স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা মামলায় স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
খান সাহিল মাজহার, নতুন পয়গাম, বীরভূম:
বহুল আলোচিত রকিনা বিবি হত্যাকাণ্ডে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করল দুবরাজপুর আদালত। নিজের স্ত্রীকে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত শেখ নইমুদ্দিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা শোনানো হয়েছে। একই সঙ্গে একাধিক ধারায় অতিরিক্ত কারাদণ্ড ও জরিমানার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। শুক্রবার আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছেন সরকারি আইনজীবী রাজেন্দ্র প্রসাদ দে।
সদাইপুর থানার সগড় গ্রামের বাসিন্দা কলি বিবির মেয়ে রকিনা বিবির সঙ্গে ২০১৮ সালের ২৭ জুন বিয়ে হয় দুবরাজপুর থানার বোধগ্রামের শেখ নইমুদ্দিনের। কিন্তু বিয়ের অল্প কিছুদিন পরেই রকিনা জানতে পারেন, স্বামী গ্রামের এক মহিলা কাশিনা বিবির সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়েছেন। সেই নিয়ে প্রতিবাদ করলে শুরু হয় প্রতিনিয়ত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।
২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ ওঠে, কাশিনা বিবির সহযোগিতায় নইমুদ্দিন স্ত্রী রকিনার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে সিউড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে মৃত্যুর আগে রকিনা গোপন জবানবন্দী দিয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ করেন। অবশেষে ৩ মার্চ ২০১৯ তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে দুবরাজপুর থানার পুলিশ শেখ নইমুদ্দিন ও কাশিনা বিবির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে। তবে আদালতে প্রমাণের অভাবে কাশিনা বিবিকে খালাস দেওয়া হয়। অন্যদিকে, শেখ নইমুদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে শাস্তি ঘোষণা করে।
রায় অনুযায়ী, আইপিসি ৩০২ ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক বছরের জেল; আইপিসি ৩০৭ ধারায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক বছরের জেল; আইপিসি ৩২৬ ধারায় সাত বছরের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক বছরের জেল ভোগ করতে হবে শেখ নইমুদ্দিনকে।
সরকারি আইনজীবী রাজেন্দ্র প্রসাদ দে বলেন, “রকিনা বিবির মৃত্যুর ন্যায়বিচার হয়েছে। এই রায় নারীর উপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী বার্তা।” পরিবারের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, বহু বছর পর হলেও ন্যায়বিচার পেয়েছেন তাঁরা, আর এই রায় সমাজে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে তাঁদের আশা।








