গাজায় হামলা অব্যাহত: বিশ্বনেতাদের প্রতিবাদের মাঝেই নিহত ৮৫ ফিলিস্তিনি
নতুন পয়গাম গাজা,আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের বিশ্বনেতাদের যুদ্ধবিরতির আহ্বান উপেক্ষা করে ইসরাইলি বাহিনী গাজায় হামলা চালিয়ে গেছে, যার ফলে একদিনে ৮৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এতে নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের একটি স্টেডিয়ামে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত পরিবারদের ওপর হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সাত নারী ও দুই শিশু রয়েছে।
হামলার ধরণ ও ক্ষয়ক্ষতি
সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, আল-আহলি স্টেডিয়াম গাজার বহু বাস্তুচ্যুত মানুষের অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। সেখানেই রক্তাক্ত গণহত্যার ঘটনা ঘটেছে।
নাজওয়া নামের এক নারী আলজাজিরাকে বলেন,
“হাতে যা ছিল তাই নিয়ে বেরিয়েছি। আমাদের কিছুই বাকি নেই। আমরা আতঙ্কে আছি। যাতায়াত করাটাও ব্যয়বহুল, জিনিসপত্র আনার সামর্থ্য নেই।”
জাতিসংঘ সতর্ক করেছে, ইসরাইলি সেনারা গাজা সিটিতে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে এবং হাজারো মানুষকে পালাতে বাধ্য করছে।
ইসরাইলি দাবি ও জাতিসংঘের পর্যালোচনা
ইসরাইলি সেনাপ্রধান ইয়াল জামির দাবি করেছেন, নিরাপত্তার স্বার্থে ফিলিস্তিনিদের দক্ষিণ দিকে সরানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন,
“গাজার বেশিরভাগ মানুষ ইতোমধ্যেই গাজা সিটি ছেড়ে গেছে এবং সেনারা সেখানকার অভিযানে আরও অগ্রসর হবে।”
তবে জাতিসংঘের অনুসন্ধান কমিশন জানিয়েছে, ইসরাইলের কার্যক্রম গাজায় স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং পশ্চিম তীরে ইহুদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৬৫,৪১৯ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,৬৭,০০০ আহত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আরও বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে গাজার যুদ্ধ ইসরাইলবিরোধী সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
- ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান:
“যারা শিশু হত্যা করে, মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে, তারা মানবতার যোগ্য নয়।”
- সিরিয়ার অন্তবর্তী প্রেসিডেন্ট আহমাদ আল-শারা:
“আমরা গাজার জনগণের সঙ্গে আছি। এই যুদ্ধ এখনই থামাতে হবে।”
- নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ আইদে:
“শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য নীরব আলোচনায় অগ্রগতি হচ্ছে। জুলাইয়ে ১৪২টি দেশ যে ‘নিউইয়র্ক ঘোষণা’ সমর্থন করেছে, তার ভিত্তিতেই এই উদ্যোগ চলছে।”
- মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ:
“ওয়াশিংটন আশা করছে, এমনকি আত্মবিশ্বাসী যে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে অগ্রগতির ঘোষণা আসবে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২১ দফা শান্তি পরিকল্পনা বিশ্বনেতাদের হাতে পৌঁছে গেছে।”








