ভূ-রাজনীতির মানচিত্রে ভারত একেবারেই আলাদা
মোহাম্মাদ ইরফান সাদিক:এখানে রাজনীতি, সমাজ আর ধর্ম পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। দুর্ভাগ্যজনক সত্য হল, ধর্মকে ঘিরে যে নিন্দা, বিদ্বেষ ও ভুল ব্যাখ্যার বন্যা আমরা প্রতিদিন দেখি, তার মূল কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অজ্ঞতা, গোঁড়ামি আর পড়াশোনার অভাব। শোনা কথাকেই শেষ সত্য ধরে নেওয়া একদল তথাকথিত সর্বজ্ঞ মানুষের সংখ্যা আজ ভয়ংকরভাবে বেশি। আর যেহেতু আমাদের দেশে ধর্মীয় বিশ্বাসে আস্থাশীল মানুষের সংখ্যাই বেশি, তাই নিজের ধর্মের সঠিক চর্চা এবং অন্য ধর্ম সম্পর্কে ন্যূনতম জ্ঞান ও অধ্যয়ন ছাড়া সহাবস্থানের গুরুত্ব বোঝা সম্ভব নয়।
বিদ্বেষ আর বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে আমরা ধীরে ধীরে এক অন্ধকার, হিংসাত্মক অরণ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। এই অন্ধকার ভাঙার একমাত্র পথ হল জ্ঞান। তাই যদি কারও পবিত্র জীবনবিধান আল-কুরআন জানার আগ্রহ থাকে, কলকাতা বইমেলায় আসুন। বিনামূল্যে নিজের ভাষায় পবিত্র কুরআন সংগ্রহ করার সুযোগ রয়েছে।
মহ. রাকিব হক আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী বহুদিন ধরেই এই মহৎ কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। একসময়ে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে থাকা মানুষটি আজ সামাজিক কাজের পাশাপাশি ইসলাম সম্পর্কে ছড়িয়ে পড়া ঘৃণা ও বিদ্বেষের জবাবে আল-কুরআন অ্যাকাডেমি, লন্ডনের উদ্যোগে অসংখ্য কপি কুরআন সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছেন। বহু মানুষ আগ্রহ নিয়ে আসছেন, প্রশ্ন করছেন, পড়ছেন এবং বুঝতে চেষ্টা করছেন।
ভাবুন তো, কতটা বোকা আমরা… যারা ঘৃণা ছড়ায়, তারাই আজ ধর্মের গুরু, আর যারা প্রেম-ভালবাসা ও উদারতায় প্রকৃত ধর্মের কথা বলেন, তাদের শোনার লোক নেই। বিদ্বেষের চিৎকারে আমরা মুগ্ধ, আর মানবতার শান্ত কণ্ঠস্বর আমাদের কাছে গুরুত্বহীন!
আসুন, আমরা সবাই বুঝতে শিখি। একে অপরের সংস্কৃতি ও ধর্মীয় বিশ্বাস সম্পর্কে পড়তে ও জানতে চেষ্টা করি। জনশ্রুতি আর ভুল তথ্যের ওপর ভর করে যেন আমরা অজ্ঞতার অন্ধকারে ডুবে না যাই।
আমি নিজেও রামায়ণ, পুরাণ, মহাভারত পড়েছি। পড়তে কোনো দোষ নেই; বরং যত পড়ব, ততই উদার হতে শিখব। চাপিয়ে দেওয়া নয়; শ্রদ্ধা করতে শিখুন, গ্রহণ করতে শিখুন। অনেকেই প্রশ্ন করবেন, আমি এসব কথা কেন বলি। কারণ, আজকের ভারতবর্ষে সাম্প্রদায়িক হিংসার মূল শিকড় লুকিয়ে আছে ধর্মীয় অজ্ঞতা আর গোঁড়ামির ভিতর। আমরা সেই অজ্ঞতার দেয়ালটাই ভাঙতে চাই। কারণ, ধর্মটা একমাত্র ব্যক্তিগত বিশ্বাস, যার সম্পর্ক সোজা সৃষ্টিকর্তার সাথে, নীরবে-নিভৃতে মহান সৃষ্টিকর্তার নৈকট্য অর্জনে একজন সত্যিকার ভাল মানুষ হবার চেষ্টাটাই একজন প্রকৃত ধার্মিকের পরিচয়। হইচই করে ঢাকঢোল পিটিয়ে বলতে হবে না যে, আমি প্রকৃত হিন্দু-মুসলিম বা খ্রিষ্টান; বরং আমাদের পরিচয়, আচার-ব্যবহারই বলে দেবে আমরা কতটা ধার্মিক বা ভাল মানুষ।
যত বেশি ধার্মিক, তত বেশি উদারচেতা আর মানবিক হব আমরা। মানুষের দুঃখ, কষ্টে, বিপদে নিজেকে খুঁজে পাবেন, হিন্দু-মুসলিম যাইহোক কারো মৃত্যু আপনাকে ব্যথিত করবে, আপ্লুত নয়। তাই, বিশ্বাস আর আস্থা যেন কখনোই অন্য কারও জন্য ভয় বা ঘৃণার কারণ না হয়ে ওঠে।







