রসায়নে নোবেল জয় ফিলিস্তিনি শরণার্থী ওমরের
নতুন পয়গাম, স্টকহোম:
চলতি বছর ‘মেটাল অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্ক’ বা এমওএফ উদ্ভাবনের জন্য রসায়নে নোবেল পাচ্ছেন তিন দেশের তিন বিজ্ঞানী। তাদের অন্যতম হলেন ফিলিস্তিনি শরণার্থী পরিবারে জন্ম নেয়া ড. ওমর এম ইয়াগি। বর্তমানে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। কর্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক হলেও বিজ্ঞানী ড. ওমরের জন্ম এক ফিলিস্তিনি শরণার্থী বাবা-মায়ের ঘরে। নিজ দেশ ফিলিস্তিন থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়া ওমরের বাবা-মা চলে যান জর্ডানের রাজধানী শহর আম্মানে। ১৯৬৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি সেখানেই জন্ম হয় তার।
১৮৪৮ সালে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে গাজোয়ারি করে ইসরাইলকে রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা হলে দাঙ্গা শুরু হয়। সেই অবস্থায় প্রাণে বাঁচতে সপরিবারে তাঁর বাবা শরণার্থী হিসেবে চলে যান মরক্কো। ২০২১ সালে তাঁর গবেষণায় মুগ্ধ হয়ে সৌদি আরব সরকার ওমরকে সাম্মানিক রাজকীয় নাগরিকত্ব দেয়।
১৯৯২ থেকে ৯৮ সাল পর্যন্ত ওমর ইয়াগি আমেরিকার অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। ১৯৯৯ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত মিশিগান ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ছিলেন। ২০০৭ থেকে ২০১২ পর্যন্ত ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেন।
মাত্র ১৫ বছর বয়সে উচ্চশিক্ষার জন্য বাবার অনুপ্রেরণায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি। ওই সময় খুব বেশি ইংরেজি না জানলেও আধো আধো ইংরেজিতে কথা বলতে পারতেন। তার ওপরেই ভরসা করে আমেরিকার একটি কলেজে ভর্তি হন। এরপর সেখানেই গ্র্যাজুয়েশন এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন তিনি। পরবর্তীতে ইলিনয় ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে গবেষণা এবং সবশেষে পিএইচডি করেন।
এখন তিনি আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়নবিজ্ঞানের অধ্যাপক এবং গবেষক। এছাড়াও বার্কলে এবং ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির গেস্ট প্রফেসর তিনি। চলতি বছর জানুয়াড়রিতে তিনি ওয়ার্ল্ড সায়েন্স অ্যান্ড কালচারাল কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন তিনি।
এদিকে বুধবার নোবেল কমিটি জানিয়েছে, এবার যারা রসায়নে নোবেল পাচ্ছেন, সেই তিনজনের যুগান্তকারী আবিষ্কারকে কাজে লাগিয়ে মরুভূমির বাতাস থেকে জল তৈরি করতে পারে, বন্দি করতে পারে কার্বডাই অক্সাইডকে, বিষাক্ত গ্রিন হাউস ও অন্যান্য ক্ষতিকর গ্যাসকে ধরে রেখে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অনুঘটক হিসেবে কাজে লাগানো যেতে পারে। যা পরিবেশের সুরক্ষায় অনবদ্য কাজে লাগবে।








