাড়ি, দোকান, মসজিদ বুলডোজার চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে – এসব কি সন্ত্রাস নয়?
আজ যেসব মিডিয়া গোষ্ঠী তিলোত্তমাদের প্রশ্রয় দিচ্ছে, তারাও এই সাম্প্রদায়িক খেলায় অংশীদার। তিলোত্তমার বক্তব্যে বাংলাদেশি মুসলমানদের প্রতি ঘৃণা উগরে পড়েছে। তিলোত্তমা যে ভাষায় কথা বলছেন, সেই বাংলা ভাষার জন্য সর্বপ্রথম ওপারের মুসলমানরাই শহীদ হয়েছিল। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত মুসলমান বাঙালিদের আত্মত্যাগেই আজকের বাংলার মর্যাদা দাঁড়িয়ে আছে।
তিলোত্তমাদের উদ্দেশ্য বিজেপির মন জয় করা, হয়ত আসন্ন নির্বাচনে টিকিট নেওয়া। এই স্বপ্নে তাঁরা মুসলমানদের অপমান করে নিজের অবস্থানকে রাজনৈতিকভাবে প্রাসঙ্গিক রাখতে চান।
তসলিমা নাসরিন স্বদেশ থেকে বিতাড়িত, আজও তাঁকে বাংলাদেশ গ্রহণ করেনি। একটা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণা, বিদ্বেষ ছড়িয়ে সাময়িক জনপ্রিয়তা পাওয়া গেলেও মানুষের মনে স্থায়ী জায়গা পাওয়া যায় না। তিলোত্তমাদেরও শেষ পরিণতি হবে ইতিহাসের কলঙ্কিত পৃষ্ঠায়। তিলোত্তমা ওপার বাংলার মুসলমানদের সঙ্গে নিজেদের কোন মিল খুঁজে পান না। অথচ ওপারের মুসলমানেরা শুধু বাংলায় কথা বলেন না, বাংলা সংস্কৃতির প্রাণভোমরা তাঁরা। আজ যারা মুসলমানকে সন্দেহের চোখে দেখেন, শুধু অনুপ্রবেশী, সন্ত্রাসী ভাবতে ভালবাসেন, তাঁরা নিশ্চিতভাবে ঘৃণার রাজনীতির এজেন্ডা চালাচ্ছেন।
তসলিমাও সেই নীতিতে ভর করে একসময় প্রচারের আলোয় এসেছিলেন। নিজের দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে আপাতত বিজেপি সরকারের স্নেহচ্ছায়ায় এদেশে বহাল তবিয়তে বসবাস করছেন। তিলোত্তমাও হয়ত অদূর ভবিষ্যতে বড় কোন সরকারি দাক্ষিণ্য পেয়ে যাবেন। তসলিমা থেকে তিলোত্তমা – মুসলিম বিদ্বেষের সেই ট্র্যাডিশন যেন একই সুতোয় গাঁথা।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder