BREAKING:
বয়স মাত্র দশ বছর কিন্তু সাফল্যের নিরিখে সে অনেক বড়দেরও অনুপ্রেরণা  সুন্দরবনের মৈপীঠে অবাধে ম্যানগ্রোভ নিধন চলছে, প্রশাসন নির্বিকার সমুদ্রের জলের স্তর মাপতে গঙ্গাসাগরে ব্যবহার হচ্ছে রিমোট অপারেটেড ভেহিকেল এসআইআর ঘিরে উত্তেজনা ভাঙড়ে, রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ এসআইআর প্রক্রিয়ার নামে হেনস্থার অভিযোগ মকর সংক্রান্তিতে গঙ্গাসাগরে রেকর্ড জনসমাগম নলহাটি ২নং ব্লকে SIR তালিকায় ৩১ হাজার গরমিল আজ শুরু ছোটদের বিশ্বকাপ, প্রথম দিনেই মাঠে নামছে ভৈবরা ব্যর্থ বিরাট, ব্যর্থ ভারতও; কাজে এল না রাহুলের দুরন্ত সেঞ্চুরি শীর্ষে বিরাট, ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে ড্যারিল মিচেল ইন্দাসে আনুমানিক ৪০০ বছরের পুরানো শ্রী শ্রী বাঁকুড়া রায়ের কুড়চি মেলার শুভ উদ্বোধন ভাঙড়ে আইএসএফ-তৃণমূল সংঘর্ষ, আহত উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী কালিয়াচক কলেজের উদ্যোগে ‘ফিট ইন্ডিয়া ম্যারাথন রান আরামবাগে পঞ্চদশ বর্ষের গ্রন্থমেলা ও নাট্যোৎসব ২০২৬ বেশ জমে উঠেছে শীতের রাতে ভরসা হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিশ কর্মসংস্থান ও শিল্পে ব্যর্থতার অভিযোগ, পূর্ব বর্ধমানে তৃণমূলকে আক্রমণ অগ্নিমিত্রা পলের কালিয়াচকে শীতবস্ত্র বিতরণ: দুঃস্থদের পাশে সুজাপুরের আব্দুল হান্নান বিলুপ্তির পথে কালিয়াচকের শেরশাহি ও মোথাবাড়ির বাবলা এলাকার ঐতিহ্যবাহী তাত শিল্প ছবি এঁকে দিল্লিযাত্রা কৃতি ছাত্র ইমরানের পৌষের শেষে ফসল ঘরে, ধর্ম ও সংস্কৃতির মিলনে গ্রামবাংলায় মকর সংক্রান্তির উৎসব শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে নায়ক রাজা। হরমনপ্রীতের দুরন্ত ব্যাটিংয়ে উড়ে গেল দিল্লি ক্যাপিটালস আজ জিতলেই সিরিজ ভারতের, বেগ দিতে মরিয়া নিউজিল্যান্ডও বাংলাদেশের দাবিকে নস্যাৎ করলো আইসিসি বার্সার কাছে হেরে চাকরি হারালেন রিয়াল কোচ জাভি আলান্সো জগন্নাথ ধাম শুধুমাত্র পুরীতে দিঘায় নয়, দাবি পুরীর শঙ্করাচার্যের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্ মুহুর্তে গেরুয়া শিবিরে ভাঙ্গন ধরালো ঘাসফুল শিবির খাদ্যের লোভে লোকালয়ে হাতির হানা, আতঙ্ক এলাকা জুড়ে চাঁচল সিদ্বেশ্বরী ইনস্টিটিউশনে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার (চতুর্থ সেমেস্টার) প্রস্তুতি সভা বিভিন্ন দল ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিল দশটি পরিবার মেলেনি লক্ষীর ভান্ডার, বার্ধক্য ভাতা, অবিবাহিত বৃদ্ধার নতুন ঘর বানিয়ে দিল আনসারী, সাগর, সুজনরা ভোটার তালিকায় সন্দেহভাজন ভোটার, নাম বাদ দেওয়ার দাবিতে চুঁচুড়ায় বিজেপির বিক্ষোভ চুঁচুড়ার একটি এসআইআর শুনানি কেন্দ্রে এসে ক্ষোভ উগরে দিলেন এক বৃদ্ধা সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রীর সভা, তার আগেই শিল্প চাই বলে ব্যানার পড়ল “সৃজন” এর উদ্যোগে তিন দিনের নাট্য উৎসব ও সংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা রক্তদান ও প্রতিবন্ধীদের কৃত্রিম অঙ্গ প্রতঙ্গ বিতরণ শিবির সুনীতা উদ্যোগে সন্তান লালন-পালনে করণীয় ও বর্জনীয় নতুন ঠিকানায় প্রধানমন্ত্রীর দফতর সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দিয়ে গাজাবাসীকে পাঠানোর ছক নেতানিয়াহুর এআই নিয়ে মধ্যমপন্থার পক্ষে কেন্দ্র নীতীশের হিজাব সরানো আসলে কী বলছে রাষ্ট্রকে? ছাত্র সংগঠন এসআইও-র উদ্যোগে রানীনগর-২ ব্লকে মাধ্যমিক পরীক্ষা প্রস্তুতি শিবির বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মৃত্যু ছেলের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে স্বামী বিবেকানন্দের ১৬৪ তম জন্মদিন পালন কবি রমেন্দ্র কুমার আচার্য্যচৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার পেলেন কবি ও গল্পকার মানসী কবিরাজ পড়ুয়া ও শিক্ষক সংকটে ধুঁকছে সরকারি বিদ্যালয় ধর্মের মেরুকরণ নয়, মানবিক ভারত গড়ার আহ্বান স্বামীজির জন্মজয়ন্তীতে যাদবপুর (বাঘাযতীন) স্টেশনে ভয়াবহ আগুন, পুড়ে ছাই একাধিক দোকান তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীরা অবৈধ ব্যবসা টিকিয়ে রাখতেই রাজনীতিতে এসেছে : হাসিবুল ইসলাম মুম্বাইয়ে পিটিয়ে খুন পরিযায়ী শ্রমিক জাতীয় যুব দিবসে ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং ও বিশেষ যুবসমাবেশ আল-আমীন প্রত্যয় ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শীতার্তদের কম্বল বিতরণ নারী সুরক্ষায় পুলিশের মানবিক উদ্যোগ সাড়ম্বরে পালিত হল স্বামী বিবেকানন্দের ১৬৩তম জন্মবার্ষিকী ধূপগুড়িতে বিজেপির প্রতিবাদ মিছিল বারুইপুরে বঙ্গীয় সংখ্যালঘু পরিষদের বার্ষিক অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রস্তুতি মিটিং অনুষ্ঠিত মহাকাশে বাড়ছে আবর্জনার ঝুঁকি আল-আমীন শামসুন একাডেমিতে শিক্ষক প্রশিক্ষণ শিবির কালিয়াচকে আজাদ সমাজ পার্টির যোগদান সভা আইপ্যাকের দপ্তরে ইডি হানা, প্রতিবাদ মিছিলে বিজেপি কর্মীদের সাথে পুলিশের ধস্তাধস্তি রঘুনাথগঞ্জে ‘নতুন দিশা’ কো-অপারেটিভ সোসাইটির শুভ উদ্বোধন জয়নগরের মোয়ার গুণগত মান যাচাইয়ে খাদ্য দফতরের অভিযান শীতের রবিবার মানেই পিকনিকের ঢল, জমজমাট ক্ষেতী মুজাফফর ফরেস্ট ভাঙড়ে আইএসএফের রক্তদান শিবির ঘিরে তৃণমূল-আইএসএফ সংঘর্ষ, আহত উভয়পক্ষের একাধিক এসআইআর এ সবচেয়ে বেশি নাম বাদ যাবে মতুয়াদের, এই আতঙ্কে মতুয়ারা দিশেহারা: মমতাবালা মাধ্যমিক পরীক্ষা প্রস্তুতি শিবির ২০২৬ লোহাপুরে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে সুপার কাপ জিতলো বার্সেলোনা, নায়ক রাফিনহা ভারত-নিউজিল্যান্ড ম্যাচে ‘বাংলাদেশ’ যোগ, আবার বিতর্ক সামনে শুধু শচীন, ছুটছেন কোহলি; নিউজিল্যান্ডকে হারালো ভারত একাধিক রেকর্ডের সামনে কোহলি, আজই ভাঙ্গতে পারে শচীন, সাঙ্গাকারার রেকর্ড! পিএম মুদ্রা ঋণ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে প্রতারণা, যাদবপুরে পুলিশের জালে পাঁচ মা ক্যান্টিনে খেলেন মন্ত্রী, খাবার নষ্ট দেখে ক্ষুব্ধ স্বপন দেবনাথ এসআইআর: মাইক্রো অবজার্ভারদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, কড়া সতর্কবার্তা কমিশনের শুভেন্দুর গাড়িতে হামলার অভিযোগ রিপোর্ট তলব কেন্দ্রের, রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ খোসা-সহ পেয়ারা খাওয়া ক্ষতি, নাকি উপকারী? দাবানলে অস্ট্রেলিয়ায় পুড়ে ছাই ৩ লাখ হেক্টর, অন্ধকারে ৩৮ হাজার ঘরবাড়ি ইরানে কি ফের পাহলভির শাসন ফিরবে? চ্যাটজিপিটির সাহায্য নিয়ে বিয়ে, অতঃপর বিভ্রাট রাম মন্দিরের ১৫ কিমির মধ্যে মদ-মাংস নয়, অযোধ্যায় তুঙ্গে বিতর্ক দলিত নারীকে কুপিয়ে হত্যা, কন্যাকে অপহরণ, উত্তপ্ত মেরঠ বিজেপির পদে ধর্ষণের আসামি, জনরোষে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার উত্তরপ্রদেশেও সোনার দোকানে বোরকা-মাস্ক নিষিদ্ধ সব পেলে নষ্ট জীবন পৃথিবীর শেষ রাস্তা, একা যাওয়া নিষেধ বহুভাষিক লেখক ড. রতন ভট্টাচার্যের জীবনালেখ্য শতবর্ষে মাওলানা আজাদ কলেজ শিক্ষা, সংস্কৃতি, সংহতি ও প্রগতির পথে যাত্রা আবারও চোট পেলেন ঋষভ, ভারত-নিউজিল্যান্ড ওডিআই সিরিজ নজরে সেই ‘রো-কো’ জুটি ডব্লুপিএল পরীক্ষা প্রস্তুতি ও অনুপ্রেরণামূলক শিবির অনুষ্ঠিত হরিশ্চন্দ্রপুর বইমেলায় আইনি সহায়তা শিবির: সাধারণ মানুষের পাশে আইনজীবী ওয়াসিম আকরাম মালদা টাউন হলে দুইদিন ব্যাপী পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়ির শালবাড়িতে বিজেপির বর্তমান ও প্রাক্তন রাজ্য সভাপতির ঝটিকা সফর আবারও বাজিকারখানায় বিস্ফোরণ, জখম অন্তত ৪ সামসেরগঞ্জে অধীর চৌধুরীর মিছিলে জনসমুদ্র কৃষাণ মান্ডিতে ধান বিক্রি করতে না পেরে চরম দুর্দশায় কৃষকরা সাগরদিঘীতে শুরু হলো ওয়েস্ট বেঙ্গল ভলান্টারি ব্লাড ডোনার সোসাইটির তৃতীয় রাজ্য সম্মেলন মাওলানা আজাদ ন্যাশনাল উর্দু ইউনির্ভাসিটি (MANUU)-র ‘অব্যবহৃত’ জমি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে শোকজ নোটিস বিধায়ক নিজের ঢাক নিজেই পেটালেন চুঁচুড়ায় চাকরিতে যোগ দিতে গিয়ে শ্লীলতাহানি, গ্রেপ্তার কোচিং সেন্টারের কর্ণধার

বাংলার মাটিতে তাবলিগি ইজতেমা আত্মিক প্রত্যাবর্তন, নীরব সমাজ-সংলাপ

প্রকাশিত: ৩ জানুয়ারী ২০২৬, দুপুর ১২:৩৩ | আপডেট: ৮ জানুয়ারী ২০২৬, দুপুর ১২:৪৩
গতকাল ২ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে বাংলার মাটিতে শুরু হল তাবলিগের এক বড় ফজীলতপূর্ণ ইজতেমা। একটি ঘটনা, যা কেবল ধর্মীয় ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ নয়, বরং সমাজ ও আত্মার গভীরে পৌঁছে যাওয়া এক দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মুহূর্ত। প্রায় তিন দশকের ব্যবধান পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে আবার এই বিশাল আন্তর্জাতিক ধর্মীয় সমাবেশের আয়োজন বাংলার সাম্প্রতিক ইতিহাসে এক তাৎপর্যপূর্ণ বাঁকচিহ্ন। হুগলি জেলার পুইনান প্রান্তরে ২, ৩ ও ৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই গুরুত্বপূর্ণ ইজতেমা এমন এক সময়ে ফিরে এল, যখন সমাজ বিশ্বাসের সংকট, সহনশীলতার ঘাটতি ও নৈতিক ক্লান্তিতে ভুগছে।

মহম্মদ মফিজুল ইসলাম:গতকাল ২ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে বাংলার মাটিতে শুরু হল তাবলিগের এক বড় ফজীলতপূর্ণ ইজতেমা। একটি ঘটনা, যা কেবল ধর্মীয় ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ নয়, বরং সমাজ ও আত্মার গভীরে পৌঁছে যাওয়া এক দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মুহূর্ত। প্রায় তিন দশকের ব্যবধান পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে আবার এই বিশাল আন্তর্জাতিক ধর্মীয় সমাবেশের আয়োজন বাংলার সাম্প্রতিক ইতিহাসে এক তাৎপর্যপূর্ণ বাঁকচিহ্ন। হুগলি জেলার পুইনান প্রান্তরে ২, ৩ ও ৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই গুরুত্বপূর্ণ ইজতেমা এমন এক সময়ে ফিরে এল, যখন সমাজ বিশ্বাসের সংকট, সহনশীলতার ঘাটতি ও নৈতিক ক্লান্তিতে ভুগছে।
এই মহতী ইজতেমা কোনও উৎসবের রঙিন কোলাহল নয়, কোনও আনুষ্ঠানিক আচারও নয়। এটি এক নীরব অথচ সুদূরপ্রসারী আত্মিক আন্দোলন — যেখানে মানুষের ভেতরের মানুষটির সঙ্গে আবার মুখোমুখি হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। তাবলিগ জামাতের উদ্যোগে পরিচালিত এই মহাসমাবেশের কেন্দ্রে রয়েছে আত্মশুদ্ধি, সংযম, বিনয় ও মানবিক দায়িত্ববোধের শিক্ষা। এখানে বক্তৃতা আছে, কিন্তু উত্তেজনা নেই। সমাগম আছে, কিন্তু প্রদর্শন নেই। ধর্ম আছে, কিন্তু রাজনৈতিক উচ্চারণ নেই। এই নির্লোভ চরিত্রই ইজতেমাকে আলাদা করে চিহ্নিত করে।
বাংলার সামাজিক ইতিহাসে ধর্ম কখনও নিছক ব্যক্তিগত পরিসরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। সুফি দরবেশদের মানবিক আহ্বান, বৈষ্ণব আন্দোলনের প্রেমদর্শন কিংবা গ্রামীণ ইসলামের মরমি ধারা — সব ক্ষেত্রেই ধর্ম সমাজকে শাসন নয়, সংলাপের ভাষা দিয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় এই ইজতেমার প্রত্যাবর্তন বাংলার ধর্মীয় পরিসরে এক নতুন আত্মবিশ্বাসের জন্ম দিচ্ছে। দীর্ঘদিন পর আবার এই সমাবেশ হওয়া একথাই মনে করিয়ে দেয় — ধর্মীয় চেতনা সময়ের চাপে মুছে যায় না, বরং অপেক্ষার মধ্য দিয়ে পরিণত হয়।
আজ যখন বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, গণহত্যা, শরণার্থী সংকট ও ধর্মীয় বিদ্বেষ প্রতিদিনের খবর হয়ে উঠেছে, তখন তাবলিগের এই ইজতেমার মতো একটি সমাবেশ তার নীরব বার্তার জন্য আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। এখানে মানুষকে শেখানো হয় — নিজেকে সংশোধন না করে পৃথিবী বদলানো যায় না। ব্যক্তি যদি নৈতিকভাবে দৃঢ় না হয়, তবে কোনও রাজনৈতিক বা সামাজিক কাঠামোই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। এই উপলব্ধিই ইজতেমার মূল সুর।
লক্ষ লক্ষ মানুষের এই সমাবেশের গুরুত্ব কেবল ভিড়ের পরিসংখ্যানে নয়, বরং তাদের মানসিক যাত্রায়। দেশ-বিদেশ থেকে আগত মুসল্লিরা এখানে আসেন নিজের দৈনন্দিন জীবন, আচরণ, সম্পর্ক ও বিশ্বাসকে নতুন করে পরখ করতে। কুরআন ও সুন্নাহর আলোচনার পাশাপাশি বর্তমান বিশ্বের নৈতিক বিপর্যয়, পারিবারিক ভাঙন, ভোগবাদী আসক্তি ও অহংকারের পরিণতি নিয়ে কথা হয়। ফলে এই ইজতেমা এক অর্থে একটি অস্থায়ী বিশ্ববিদ্যালয় — যেখানে পাঠ্যক্রম আত্মসমালোচনা এবং ডিগ্রি চরিত্রের পরিশুদ্ধতা।
ইজতেমার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল এর সামাজিক বার্তা। এমন এক সময়ে, যখন ধর্মকে প্রায়শই বিভাজনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তখন এই সমাবেশ ভ্রাতৃত্ব ও সহনশীলতার এক বিকল্প ভাষা হাজির করে। এখানে মানুষ এক কাতারে দাঁড়ায় — ধনী-গরিব, দেশি-বিদেশি, শিক্ষিত-অশিক্ষিতের ভেদ ভুলে। এই অভিজ্ঞতা অংশগ্রহণকারীদের মনে এমন এক মানবিক বোধ জাগিয়ে তোলে, যা সমসাময়িক রাজনীতির সংকীর্ণ পরিচয়বোধকে প্রশ্নের মুখে ফেলে।
পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষাপটে এই দিকটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ধর্মীয় পরিচয়কে ঘিরে যে উত্তেজনা ও অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে, তার মধ্যে বিশ্ব ইজতেমা এক শান্ত, সংযত ও অহিংস ধর্মচর্চার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। এটি দেখায় — ধর্ম মানে আতঙ্ক নয়, শাসন নয়; ধর্ম মানে দায়িত্ব, সংযম ও মানবিকতা।Millions attend world's second-largest Muslim gathering | Religion | Al Jazeera
অবশ্যই, এত বড় সমাবেশ প্রশাসনিক দিক থেকেও এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। পরিবহণ, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, পানীয় জল, স্যানিটেশন — সবকিছুর উপরই প্রবল চাপ পড়ে। কিন্তু একই সঙ্গে এই আয়োজন প্রশাসন ও সমাজের সমন্বয়ের পরীক্ষাও বটে। দাদপুর থানার পুলিশ-প্রশাসনের তৎপরতা, স্থানীয় মানুষের স্বেচ্ছাসেবী অংশগ্রহণ এবং স্বনিয়ন্ত্রিত শৃঙ্খলা দেখায় — সঠিক পরিকল্পনা ও পারস্পরিক আস্থার মাধ্যমে বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশও শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত করা সম্ভব।
প্রশ্ন ওঠে, এ ধরনের ধর্মীয় সমাবেশ কি বাস্তব সামাজিক সমস্যার সমাধান দেয়? দারিদ্র্য, বেকারত্ব, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে ধর্মীয় উপদেশ অনেকের কাছে অপ্রাসঙ্গিক মনে হতে পারে। কিন্তু ইতিহাস বলে, নৈতিক ভিত্তি ছাড়া কোনও সামাজিক সংস্কার স্থায়ী হয় না। বিশ্ব ইজতেমা অর্থনৈতিক নীতি বদলায় না, কিন্তু মানুষের মানসিক কাঠামো বদলানোর চেষ্টা করে। আর সেই বদলই দীর্ঘমেয়াদে সমাজকে প্রভাবিত করে।
ইজতেমা থেকে ফিরে আসা বহু মানুষের জীবনে ছোট ছোট পরিবর্তন দেখা যায় — হিংসা ও নেশা থেকে সরে আসা, পারিবারিক দায়িত্বে ফিরে যাওয়া, অসৎ উপার্জন পরিত্যাগের সিদ্ধান্ত। এগুলো সংবাদ শিরোনাম হয় না, কিন্তু সমাজের নৈতিক আবহে নীরব পরিবর্তন আনে।
একই সঙ্গে বিশ্ব ইজতেমা পশ্চিমবঙ্গের মুসলমান সমাজকে আত্মপরিচয়ের এক ইতিবাচক মঞ্চও দেয়। যেখানে মুসলমান পরিচয় প্রায়শই সন্দেহ বা বিতর্কের চোখে দেখা হয়, সেখানে এই শৃঙ্খলাবদ্ধ, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ এক ভিন্ন বাস্তবতা তুলে ধরে। এটি প্রমাণ করে — ধর্মীয় অনুশীলন উগ্রতার সমার্থক নয়; বরং তা হতে পারে আত্মনিয়ন্ত্রণ ও সামাজিক দায়িত্বের পথ।
তবে পরিবেশগত দায়িত্বের প্রশ্ন উপেক্ষা করলে চলবে না। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্নতা ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়গুলি যথাযথ গুরুত্ব না পেলে ভবিষ্যতে এই ধরনের আয়োজন প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। ধর্মীয় চর্চার সঙ্গে পরিবেশ সচেতনতা যুক্ত হলে তার সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা আরও গভীর হবে।
আজ যখন বিশ্ব ইজতেমা শুরু হয়েছে, তখন এই প্রশ্নটাই সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক — আমরা কি এটিকে কেবল একটি ধর্মীয় ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখব, নাকি সমাজের নৈতিক আত্মসমীক্ষার সুযোগ হিসেবে দেখব? বিশ্বাসের সংকট ও পারস্পরিক অবিশ্বাসের এই সময়ে ইজতেমার মূল শিক্ষা — নিজেকে বদলাও, তবেই সমাজ বদলাবে — নতুন করে ভাবার দাবি রাখে।
তিন দশক পর বাংলায় বিশ্ব ইজতেমার প্রত্যাবর্তন তাই কোনও পুনরাবৃত্তি নয়; এটি এক নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত। এই সম্ভাবনাকে আমরা কীভাবে গ্রহণ করব, সেটাই নির্ধারণ করবে — এই সমাবেশ ভবিষ্যতে কেবল স্মৃতি হয়ে থাকবে, নাকি সমাজের নৈতিক মানচিত্রে স্থায়ী ছাপ রেখে যাবে।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder