আরবি শিক্ষক নিয়োগ বিলম্বের প্রতিবাদে আন্দোলন
নতুন পয়গাম, কলকাতা: আরবি ও অ্যাডভান্সড আরবি শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকারি টালবাহানার প্রতিবাদের মাদ্রাসা চাকরিপ্রার্থীদের সংগঠন অল বেঙ্গল আরাবিক ফেডারেশন (ABAF) তাঁদের দাবি-দাওয়া নিয়ে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছে। মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন তাঁদের একাধিকবার প্রতিশ্রুতি দিলেও আজও কোন সমাধান মেলেনি। এই নিয়োগ জটিলতার প্রধান কারণ– টেট-এ নেগেটিভ মার্ক, পার্সুয়িং বিএড সংক্রান্ত কলকাতা হাইকোর্টে দুটি মামলা চলমান। একেরপর এক হেয়ারিং এর ডেট পিছানো হচ্ছে, ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে। চাকরি প্রার্থীদের অভিযোগ কমিশন ইচ্ছা করে নিয়োগ বিলম্বিত করছে, কারণ কমিশন হেয়ারিং এ নিয়মিত উপস্থিত হয়না। সব মিলিয়ে চাকরিপ্রার্থীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। বঞ্চনার অভিযোগ তুলে ধারাবাহিকভাবে কলকাতায় আন্দোলনে নামছে তাঁরা।
উল্লেখ্য, এমএসসি সপ্তম এসএলএসটি (প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক) ২০২৩ সালে পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন (WBMSC) কর্তৃক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় কিন্তু সেই নিয়োগ আজও সম্পন্ন হয়নি। ফলে সংশ্লিষ্ট চাকরিপ্রার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ স্তরের অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রে নিয়োগ প্রক্রিয়া অনেকাংশে এগোলেও প্রাইমারি ও আপার প্রাইমারি স্তরে আরবি ও অ্যাডভান্সড আরবির ক্ষেত্রে অকারণ বিলম্ব স্পষ্ট বৈষম্যের দৃষ্টান্ত বলেই মনে করছে সংগঠনটি।
এই অন্যায়ের প্রতিবাদে (ABAF) সংগঠনটির উদ্যোগে গত ২৭ জানুয়ারি পার্ক সার্কাস থেকে শিয়ালদহ মৌলালি পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কর্মসূচি পালন করা হয়। ওইদিন নবান্নে ডেপুটেশন দেওয়ার কথা থাকলেও মুখ্যমন্ত্রী তা গ্রহণ না করায় ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে পুনরায় আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় (তালতলা ক্যাম্পাস) থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ মিছিল ও ডেপুটেশন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সংগঠনের দাবি, প্রশাসনের প্রয়োজনীয় অনুমতি থাকা সত্ত্বেও ধর্মতলার আগেই কলকাতা কর্পোরেশন ভবনের সামনে পুলিশ আন্দোলনকারীদের বাধা দেয় এবং অপ্রত্যাশিত দমনমূলক আচরণ করে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং প্রায় ৪১ জন চাকরিপ্রার্থীকে আটক করা হয়। ঘটনায় তিনজন মহিলা চাকরিপ্রার্থী গুরুতর আহত হয়ে কলকাতা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন।
আন্দোলনকারীরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে সকল আটক চাকরিপ্রার্থীর নিঃশর্ত মুক্তি, আহতদের সম্পূর্ণ চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ এবং দ্রুত সপ্তম এসএলএসটি (Arabic ও Advanced Arabic) নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জোরালো দাবি জানায়। পরে রাত প্রায় ১১টা নাগাদ আটক ৪১ জন চাকরিপ্রার্থীকে লালবাজার থানা থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।
এই ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনে আইনি সহায়তা ও নৈতিক সমর্থন দিয়েছেন– বিশেষত অ্যাডভোকেট শামীম আহমেদ, অ্যাডভোকেট এনামুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মীজানুর কবির ও অ্যাডভোকেট নাজিমুদ্দিন প্রমুখ। তাঁদের প্রতি (ABAF) সংগঠন আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। চাকরিপ্রার্থীদের ন্যায্য দাবি উপেক্ষিত হলে আগামী দিনে আন্দোলন আরও বৃহত্তর রূপ নেবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। অন্যদিকে, আগামী ৫ ও ১১ তারিখ হাইকোর্টে মাদ্রাসা শিক্ষক নিয়োগ মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য রয়েছে। কমিশন বা সরকার সদিচ্ছার মাধ্যমে ওই দিনগুলিতেই মামলার নিষ্পত্তি হলে দীর্ঘ তিন বছর ধরে অমীমাংসিত এমএসসি সপ্তম এসএলএসটি প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক স্তরের আরবি ও থিওলজির শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশাবাদী আন্দোলনকারীরা।







