বিশুদ্ধ ও আয়রন-মুক্ত পানীয় জলের দাবিতে ধূপগুড়িতে পথ অবরোধ, বিক্ষোভে মহিলা ও মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা
নতুন পয়গাম, প্রীতিময় সরখেল, ধূপগুড়ি: বিশুদ্ধ ও আয়রন-মুক্ত পানীয় জলের দাবিতে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখালেন ধূপগুড়ি ব্লকের গাদং ১ নম্বর গ্রামপঞ্চায়েতের খলাইগ্রাম স্টেশন পাড়ার বাসিন্দারা। শুক্রবার ভোটপাড়া–স্টেশন পাড়া এলাকায় প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ চলে। জলের বালতি, হাঁড়ি, ড্রাম, কলসি হাতে নিয়ে রাস্তায় নামেন এলাকার মহিলারা ও মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা। পানীয় জলের দাবিতে হাতে জোড় করে প্রশাসনের কাছে আবেদন জানান বিক্ষোভকারীরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত প্রায় এক বছর ধরে এলাকায় যে জল সরবরাহ করা হচ্ছে তা বিশুদ্ধ নয় এবং আয়রনের মাত্রা অত্যধিক। সেই জল পান করলে পেটের সমস্যা দেখা দিচ্ছে, এমনকি শরীরে ব্যবহার করলেও জ্বালাপোড়া হচ্ছে বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের। বাধ্য হয়েই সেই জল ব্যবহার ও পান করতে হচ্ছে এলাকার মানুষদের।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, এই সমস্যা নিয়ে একাধিকবার পঞ্চায়েত, প্রধান, অঞ্চল অফিস ও বিডিও অফিসে লিখিত ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিবারই আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনও স্থায়ী সমাধান হয়নি। দীর্ঘ এক বছর ধরে আয়রনযুক্ত জল ব্যবহারে চরম ভোগান্তির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা। আর মাত্র দু’দিন পরেই শুরু হচ্ছে মাধ্যমিক পরীক্ষা। আয়রনযুক্ত পানীয় জল খেয়ে অনেকেই শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন বলে অভিযোগ। পরীক্ষার সময় শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কাও করছেন পরীক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ চলাকালীন স্লোগান ওঠে“আমরা বিশুদ্ধ জল চাই”, “আয়রন-মুক্ত জল দাও”, “জল ছাড়া জীবন চলে না।”
এ বিষয়ে বিক্ষোভকারী মহিলা চায়না মণ্ডল বলেন,“দীর্ঘ এক বছর ধরে আয়রনযুক্ত জল খেতে ও ব্যবহার করতে হচ্ছে। পঞ্চায়েত, প্রধান, বিডিও—সবাইকে জানানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগও করেছি। তবু কোনও সমাধান হয়নি। আমরা চাই দ্রুত বিশুদ্ধ ও আয়রন-মুক্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হোক।” মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী মিতালী মণ্ডল বলেন,“দু’দিন পরেই মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু। আয়রনযুক্ত জল খেয়ে পেটের সমস্যায় ভুগছি। হাতে-পায়ে জল লাগালেও শরীর জ্বালা করে। পরীক্ষার দিন কোনও বড় সমস্যা হলে পরীক্ষা দেওয়াই বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আমরা চাই দ্রুত সমস্যার সমাধান হোক।” ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে। এখন দেখার, প্রশাসন কবে এই দীর্ঘদিনের পানীয় জলের সমস্যার স্থায়ী সমাধান করে।








