BREAKING:
জোড়াসাঁকোয় সাহিত্য-সংস্কৃতির মহোৎসবে কলম শিল্পী গ্র্যান্ড ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ খোশবাগ বাসস্ট্যান্ডের কাছে পথ দুর্ঘটনা, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন দন্ত চিকিৎসক বসিরহাট দরবার শরিফে হুমায়ুন কবীর, পেলেন উষ্ণ অভ্যর্থনা লাল বালির চড়া দাম, গ্রামবাসীদের ভরসা পাথরের গুড়ো   রমজানে অসহায়দের পাশে আল হোসাইনী হেল্প ফাউন্ডেশন সুন্দরবনের লবণাক্ত মাটিতে সূর্যমুখী চাষে সাফল্য, লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা হুগলি জেলায় এসআইআর এর প্রথম পর্যায়ের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করলেন জেলা শাসক খুরশিদ আলি কাদরি  বন্যপ্রাণীর উপদ্রব রুখতে তৎপর বনদপ্তর উত্তাপহীন ডার্বিতে মহামেডানকে ৫ গোলে উড়িয়ে দিল মোহনবাগান মরণবাঁচন ম্যাচে আজ সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিততেই হবে ভারতকে রাজনগরে চাঞ্চল্য: গাংমুড়ি গ্রামে বাড়ির ভিতর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার মোবাইল গেম খেলতে খেলতেই নিভে গেল ২১ বছরের তরতাজা প্রাণ  মুর্শিদাবাদের মুকুটে নতুন দুই পালক, বিশ্ববিদ্যালয় ও কাটরা মসজিদের তোরণ প্রকল্পের শিলান্যাস করলেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম! রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিশটি আসনে লড়বে পুকুর খনন করার সময় প্রাচীন বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার হল পান্ডুয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা। রানে ফিরলেন অভিষেক, জয়ে ফিরলো ভারত; বেঁচে রইলো সেমির স্বপ্ন এসআইআর  ইস্যুতে আতঙ্ক নয়, আইনি পথে আপিলের আহ্বান মিল্লি ঐক্য মঞ্চের কালিয়াচক আবাসিক মিশনে বিজ্ঞান বিভাগের প্রবেশিকা পরীক্ষা সম্পন্ন, উৎসাহ চোখে পড়ার মতো পরীক্ষার দিন আচমকা মৃত্যু অষ্টম শ্রেণির ছাত্রের, শোকস্তব্ধ সোনারপুর নাবালিকাকে বিবাহের অভিযোগে জয়নগরে গ্রেপ্তার যুবক জয়নগরে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা, আহত তিন শ্রমিক নেতা মহম্মদ ওয়েস এর নেতৃত্বে বড়জোড়ায় বিরাট মিছিল কুলতলির বিধায়কের উপস্থিতিতে ঢালাই রাস্তার কাজের সূচনা হলো নলগোড়ায় ঘুটিয়ারীশরিফে পুলিশের তৎপরতায় ৫৪ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার গঙ্গাকে দূষণমুক্ত করতে উদ্যোগ সুন্দরবনে বাঘের হামলায় ফের মৃত্যু, সরকারি ক্ষতিপূরণের দাবি এসআইও নিয়ে মিথ্যা মন্তব্যের প্রতিবাদে কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলন জামাআতে ইসলামী হিন্দের ইফতার সামগ্রী বিতরণ বই হোক সই, বইয়ের জন্য করিমপুরে পথে হাঁটল শত শত মানুষ রমজান মাসে ৩০০ দুস্থ পরিবারের পাশে সমাজসেবী হাফেজ নজরুল ইসলাম অবশেষে ধুলিয়ান গঙ্গা স্টেশনে বাংলা স্থান পেল  মুর্শিদাবাদে দুই মেগা প্রকল্পের শিলান্যাস ২৮ ফেব্রুয়ারি ভাঙড়ে ২৮ টি তাজা বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, গ্রেপ্তার দুই জন্মদিনে অবহেলিত ভূদেব মুখোপাধ্যায়, তালাবন্ধ গ্রীলে মালা ঝুলিয়ে জন্মদিন পালন করল বিজেপি বালিভর্তি ট্রাক চলাচল ঘিরে উত্তেজনা, সোনামুখীতে গ্রামবাসীর রাতভর বিক্ষোভ বসিরহাটে দলবদল ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ, তৃণমূলের সভায় বহু নেতার যোগদান ভোটের আগে বিরোধী শিবিরে বড় ভাঙন কুলতলীতে কালিয়াচকের বাহাদুরপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড চুঁচুড়ায় সোমবার সাতসকালে পথ দুর্ঘটনা, জখম যুবকের অবস্থা আশঙ্কাজনক নিহত সেনা জওয়ানের মরদেহ পৌঁছাল শেখপাড়ার বাড়িতে ব্লক প্রাণিসম্পদ বিকাশ দিবস পালিত জয়নগরে অনলাইন বাণিজ্যের প্রসারে ক্ষুদ্র ব্যবসা চাপে: মত বড়জোড়া চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশে ফের পরিযায়ী শ্রমিকের উপর হামলা উত্তরলক্ষীপুরের গর্ব: প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ হতে চলেছেন ডা: মোবারাক হোসেন পুনরাবৃত্তি চায় ভারত, দক্ষিন আফ্রিকা চায় প্রত্যাবর্তন; সুপার এইটে আজ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই টানা দুই ম্যাচে জয় ইস্টবেঙ্গলের, দুই ম্যাচেই জোড়া গোল ইউসুফের বৃষ্টিতে ধুয়ে গেল পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ডের ম্যাচ আজ শুরু সুপার এইটের লড়াই, প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি পাক বনাম নিউজিল্যান্ড আজ ইস্টবেঙ্গলের সামনে স্পোর্টিং দিল্লি, ভরসার নাম ইউসুফ আজ্জেরি প্রত্যাশিত হার, ঘরের মাঠে মহামেডান বধ এফসি গোয়ার ১৫ বছরেও শেষ হয়নি বক্সীপুর ব্রিজ নির্মাণ কাজ, জনস্বার্থ মামলা গড়াল কলকাতা হাই কোর্টে করিমপুর এলাকাবাসীকে বহরমপুর যেতে আর পেরুতে হবেনা বিপদ সংকুল রাস্তা এসআইআর এর চাপ, শ্রীরামপুরে মাঝ গঙ্গায় ঝাঁপ বিএলও’র ছেলেধরা সন্দেহে পুড়িয়ে খুনের চেষ্টার ঘটনায় বলাগড়ে ২৫ জন দোষীকে সাজা শোনালো চুঁচুড়ার ফার্স্ট ট্রাক কোর্ট বেআইনি মাটির গাড়ির ধাক্কায় ২ যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে জি-প্লটের আদিবাসী শিশুরা  জল্পনার অবসান, তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন বাম যুব নেতা প্রতীক উর রহমান কনকচূড় ধানের চাল পেল জাতিসংঘের ঐতিহ্য স্বীকৃতি, খুশির হাওয়া জয়নগর জুড়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসন-এনজিওর যৌথ উদ্যোগে সচেতনতা শিবির ঘোড়ামারা দ্বীপ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপের নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের, গঠিত হচ্ছে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি শেষ সময় ঘনাতেই যুব সাথী প্রকল্পের ফর্ম জমায় দীর্ঘ হচ্ছে লাইন পখন্না রামকৃষ্ণ আশ্রমে শ্রীরামকৃষ্ণের ১৯১তম জন্মতিথি উদ্‌যাপন বড়জোড়া কলেজে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত সায়েম চৌধুরী ওরফে বাবু: সংগঠন, সংগ্রাম ও সেবার রাজনীতি সোনার প্রতিমার প্রলোভনে ১১ লক্ষ টাকার প্রতারণা ঘুঁটিয়ারীশরিফে পুলিশের সাফল্য: ২৪ চুরি যাওয়া মোবাইল উদ্ধার হুগলি জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের উদ্যোগে খাদ্য সুরক্ষা মেলা’য় সুষম খাদ্য খাওয়ার পরামর্শ  উলুবেড়িয়ায় ১৫ টিয়া উদ্ধার, আন্তরাজ্য পাখি পাচারচক্রের সদস্য গ্রেফতার সরকারি জমি দখল ও নয়নজুলি ভরাটের অভিযোগে চাঞ্চল্য ধূপগুড়িতে কাবিলপুর হাই স্কুলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠা দিবস ঘটা করে উদযাপন পবিত্র রমজান মাস শুরুর ঠিক আগে ইফতার সামগ্রী বিতরণ জয়নগরে ২০২৬ নির্বাচন ঘিরে ফারাক্কায় জোর চর্চায় রেহেনা ইয়াসমিন  পিতা-মাতার স্মৃতিতে আট দিনব্যাপী ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন পুলিশকর্মী ছেলের উদ্যোগে সুন্দরবনের মৎস্যজীবীদের মৃত্যু মিছিল থামছেই না, সরকারি ক্ষতিপূরনের দাবি মাটি, মানুষ ও সংগঠন: রাবিউল ইসলামের রাজনৈতিক দর্শন দুবে ঝড়ে উড়ে গেল নেদারল্যান্ডস, বোলিংয়ে নায়ক বরুণ হঠাতই ব্যাটিং বিপর্যয়, রঞ্জি থেকে বিদায় বাংলার ফারহানের দুরন্ত সেঞ্চুরি, সুপার এইটে পাকিস্তানও ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে আজ নামিবিয়ার মুখোমুখি পাকিস্তান সামির ৮ উইকেটেও, ব্যাটিং বিপর্যয়ে হারের মুখে বাংলা চুঁচুড়ায় প্রার্থী ঘোষণার আগেই দেওয়াল লিখনে জোর তৃণমূল, পাল্টা কটাক্ষ বিজেপির কুলতলিতে আয়ুষ মেলা: বিকল্প চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগ রানীনগরে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীসভা ও জাকির হোসেনের উপস্থিতিতে উপচে পড়া ভিড়  কৃষকদের সমস্যা সমাধানে চালু ‘ভারত বিস্তার’ এআই টুল গোবর্ধনডাঙ্গায় তৃণমূল ট্রেড ইউনিয়নের কর্মী সভা কাবিলপুরে মানব সেবা ফাউন্ডেশনের পথচলা শুরু মালদা জেলায় হাই মাদ্রাসা, আলিম ও ফাজিল পরীক্ষা নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন পা দিয়ে লিখেই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা মানকুন্ডুতে সারা বাংলা একদিনের দাবা প্রতিযোগিতা মেরা যুব ভারতের উদ্যোগে মগরাহাটে জেলা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অপসংস্কৃতির স্রোতের বিপরীতে নাট্যচর্চার বার্তা – বাগনানে তিনদিনের নাট্য উৎসবে নজর কাড়ল বাঙালপুর বয়েজ ক্লাব দ্বীপাঞ্চলবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ: আমতায় নির্মীয়মাণ কংক্রিটের সেতুতে বাড়ছে আশার আলো মানসম্মত শিক্ষা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে কলকাতায় স্কুল ম্যানেজমেন্ট কর্মশালা জীবনে কিছু জায়গা থেকে চুপচাপ সরে আসতে হয় ১৪ই ফেব্রুয়ারি: ভালবাসার দিন হিসেবে কেন পালিত হয়? সুদ, মাদক ও জুয়ার অদৃশ্য জোট: সমাজ ধ্বংসের নীরব চক্রান্ত আদ্রায় ‘বিনা পয়সার বাজারে’ উপচে পড়া ভিড়, হাসি ফিরল অসংখ্য মুখে মেডিকেল ভর্তিতে কাট অফ বিতর্কে তোলপাড় দেশ হবু ডাক্তারদের মান, মেধা ও রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন কেরালার আদালতে নতুন অধ্যায় রচিত দৃষ্টিহীন তরুণী বিচারক গড়লেন নজির

সেই সুন্দর স্বর্ণালী সন্ধ্যায়

প্রকাশিত: ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, রাত ৮:০৯ | আপডেট: ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, রাত ৮:০৯
পায়ে পায়ে আমরা অনেকটা পথ চলে এসেছি। কিন্তু পিছন ফিরে তাকালে মনে হয় যেন মরিচিকার পিছনে এতকাল ছুটেছি। গ্রাম ছাড়া ওই রাঙা মাটির পথ ছেড়ে এতদূর এসেছি; কিন্তু একটুও এগোইনি আমরা, কেবলই নিজেদের ছায়া মাড়িয়ে চলেছি। সেই ছেলেবেলার নস্টালজিয়া এখন স্মৃতির সরণি বেয়ে ফিকে হয়। মাথা খুঁড়ে মরে গেলেও এখন আর ফিরে পাওয়া সম্ভব নয় বাল্যকালের হাসি, আনন্দ, কোলাহল, নির্ভেজাল আনন্দ। গ্রাম বাংলা একসময় ছিল খেলার মাঠ, মিলনমেলা, আর উৎসবের সমন্বয় মঞ্চ। দিনের আলো শেষ হত শিশুদের দৌড়-ঝাঁপের মধ্য দিয়ে, আর সন্ধ্যা নেমে আসত কিশোর-যুবকদের হাসিঠাট্টার শব্দ আর পাখ-পাখালির কুজনে। গোল্লাছুটের দৌড়, বউচির নিয়ম, কানামাছির ব্যস্ততা, হাডুডুর থাবা, দড়ি টানাটানির উত্তেজনা কিংবা নৌকা বাইচের পাগল করা ছন্দ -- এসব ছিল গ্রামীণ খেলাধুলার প্রাণভোমরা।

পায়ে পায়ে আমরা অনেকটা পথ চলে এসেছি। কিন্তু পিছন ফিরে তাকালে মনে হয় যেন মরিচিকার পিছনে এতকাল ছুটেছি। গ্রাম ছাড়া ওই রাঙা মাটির পথ ছেড়ে এতদূর এসেছি; কিন্তু একটুও এগোইনি আমরা, কেবলই নিজেদের ছায়া মাড়িয়ে চলেছি। সেই ছেলেবেলার নস্টালজিয়া এখন স্মৃতির সরণি বেয়ে ফিকে হয়। মাথা খুঁড়ে মরে গেলেও এখন আর ফিরে পাওয়া সম্ভব নয় বাল্যকালের হাসি, আনন্দ, কোলাহল, নির্ভেজাল আনন্দ। গ্রাম বাংলা একসময় ছিল খেলার মাঠ, মিলনমেলা, আর উৎসবের সমন্বয় মঞ্চ। দিনের আলো শেষ হত শিশুদের দৌড়-ঝাঁপের মধ্য দিয়ে, আর সন্ধ্যা নেমে আসত কিশোর-যুবকদের হাসিঠাট্টার শব্দ আর পাখ-পাখালির কুজনে। গোল্লাছুটের দৌড়, বউচির নিয়ম, কানামাছির ব্যস্ততা, হাডুডুর থাবা, দড়ি টানাটানির উত্তেজনা কিংবা নৌকা বাইচের পাগল করা ছন্দ — এসব ছিল গ্রামীণ খেলাধুলার প্রাণভোমরা।
গ্রামের মাঠে-ময়দানে তখন শুধু খেলার উত্তেজনা ছিল না; ছিল নিবিড় সম্পর্ক, ছিল এক ধরনের সমবেত শক্তি, ছিল সামাজিক সংযোগের অদৃশ্য সুতো। কিন্তু এখন সেসব যেন স্মৃতির পাতায় লেপটে গেছে। গ্রামের মাঠে গিয়ে দেখা যায় শিশুরা দল বেঁধে দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু খেলছে না। সবার হাতে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল, কানে এয়ারফোন, নিষ্পলক দুটো চোখ আটকে গেছে স্ক্রিনে। মাঠ ফাঁকা, গাছের ছায়া নিঃসঙ্গ, আর খেলা যেন সময়ের পেছনে হারিয়ে গেছে।
গ্রামীণ খেলাধুলা আজ হারিয়ে যাওয়ার পথে। এটি শুধু একটি বাক্য নয়; বরং সময়ের পরিবর্তনের সাক্ষী। সমাজের পরিবর্তন, প্রযুক্তির আগ্রাসন, অর্থনৈতিক বাস্তবতা, অভিভাবকদের দৃষ্টিভঙ্গি আর আধুনিক বিনোদনের বিস্তার — সব মিলেই যেন নীরব চাপে মুছে দিচ্ছে এসব খেলা। অথচ এগুলো শুধু বিনোদন ছিল না; বরং ছিল সংস্কৃতি, ছিল স্বাস্থ্যচর্চা, ছিল অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা, ছিল পরিচয়ের অংশ। গ্রামীণ খেলাধুলা ধীরে ধীরে পেছনে সরে গেলে তা শুধু ঐতিহ্যের ক্ষতি নয়; প্রজন্মেরও ক্ষতি।
একদিন গ্রামের শিশুরা বিকালে মাটি ছুঁয়ে, মাথার ঘাম ঝরিয়ে খেলত। গোল্লাছুটে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করার সেই উত্তেজনা, কিংবা হাডুডুতে শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণের সেই বুদ্ধিমত্তা ছিল শরীরের সঙ্গে মস্তিষ্কেরও খেলা। গ্রামের খেলা দলবদ্ধভাবে শেখাত কাজ করতে, শেখাত নেতৃত্ব, শেখাত সাহস, শেখাত হার-জিতের মধ্য দিয়ে সহমর্মিতা। এখনকার শিশুদের অনেকেই হয়ত জিততে পারে, কিন্তু হারতে শেখে না। সবাই চায় প্রথম হতে। অভিধানে যেন দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ইত্যাদি ক্রমবাচক সংখ্যা নেই। তারা খেলা শেখার সময়টা মোবাইল ব্যয় করছে, যেখানে রিস্টার্ট বাটন আছে, কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা নেই।
ডিজিটাল যুগে বিনোদন বদলে গেছে। এখন শিশুরা বিকালে গিয়ে বন্ধু ডাকার বদলে মেসেঞ্জারে নোটিফিকেশন পায়, মাঠে ছুটে যাওয়ার বদলে অনলাইনে ‘জয়েন গেম’ ক্লিক করে। গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, স্কুল থেকে ফিরে অনেক শিশুই গেম খেলে; ক্রিকেট বা ফুটবল মাঠে নয়; বরং ফোনের পর্দায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তাদের কাছে হাডুডুর শব্দ অর্থহীন, গোল্লাছুট অচেনা, দাড়িয়াবান্ধা বা কানামাছি যেন গল্পের বিষয়। আর এসব খেলা থেকে তৈরি হওয়া যে সামাজিক বন্ধন, মিলন ও সম্পর্ক, তা-ও যেন ক্রমে দুর্বল হয়ে যাচ্ছে।
গ্রামে আরেকটি বড় পরিবর্তন এসেছে মাঠ হারিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে। একসময় গ্রামের মাঝখানে ছিল বিশাল সব খোলা মাঠ। ধান কাটার মরশুমে বা চৈত্রের শেষ দিকে যখন গ্রাম একটু অবসর পেত, তখন সেই মাঠেই হত খেলা ও সামাজিক উৎসব। কিন্তু এখন কৃষিজমি দামি হয়ে গেছে, অনেক গ্রামে মাঠ বা পতিত জমি হাউজিং বা কমার্সিয়াল কমপ্লেক্সে পরিণত হয়েছে। জমির মূল্য যত বেড়েছে, মাঠ তত কমেছে। মাঠ কমে গেলে খেলা কমে, খেলা কমে গেলে মিলনমেলা বন্ধ হয়, মিলনমেলা বন্ধ হলে সামাজিক সম্পর্কও কমে যায়। এ এক অদ্ভুত চক্র, যা নীরবে চলে যাচ্ছে, কিন্তু প্রভাব রেখে যাচ্ছে গভীরভাবে।
গ্রামীণ খেলাধুলা হারিয়ে যাওয়ার আরেকটি কারণ হল পড়াশোনা ও কেরিয়ার গড়ার চাপ। এখন অভিভাবকরা চান শিশুরা যেন ভাল রেজাল্ট করে, কোচিংয়ে যায়, ইংরেজিতে পারদর্শী হয়, কম্পিউটার শেখে। তাদের কাছে খেলা মানে অহেতুক সময় নষ্ট করা। আগে গ্রামের পরিবারগুলো লেখাপড়া এবং খেলার মধ্যে ভারসাম্য রাখত। স্কুল শেষে খেলতে যেত শিশুরা, তবু পড়াশোনায় পিছিয়ে যেত না। এখন যেন সময়ের গণনা বদলে গেছে, খেলা বাদ দিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য বাদ দিয়ে পড়াশোনা; সামাজিক বিনোদন বাদ দিয়ে ডিজিটাল বিনোদন।
অথচ গ্রামীণ খেলাধুলার পাঠ সমাজে অনেক বড় ভূমিকা রাখত। গ্রামীণ খেলাধুলা হারিয়ে যাওয়া মানে স্মৃতিও হারানো। অনেকের শৈশবজুড়ে আছে বৃষ্টি শেষে মাঠে কাদা মাখা দৌড়, রোদে পুড়ে গোল্লাছুট খেলা, ঈদের সকালে দড়ি টানাটানির হাসি, নৌকা বাইচের চিৎকার কিংবা বিজয়ী দলকে লাউ বা কলা পুরস্কার দেওয়া। এসব স্মৃতি শুধু মজার নয়; মানুষের আবেগ, সম্পর্ক ও পরিচয়েরও অংশ। এখনকার শিশুরা সেই স্মৃতি পাবে কি? হয়ত তাদের স্মৃতি হবে ভার্চুয়াল, আর সেখানেই ক্ষতি, বাস্তব সম্পর্ক ভার্চুয়াল সম্পর্কের মতো সহজে গড়ে ওঠে না।
গ্রামীণ খেলাধুলা ফিরিয়ে আনার জন্য তিনটি দিক জরুরি — মাঠ, সময় ও মানসিকতা। মাঠ ছাড়া খেলা হয় না। সময় ছাড়া অংশগ্রহণ হয় না। আর মানসিকতা ছাড়া উৎসাহ হয় না। অভিভাবকদেরও একটু ভাবতে হবে, শিশুর স্বাস্থ্য ও মানসিক সুস্থতা পরীক্ষার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও চাইলে এই খেলাগুলো পুনরুজ্জীবিত করতে পারে। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার, যুবকেন্দ্র, ক্লাব, সংস্কৃতি মন্ত্রক কিংবা ক্রীড়া সংস্থাগুলোর ভূমিকা থাকা উচিত। হয়ত একদিন গ্রামের শিশুরা আবার খেলতে শিখবে মাঠে, ভার্চুয়াল জগতে নয়। হয়ত আবার শিশুরা দৌড়াতে দৌড়াতে হারতে অভ্যস্ত হবে, পরাজয় মেনে নেবে, সম্পর্ক গড়তে শিখবে। সমাজে আবার ফিরবে সেই হারিয়ে যাওয়া মিলনমেলার শব্দ। সেইদিন সমাজ আবার সুষম হবে, সুসংহত হবে, স্বাস্থ্যকর হবে।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder