পবিত্র তুর পাহাড়ে হোটেল-রিসোর্ট ও শপিং মল বানাচ্ছে মিসর সরকার
নতুন পয়গাম, কায়রো, ৯ সেপ্টেম্বর:
পৃথিবীর অন্যতম পবিত্র স্থানগুলোর মধ্যে একটি অন্যতম হচ্ছে সিনাই বা মুসার পর্বত। যাকে তুর পাহাড়ও বলা হয়। মিসরে অবস্থিত এই ইসলামী ঐতিহ্যবাহী পাহাড়ে মহান আল্লাহ তায়ালার সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছিলেন নবী হযরত মুসা (আ.)। পবিত্র এ স্থানটি এখন বিলাসবহুল মেগা-রিসর্টে রূপান্তরিত করছে মিসর সরকার। এই নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। এই পর্বত ইসলাম ধর্মের পাশাপাশি খ্রিস্টান এবং ইহুদিদের কাছেও অত্যন্ত পবিত্র। ইসলামের ইতিহাসে কথিত আছে, এখানেই হযরত মুসা (আ.) ঐশ্বরিক বাণী পেয়েছিলেন। স্থানীয়রা একে ‘জাবাল মুসা’ নামে চেনেন।
বহু বছর ধরে এখানে পর্যটক ও দর্শনার্থীরা বেদুইন গাইডদের সঙ্গে নিয়ে পাহাড়ে উঠতেন, ভোরে সূর্যোদয় দেখতেন বা অন্যান্য পদযাত্রায় অংশ নিতেন। কিন্তু এখন এই পবিত্র স্থানটিকে পর্যটকদের জন্য বিলাসবহুল রিসর্ট বানানোর পরিকল্পনায় নিয়েছে মিসর। যা নিয়ে অনেকেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
সুবিস্তৃত মরুময় এ জায়গাটি ইউনেস্কোর হেরিটেজ তালিকা বা বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের অন্তর্ভুক্ত। এখানে একটি মাঠ, শহর এবং পাহাড় রয়েছে। কিন্তু এই স্থানটির চিত্র এখন বদলে ফেলা হচ্ছে। বর্তমানে এখানে বিলাসবহুল হোটেল, ভিলা এবং কেনাকাটার জন্য অত্যাধুনিক শপিং মল বা ই-মার্কেট তৈরি হচ্ছে। স্থানীয় বেদুইন সম্প্রদায়ের মানুষেরা এর তীব্র বিরোধিতা করলেও প্রশাসন সে কথায় কর্ণপাত করেই তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে এ কাজ করছে মিসর সরকার।
খ্যাতনামা ব্রিটিশ লেখক বেন হফলার বলেছেন, “এই প্রকল্পটি বেদুইনদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা এমন কোনো উন্নয়ন নয়, যা জেবেলিয়ারা (স্থানীয়রা) চেয়েছিল। বরং এটি এমন একটি প্রকল্প, যা স্থানীয় সম্প্রদায়ের স্বার্থের চেয়ে বাইরের মানুষ অর্থাৎ পর্যটকদের স্বার্থ রক্ষা করছে। এতে সরকারের রাজস্ব আমদানি বাড়বে।” পবিত্র ওই স্থানে রয়েছে খ্রিষ্টানদের ষষ্ঠ শতাব্দীর একটি মঠ বা গির্জাও। এটির সঙ্গে গ্রিসের সংযোগ রয়েছে। এই কারণে মিসরের এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে গ্রিস।
মে মাসে মিসরের আদালত রায় দেন, বিশ্বের প্রাচীনতম খ্রিস্টান মঠ, সেন্ট ক্যাথেরিনস, সরকারি জমিতে অবস্থিত। এই রায়ের পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যায়। তবে তা সত্ত্বেও বিতর্কিত ওই পরিকল্পনা মাফিক কাজ করে চলেছে মিসরের আলসিসি সরকার। সেখানে দ্রুত গতিতে তৈরি করা হচ্ছে বিলাসবহুল হোটেল-মোটেল আর রিসর্ট, শপিং মল ইত্যাদি।
জেরুজালেমের গ্রিক অর্থোডক্স প্যাট্রিয়ার্কেট জানিয়েছেন, এই পবিত্র স্থানটির ওপর তাদের ধর্মীয় কর্তৃত্ব রয়েছে। এবং স্বয়ং হযরত মোহাম্মদ (সা.) এই মঠের জন্য একটি সুরক্ষাপত্র দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, বাইজেন্টাইন আমলের মঠটির ভেতর একটি ছোট মসজিদও আছে, যা ফাতেমি যুগে বানানো হয়েছিল। তিনি মসজিদটিকে “খ্রিস্টান ও মুসলিমদের মধ্যে শান্তি ও সম্প্রীতির এক অনন্য নিদর্শন বা প্রতীক এবং সংঘাতময় বিশ্বে আশার এক আশ্রয়স্থল।” হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।








