বিপন্ন দেশ, বিপন্ন সংবিধান- দাবি তৃণমূল নেতা আমজাদ মন্ডলের
নতুন পয়গাম, সঞ্জয় মন্ডল, বাঁকুড়া: ২৬ জানুয়ারি ভারতের জাতীয় জীবনে এক ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ৭৬ বছর আগে, ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি ভারতের সংবিধান গৃহীত ও বিধিবদ্ধ হয় । সেই সংবিধানের মধ্যেই ভারতবর্ষের “বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য”-র শাশ্বত সুরকে সুরক্ষিত রাখার রূপরেখা নির্ধারণ করেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রনায়কেরা। কিন্তু এত বছর পর দেশের শাসনব্যবস্থা এমন এক সরকারের হাতে রয়েছে, যারা সেই সংবিধানকেই ভেঙে ফেলার চেষ্টা করছে— এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন বড়জোড়া পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেতা আমজাদ মন্ডল। প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে একটি বেসরকারি স্কুলের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার সময় এক ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যই ভারতবর্ষের রাষ্ট্রীয় জীবনের মূল সুর। বহু ভাষা, বহু ধর্ম ও বহু সংস্কৃতির মানুষ যুগ যুগ ধরে এই দেশে একসঙ্গে বসবাস করে আসছে। ধর্ম, ভাষা বা খাদ্যাভ্যাস কখনওই ভারতীয় নাগরিক জীবনের অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়নি।”
তাঁর অভিযোগ, রাজনীতিতে বিজেপির উত্থানের পর থেকেই ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের বুনিয়াদে আঘাত নামতে শুরু করেছে। রাজনীতির সঙ্গে ধর্মের বিষাক্ত সংমিশ্রণ গোটা দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবেশকে বিপজ্জনক করে তুলেছে। সাধারণ মানুষের রুটি-রুজির সমস্যা থেকে দৃষ্টি ঘোরাতে মন্দির-মসজিদের রাজনীতি শুরু হয়েছে বলে তাঁর দাবি। আমজাদ মন্ডল আরও বলেন, “যখন বিশ্ব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দৌড়ে এগিয়ে যাচ্ছে— সুপার কম্পিউটার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো প্রযুক্তিতে সমাজ বদলাচ্ছে—তখন বিজেপি ঠিক করে দিচ্ছে কে কী খাবে, কে আমিষ খাবে, কে নিরামিষ খাবে। ধর্মীয় বাধ্যবাধকতাকে রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতায় রূপ দিয়ে মানুষকে ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ করার চেষ্টা চলছে।”
বর্তমান সময়কে তিনি “ভয়ঙ্কর ও সংকটপূর্ণ” বলে উল্লেখ করে বলেন, এই পরিস্থিতিতে দেশের প্রতিটি নাগরিককে অত্যন্ত সচেতন ও দায়িত্ববান হতে হবে। সামান্য অসতর্কতাই বৃহত্তর নাগরিক জীবনে বড় সংকট ডেকে আনতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন। সাম্প্রতিক সময়ে বহুল আলোচিত এসআইআর প্রসঙ্গ টেনে আমজাদ মন্ডলের অভিযোগ, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার নির্বাচন কমিশনের মতো একটি স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানকেও নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে। বিশেষ করে বাংলার সাধারণ মানুষ, আরও নির্দিষ্টভাবে সংখ্যালঘু মুসলিমদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও তিনি দাবি করেন। সবশেষে তাঁর আহ্বান, “এই কঠিন সময়ে বাংলার প্রতিটি নাগরিককে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নিজেদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে শামিল হতে হবে।”








