শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, নেপাল: একের পর এক গণ অভ্যুত্থানের নেপথ্য রহস্য
মো. ইরফান সাদিক
নতুন পয়গাম: বিশ্ব ইতিহাস প্রমাণ করেছে, কোনো শাসনব্যবস্থা বা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দীর্ঘকাল একই ধাঁচে টিকে থাকতে পারে না। জনৈক ঐতিহাসিকের মতে, পৃথিবীতে কোনো শাসক বা শাসনব্যবস্থা সর্বোচ্চ কুড়ি বছর স্থায়ীভাবে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়। তারপর শুরু হয় ধসের দিকে যাত্রা। জনগণের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে থাকে, শাসনব্যবস্থা রূপ নেয় নির্দয় দমন নীতিতে, অধিকার হারায় সাধারণ মানুষ। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা তখন পরিণত হয় পুঁজিবাদী স্বার্থরক্ষার বাহন ও দুর্নীতির দুর্গে।
গণঅভ্যুত্থানের জন্ম: রাষ্ট্র যখন জনগণের ন্যূনতম চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হয়, তখন অসন্তোষ জমতে থাকে। দীর্ঘ বঞ্চনা, অবহেলা, বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি, দুর্নীতি ও অবিচার মানুষের মনে চাপা ক্ষোভ তৈরি করে। সেই ক্ষোভ একসময় বিস্ফোরিত হয়, শুরু হয় গণঅভ্যুত্থান। শ্রীলঙ্কায় অর্থনৈতিক ধস, বাংলাদেশে রাজনৈতিক অচলাবস্থা, নেপালে রাজতন্ত্রের দমননীতি — সব ক্ষেত্রেই জনগণের পুঞ্জিভূত ক্ষোভ বৃহত্তর গণআন্দোলনের রূপ নিয়েছে।
অভ্যুত্থানের বাস্তবতা: গণঅভ্যুত্থান অনেক সময় আকস্মিক মনে হলেও এর পেছনে থাকে দীর্ঘ দিনের জমে থাকা বঞ্চনা, বৈষম্য। জনগণের ঘামে-রক্তে তৈরি রাষ্ট্র যখন কেবল ক্ষমতাসীনদের আখের গোছাতে ব্যস্ত থাকে, তখনই সাধারণ মানুষ নিজের অধিকার ফেরানোর জন্য রাস্তায় নামে। এভাবেই গণজাগরণের সূত্রপাত হয়।
পরবর্তী চ্যালেঞ্জ: তবে শুধু অভ্যুত্থান ঘটলেই সমস্যার সমাধান হয় না। ইতিহাস বলে, কোনো দেশকে পুনর্গঠন করতে দীর্ঘ সময় ও ধৈর্যের প্রয়োজন। সবথেকে বড় প্রশ্ন হল, অভ্যুত্থানের পর নেতৃত্ব কে নেবে? যদি আদর্শ নেতৃত্ব না আসে, তবে সেই অভ্যুত্থান আবারও অধঃপতনের দিকে ঠেলে দিতে পারে দেশকে। গণআন্দোলনের শক্তি যদি সঠিক দিকনির্দেশনা না পায়, তবে তার পরিণতি হয় বিশৃঙ্খলা, গৃহযুদ্ধ, কিংবা বিদেশি শক্তির প্রভাব বিস্তার।
উপসংহার: শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ কিংবা নেপাল — সব ক্ষেত্রেই গণঅভ্যুত্থানের বার্তা একটাই। তা হল, রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি জনগণ। তাদের অধিকার, সম্মান ও জীবনের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত না হলে কোনো শাসক বা শাসনব্যবস্থা চিরস্থায়ী হতে পারে না। ইতিহাসের শিক্ষা হল, শোষণ যত গভীর হবে, গণজাগরণও তত তীব্র হবে। আর এই জাগরণ যদি সঠিক নেতৃত্ব ও আদর্শিক দিশা পায়, তবে তা নতুন ইতিহাসের সূচনা করতে পারে।








