কমিশনকে কুক্ষিগত করেছেন মোদী: সেলিম
নতুন পয়গাম, কলকাতা,
১৮ সেপ্টেম্বর: এসআইআর নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে বিভিন্ন জেলায় বুথে বুথে ‘ভোটাধিকার রক্ষা শিবির’ চালু করেছে সিপিএম। দুর্গাপুজোর পরেই পশ্চিমবঙ্গ-সহ সারা দেশে এসআইআর হবে বলে ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ২০০২ সালে রাজ্যে শেষবার ভোটার তালিকা সংশোধন হয়েছিল, তাই ফের এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর আগে সেই তালিকার ভোটারদের নাম, তাঁদের বিধানসভা কেন্দ্র, সিরিয়াল নম্বর, পার্ট নম্বর নথিভুক্ত করা জরুরি। একইসঙ্গে বর্তমান ভোটার তালিকায় সেই ভোটারদের উপস্থিতি কোথায় আছে, সেই তথ্যও মিলিয়ে নেওয়ার কাজ দরকার।
কলকাতায় বামফ্রন্টের এক গণকনভেনশন এসআইআর প্রসঙ্গে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, মোদী সরকার নির্বাচন কমিশনকেও কুক্ষিগত করেছে, এখন নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন পরিচালনার বদলে দেশকে হিন্দুরাষ্ট্র বানানোর লক্ষ্যে কাজ করতে নেমেছে। রাজ্যে পঞ্চায়েত ও পুরসভা নির্বাচনে ভোট লুটেও রাজ্যের নির্বাচন কমিশনের দলদাসত্ব দেখেছি, এখন দশের নির্বাচন কমিশনও ভোট লুট প্রক্রিয়ার অংশ হয়ে গিয়েছে। এর গোড়ায় আছে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া, শুরুতেই এটা রুখতে হবে সবাই মিলে।
তিনি আরো বলেন, নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা থেকে মৃতদের নাম বাদ দিতে চাইলে সরকারের কাছ থেকে নথিভুক্ত মৃতদের নামের তালিকা নিয়েই ভোটার তালিকা সংশোধন করতে পারত। তার বদলে নাগরিকদের ব্যতিব্যস্ত করে রুটি-রুজি, শিক্ষা-স্বাস্থ্যের দুর্দশা ও ব্যর্থতা থেকে থেকে নজর ঘোরাচ্ছে। সংবিধান অনুসারে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব সর্বজনীন ভোটাধিকার সুনিশ্চিত করা, অথচ তারা ভোটাধিকার সীমিত করার কাজে নেমেছে।
এসআইআর নিয়ে রাজ্য তথা দেশের মানুষ বিভ্রান্ত। এই বিভ্রান্তি দূর করতে এদিন থেকে বুথে বুথে ‘ভোটাধিকার রক্ষা শিবির’ শুরু করল সিপিআই। সেলিমের কথায়, বিজেপি-আরএসএস নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে এসআইআর এর মাধ্যমে শ্রমজীবী, প্রান্তিক, খেটে খাওয়া মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চাইছে। বারে বারে কমিশনকে তালিকা তুলে দেওয়ার পরেও রাজ্যের ভোটার তালিকায় মৃত, স্থানান্তরিত, সন্দেহজনক ভোটারদের নাম বছরের পর বছর রেখে দিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস, যাতে ভোট লুটে সুবিধা হয়। তাই মৃত, স্থানান্তরিত, সন্দেহজনক নাম বাদ দিয়ে ভোটার তালিকাকে স্বচ্ছ করতে হবে। কিন্তু কোনমতেই যেন প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ না যায়। প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ গেলে তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন করবে সিপিএম।
উল্লেখ্য, বিহারে এসআইআর করে ৬৫ লক্ষের নাম বাদ গিয়েছে। এই মর্মে বুধবার সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, বেআইনি বা গলদ কিছু ধরা পড়লে পুরো প্রক্রিয়া বাতিল হবে।








