দেশে দেশে গণঅভ্যুত্থান: নেপথ্য কারণ কী?
ড. নূরুল ইসলাম
নতুন পয়গাম, ১ অক্টোবর:
দক্ষিণ এশিয়ার দেশে দেশে শুরু হয়েছে গণঅভ্যুত্থান। স্বৈরাচারী সরকারের অকস্মাৎ পতন। বস্তুত কোন রাষ্ট্রে বিপ্লব হঠাৎ সংঘটিত হয় না। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামে না। মানুষ যখন দেখে, সশস্ত্র প্রতিরোধ ছাড়া স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি সম্ভব নয়; তখন তারা জীবনের পরোয়া না করে রাজপথে নামে। শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও নেপালের ক্ষেত্রে একথা একশো শতাংশ সত্য। দীর্ঘ স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে ২০১১ সালে আরব বিশ্বে এ ধরনের গণঅভ্যুত্থান শুরু হয়েছিল, যাকে বলা হয় Arab Spring বা ‘আরব বসন্ত’। তবে সেই অভ্যুত্থান সফল হয়নি। কারণ, সেখানে স্বৈরাচারী শাসকদের পৃষ্ঠপোষক আমেরিকা ও ইউরোপ নির্লজ্জভাবে তাদের পাপেটদের রক্ষা করতে এগিয়ে আসে। তারা স্বৈরশাসকদের পক্ষাবলম্বন করে। কট্টর স্বৈরশাসকরা ভয়ানক সহিংসতা ও শক্তি প্রয়োগ করে ‘আরব বসন্ত’ দমন করে।
এতকাল তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে প্রাক্তন ঔপনিবেশিক শক্তি ও নব্য সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা দেশে দেশে পাপেট সরকার প্রতিষ্ঠা করত। তাদের কথা মতো না চললে সামরিক অভ্যুত্থান অথবা গুপ্ত হত্যার মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন করত। এভাবে তৃতীয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে মুসলিম জাহানে দীর্ঘদিন ধরে নব্য সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা ও তার দোসররা অস্থিরতা সৃষ্টি করে রেখেছে। এখনো তাদের পাপেট ইসরাইলকে দিয়ে আরব জগতে ভয়ানক অস্থিরতা সৃষ্টি করে রেখেছে।
এদিকে, দেশে দেশে যে গণঅভ্যুত্থান হয়ে চলেছে, তার ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি জম্মু কাশ্মীরের লাদাখে শুরু হয়েছে গণঅভ্যুত্থান। তবে এদেশে এধরনের অভ্যুত্থান ও আন্দোলন সফল হবে না। কারণ, এই বহুমাত্রিক দেশে বিভিন্ন জাতি ও জনগোষ্ঠীর স্বার্থ ভিন্ন ভিন্ন। কোন ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে সকল ভিন্ন স্বার্থগোষ্ঠী এক সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে একক নেতৃত্বের অধীনে রাস্তায় নামবে — এ সম্ভাবনা খুবই কম। লাদাখবাসীর সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের একাত্ম হওয়ার কারণ নেই। তাছাড়া, লাদাখের বৌদ্ধরা আন্দোলন করছে। মুসলিম বা হিন্দু ধর্ম গোষ্ঠী এই আন্দোলনে নেই। এজন্য এই আন্দোলন সফল হবে না। ক্ষমতাসীন বর্ণ হিন্দু গোষ্ঠী এই খেলায় ওস্তাদ। ‘ভাগ কর, শাসন কর।’ এতদিন তারা কাশ্মীর ভাগের সময় মুসলিম ও বৌদ্ধ খেলা খেলেছিল। এখন শুধু মুদ্রার পিঠ পরিবর্তন করলেই হল।
মনে আছে, ব্রিটিশরা তৎকালীন মুসলিম শাসনের বিরুদ্ধে এদেশের অমুসলিমদের কীভাবে ব্যবহার করেছে? ১৮৫৭ সালে প্রথম সর্বাত্মক স্বাধীনতা আন্দোলন বা মহাবিদ্রোহের সময় সুবিধাভোগী অমুসলিম বা হিন্দু জমিদার, জোতদার শ্রেণির ভূমিকা কেমন ছিল? দয়া করে ঐ সময়ের বাংলার পত্র-পত্রিকাগুলো একবার দেখে নেবেন। যে ফল্টলাইন ঔপনিবেশিক শাসকদের নির্ভুল হাতিয়ার ছিল। আজ ক্ষমতাসীন ফ্যাসিবাদী সরকারের হাতে সেই হাতিয়ার অব্যর্থ কাজ করে চলেছে।
স্মরণীয়, একটি প্রাণবন্ত সমাজ ও রাষ্ট্রের মূর্ত প্রতীক তার বলিষ্ঠ রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনসমূহ। মানুষের চাওয়া-পাওয়া এবং আশা-আকাঙ্ক্ষার বার্তা বহন করে রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন। আমাদের মতো গণতান্ত্রিক দেশে অসংখ্য রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন আছে। এসব প্ল্যাটফর্ম সাধারণ মানুষের আশা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধিত্ব করে। বস্তুত যখন এসব প্ল্যাটফর্ম অকার্যকর হয়ে যায়, তখন মানুষের ক্ষোভ বাঁধন-হারা হয়ে যায়। তখন উত্তাল আন্দোলন গড়ে উঠে। বিপ্লব সংঘটিত হয়।
বর্তমান রাষ্ট্র শাসনে গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষ শব্দদ্বয় আধুনিক বহুমাত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সেফটি ভাল্বের মতো কাজ করতে পারে। এগুলো নিছক পরিভাষা নয়। কার্যকর হাতিয়ার। এফেক্টিভ মেকানিজম। কিন্তু এই পরিভাষা যে আদর্শ ও মহানতা ধারণ করে, তা পৃথিবীর খুব বেশি দেশে নেই। বস্তুত অধিকাংশ দেশে যথার্থ গণতন্ত্রই নেই। যথার্থ ধর্মনিরপেক্ষ নয়। গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শের ভিত্তিমূল ‘স্বাধীনতা, সাম্য ও মৈত্রী’। এগুলোর অস্তিত্ব কোথায়?
মানুষ অতীতে বহু রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মতবাদ নিয়ে অনুশীলন করে হতাশ হয়ে গেছে। এখনো মানুষ মুক্তির পথ খুঁজে ফিরছে। কখনো বিকৃত ও বিভ্রান্তিকর রাজনৈতিক পরিভাষা মানুষকে বিভ্রান্ত করে। মানুষ এখন জাতীয়তাবাদ, রাষ্ট্রবাদ, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষ ইত্যাদি শব্দে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলছে। এসব পরিভাষা নিয়ে তারা হাসাহাসি করছে। বস্তুত পরিভাষাগুলো এখন নিজস্ব স্পিরিট হারিয়ে ফেলেছে। বর্তমান রাষ্ট্র ব্যবস্থা পরিচালিত হয় কিছু দুর্বৃত্ত ও দুষ্কৃতির মাধ্যমে। তাদের স্বৈরশাসনে নিষ্পেষিত ও অসন্তুষ্ট মানুষ প্রতিকারের বিকল্প পথ দেখতে না পেয়ে রক্তক্ষয়ী বিপ্লবের ঝুঁকি নেয়। মনে করে, প্রতিকারের একমাত্র পথ রাষ্ট্র বিপ্লব। যেখানে বহু জীবনহানি হয়। বহু সম্পদ ধ্বংস হয়। জীবনের ছন্দ পতন হয়। সর্বনাশ হয়।
ভারত দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের সবথেকে বড় ও প্রভাবশালী দেশ। এখানেও গণঅভ্যুত্থানের প্রবল সম্ভাবনা আছে। গণতন্ত্র এখানেও পণবন্দি। কার্যত গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার বারোটা বেজে গেছে। ফ্যাসিবাদী শক্তি নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর স্বার্থে কাজ করে চলেছে। কিন্তু এত কিছু সত্ত্বেও উল্লেখিত দেশগুলোর মতো ভারত কিন্তু একমাত্রিক দেশ নয়। এখানে খুব সহজে সমগ্র দেশব্যাপী গণআন্দোলন সংঘটিত হবে না। রাষ্ট্র বিপ্লব অত সহজে হবে না। আর যদি দৈবাৎ হয়ে যায়, তাহলে এদেশ সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে। সোভিয়েত যেমন তার বিপুল সামরিক শক্তি দিয়ে আন্দোলন দমন করতে পারেনি, তেমনি এদেশও পারবে বলে মনে হয় না। কারণ, এদেশে প্রতিটি রাজ্য ও প্রতিটি রাজ্যের ভেতর একাধিক স্বতন্ত্র অঞ্চল নিজেদের আঞ্চলিক অস্মিতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবে। ফলে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। নৈরাজ্য সৃষ্টি হতে পারে। যা পুনরায় সংগঠিত ও সুসংহত করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
বস্তুত ভারতের সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা ভিন্ন ধরনের। এদেশে হিন্দু ঐতিহ্য ও জাত-ব্যবস্থা সুপ্রতিষ্ঠিত। খুব শক্তিশালী। তথাকথিত উচ্চ বর্ণের সংখ্যালঘু হিন্দু গোষ্ঠীর আধিপত্য নিরঙ্কুশ। এদেশে একমাত্র তাদের অনুশাসন চলে। হাজার হাজার বছর ধরে। এমনকি মুসলিম ও খ্রিস্টান শাসনামলেও বর্ণ প্রথা অক্ষত ছিল। বর্ণ হিন্দুরা সমাজ শাসন করত। পৃথিবীর সকল দেশে এলিট শ্রেণি আছে। তাদের একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষিত আছে। কিন্তু ভারতের এলিট শ্রেণির আধিপত্য ধর্মের মোড়কে সুরক্ষিত। ফলে, বিদেশি ও বিধর্মী শাসনকালে হোক অথবা প্রগতিশীল গণতন্ত্রে — এদেশে বর্ণ হিন্দু সম্প্রদায়ের আধিপত্য ও প্রাধান্য সুরক্ষিত। এজন্য খুব সহজে এদেশে গণঅভ্যুত্থান হবে না। আপাতত মনে হচ্ছে।
এদেশে রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের উৎসকাল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে। ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে শুরু হয় সামাজিক সংগঠনের পথ চলা। শেষার্ধে শুরু হয় রাজনৈতিক দলের পথ চলা। বেঙ্গল ব্রিটিশ ইন্ডিয়া সোসাইটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৪৩ সালে। ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৫১ সালে। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৮৫ সালে। এছাড়াও, এসময় অসংখ্য দল ও সংগঠন গড়ে ওঠে, যারা ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে অভূতপূর্ব অবদান রেখেছে। এসব দল ও সংগঠন দেশে গণ অভ্যুত্থানের পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল। তাদের সক্রিয়তার ফলেই ১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীন হয়।
স্বাধীন ভারত হিন্দু-প্রধান দেশ। ভারতে ডে ওয়ান থেকে মুসলিম সম্প্রদায় ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কারণে কোণঠাসা। সামাজিক ক্ষেত্রে মুসলিম সম্প্রদায় বিভেদ, বিভাজনের শিকার। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ভয়ানক বৈষম্যের শিকার। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তারা প্রতিনিধিত্বহীন। কার্যত তারা স্বাধীন দেশে অবদমিত জনগোষ্ঠী। শুধুমাত্র ধর্মীয় কারণে তারা অন্যায় ও অবিচারের শিকার। শুধু তাই নয়, গত কয়েক দশক ধরে তাদের জীবন ও জীবিকাও অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় তাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা চলছে। তাদের বিরুদ্ধে এক ধরনের অঘোষিত যুদ্ধ চলছে!
স্মরণীয়, স্বাধীনতা আন্দোলনের পুরোধা ছিল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (১৮৮৫)। বর্ণ হিন্দু পরিচালিত ও প্রভাবিত জাতীয় কংগ্রেস ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণে প্রধান ভূমিকা রাখে। তাদের অবদান এদেশের কোন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের সঙ্গে তুলনা করা যায় না। এই দল প্রথম থেকে ধর্মনিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করেছে। কিন্তু বর্ণ হিন্দু নেতৃবৃন্দ তাদের প্রাধান্য কখনো পরিত্যাগ করেনি। তারা ধর্মনিরপেক্ষ অথচ হিন্দু আধিপত্যের প্রবক্তা ছিলেন। এক সময় কংগ্রেসের হিন্দু সদস্যরা নরমপন্থী ও চরমপন্থী উপদলে বিভক্ত ছিলেন। আজকের বিজেপির পূর্বপুরুষ ছিলেন সেকালের কংগ্রেসের চরমপন্থীরা।
১৯০৬ সালে মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠা হয় জাতীয় কংগ্রেসের দুই দশক পরে। মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা হয়েছিল হিন্দু আধিপত্য থেকে বাঁচার এক মুসলিম রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে। তারাও প্রাথমিকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ অথচ মুসলিম পরিচালিত রাজনৈতিক দলের প্রবক্তা ছিলেন। কিন্তু পরবর্তীকালে তারা মুসলিম সাম্প্রদায়িক দলে পরিণত হয়।
অন্যদিকে, আরএসএস-এর প্রতিষ্ঠা হয় ১৯২৫ সালে মুসলিম লীগের দুই দশক পরে। আরএসএস আনুষ্ঠানিকভাবে কখনো রাজনৈতিক দল ছিল না। আজও না। কিন্তু তারা সুপার রাজনৈতিক। তাদের একক লক্ষ্য হল, দেশে হিন্দু আধিপত্য ও প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করা। এজন্য তারা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে ছিল না; বরং তাদের সহযোগিতা করে হিন্দু আধিপত্য অক্ষুন্ন রাখা ছিল তাদের একক লক্ষ্য। স্বাধীনতার পরে তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ প্রগতিশীল কংগ্রেসের শাসন তাদের পছন্দ ছিল না। এজন্য তারা গান্ধী ও নেহরুর বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল। অভিযোগ, গান্ধীকে হত্যা করে তারা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে! এজন্য সেসময় দেশে তাদের সব তৎপরতা নিষিদ্ধ করা হয়।
স্মরণীয়, কংগ্রেসের সূচনালগ্ন থেকেই চরমপন্থী গোষ্ঠী বর্ণ হিন্দু আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য নিবেদিতপ্রাণ ছিল। তারা আরএসএস-এর তথাকথিত আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন। স্বাধীনতার পরেও তারা আরএসএস-এর সঙ্গে একাত্ম ছিলেন। অভিযোগ, এখনো জাতীয় কংগ্রেসের মধ্যে বিশাল সংখ্যক মানুষ সংঘ পরিবারের সঙ্গে একাত্ম। এজন্য মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি বিজেপি ও কংগ্রেসের দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই।
স্বাধীন ভারতের সংবিধানে প্রথমে ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ শব্দ ছিল না। কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের সকল আদর্শের উল্লেখ ছিল। পরে ১৯৭৬ সালে ৪২তম সংবিধান সংশোধনীতে সংবিধানের প্রস্তাবনায় ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ শব্দ সংযোজন করা হয়। তা সত্ত্বেও, যেহেতু কংগ্রেসে সব সময় হিন্দু চরমপন্থী এলিমেন্টস খুব সক্রিয় ও শক্তিশালী, এজন্য এদেশে প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়নি। এখন তো ক্ষমতাসীন বিজেপি ধর্মনিরপেক্ষতার চরম বিরোধী। তা সত্ত্বেও, তাদের নেতারা প্রায়ই বলে, ভারত হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ বলে ধর্মনিরপেক্ষ! ঠিক। পৃথিবীতে একমাত্র হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ভারত। এজন্য পৃথিবীতে একমাত্র ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র ভারত! এসব কূপমন্ডক নেতাদের লজ্জা বলে কিছু নেই। বস্তুত কোন দেশ সফল গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষ কিনা, সেই সার্টিফিকেট দেবে সেদেশের সংখ্যালঘু ও দুর্বল শ্রেণির মানুষ। কারণ, তারাই শিকার হয় স্বৈরাচার ও আধিপত্যবাদের।








