স্কুলে যাওয়ার কথা বলে সমুদ্র শহরে পাড়ি, দীঘা থেকে দুই নাবালককে উদ্ধার
নতুন পয়গাম, খান সাহিল মাজহার, সিউড়ি: স্কুলে যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যায় দুই নাবালক। দীর্ঘ সময় ধরে কোনও খোঁজ না পেয়ে চরম উৎকণ্ঠায় ভোগেন পরিবারের সদস্যরা। অবশেষে বীরভূমের সদাইপুর থানার পুলিশের তৎপরতায় সমুদ্র শহর দীঘা থেকে উদ্ধার করা হয় ওই দুই নাবালককে। আদালতের নির্দেশে পরে তাদের নিরাপদে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৪ তারিখ প্রতিদিনের মতো স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি ছাড়ে ওই দুই কিশোর। কিন্তু স্কুলমুখী না হয়ে তারা প্রথমে বাসে চেপে হাওড়ায় পৌঁছায়। এরপর হাওড়া স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠে তারা দীঘার উদ্দেশে রওনা দেয়। কিশোর বয়সের অজানা কৌতূহল ও ঘোরাঘুরির টানেই তারা এমন সিদ্ধান্ত নেয় বলে অনুমান পুলিশের।
এদিকে নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও সন্তানরা বাড়ি না ফেরায় পরিবারের উদ্বেগ ক্রমশ বাড়তে থাকে। আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের বাড়িতে খোঁজ করেও কোনও সন্ধান না পেয়ে শেষ পর্যন্ত সদাইপুর থানায় গিয়ে নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করেন পরিবারের লোকজন। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টির গুরুত্ব বুঝে দ্রুত তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্ত চলাকালীন আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নেয় সদাইপুর থানার পুলিশ। দুই নাবালকের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করা হয় এবং বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়। সেই সূত্র ধরেই পুলিশ নিশ্চিত হয় যে তারা দীঘায় অবস্থান করছে।
এরপর দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পুলিশ দীঘায় পৌঁছে অভিযান চালায় এবং নিরাপদে দুই নাবালককে উদ্ধার করে। উদ্ধারের পর তাদের শারীরিক পরীক্ষা ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তারা দু’জনেই সুস্থ রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া মেনে উদ্ধারের পর দুই নাবালককে আদালতে পেশ করা হয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরে তাদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সন্তানদের ফিরে পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন পরিবারের সদস্যরা। একই সঙ্গে সদাইপুর থানার পুলিশের দ্রুততা, প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও মানবিক ভূমিকায় সন্তোষ প্রকাশ করেন তারা। এই ঘটনায় আবারও প্রমাণিত হল, সময়মতো পুলিশের উদ্যোগ ও সচেতনতার ফলে বড় ধরনের বিপদ থেকে নাবালকদের রক্ষা করা সম্ভব।








