বসিরহাটে এস আই আর ‘হেয়ারিং’-এর নামে চরম হয়রানি
নতুন পয়গাম, মনিরুল ইসলাম তপন, বসিরহাট:
বুধবার বসিরহাট-২ ব্লকের খোলাপোতা বিডিও অফিসে এস আই আর (SIR) সংক্রান্ত হেয়ারিংয়ের নামে চরম ভোগান্তির শিকার হন সাধারণ মানুষ। বেগমপুর-বিবিপুর অঞ্চলের প্রায় সাত হাজার ভোটারকে এদিন ডাকা হয়।সকাল ন’টায় সময় দেওয়া হলেও ভোর পাঁচটা থেকেই মানুষ লাইনে দাঁড়াতে শুরু করেন। কিন্তু এত বিপুল সংখ্যক মানুষের জন্য বিডিও অফিস সংলগ্ন ছোট্ট মাঠে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, শেড কিংবা বসার মতো কোনও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না। আট থেকে নয় ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে গিয়ে বহু মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েন। বয়স্ক, মহিলা ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য কোনও আলাদা ব্যবস্থা চোখে পড়েনি। হেয়ারিং ঘিরে প্রশাসনিক অব্যবস্থার স্পষ্ট ছবি এদিন ফুটে ওঠে। চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যেই সকাল থেকেই ভোটারদের সঙ্গে আধিকারিকদের বাক্বিতণ্ডা শুরু হয়। অভিযোগ, কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ডকুমেন্ট গ্রহণের পর রিসিভ দেওয়ার কথা থাকলেও প্রথম থেকেই আধিকারিকরা তা দিতে অস্বীকার করেন। প্রবল চাপের মুখে কিছু ক্ষেত্রে শুধুমাত্র নোটিসের কপিতে একটি সিল মেরে দেওয়া হয়। তবে জমা দেওয়া নথি গ্রহণের কোনও লিখিত প্রমাণ কাউকেই দেওয়া হয়নি।
এই বিষয়কে ঘিরে সকাল দিকে বিডিও অফিস চত্বরে কিছুক্ষণের জন্য উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি পানীয় জল, খাবার এবং পর্যাপ্ত শৌচাগারের ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষোভ আরও তীব্র আকার নেয়। ভিড় ও দীর্ঘ অপেক্ষার ফলে বহু মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অনেকের অভিযোগ, হেয়ারিংয়ের নামে এই ধরনের আচরণ ও অব্যবস্থা গণতান্ত্রিক অধিকার এবং মানবিক মর্যাদার পরিপন্থী। সার্বিকভাবে বসিরহাটের খোলাপোতা বিডিও অফিসে এদিনের ঘটনা এস আই আর প্রক্রিয়াকে ঘিরে প্রশাসনিক অদূরদর্শিতা ও চরম অব্যবস্থারই ছবি তুলে ধরে।








