উল্টে গেল যাত্রীবোঝাই বাস, করিমপুর–কৃষ্ণনগর রুটে
নতুন পয়গাম, করিমপুর: ফের করিমপুর-কৃষ্ণনগর রাজ্য সড়কে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা। রবিবার দুপুরে করিমপুর থানার অন্তর্গত কাঁঠালিয়া মাঠ এলাকায় যাত্রীবোঝাই একটি বেসরকারি বাস উল্টে গিয়ে মৃত্যু হলো এক গৃহবধূর। মৃতার নাম বাসন্তী মন্ডল (৫১), বাড়ি করিমপুরের অভয়পুরে। দুর্ঘটনায় একাধিক যাত্রী আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কৃষ্ণনগর থেকে করিমপুরের দিকে আসার সময় কাঁঠালিয়া মাঠে পেছন দিক থেকে আরেকটি যাত্রীবোঝাই বাস ধাক্কা মারলে প্রথম বাসটি উল্টে যায়। ধাক্কা দেওয়া বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশে একটি গাছে গিয়ে সজোরে ধাক্কা খায়। বিকট শব্দ শুনে আশপাশের মানুষ ছুটে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। আহতদের করিমপুর গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বাসন্তী মন্ডলকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। বাসের কন্ডাক্টর সুরজিৎ সাহা (বাড়ি কৃষ্ণনগর) সহ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদের জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় করিমপুর থানার পুলিশ ও দমকল বাহিনী। দুর্ঘটনার জেরে এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়ায়। উল্লেখ্য, এই কাঁঠালিয়া মাঠ এলাকাতেই গত ২০ মে বাস ও মারুতি ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছিল। তার আগে চাপড়ায় ঈদের কেনাকাটার সময় স্কর্পিও ও তিনটি টোটোর পরপর সংঘর্ষে প্রাণ যায় সাতজনের।
প্রায় ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ করিমপুর–কৃষ্ণনগর রাজ্য সড়কে একের পর এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে পথ নিরাপত্তা নিয়ে। এলাকাবাসীর দাবি, ব্যস্ত এই সড়কটি প্রসারিত ও আধুনিকীকরণ করা হলে দুর্ঘটনা অনেকটাই কমানো সম্ভব। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের দাবি করিমপুর–কৃষ্ণনগর রেললাইন। পর্যাপ্ত সরকারি বাস পরিষেবার অভাবও যাত্রীদের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। করিমপুর–কলকাতা রুটের সরকারি বাস চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের নির্ভর করতে হচ্ছে বেসরকারি পরিবহণের উপর। স্বাধীনতার পর থেকে রেললাইনের দাবি উঠলেও বাস্তবায়ন হয়নি। সম্প্রতি প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে রেল সার্ভে সম্পন্ন হলেও কাজ এগোয়নি। কেন্দ্রের প্রস্তাবিত চার লেনের ‘ভারতমালা’ প্রকল্পেরও কোনও অগ্রগতি নেই। ফলে প্রশ্ন উঠছে– আর কত প্রাণ গেলে এই উত্তর নদিয়ার গুরুত্বপূর্ণ রুটে নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে?
এ বিষয়ে করিমপুরের বিধায়ক বিমলেন্দু সিংহরায় বলেন, “করিমপুরে রেললাইন হবে—এই আশ্বাস বহু বছর ধরে শুনছি। কবে বাস্তবায়ন হবে জানা নেই। কাঁঠালিয়া মাঠের মতো ফাঁকা রাস্তায় পর্যাপ্ত পুলিশি নজরদারি নেই।” অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবুতাহের খান জানান, “করিমপুরের রেল প্রকল্পে কেন্দ্রীয় সরকার বাংলাকে বঞ্চিত করছে। আমরা সংসদে এই দাবিতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি।” বারবার দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় এলাকাবাসীর একটাই প্রশ্ন– করিমপুর–কৃষ্ণনগর রাজ্য সড়ক কি সত্যিই মৃত্যুপথে পরিণত হচ্ছে? কবে মিলবে নিরাপদ রাস্তা ও রেল যোগাযোগ?








