আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায়
আবু রাইহান, নতুন পয়গাম, কালিয়াচক: বাংলাদেশ ক্বারী সমিতির উদ্যোগে ঢাকার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে আয়োজিত চতুর্থ আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয় ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫, শুক্রবার। বিশ্বের প্রায় ৪০টি দেশ থেকে প্রতিযোগীরা অংশগ্রহণ করে। এই প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করলেন ভারতের প্রতিনিধি, পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার সুজাপুর এলাকার হাফেজ জামিল ফারহাত।
এই ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক সাফল্যের পর রবিবার বাংলাদেশ থেকে দেশে ফিরলে তাঁকে সংবর্ধনা জানাতে কালিয়াচক থানার সুজাপুর নয়মৌজা ঈদগাহ প্রাঙ্গণে ভিড় জমান এলাকাবাসী। ‘বিশ্বজয়ের আগমন শুভেচ্ছা ও স্বাগতম’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। আন্তর্জাতিক সাফল্যে সুজাপুর তথা গোটা মালদা জেলার গর্ব হয়ে উঠেছেন হাফেজ জামিল ফারহাত।
হাফেজ জামিল ফারহাতের পিতা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। ছোটবেলা থেকেই তিনি কোরআন শিক্ষায় মনোনিবেশ করেন। প্রথমে কারি গোলাম হোসেনের কাছে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করে পরে জামিয়া আবজালিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসায় অধ্যয়ন করেন।
কোরআন তেলাওয়াত ও হিফজুল কোরআনের ক্ষেত্রে তাঁর সাফল্যের ঝুলি সমৃদ্ধ। নয়মৌজা ঈদগাহ ময়দানে জেলা কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জনের মধ্য দিয়ে তাঁর যাত্রা শুরু। ২০২৩ সালে মুম্বাইয়ে জাতীয় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় তৃতীয়, ২০২৪ সালে অল ইন্ডিয়া কোরআনের আলো ফাউন্ডেশন আয়োজিত জাতীয় প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেন।
আন্তর্জাতিক স্তরেও তিনি কৃতিত্ব রেখেছেন। ২০২৪ সালে মক্কার মসজিদুল হারামে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ফাইনাল রাউন্ডে পৌঁছানো, আলজেরিয়ায় ষষ্ঠ স্থান এবং ২০২৫ সালে মালয়েশিয়া আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। সবশেষে গত ১৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে ভারতের তথা পশ্চিমবঙ্গের মর্যাদা আরও উজ্জ্বল করলেন হাফেজ জামিল ফারহাত। তাঁর এই সাফল্যে খুশির হাওয়া বইছে গোটা মালদা জেলাজুড়ে।








