বারাণসীর পবিত্র ঘাটে বুলডোজার, কাঠগড়ায় বিজেপি
নতুন পয়গাম, বারাণসী: উত্তরপ্রদেশের কাশীর সবথেকে পবিত্র শ্মশানঘাট মণিকর্ণিকার পুনর্গঠন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। ২৫ কোটি টাকার এই উন্নয়ন প্রকল্পে ঘাটের প্রাচীন স্থাপত্য ভেঙে ফেলা এবং লোকমাতা অহল্যাবাই হোলকারের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহ্যের অমর্যাদা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে বিরোধী দলগুলো। সমাজবাদী পার্টি এবং কংগ্রেসের দাবি, উন্নয়নের আড়ালে কাশীর কয়েক শতাব্দী প্রাচীন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় মুছে ফেলার ‘পাপ’ করছে বিজেপি সরকার।
সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, “বিজেপি কেবল ব্যবসায়িক মুনাফার জন্য কাজ করছে। কাশীর এই অবিনশ্বর ঐতিহ্য ধ্বংস করাই বিজেপির পতনের কারণ হবে। রাজমাতা অহল্যাবাই হোলকারের উত্তরাধিকারকে বিজেপি অপমান করছে, যা কোনো প্রকৃত বিশ্বাসী মানুষ মেনে নেবে না।” অন্যদিকে, কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এক্সে লিখেছেন, অহল্যাবাই হোলকারের তৈরি এই ঐতিহ্যবাহী ঘাটের ওপর বুলডোজার চালানো অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের বাণিজ্যিক স্বার্থে প্রাচীন মন্দির ও স্থাপত্য ধ্বংস করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সরাসরি আক্রমণ করে প্রশ্ন তুলেছেন, হেরিটেজকে অক্ষুণ্ণ রেখে কি সৌন্দর্যায়ন সম্ভব ছিল না? কেন কয়েকশো বছরের প্রাচীন মূর্তিগুলো জাদুঘরে না রেখে আবর্জনার মতো ধ্বংসস্তূপে ফেলা হল, তা নিয়ে তিনি কৈফিয়ত দাবি করেছেন। বিতর্কের সূত্রপাত হয় যখন ধ্বংসস্তূপের মধ্যে অহল্যাবাই হোলকারের মূর্তির ভগ্নাংশ দেখা যায় বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। মহারাণী অহল্যাবাই ট্রাস্টের চেয়ারম্যান যশবন্ত হোলকার অভিযোগ করেছেন, ঘাটের মন্দিরের চারটি মূর্তির মধ্যে দুটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। তিনি অবিলম্বে এর প্রতিকার এবং সাত দিনের মধ্যে নিখোঁজ অংশগুলো ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।








