পেট ও মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখে ফাইবার
নতুন পয়গাম: ফাইবার বা আঁশ-যুক্ত খাবার শুধুমাত্র হজমের জন্য নয়, মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো কোষ্ঠকাঠিন্য, অতিরিক্ত ওজন, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও পাইলস ইত্যাদির ঝুঁকি কমায়। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ফাইবারের উপকার পেটেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি মস্তিষ্কের কার্যকারিতার ওপরও প্রভাব ফেলে।
ফাইবারের কাজের ধরন: ফাইবার সরাসরি মস্তিষ্কে পৌঁছায় না। তবে ফল, ডাল, বাদাম, বীজ এবং পুরো শস্যজাত খাবার পাকস্থলীর উপকারী ব্যাকটেরিয়ার কার্যকারিতা বাড়ায়। এই ব্যাকটেরিয়া ফাইবার ভেঙে শর্ট-চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড (SCFA) তৈরি করে, যা গাট-ব্রেন অ্যাক্সিস বা অন্ত্র-মস্তিষ্ক সংযোগকে শক্তিশালী করে।
প্রদাহ কমানো ও সুরক্ষা: দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ মস্তিষ্কের কোষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে স্মৃতি ও চিন্তাশক্তি কমাতে পারে। SCFA প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে, ফলে মস্তিষ্ক সুস্থ থাকে এবং কগনিটিভ অবনতি ধীর হয়।
রক্তে শর্করা ও মানসিক স্থিরতা: ফাইবার রক্তে গ্লুকোজ বা শর্করার ওঠা-নামা নিয়ন্ত্রণ করে, ইনসুলিনের কাজ সহজ করে এবং ধীরে ধীরে শক্তি সরবরাহ করে। ফলে মস্তিষ্কের কোষ স্থির শক্তি পায়, মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়, এবং ক্লান্তি কম অনুভূত হয়।
হৃদরোগ ও ক্যান্সার ঝুঁকি কমানো: নিয়মিত ফাইবার গ্রহণ টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। পাশাপাশি বয়সজনিত মস্তিষ্কের ক্ষয়ও ধীর হয়।
মানসিক স্বাস্থ্যের উপকারিতা: ফাইবার-সমৃদ্ধ খাবার মুড উন্নত করে, ঘুমের মান বাড়ায় এবং উদ্বেগ বা ডিপ্রেশন কমাতে সহায়তা করে। মানসিক স্থিতি ঠিক থাকলে ব্রেইন বা মস্তিষ্কও ভালভাবে কাজ করে।
অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ও বার্ধক্য সুরক্ষা: এ ধরনের খাবারে ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট থাকে, যা মস্তিষ্ককে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করে এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে স্মৃতিশক্তি কমার গতি ধীর করে।
সারসংক্ষেপে, ফাইবার সরাসরি মস্তিষ্কে কাজ না করলেও অন্ত্র সুস্থ রাখা, প্রদাহ কমানো, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ এবং মানসিক স্থিতি বজায় রাখা – এই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সুস্থ শরীর ও সচল মস্তিষ্কের জন্য ফাইবার-সমৃদ্ধ খাদ্য অপরিহার্য।
কোন কোন খাদ্যে ফাইবার বেশি থাকে?
ফাইবার সমৃদ্ধ ফল: আপেল (খোসাসহ), নাশপাতি, পেয়ারা, পেঁপে, কলা, কমলালেবু, ব্ল্যাক ও ব্লু বেরি ইত্যাদি।
ফাইবার সমৃদ্ধ শাকসবজি: গাজর, ব্রোকলি, ফুলকপি, মূলো, পালং শাক, লাল ও কালো শাক, মিষ্টি বা রাঙা আলু, সবুজ মটরশুঁটি ইত্যাদি।
পুরো শস্য এবং শস্যদানা: ওটস, ডালিয়া, বাদামী চাল, বার্লি, বাজরা (রাগি, বাজরা, জোয়ার), মিলেট, আস্ত গম, ডাল এবং ডাল জাতীয় শস্য, ছোলা (খোসাসহ), রাজমা, কালো মটরশুটি, ভুট্টা ইত্যাদি।
ফাইবার সমৃদ্ধ শুকনো ফল, বাদাম এবং বীজ: বাদাম, আখরোট, কিশমিশ, চিয়া সিড, তিসি বীজ, সূর্যমুখী বীজ ইত্যাদি।
সবশেষে, প্রতিদিন ৮-১০ গ্লাস জল পান করুন, ফাইবার হাইড্রেশনের সাথে সবচেয়ে ভাল কাজ করে।








