এসআইআর: রাজ্যে দেখা মিলছে না ৫৫ লক্ষ ভোটারের
নতুন পয়গাম, কলকাতা:
রাজ্যের ভোটার তালিকায় নাম থাকলেও উধাও অন্তত ৫৫ লক্ষ ভোটদাতা। বিএলও-রা বাড়ি গিয়েও তাদের হদিশ পাননি। প্রায় সব জেলাতেই এমন অভিজ্ঞতা দেখা যাচ্ছে। গ্রামের তুলনায় শহরে এই সমস্যা বেশি। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের কাছে রিপোর্ট দিয়েছেন একাধিক জেলা আধিকারিক। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের তালিকা অনুযায়ী রাজ্যে মোট ভোটার ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৬ হাজার ২৮৮। শনিবার পর্যন্ত ৭ কোটি ৫৫ লক্ষ বা ৯৮.৫০ শতাংশ ভোটারের নামে এনুমারেশন ফর্ম বিলি হয়েছে। অর্থাৎ বাদ আছে ১১ লক্ষের কিছু বেশি।
সংগত কারণেই প্রশ্ন উঠছে, ৫৫ লক্ষ ভোটারের হদিশ যদি না পাওয়া গিয়ে থাকে, তাহলে তাঁদের নামে কীভাবে ফর্ম বিলি হল? সেক্ষেত্রে জানা যাচ্ছে, প্রশিক্ষণের সময় বিএলওদের নির্দেশিকায় বলা ছিল, কোনও ভোটারকে নিজের ঠিকানায় না পাওয়া গেলে তাঁর বাড়ি বা বাড়ির ঠিকানায় ফর্ম রেখে আসতে হবে। পরে অবশ্য এই নিয়ম বদলায় কমিশন। নতুন নিয়মে বলা হয়, বিএলওরা তিনবার সংশ্লিষ্ট ঠিকানায় যাবার পরও যদি ভোটদাতার সন্ধান না পাওয়া যায়, তাহলে তার বাড়ির দেওয়ালে নোটিশ সাঁটিয়ে বা ঝুলিয়ে দিয়ে আসতে হবে। এবং তার ছবি তুলে রাখতে হবে। এরপর উক্ত ভোটারকে এনুমারেশন ফর্ম দেওয়া হয়েছে বলে অ্যাপে তথ্য আপলোড করতে হবে বিএলওকে।
কলকাতা ছাড়াও খড়্গপুর, আসানসোলের মতো শহরে এমন ঘটনার অনেক নজির মিলেছে। ফলে শহরাঞ্চলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কর্মসূত্রে অন্যত্র চলে যাওয়া বা অন্য ঠিকানায় থাকা ভোটারদের ফর্ম বিলি করা সম্ভব হয়নি। তাছাড়া, শহরাঞ্চলে অনেক ক্ষেত্রে বস্তি এলাকার চরিত্র বদলে যাওয়ায় ফর্ম বিলির ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে আত্মীয় বা পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে কিছু ভোটারের ফর্ম দেওয়া গেলেও তাদেরকে নিখোঁজ ভোটার হিসেবেই গণ্য করা হচ্ছে।
দেখা যাচ্ছে, গ্রামাঞ্চলে স্থানান্তরিত ভোটারদের একটা বড় অংশ মহিলা। মূলত বিয়ের পরও যাদের বাপের বাড়ির ঠিকানাতেই ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে। সেক্ষেত্রে নিকটাত্মীয়দের কাছে দিয়ে আসা হচ্ছে ফর্ম এবং তাঁকে স্থানান্তরিত ভোটার হিসাবে দেখানো হচ্ছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, গ্রামের বাড়ির ঠিকানায় ভোটার কার্ড থাকলেও বসবাসের জন্য সপরিবারে অন্যত্র চলে গিয়েছে। এক্ষেত্রে ভোটারদের ফর্ম বিলি করতে সমস্যা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকানায় তিনবার ঘুরে এসে নোটিশ সেঁটে দেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ করে ফর্ম বিলি হয়েছে বলেই অ্যাপে দেখাচ্ছেন বিএলওরা। এই ধরনের ভোটাররা বিএলওদের সঙ্গে যোগাযোগ না করলে তাঁদের অ্যাবসেন্ট বা অনুপস্থিত ভোটার হিসেবে দেখানো হচ্ছে। এক্ষেত্রে খসড়া তালিকা থেকে উক্ত ভোটারের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা থাকছে।
শেষ পর্যন্ত পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, শনিবার এসআইআর প্রক্রিয়ার কাজ খতিয়ে দেখতে রাজ্যের সব জেলার নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে বৈঠক করেছে কমিশন। যত শীঘ্র সম্ভব সমস্ত এনুমারেশন ফর্ম বিলির কাজ শেষ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা আধিকারিকদেরকে।








