মোস্তাক হোসেন, মানব ও সমাজ সেবার মুকুটে আরেকটি পালক
সোনা বন্দ্যোপাধ্যায় ও মুদাসসির নিয়াজ
নতুন পয়গাম: এই বাংলার সমাজে পিছিয়েপড়া অংশের মানুষের শিক্ষার বিস্তারে বিশিষ্ট বাঙালি উদ্যোগপতি তথা পতাকা শিল্পগোষ্ঠীর কর্ণধার দানবীর মোস্তাক হোসেন সাহেবের যে পাহাড়ছোঁয়া তথা আকাশচুম্বি বহুমুখী অবদান, সেখানে নতুন করে আলোচনা করার আর কোনও অবকাশ আছে বলে আমার মনে হয় না। তাঁর অকাতর দানে এই মুহূর্তে পশ্চিম বাংলার সমাজে আগের থেকে অনেক বেশি ভারসাম্য এসেছে, যেটা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। সমাজ সচেতন মানুষ মাত্র দানবীর মোস্তাক হোসেনের উদারতা, মানবতার কাহিনি কম-বেশি জানেন। কারণ, এটা নতুন কোনো ঘটনা নয়। বহুকাল থেকেই তিনি মানবতার সেবায় এই কাজ নীরবে করে চলেছেন। শিক্ষা সম্প্রসারণে তাঁর মিশন স্কুলের কনসেপ্ট রাজ্যে নতুন কনসেপ্ট তৈরি করেছে। পশ্চিমবঙ্গে মিশন স্কুলের তিনিই পথিকৃৎ। শুধু পুঁথিগত বা প্রথাগত শিক্ষাই নয়, এসব মিশন থেকে বিএড, ডিএলএড, মেডিক্যাল, জয়েন্ট, ডব্লিউবিসিএস ইত্যাদি বহু রকমের সময়োপযোগী বৃত্তিমূলক শিক্ষা বা কোচিংও দেওয়া হয়। আর এসব ব্যাপারে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য মিশন স্কুল ইতিমধ্যেই যথেষ্ট সফলতার পরিচয় দিয়েছে। এটাও মানুষের জানা আছে যে, ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-এর উন্নত মানের কোচিংয়ের পাশাপাশি চিকিৎসা পরিষেবা ক্ষেত্রেও মোস্তাক হোসেনের অবদান অনস্বীকার্য।
এবার অন্য একটি অপেক্ষাকৃত স্বল্পালোচিত অথচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদানের ওপর আলোকপাত করা যাক। ছোটবেলা থেকেই ভাল সাঁতার কাটতে পারতেন এবং সাঁতার দিয়ে বিশ্বজয় করার স্বপ্ন দেখত মেদিনীপুর জেলার দেওয়ান নগরের বাসিন্দা এবং বি.এ. পাঠরতা ২১ বছরের সম্ভাবনাময় বাঙালি জল-পরী আফরিন জাবি। ইংলিশ চ্যানেল, জিব্রাল্টার স্ট্রেট ইত্যাদি ভয়ংকর প্রণালীগুলো অবলীলায় সাঁতার কেটে পার হবার স্বপ্ন আঁকা ছিল তার দুই স্বপ্নালু চোখে। প্রথমেই সে উদ্যোগ নিয়েছিল উথাল-পাথাল ঢেউয়ে ভর্তি ইংলিশ চ্যানেল জয় করার। কিন্তু এই লক্ষ পূরণ করার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল প্রয়োজনীয় বিপুল পরিমাণ অর্থ। একথা দানশীল বাঙালি ব্যক্তিত্ব মোস্তাক হোসেন সাহেবের কানে আসতে তিনি কি আর চুপ করে বসে থাকতে পারেন? ইউরোপ যাতায়াত করা, সেখানকার ব্যয়বহুল পরিবেশে থাকা-খাওয়া এবং অন্যান্য বিপুল খরচা বাবদ আফরিন জাবিকে তিনি প্রয়োজনীয় বিশাল অংকের অর্থ দরাজ হাতে সাহায্য করলেন। এরপর দিলেন অনুপ্রেরণা, যার মূল্য আর্থিক অনুদানের তুলনায় কোন অংশে কম নয়। সব মিলিয়ে বলা যায় বুলা চৌধুরীর পর বাংলা ও দেশের নাম উজ্জ্বল করা সাঁতারু আফরিন জাবির সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতা করেন মোস্তাক হোসেন। এর ফলে বাঙালি কন্যা আফরিন জাবি স্রোতের প্রতিকূলে রীতিমতো এক দুঃসাহসিক অভিযানে ঝাঁপিয়ে পড়ার সাহস পায়।

মাত্র কিছু দিন আগে আফরিন জাবি ১১ ডিগ্রী সেলসিয়াস কনকনে ঠাণ্ডা জলে সাঁতার কেটে দীর্ঘ ৩৪ কিলোমিটার চওড়া এবং ভয়ংকর বিপদ সংকুল ও দুরন্ত ইংলিশ চ্যানেল পার করেন। এরপর ইংলিশ চ্যানেল জয়ের পর সবার আগে আফরিনকে শুভকামনা জানান দানবীর মোস্তাক হসেন সাহেব। বলতে দ্বিধা নেই যে, এই সাফল্য তার একার নয়, বরং একজন বাঙালি এবং ভারতীয় নাগরিক হিসাবে এটা সারা বাংলা এমনকি সারা দেশের সাফল্য, গর্ব এবং গৌরবও বটে।
অতএব একথা অকপটে বলা যায় যে, মোস্তাক হোসেন সাহেবের এই দানশীল চরিত্রের মুকুটে আরেকটি পালক সংযোজিত হল সাঁতারু আফরিনের সাফল্য। মোস্তাক সাহেবের বিশালায়তন কর্মকাণ্ডের পরিধির যা ব্যপ্তি এবং আমাদের সমাজে তাঁর যা অনন্য অবদান ও প্রভাব, তাতে তার জন্য আরও বেশি স্বীকৃতি তথা সম্মান অবশ্যই আশা করা যায়। এমনকি এজন্য রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের কাছে দাবিও পেশ করা সংগত ও যুক্তিযুক্ত। তবে, এই আওয়াজ যেন সমাজের সর্বস্তর থেকেই জোরালোভাবে উঠে আসে। তাহলেই হবে তাঁর সেবামূলক বহুমুখী কর্মকাণ্ডের প্রকৃত মূল্যায়ন।
পরিশেষে সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা জানাই, আরও সাফল্য আসুক আফরিন জাবির জীবনে। পাশাপাশি পরম করুণাময় ঈশ্বরের কাছে আমাদের এও প্রার্থনা যে, মানবদরদী ও মানবতাবাদী কিংবদন্তি মোস্তাক হোসেন সাহেবের ব্যবসা সর্বাত্মক সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে যাক, যাতে এই ধরনের আরও সেবামূলক কাজে তিনি অকাতরে আর্থিক অনুদান, মানসিক ও মানবিক সহায়তা দিতে পারেন, যেটা আমাদের সমগ্র বাংলা ও বাঙালি সমাজ এবং একই সঙ্গে দেশ ও জাতির কল্যাণ সাধনায় ব্রতী হয়। সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তা তাঁকে ভালো রাখুন, সুস্থ রাখুন।








