জলবায়ু পরিবর্তনে আরও কার্যকর উদ্যোগ দরকার: ইইএ
নতুন পয়গাম, আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছে ইউরোপ। তবে পরিবেশ রক্ষা ও বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাব মোকাবিলায় আরও পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিবেশবিষয়ক সংস্থা ইইএ (European Environment Agency)। সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়।
অগ্রগতি ও সীমাবদ্ধতা
ইইএ জানিয়েছে, গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ এবং বায়ুদূষণ কমানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ১৯৯০ সাল থেকে ইইউ দেশগুলোতে নিঃসরণ ৩৭ শতাংশ কমেছে। জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো ও নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার দ্বিগুণ হওয়ার ফলে এ উন্নতি এসেছে।
তবে সংস্থার মতে, ইউরোপের সামগ্রিক পরিবেশের অবস্থা সন্তোষজনক নয়। মহাদেশজুড়ে জীববৈচিত্র্য হ্রাস পাচ্ছে, মাটির ক্ষয় এবং জলাশয়ের অবনতি বাড়ছে।
জলবায়ু চ্যালেঞ্জ
প্রতিবেদন অনুযায়ী—
- সংরক্ষিত অভয়ারণ্যের প্রায় ৮১% খারাপ বা খুব খারাপ অবস্থায় রয়েছে।
- ৬০–৭০% মাটি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে।
- ৬২% জলাশয় ভালো অবস্থায় নেই।
এ ছাড়া, চরম আবহাওয়া ও জলবায়ু-সম্পর্কিত দুর্যোগে ১৯৮০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ইইউর ২৭ দেশে ২ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছেন।
স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো ঝুঁকি
ইইএ সতর্ক করেছে, ইউরোপের অধিকাংশ ভবনের নকশা বাড়তে থাকা তাপমাত্রা সহনীয় করে তৈরি করা হয়নি। ফলে ১৯% ইউরোপীয় নাগরিক নিজেদের ঘরে আরামদায়ক তাপমাত্রা বজায় রাখতে পারছেন না।
তাদের ৩৮ সদস্যদেশের মধ্যে মাত্র ২১টির গরম মোকাবিলার জন্য স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কর্মপরিকল্পনা আছে।
পানির সংকট
প্রতিবেদনে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সুপেয় পানির সংকট বাড়ছে। তবে সুশাসন, প্রযুক্তি, পানির পুনর্ব্যবহার ও জনসচেতনতা বাড়িয়ে কৃষি, পানি সরবরাহ ও জ্বালানি খাতে ৪০% পর্যন্ত পানি সাশ্রয় সম্ভব।
রাজনৈতিক অবস্থান
সম্প্রতি জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনে ইইউর ২৭ সদস্যদেশের মধ্যে ঐক্যমত না হওয়ায়, ২০৩৫ সালের মধ্যে গ্রিনহাউস গ্যাস আরও কমানোর আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা উপস্থাপন করা যায়নি। ইউরোপীয় কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০৪০ সালের মধ্যে নিঃসরণের হার ১৯৯০ সালের তুলনায় ৯০% কমানোর লক্ষ্য রাখা হলেও, সে বিষয়ে এখনো একমত হয়নি ইইউভুক্ত দেশগুলো।








