সাম্রাজ্যবাদ, সমাজতন্ত্র ও আজকের বিশ্ব
খগেন্দ্রনাথ অধিকারী:সাম্রাজ্যবাদ মানবতার শত্রু। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের আগে পর্যন্ত সাম্রাজ্যবাদী শিবিরের নেতা ছিল ব্রিটেন। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের মধ্য দিয়ে এই শিবিরের নেতৃত্বে উন্নীত হয় আমেরিকা। তার লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়, দুনিয়াব্যাপী সমাজতন্ত্র বা কমিউনিজমের প্রসারকে প্রতিহত করা এবং সমাজতান্ত্রিক শিবিরের নেতা সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রভাবকে খর্ব করা। উল্লেখ্য, ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের অবসান হয় এবং তার মধ্য দিয়েই আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়ন দুই বৃহৎ শক্তির আবির্ভাব হয়। এই মহাযুদ্ধের অব্যবহিত পরে, ১৯৪৭ সালে তুরস্ক সংকট হয়। সেখানে কমিউনিস্টদের নেতৃত্বে শিয়া, সুন্নি, খৃস্টান, ইহুদি — এককথায় জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সর্বস্তরের শোষিত মানুষ চলমান সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্রকাঠামোর বিরুদ্ধে বিশ্ব উত্তাল হয়ে ওঠে। বিশ্ববন্দিত কবি নাজিম হিকমতের সম্মোহনী নেতৃত্বে আঙ্কারার রাজপথ বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে।
হ্যারী ট্রুম্যান তখন মার্কিন রাষ্ট্রপতি। ভূমধ্যসাগরের তরঙ্গ বিধৌত তুরস্ক-গ্রীস-সাইপ্রাসে যাতে কমিউনিস্টদের সংগ্রাম ফলপ্রসূ না হয়, সেজন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেখানে সামরিক হস্তক্ষেপ করে এবং অগণিত মানুষের রক্তে সাগরের জল ও রাজপথ লালে লাল হয়ে ওঠে। অত্যাচারের মুখে নাজিম হিকমৎ ও তাঁর কিছু সহযোদ্ধা সোভিয়েত ইউনিয়নে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে প্রাণ বাঁচান। এতে উল্লসিত হয়ে মার্কিন কংগ্রেসে প্রদত্ত ওই ভাষণে ট্রুম্যান ঘোষণা করেন, “মুক্ত জাতিরা যারা সকলে সংখ্যালঘু বা বাইরের চাপ দ্বারা অধীনতার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করছে, তাদেরকে আমেরিকা সাহায্য দেবে।” এই ঘোষণা ‘ট্রুম্যান নীতি’ নামে পরিচিত।
এর দ্বারা, তুরস্ক ও গ্রীসে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের সাময়িক সাফল্যে উল্লসিত হয়ে ট্রুম্যান বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে সংগ্রামশীল শোষিত জনতাকে রক্তচক্ষু দেখান এবং সেইসঙ্গে তাঁদের সংগ্রামে অকুতোভয় প্রেরণাদাতা ক্রেমলিনকে শাসান। কিন্তু ইতিহাস প্রমাণ করে, ক্রেমনিল তথা তার তৎকালীন কর্ণধার কমরেড যোশেফ স্টালিন বা তাঁর উত্তরসূরী নিকিতা ক্রুশ্চেভ, লিওনিড ব্রেজনেভ কেউই হোয়াইট হাউসের এই হুমকিতে ভীত হননি। তাঁরা ধারাবাহিকভাবে বিশ্বব্যাপী সামন্ততন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম তথা সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রামকে মদত দিয়ে গেছেন অকুণ্ঠচিত্তে। অর্থাৎ কমরেড স্টালিন-মলোটভ-ম্যালেনকভরা, কিংবা ক্রুশ্চেভ-বুলগালিনরা, ব্রেজনেভ-কোসিগিন-গ্রোমিকোরা ট্রুম্যান মার্শাল, আইসেন হাওয়ার-ডালেস, কিংবা কেনেডি, জনসন — কোন মার্কিন কর্তার কথায় আমল দেননি। সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী তথা সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে নির্ভীকভাবে সিংহ বিক্রমে সহায়তা করে গেছেন।
তৃতীয় বিশ্বে, অর্থাৎ এশিয়া-আফ্রিকা-লাতিন আমেরিকার যে দেশ থেকে এবং যে নেতার কাছ থেকে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধোত্তর পরিস্থিতিতে খোদ চল্লিশের দশক থেকেই আমেরিকা ধাক্কা খেতে শুরু করে, সেই দেশটির নাম হেল মিশর, এবং সেই নেতার নাম ছিল আব্দেল নাসের। ১৫ জানুয়ারী ১৯১৮ সালে তাঁর জন্ম এবং ২৮ সেপ্টেম্বর ১৯৭০ সালে ৫২ বছর বয়সে মারা যান নাসের। তাঁর নেতৃত্বে আরব জাতীয়তাবাদের উদ্ভব হয়। উল্লেখ্য, মিশর ছিল ওই সময় এক মরুময় দেশ। তাকে বলা হেত নীলনদের দান। অর্থাৎ নীলনদের বন্যায় প্লাবিত হবার কারণে, মিশরের বালুকাময় মাটি উর্বর হত, ফসল ফলত। বন্যা না হলে দেখা দিত ব্যাপক খরা। ফসল হত না। দেখা দিত খাদ্যের জন্য হাহাকার। অর্থাৎ সেবার মিশরে কৃষি উৎপন্ন পণ্য কার্যত মিলত না বললেই চলে।
কিন্তু, এই প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও মিশরের জনগণের ক্ষুধা, দারিদ্র্য, বেকারী, অপুষ্টি, অনুন্নয়ন, অশিক্ষা — এসব অভিশাপে বিপন্ন হবার কথা ছিল না। কারণ, মিশরের বালুময় মাটির নীচে ছিল এবং আজও রয়েছে বিপুল খনিজ তেলের ভাণ্ডার, যা শিল্প চালানোর জন্য একান্তভাবে প্রয়োজনীয়। অথচ, এই মূল্যবান সম্পদের উপর মিশরের জনগণের কোন নিয়ন্ত্রণই ছিল না। ব্রিটেন, ফ্রান্স, আমেরিকার মতো দেশগুলি এই তেল সম্পদকে নিজেদের ইচ্ছামত ব্যবহার করত। উল্লিখিত দেশগুলির দ্বৈত লক্ষ্য ছিল মিশর-সহ গোটা আরব দুনিয়াকে ঘিরে তারা একদিকে এই দেশগুলিকে কাঁচামাল অর্থাৎ কলকারখানা, যানবাহন চালানোর মূল চাবিকাঠি হল যে তৈল সম্পদ, সেই কাঁচামাল বা তৈল সম্পদ সরবরাহের ঘাঁটি হিসাবে ব্যবহার করতে চাইত, এবং সেই সঙ্গে তাদের কলকারখানা অর্থাৎ লন্ডন, ম্যাঞ্চেস্টার, প্যারিস ইত্যাদি শহরের কারখানায় উৎপন্ন শিল্প সামগ্রীর বাজার হিসাবে মিশর-সহ গোটা আরব দুনিয়াকে ব্যবহার করতে চাইত।
স্বভাবতই, দু-দিক দিয়েই আরব দুনিয়ার জনগণ শোষিত হত। একদিকে তারা খনিজ তেলের ন্যায্য দাম পেত না। অনেক কম দাম পেত তারা। অন্যদিকে, উল্লিখিত শিল্পসমৃদ্ধ দেশগুলির উৎপন্ন পণ্য সামগ্রী তাদেরকে অনেক বেশি দামে কিনতে হত। ফলে কোন রকমের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা মিশর-সহ আরব দুনিয়ার জনগণের ছিল না। তার উপর আরব দুনিয়ার তৈল ব্যবসায়ীদের অধিকাংশই এইসব শোষক দেশগুলির বণিকদের জোগান দেওয়া “ম-কারান্ত” পণ্যে অর্থাৎ “মদ-মাংস-মেয়েমানুষ” পেয়ে মশগুল থাকত। বলাবাহুল্য, সৌদি আরবের “তেল কুবের” শেখরা ছিল এই তালিকার শীর্ষে। যে সৌদি আরবের মাটিতে পবিত্র ইসলামের জন্ম, সেখানে পবিত্র মক্কা-মদিনা নগরী বিরাজমান, যে দেশে পুণ্য অর্জনের জন্য সারা পৃথিবী থেকে লক্ষ লক্ষ ধর্মপ্রাণ মুসলিম ভাই-বোনরা পবিত্র হজ এবং উমরাহ করতে যান, সেই দেশের শাসক গোষ্ঠী শেখ-শায়খদের এই ছিল মতিচ্ছন্ন দশা। দেশপ্রেম, মানবপ্রেম, আত্মমর্যাদাবোধ বলে কিছুই এদের ছিল না। ব্রিটেন, ফ্রান্স, আমেরিকা প্রমুখ সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলি এর সুযোগ নিত এবং গোটা আরব দুনিয়ার উপর তারা খবরদারী করত।
আব্দেল নাসের কার্যত আরব দুনিয়ার ঘুম ভাঙান। তিনি কমিউনিস্ট ছিলেন না ঠিকই, কিন্তু কমিউনিস্ট আদর্শের প্রতি, সমাজতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি ছিলেন গভীরভাবে শ্রদ্ধাশীল। জাতীয় মুক্তি আন্দোলন তথা সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অকুতোভয় সহযোগী সোভিয়েত সরকার, সোভিয়েত কমিউনিস্ট পার্টি, সোভিয়েত জনগণের উচ্চ মানবিক মূল্যবোধ তাঁকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছিল। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে সোভিয়েত লালফৌজ তথা তার ত্রয়ী নেতা কমরেড স্ট্যালিন-মলোটভ-ম্যালেকভরা যেভাবে নেতৃত্ব দিয়ে ফ্যাসিস্ট ও নাৎসীদেরকে কবর দিয়ে গোটা পৃথিবীকে বাঁচিয়েছিলেন, এবং যেভাবে ক্ষুধা-দারিদ্র্য-বেকারি-অপুষ্টি ইত্যাদির বিরুদ্ধে লড়াই করে মানুষকে উন্নততর জীবনযাত্রায় স্বাদ দিয়েছিলেন, তাতে তিনি অভিভূত হন।
ফলে তিনি সোভিয়েত ইউনিয়ন তথা নেহেরু-টিটো-নত্রুমা-বন্দরনায়েক-সুকর্ণো-প্যাট্রিস লুমুম্বা-ফিদেল কাস্ত্রো প্রমুখ বিশ্বের প্রগতিশীল রাষ্ট্রনেতাদের ঘনিষ্ঠ হয়েছিলেন। তুরস্কের গণ আন্দোলনের নেতা ও কবি নাজিম হিকমতের প্রভাব ছিল তাঁর উপর অসামান্য। এইসব ব্যক্তিগত ও ভাবগত উপাদানাবলীর ক্রিয়া-প্রক্রিয়া তাঁকে আরব জাতীয়তাবাদের মুখ্য মুখে তথা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও তার দোসরদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে তাঁকে আরব দুনিয়া তথা গোটা বিশ্বের এক অবিসংবাদী নেতায় পরিণত করেছিল। এককথায়, তিনি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের ত্রাসে পরিণত হয়েছিলেন।
এই ত্রাসের হাত থেকে মুক্তির জন্য ওয়াশিংটন কর্তৃপক্ষ সুপরিকল্পিতভাবে তার তাঁবেদার সৌদি আরবের ধনকুবের শেখদের সহায়তায় উগ্রবাদী সংগঠন মিশর-সহ আরব দুনিয়ায় তৈরি করে, এবং নাসের ইসলামের শত্রু, কমিউনিস্ট কাফেরদের দেশ সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে মিশরকে বিধর্মীর দেশে পরিণত করতে চেষ্টা চালাচ্ছে, অতএব তাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে হবে — এই দৃষ্টিকোণ থেকে আলেকজান্দ্রিয়ায় বক্তৃতারত অবস্থায় নাসেরকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়, কিন্তু তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। মানুষের আশীর্বাদের উপর ভরসা রেখে সাম্রাজ্যবাদীদের বিষ নজরের তীব্রতা তাঁর উপর আরো বাড়বে জেনেও তিনি সুয়েজ কোম্পানিকে জাতীয়করণ করেন ১৯৫৬ সালে। এতে ইংল্যাণ্ড-ফ্রান্স-আমেরিকা ক্ষিপ্ত হয়ে মিশর আক্রমণ করে। সোভিয়েত ইউনিয়ন তথা সমাজতান্ত্রিক দেশগুলির অকুণ্ঠ সমর্থনে নাসের ১৯৫৬ সালের সেই সংকট থেকে মিশরকে বাঁচান।
উন্মাদ হয়ে পশ্চিমী দুনিয়া নাসের শাসিত মিশরকে হাতে না মারতে পেরে পাতে মারার চেষ্টা করে। এই উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার (আইএমএফ)-কে তারা প্রভাবিত করে মিশরকে ঋণ না দিতে। আসলে নাসের চেয়েছিলেন, ঋণ নিয়ে তিনি মিশরের সেচ ব্যবস্থাকে উন্নত করে দেশটিকে শস্যশ্যামলা করে খাদ্য সংকট থেকে মিশরবাসীকে মুক্তি দেবেন। কিন্তু সাম্রাজ্যবাদীরা নাসেরের সেই পরিকল্পনা বানচাল করতে বিশ্ব অর্থভাণ্ডারকে শাসায়। এই বিপদে নাসেরের পাশে এগিয়ে আসে ক্রেমনিল। তার অর্থ সাহায্যে নাসের আসোয়ান বাঁধ দিয়েসুদূর সাইবেরিয়া থেকে বরফগলা জল পাইপলাইনের মাধ্যমে আনিয়ে, মিশরবাসীর দুঃখ দূর করেন। তাঁর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে ওঠে। এই জনপ্রিয়তা এবং সমাজতান্ত্রিক দুনিয়ার বন্ধুত্বকে পাথেয় করে তিনি সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে আপসহীনভাবে লড়ে গেছেন। ইন্দোনেশিয়ার সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী তথা উগ্রবাদবিরোধী রাষ্ট্রপতি সুকর্ণর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে সিআইএ সুহার্তোকে যেভাবে ক্ষমতায় বসিয়েছিল, তার বিরুদ্ধে, কিংবা কঙ্গোর লুমুম্বার হত্যার বিরুদ্ধে নাসের ও নেহরু যে বিশ্বজোড়া প্রতিবাদ সংগঠিত করেছিলেন, কিংবা ১৯৬২ সালের কিউবা সংকট বা ভিয়েতনাম মুক্তি আন্দোলনে নাসেরের নেতৃত্বে মিশর বা নেহেরু ও ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বে ভারত যে ভূমিকা নিয়েছিল, বিশ্ববাসী তা কখনোই ভুলবে না।
সিআইএ-র চক্রান্তে ১৯৭০ সালে তাঁকে বিষ প্রয়োগে ৫২ বছর বয়সে হত্যা করা হয়। যদিও এই কুখ্যাত মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা রটিয়ে দেয়স নাসের হৃদরোগে মারা যান। কি মিশরবাসী, কি বিশ্ববাসী, কেউই সেকথা বিশ্বাস করেননি। তাঁর শেষকৃত্যে ৬০ লক্ষাধিক মানুষ সমবেত হন। তাঁর মৃত্যুর ৫৬ বছর পরে বিশ্বজুড়ে আজ মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ মত্ত হাতির মতো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। তার মদতে ইসরাইলের হাতে অসংখ্য মানুষের রক্তে জর্ডানের তীর, গাজার প্রান্তর, প্রতিদিন লালে লাল হয়ে উঠছে। ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিতে সারা পৃথিবীর লক্ষ লক্ষ মানুষ আজ বিপন্ন। সর্বোপরি তেলের রাজনীতির হিসেব কষে সে মিথ্যা মাদক পাচারের অভিযোগ তুলে সস্ত্রীক ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরোকে রাতের অন্ধকারে মানুষের রক্তে কারাকাসের রাজপথ রাঙিয়ে দিয়ে অপহরণ করে আমেরিকায় তুলে নিয়ে গেছে। সারা পৃথিবীর শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ এই মার্কিন বর্বরতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে গর্জে উঠেছেন। আমাদের দেশের মানুষকেও সেই পথের যাত্রী হতে হবে।
(লেখক: কলকাতার সাউথ সিটি (দিবা) কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ)।







