BREAKING:
জোড়াসাঁকোয় সাহিত্য-সংস্কৃতির মহোৎসবে কলম শিল্পী গ্র্যান্ড ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ খোশবাগ বাসস্ট্যান্ডের কাছে পথ দুর্ঘটনা, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন দন্ত চিকিৎসক বসিরহাট দরবার শরিফে হুমায়ুন কবীর, পেলেন উষ্ণ অভ্যর্থনা লাল বালির চড়া দাম, গ্রামবাসীদের ভরসা পাথরের গুড়ো   রমজানে অসহায়দের পাশে আল হোসাইনী হেল্প ফাউন্ডেশন সুন্দরবনের লবণাক্ত মাটিতে সূর্যমুখী চাষে সাফল্য, লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা হুগলি জেলায় এসআইআর এর প্রথম পর্যায়ের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করলেন জেলা শাসক খুরশিদ আলি কাদরি  বন্যপ্রাণীর উপদ্রব রুখতে তৎপর বনদপ্তর উত্তাপহীন ডার্বিতে মহামেডানকে ৫ গোলে উড়িয়ে দিল মোহনবাগান মরণবাঁচন ম্যাচে আজ সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিততেই হবে ভারতকে রাজনগরে চাঞ্চল্য: গাংমুড়ি গ্রামে বাড়ির ভিতর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার মোবাইল গেম খেলতে খেলতেই নিভে গেল ২১ বছরের তরতাজা প্রাণ  মুর্শিদাবাদের মুকুটে নতুন দুই পালক, বিশ্ববিদ্যালয় ও কাটরা মসজিদের তোরণ প্রকল্পের শিলান্যাস করলেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম! রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিশটি আসনে লড়বে পুকুর খনন করার সময় প্রাচীন বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার হল পান্ডুয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা। রানে ফিরলেন অভিষেক, জয়ে ফিরলো ভারত; বেঁচে রইলো সেমির স্বপ্ন এসআইআর  ইস্যুতে আতঙ্ক নয়, আইনি পথে আপিলের আহ্বান মিল্লি ঐক্য মঞ্চের কালিয়াচক আবাসিক মিশনে বিজ্ঞান বিভাগের প্রবেশিকা পরীক্ষা সম্পন্ন, উৎসাহ চোখে পড়ার মতো পরীক্ষার দিন আচমকা মৃত্যু অষ্টম শ্রেণির ছাত্রের, শোকস্তব্ধ সোনারপুর নাবালিকাকে বিবাহের অভিযোগে জয়নগরে গ্রেপ্তার যুবক জয়নগরে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা, আহত তিন শ্রমিক নেতা মহম্মদ ওয়েস এর নেতৃত্বে বড়জোড়ায় বিরাট মিছিল কুলতলির বিধায়কের উপস্থিতিতে ঢালাই রাস্তার কাজের সূচনা হলো নলগোড়ায় ঘুটিয়ারীশরিফে পুলিশের তৎপরতায় ৫৪ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার গঙ্গাকে দূষণমুক্ত করতে উদ্যোগ সুন্দরবনে বাঘের হামলায় ফের মৃত্যু, সরকারি ক্ষতিপূরণের দাবি এসআইও নিয়ে মিথ্যা মন্তব্যের প্রতিবাদে কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলন জামাআতে ইসলামী হিন্দের ইফতার সামগ্রী বিতরণ বই হোক সই, বইয়ের জন্য করিমপুরে পথে হাঁটল শত শত মানুষ রমজান মাসে ৩০০ দুস্থ পরিবারের পাশে সমাজসেবী হাফেজ নজরুল ইসলাম অবশেষে ধুলিয়ান গঙ্গা স্টেশনে বাংলা স্থান পেল  মুর্শিদাবাদে দুই মেগা প্রকল্পের শিলান্যাস ২৮ ফেব্রুয়ারি ভাঙড়ে ২৮ টি তাজা বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, গ্রেপ্তার দুই জন্মদিনে অবহেলিত ভূদেব মুখোপাধ্যায়, তালাবন্ধ গ্রীলে মালা ঝুলিয়ে জন্মদিন পালন করল বিজেপি বালিভর্তি ট্রাক চলাচল ঘিরে উত্তেজনা, সোনামুখীতে গ্রামবাসীর রাতভর বিক্ষোভ বসিরহাটে দলবদল ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ, তৃণমূলের সভায় বহু নেতার যোগদান ভোটের আগে বিরোধী শিবিরে বড় ভাঙন কুলতলীতে কালিয়াচকের বাহাদুরপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড চুঁচুড়ায় সোমবার সাতসকালে পথ দুর্ঘটনা, জখম যুবকের অবস্থা আশঙ্কাজনক নিহত সেনা জওয়ানের মরদেহ পৌঁছাল শেখপাড়ার বাড়িতে ব্লক প্রাণিসম্পদ বিকাশ দিবস পালিত জয়নগরে অনলাইন বাণিজ্যের প্রসারে ক্ষুদ্র ব্যবসা চাপে: মত বড়জোড়া চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশে ফের পরিযায়ী শ্রমিকের উপর হামলা উত্তরলক্ষীপুরের গর্ব: প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ হতে চলেছেন ডা: মোবারাক হোসেন পুনরাবৃত্তি চায় ভারত, দক্ষিন আফ্রিকা চায় প্রত্যাবর্তন; সুপার এইটে আজ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই টানা দুই ম্যাচে জয় ইস্টবেঙ্গলের, দুই ম্যাচেই জোড়া গোল ইউসুফের বৃষ্টিতে ধুয়ে গেল পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ডের ম্যাচ আজ শুরু সুপার এইটের লড়াই, প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি পাক বনাম নিউজিল্যান্ড আজ ইস্টবেঙ্গলের সামনে স্পোর্টিং দিল্লি, ভরসার নাম ইউসুফ আজ্জেরি প্রত্যাশিত হার, ঘরের মাঠে মহামেডান বধ এফসি গোয়ার ১৫ বছরেও শেষ হয়নি বক্সীপুর ব্রিজ নির্মাণ কাজ, জনস্বার্থ মামলা গড়াল কলকাতা হাই কোর্টে করিমপুর এলাকাবাসীকে বহরমপুর যেতে আর পেরুতে হবেনা বিপদ সংকুল রাস্তা এসআইআর এর চাপ, শ্রীরামপুরে মাঝ গঙ্গায় ঝাঁপ বিএলও’র ছেলেধরা সন্দেহে পুড়িয়ে খুনের চেষ্টার ঘটনায় বলাগড়ে ২৫ জন দোষীকে সাজা শোনালো চুঁচুড়ার ফার্স্ট ট্রাক কোর্ট বেআইনি মাটির গাড়ির ধাক্কায় ২ যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে জি-প্লটের আদিবাসী শিশুরা  জল্পনার অবসান, তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন বাম যুব নেতা প্রতীক উর রহমান কনকচূড় ধানের চাল পেল জাতিসংঘের ঐতিহ্য স্বীকৃতি, খুশির হাওয়া জয়নগর জুড়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসন-এনজিওর যৌথ উদ্যোগে সচেতনতা শিবির ঘোড়ামারা দ্বীপ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপের নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের, গঠিত হচ্ছে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি শেষ সময় ঘনাতেই যুব সাথী প্রকল্পের ফর্ম জমায় দীর্ঘ হচ্ছে লাইন পখন্না রামকৃষ্ণ আশ্রমে শ্রীরামকৃষ্ণের ১৯১তম জন্মতিথি উদ্‌যাপন বড়জোড়া কলেজে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত সায়েম চৌধুরী ওরফে বাবু: সংগঠন, সংগ্রাম ও সেবার রাজনীতি সোনার প্রতিমার প্রলোভনে ১১ লক্ষ টাকার প্রতারণা ঘুঁটিয়ারীশরিফে পুলিশের সাফল্য: ২৪ চুরি যাওয়া মোবাইল উদ্ধার হুগলি জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের উদ্যোগে খাদ্য সুরক্ষা মেলা’য় সুষম খাদ্য খাওয়ার পরামর্শ  উলুবেড়িয়ায় ১৫ টিয়া উদ্ধার, আন্তরাজ্য পাখি পাচারচক্রের সদস্য গ্রেফতার সরকারি জমি দখল ও নয়নজুলি ভরাটের অভিযোগে চাঞ্চল্য ধূপগুড়িতে কাবিলপুর হাই স্কুলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠা দিবস ঘটা করে উদযাপন পবিত্র রমজান মাস শুরুর ঠিক আগে ইফতার সামগ্রী বিতরণ জয়নগরে ২০২৬ নির্বাচন ঘিরে ফারাক্কায় জোর চর্চায় রেহেনা ইয়াসমিন  পিতা-মাতার স্মৃতিতে আট দিনব্যাপী ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন পুলিশকর্মী ছেলের উদ্যোগে সুন্দরবনের মৎস্যজীবীদের মৃত্যু মিছিল থামছেই না, সরকারি ক্ষতিপূরনের দাবি মাটি, মানুষ ও সংগঠন: রাবিউল ইসলামের রাজনৈতিক দর্শন দুবে ঝড়ে উড়ে গেল নেদারল্যান্ডস, বোলিংয়ে নায়ক বরুণ হঠাতই ব্যাটিং বিপর্যয়, রঞ্জি থেকে বিদায় বাংলার ফারহানের দুরন্ত সেঞ্চুরি, সুপার এইটে পাকিস্তানও ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে আজ নামিবিয়ার মুখোমুখি পাকিস্তান সামির ৮ উইকেটেও, ব্যাটিং বিপর্যয়ে হারের মুখে বাংলা চুঁচুড়ায় প্রার্থী ঘোষণার আগেই দেওয়াল লিখনে জোর তৃণমূল, পাল্টা কটাক্ষ বিজেপির কুলতলিতে আয়ুষ মেলা: বিকল্প চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগ রানীনগরে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীসভা ও জাকির হোসেনের উপস্থিতিতে উপচে পড়া ভিড়  কৃষকদের সমস্যা সমাধানে চালু ‘ভারত বিস্তার’ এআই টুল গোবর্ধনডাঙ্গায় তৃণমূল ট্রেড ইউনিয়নের কর্মী সভা কাবিলপুরে মানব সেবা ফাউন্ডেশনের পথচলা শুরু মালদা জেলায় হাই মাদ্রাসা, আলিম ও ফাজিল পরীক্ষা নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন পা দিয়ে লিখেই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা মানকুন্ডুতে সারা বাংলা একদিনের দাবা প্রতিযোগিতা মেরা যুব ভারতের উদ্যোগে মগরাহাটে জেলা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অপসংস্কৃতির স্রোতের বিপরীতে নাট্যচর্চার বার্তা – বাগনানে তিনদিনের নাট্য উৎসবে নজর কাড়ল বাঙালপুর বয়েজ ক্লাব দ্বীপাঞ্চলবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ: আমতায় নির্মীয়মাণ কংক্রিটের সেতুতে বাড়ছে আশার আলো মানসম্মত শিক্ষা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে কলকাতায় স্কুল ম্যানেজমেন্ট কর্মশালা জীবনে কিছু জায়গা থেকে চুপচাপ সরে আসতে হয় ১৪ই ফেব্রুয়ারি: ভালবাসার দিন হিসেবে কেন পালিত হয়? সুদ, মাদক ও জুয়ার অদৃশ্য জোট: সমাজ ধ্বংসের নীরব চক্রান্ত আদ্রায় ‘বিনা পয়সার বাজারে’ উপচে পড়া ভিড়, হাসি ফিরল অসংখ্য মুখে মেডিকেল ভর্তিতে কাট অফ বিতর্কে তোলপাড় দেশ হবু ডাক্তারদের মান, মেধা ও রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন কেরালার আদালতে নতুন অধ্যায় রচিত দৃষ্টিহীন তরুণী বিচারক গড়লেন নজির

দেশে দেশে গণঅভ্যুত্থান: নেপথ্য কারণ কী?

প্রকাশিত: ১ অক্টোবর ২০২৫, সন্ধ্যা ৬:৩৭ | আপডেট: ১ অক্টোবর ২০২৫, সন্ধ্যা ৬:৩৭

ড. নূরুল ইসলাম

আরও পড়ুন:

নতুন পয়গাম, ১ অক্টোবর:

আরও পড়ুন:

দক্ষিণ এশিয়ার দেশে দেশে শুরু হয়েছে গণঅভ্যুত্থান। স্বৈরাচারী সরকারের অকস্মাৎ পতন। বস্তুত কোন রাষ্ট্রে বিপ্লব হঠাৎ সংঘটিত হয় না। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামে না। মানুষ যখন দেখে, সশস্ত্র প্রতিরোধ ছাড়া স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি সম্ভব নয়; তখন তারা জীবনের পরোয়া না করে রাজপথে নামে। শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও নেপালের ক্ষেত্রে একথা একশো শতাংশ সত্য। দীর্ঘ স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে ২০১১ সালে আরব বিশ্বে এ ধরনের গণঅভ্যুত্থান শুরু হয়েছিল, যাকে বলা হয় Arab Spring বা ‘আরব বসন্ত’। তবে সেই অভ্যুত্থান সফল হয়নি। কারণ, সেখানে স্বৈরাচারী শাসকদের পৃষ্ঠপোষক আমেরিকা ও ইউরোপ নির্লজ্জভাবে তাদের পাপেটদের রক্ষা করতে এগিয়ে আসে। তারা স্বৈরশাসকদের পক্ষাবলম্বন করে। কট্টর স্বৈরশাসকরা ভয়ানক সহিংসতা ও শক্তি প্রয়োগ করে ‘আরব বসন্ত’ দমন করে।

আরও পড়ুন:

এতকাল তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে প্রাক্তন ঔপনিবেশিক শক্তি ও নব্য সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা দেশে দেশে পাপেট সরকার প্রতিষ্ঠা করত। তাদের কথা মতো না চললে সামরিক অভ্যুত্থান অথবা গুপ্ত হত্যার মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন করত। এভাবে তৃতীয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে মুসলিম জাহানে দীর্ঘদিন ধরে নব্য সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা ও তার দোসররা অস্থিরতা সৃষ্টি করে রেখেছে। এখনো তাদের পাপেট ইসরাইলকে দিয়ে আরব জগতে ভয়ানক অস্থিরতা সৃষ্টি করে রেখেছে।

আরও পড়ুন:

এদিকে, দেশে দেশে যে গণঅভ্যুত্থান হয়ে চলেছে, তার ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি জম্মু কাশ্মীরের লাদাখে শুরু হয়েছে গণঅভ্যুত্থান। তবে এদেশে এধরনের অভ্যুত্থান ও আন্দোলন সফল হবে না। কারণ, এই বহুমাত্রিক দেশে বিভিন্ন জাতি ও জনগোষ্ঠীর স্বার্থ ভিন্ন ভিন্ন। কোন ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে সকল ভিন্ন স্বার্থগোষ্ঠী এক সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে একক নেতৃত্বের অধীনে রাস্তায় নামবে — এ সম্ভাবনা খুবই কম। লাদাখবাসীর সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের একাত্ম হওয়ার কারণ নেই। তাছাড়া, লাদাখের বৌদ্ধরা আন্দোলন করছে। মুসলিম বা হিন্দু ধর্ম গোষ্ঠী এই আন্দোলনে নেই। এজন্য এই আন্দোলন সফল হবে না। ক্ষমতাসীন বর্ণ হিন্দু গোষ্ঠী এই খেলায় ওস্তাদ। ‘ভাগ কর, শাসন কর।’ এতদিন তারা কাশ্মীর ভাগের সময় মুসলিম ও বৌদ্ধ খেলা খেলেছিল। এখন শুধু মুদ্রার পিঠ পরিবর্তন করলেই হল।

আরও পড়ুন:

মনে আছে, ব্রিটিশরা তৎকালীন মুসলিম শাসনের বিরুদ্ধে এদেশের অমুসলিমদের কীভাবে ব্যবহার করেছে? ১৮৫৭ সালে প্রথম সর্বাত্মক স্বাধীনতা আন্দোলন বা মহাবিদ্রোহের সময় সুবিধাভোগী অমুসলিম বা হিন্দু জমিদার, জোতদার শ্রেণির ভূমিকা কেমন ছিল? দয়া করে ঐ সময়ের বাংলার পত্র-পত্রিকাগুলো একবার দেখে নেবেন। যে ফল্টলাইন ঔপনিবেশিক শাসকদের নির্ভুল হাতিয়ার ছিল। আজ ক্ষমতাসীন ফ্যাসিবাদী সরকারের হাতে সেই হাতিয়ার অব্যর্থ কাজ করে চলেছে।

আরও পড়ুন:

স্মরণীয়, একটি প্রাণবন্ত সমাজ ও রাষ্ট্রের মূর্ত প্রতীক তার বলিষ্ঠ রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনসমূহ। মানুষের চাওয়া-পাওয়া এবং আশা-আকাঙ্ক্ষার বার্তা বহন করে রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন। আমাদের মতো গণতান্ত্রিক দেশে অসংখ্য রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন আছে। এসব প্ল্যাটফর্ম সাধারণ মানুষের আশা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধিত্ব করে। বস্তুত যখন এসব প্ল্যাটফর্ম অকার্যকর হয়ে যায়, তখন মানুষের ক্ষোভ বাঁধন-হারা হয়ে যায়। তখন উত্তাল আন্দোলন গড়ে উঠে। বিপ্লব সংঘটিত হয়।

আরও পড়ুন:

বর্তমান রাষ্ট্র শাসনে গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষ শব্দদ্বয় আধুনিক বহুমাত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সেফটি ভাল্বের মতো কাজ করতে পারে। এগুলো নিছক পরিভাষা নয়। কার্যকর হাতিয়ার। এফেক্টিভ মেকানিজম। কিন্তু এই পরিভাষা যে আদর্শ ও মহানতা ধারণ করে, তা পৃথিবীর খুব বেশি দেশে নেই। বস্তুত অধিকাংশ দেশে যথার্থ গণতন্ত্রই নেই। যথার্থ ধর্মনিরপেক্ষ নয়। গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শের ভিত্তিমূল ‘স্বাধীনতা, সাম্য ও মৈত্রী’। এগুলোর অস্তিত্ব কোথায়?

আরও পড়ুন:

মানুষ অতীতে বহু রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মতবাদ নিয়ে অনুশীলন করে হতাশ হয়ে গেছে। এখনো মানুষ মুক্তির পথ খুঁজে ফিরছে। কখনো বিকৃত ও বিভ্রান্তিকর রাজনৈতিক পরিভাষা মানুষকে বিভ্রান্ত করে। মানুষ এখন জাতীয়তাবাদ, রাষ্ট্রবাদ, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষ ইত্যাদি শব্দে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলছে। এসব পরিভাষা নিয়ে তারা হাসাহাসি করছে। বস্তুত পরিভাষাগুলো এখন নিজস্ব স্পিরিট হারিয়ে ফেলেছে। বর্তমান রাষ্ট্র ব্যবস্থা পরিচালিত হয় কিছু দুর্বৃত্ত ও দুষ্কৃতির মাধ্যমে। তাদের স্বৈরশাসনে নিষ্পেষিত ও অসন্তুষ্ট মানুষ প্রতিকারের বিকল্প পথ দেখতে না পেয়ে রক্তক্ষয়ী বিপ্লবের ঝুঁকি নেয়। মনে করে, প্রতিকারের একমাত্র পথ রাষ্ট্র বিপ্লব। যেখানে বহু জীবনহানি হয়। বহু সম্পদ ধ্বংস হয়। জীবনের ছন্দ পতন হয়। সর্বনাশ হয়।

আরও পড়ুন:

ভারত দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের সবথেকে বড় ও প্রভাবশালী দেশ। এখানেও গণঅভ্যুত্থানের প্রবল সম্ভাবনা আছে। গণতন্ত্র এখানেও পণবন্দি। কার্যত গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার বারোটা বেজে গেছে। ফ্যাসিবাদী শক্তি নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর স্বার্থে কাজ করে চলেছে। কিন্তু এত কিছু সত্ত্বেও উল্লেখিত দেশগুলোর মতো ভারত কিন্তু একমাত্রিক দেশ নয়। এখানে খুব সহজে সমগ্র দেশব্যাপী গণআন্দোলন সংঘটিত হবে না। রাষ্ট্র বিপ্লব অত সহজে হবে না। আর যদি দৈবাৎ হয়ে যায়, তাহলে এদেশ সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে। সোভিয়েত যেমন তার বিপুল সামরিক শক্তি দিয়ে আন্দোলন দমন করতে পারেনি, তেমনি এদেশও পারবে বলে মনে হয় না। কারণ, এদেশে প্রতিটি রাজ্য ও প্রতিটি রাজ্যের ভেতর একাধিক স্বতন্ত্র অঞ্চল নিজেদের আঞ্চলিক অস্মিতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবে। ফলে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। নৈরাজ্য সৃষ্টি হতে পারে। যা পুনরায় সংগঠিত ও সুসংহত করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

আরও পড়ুন:

বস্তুত ভারতের সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা ভিন্ন ধরনের। এদেশে হিন্দু ঐতিহ্য ও জাত-ব্যবস্থা সুপ্রতিষ্ঠিত। খুব শক্তিশালী। তথাকথিত উচ্চ বর্ণের সংখ্যালঘু হিন্দু গোষ্ঠীর আধিপত্য নিরঙ্কুশ। এদেশে একমাত্র তাদের অনুশাসন চলে। হাজার হাজার বছর ধরে। এমনকি মুসলিম ও খ্রিস্টান শাসনামলেও বর্ণ প্রথা অক্ষত ছিল। বর্ণ হিন্দুরা সমাজ শাসন করত। পৃথিবীর সকল দেশে এলিট শ্রেণি আছে। তাদের একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষিত আছে। কিন্তু ভারতের এলিট শ্রেণির আধিপত্য ধর্মের মোড়কে সুরক্ষিত। ফলে, বিদেশি ও বিধর্মী শাসনকালে হোক অথবা প্রগতিশীল গণতন্ত্রে — এদেশে বর্ণ হিন্দু সম্প্রদায়ের আধিপত্য ও প্রাধান্য সুরক্ষিত। এজন্য খুব সহজে এদেশে গণঅভ্যুত্থান হবে না। আপাতত মনে হচ্ছে।

আরও পড়ুন:

এদেশে রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের উৎসকাল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে। ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে শুরু হয় সামাজিক সংগঠনের পথ চলা। শেষার্ধে শুরু হয় রাজনৈতিক দলের পথ চলা। বেঙ্গল ব্রিটিশ ইন্ডিয়া সোসাইটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৪৩ সালে। ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৫১ সালে। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৮৫ সালে। এছাড়াও, এসময় অসংখ্য দল ও সংগঠন গড়ে ওঠে, যারা ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে অভূতপূর্ব অবদান রেখেছে। এসব দল ও সংগঠন দেশে গণ অভ্যুত্থানের পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল। তাদের সক্রিয়তার ফলেই ১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীন হয়।

আরও পড়ুন:

স্বাধীন ভারত হিন্দু-প্রধান দেশ। ভারতে ডে ওয়ান থেকে মুসলিম সম্প্রদায় ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কারণে কোণঠাসা। সামাজিক ক্ষেত্রে মুসলিম সম্প্রদায় বিভেদ, বিভাজনের শিকার। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ভয়ানক বৈষম্যের শিকার। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তারা প্রতিনিধিত্বহীন। কার্যত তারা স্বাধীন দেশে অবদমিত জনগোষ্ঠী। শুধুমাত্র ধর্মীয় কারণে তারা অন্যায় ও অবিচারের শিকার। শুধু তাই নয়, গত কয়েক দশক ধরে তাদের জীবন ও জীবিকাও অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় তাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা চলছে। তাদের বিরুদ্ধে এক ধরনের অঘোষিত যুদ্ধ চলছে!

আরও পড়ুন:

স্মরণীয়, স্বাধীনতা আন্দোলনের পুরোধা ছিল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (১৮৮৫)। বর্ণ হিন্দু পরিচালিত ও প্রভাবিত জাতীয় কংগ্রেস ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণে প্রধান ভূমিকা রাখে। তাদের অবদান এদেশের কোন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের সঙ্গে তুলনা করা যায় না। এই দল প্রথম থেকে ধর্মনিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করেছে। কিন্তু বর্ণ হিন্দু নেতৃবৃন্দ তাদের প্রাধান্য কখনো পরিত্যাগ করেনি। তারা ধর্মনিরপেক্ষ অথচ হিন্দু আধিপত্যের প্রবক্তা ছিলেন। এক সময় কংগ্রেসের হিন্দু সদস্যরা নরমপন্থী ও চরমপন্থী উপদলে বিভক্ত ছিলেন। আজকের বিজেপির পূর্বপুরুষ ছিলেন সেকালের কংগ্রেসের চরমপন্থীরা।

আরও পড়ুন:

১৯০৬ সালে মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠা হয় জাতীয় কংগ্রেসের দুই দশক পরে। মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা হয়েছিল হিন্দু আধিপত্য থেকে বাঁচার এক মুসলিম রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে। তারাও প্রাথমিকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ অথচ মুসলিম পরিচালিত রাজনৈতিক দলের প্রবক্তা ছিলেন। কিন্তু পরবর্তীকালে তারা মুসলিম সাম্প্রদায়িক দলে পরিণত হয়।

আরও পড়ুন:

অন্যদিকে, আরএসএস-এর প্রতিষ্ঠা হয় ১৯২৫ সালে মুসলিম লীগের দুই দশক পরে। আরএসএস আনুষ্ঠানিকভাবে কখনো রাজনৈতিক দল ছিল না। আজও না। কিন্তু তারা সুপার রাজনৈতিক। তাদের একক লক্ষ্য হল, দেশে হিন্দু আধিপত্য ও প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করা। এজন্য তারা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে ছিল না; বরং তাদের সহযোগিতা করে হিন্দু আধিপত্য অক্ষুন্ন রাখা ছিল তাদের একক লক্ষ্য। স্বাধীনতার পরে তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ প্রগতিশীল কংগ্রেসের শাসন তাদের পছন্দ ছিল না। এজন্য তারা গান্ধী ও নেহরুর বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল। অভিযোগ, গান্ধীকে হত্যা করে তারা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে! এজন্য সেসময় দেশে তাদের সব তৎপরতা নিষিদ্ধ করা হয়।

আরও পড়ুন:

স্মরণীয়, কংগ্রেসের সূচনালগ্ন থেকেই চরমপন্থী গোষ্ঠী বর্ণ হিন্দু আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য নিবেদিতপ্রাণ ছিল। তারা আরএসএস-এর তথাকথিত আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন। স্বাধীনতার পরেও তারা আরএসএস-এর সঙ্গে একাত্ম ছিলেন। অভিযোগ, এখনো জাতীয় কংগ্রেসের মধ্যে বিশাল সংখ্যক মানুষ সংঘ পরিবারের সঙ্গে একাত্ম। এজন্য মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি বিজেপি ও কংগ্রেসের দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই।

আরও পড়ুন:

স্বাধীন ভারতের সংবিধানে প্রথমে ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ শব্দ ছিল না। কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের সকল আদর্শের উল্লেখ ছিল। পরে ১৯৭৬ সালে ৪২তম সংবিধান সংশোধনীতে সংবিধানের প্রস্তাবনায় ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ শব্দ সংযোজন করা হয়। তা সত্ত্বেও, যেহেতু কংগ্রেসে সব সময় হিন্দু চরমপন্থী এলিমেন্টস খুব সক্রিয় ও শক্তিশালী, এজন্য এদেশে প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়নি। এখন তো ক্ষমতাসীন বিজেপি ধর্মনিরপেক্ষতার চরম বিরোধী। তা সত্ত্বেও, তাদের নেতারা প্রায়ই বলে, ভারত হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ বলে ধর্মনিরপেক্ষ! ঠিক। পৃথিবীতে একমাত্র হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ভারত। এজন্য পৃথিবীতে একমাত্র ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র ভারত! এসব কূপমন্ডক নেতাদের লজ্জা বলে কিছু নেই। বস্তুত কোন দেশ সফল গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষ কিনা, সেই সার্টিফিকেট দেবে সেদেশের সংখ্যালঘু ও দুর্বল শ্রেণির মানুষ। কারণ, তারাই শিকার হয় স্বৈরাচার ও আধিপত্যবাদের।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder