অভিষেকের ব্যাটে উড়ে গেল নিউজিল্যান্ড
নতুন পয়গাম, এম. রহমান, নাগপুর:
ভারতঃ২৩৮-৭
নিউজিল্যান্ড: ১৯০-৭
(ভারত জয়ী ৪৮ রানে)
গৌতম গম্ভীরকে নিয়ে টেস্ট,ওয়ানডেতে যতই সমালোচনা হোক;টি-টোয়েন্টিতে তিনি অদ্বিতীয়,অপরাজেয় প্রায়।ক্রিকেটের ক্ষুদ্র সংস্করণে ভারতকে নিয়ে গেছেন অন্য উচ্চতায়। গতকালও তার ব্যতিক্রম হল না। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের টি-২০ সিরিজের প্রথম ম্যাচে একেবারে উড়িয়ে দিল গম্ভীরের ছেলেরা।টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে শুরুটা ভালোই হল ভারতের। নাগপুরে প্রথম টি-২০ ম্যাচে কিউয়িদের ৪৮ রানে হারাল সূর্যকুমার যাদবের দল। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে অভিষেক শর্মা ও রিঙ্কু সিংয়ের দাপটে ভারত সাত উইকেটে তুলেছিল ২৩৮। জবাবে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ১৯০। গ্লেন ফিলিপস(৭৮) মরিয়া চেষ্টা করলেও তা যথেষ্ট ছিল না। রায়পুরে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ শুক্রবার।
তবে অভিষেক যেদিন খেলেন সেদিন বিপক্ষ বোলারদের অসহায় হয়ে তাকিয়ে থাকা ছাড়া কিছু করার থাকে না। এই ফরম্যাটে আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বের একনম্বর ব্যাটার এই বাঁ হাতি। যুবরাজ সিংয়ের ছাত্র এদিন ফের বোঝালেন কেন তিনি বোলারদের ত্রাস। আটটা ছক্কা ও পাঁচটা চার সহ ৩৫ বলে ৮৪— অভিষেকের ধুমধাড়াক্কায় বিধ্বস্ত দেখাল সফরকারী দলকে। শতরান নিশ্চিত দেখাচ্ছিল। কিন্তু ছয় হাঁকাতে গিয়ে ক্যাচ তুলে ফিরতে হল ২৫ বছর বয়সী পাঞ্জাব তনয়কে। দীর্ঘদিন পর ব্যাট হাতে পুরনো ঝলক দেখা গেল ক্যাপ্টেন সূর্যের ব্যাটেও। ২২ বলে এই ৩২ আত্মবিশ্বাস বাড়াবে তাঁর। তৃতীয় উইকেটে অভিষেক-সূর্য ৪৭ বলে জোড়েন ৯৯ রান। সাত নম্বরে নেমে ২০ বলে ৪৪ রান করে অপরাজিত থাকেন রিঙ্কু। দেখালেন ফিনিশার হিসেবে কেন তিনি অপরিহার্য। তবে শুভমান গিলকে ছেঁটে ফেলে এই সিরিজে অভিষেকের সঙ্গী ওপেনারের ভূমিকায় ফেরা সঞ্জু স্যামসন (১০) হতাশ করলেন। তিলক ভার্মার অসুস্থতায় প্রথম এগারোয় আসা ঈশান কিষানও (৮) সুযোগ কাজে লাগতে ব্যর্থ। অথচ, দু’জনেই শুরুটা ভালো করেছিলেন। শিবম দুবে (৯), অক্ষর প্যাটেল (৫) দ্রুত ফেরেন। কিন্তু রিঙ্কুর ধুমধাড়াক্কায় দুশোর গণ্ডি পেরিয়ে যায় ভারত। মিচেলের শেষ ওভারেই ওঠে ২১।
জবাবে নিউজিল্যান্ড শুরুতেই হোঁচট খায়। স্কোরবোর্ডে ১ রানের মধ্যেই আউট হন ওপেনার ডেভন কনওয়ে (০) ও তিনে নামা রাচীন রবীন্দ্র (১)। আর এক ওপেনার টিম রবিনসনও (২১) বেশিক্ষণ থাকেননি। কিন্তু চারে নামা গ্লেন ফিলিপস ভরসা জোগান নিউজিল্যান্ডকে। চতুর্থ উইকেটে মার্ক চ্যাপম্যানের সঙ্গে ৭৯ রান যোগ করেন তিনি। যশপ্রীত বুমরাহর বলে মাত্র ১৫ রানে চ্যাপম্যানের সহজ ক্যাচ ছাড়েন রিঙ্কু। কিন্তু ১৪তম ওভারে অক্ষরের বলে ফিলিপস (৪০ বলে ৭৯) ফিরতেই কার্যত হার নিশ্চিত হয় কিউয়িদের। তাঁর ইনিংসে ছিল ছয়টি ছক্কা ও চারটি চার। পরের ওভারেই চ্যাপম্যানকে (২৪ বলে ৩৯) আউট করেন বরুণ চক্রবর্তী, যা তাঁর দ্বিতীয় শিকার। বল হাতে নজর কাড়লেন বুমরাহ, অর্শদীপ, হার্দিকও। তবে ব্যাটে হতাশ করলেও বোলিংয়ে কিছুটা পুষিয়ে দিলেন শিবম। তাঁর ঝুলিতে উঠল দুটো উইকেট। জয়ের সৌরভের মধ্যে চিন্তায় রাখল ফিল্ডিংও। বেশ কিছু ক্যাচ পড়ল, রানআউটের সুযোগও নষ্ট হল। ওডিআই সিরিজে পরাজয়ের বদলা নিতে হলে কিন্তু বোলিং-ফিল্ডিংয়ে আরও শান দেওয়া জরুরি।তবে যে গতিতে ভারত শুরু করেছে,তাতে লাগাম টানার ক্ষমতা কি এই নিউজিল্যান্ড দলের আছে?
সময়ই তা বলবে।








