BREAKING:
জোড়াসাঁকোয় সাহিত্য-সংস্কৃতির মহোৎসবে কলম শিল্পী গ্র্যান্ড ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ খোশবাগ বাসস্ট্যান্ডের কাছে পথ দুর্ঘটনা, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন দন্ত চিকিৎসক বসিরহাট দরবার শরিফে হুমায়ুন কবীর, পেলেন উষ্ণ অভ্যর্থনা লাল বালির চড়া দাম, গ্রামবাসীদের ভরসা পাথরের গুড়ো   রমজানে অসহায়দের পাশে আল হোসাইনী হেল্প ফাউন্ডেশন সুন্দরবনের লবণাক্ত মাটিতে সূর্যমুখী চাষে সাফল্য, লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা হুগলি জেলায় এসআইআর এর প্রথম পর্যায়ের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করলেন জেলা শাসক খুরশিদ আলি কাদরি  বন্যপ্রাণীর উপদ্রব রুখতে তৎপর বনদপ্তর উত্তাপহীন ডার্বিতে মহামেডানকে ৫ গোলে উড়িয়ে দিল মোহনবাগান মরণবাঁচন ম্যাচে আজ সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিততেই হবে ভারতকে রাজনগরে চাঞ্চল্য: গাংমুড়ি গ্রামে বাড়ির ভিতর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার মোবাইল গেম খেলতে খেলতেই নিভে গেল ২১ বছরের তরতাজা প্রাণ  মুর্শিদাবাদের মুকুটে নতুন দুই পালক, বিশ্ববিদ্যালয় ও কাটরা মসজিদের তোরণ প্রকল্পের শিলান্যাস করলেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম! রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিশটি আসনে লড়বে পুকুর খনন করার সময় প্রাচীন বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার হল পান্ডুয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা। রানে ফিরলেন অভিষেক, জয়ে ফিরলো ভারত; বেঁচে রইলো সেমির স্বপ্ন এসআইআর  ইস্যুতে আতঙ্ক নয়, আইনি পথে আপিলের আহ্বান মিল্লি ঐক্য মঞ্চের কালিয়াচক আবাসিক মিশনে বিজ্ঞান বিভাগের প্রবেশিকা পরীক্ষা সম্পন্ন, উৎসাহ চোখে পড়ার মতো পরীক্ষার দিন আচমকা মৃত্যু অষ্টম শ্রেণির ছাত্রের, শোকস্তব্ধ সোনারপুর নাবালিকাকে বিবাহের অভিযোগে জয়নগরে গ্রেপ্তার যুবক জয়নগরে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা, আহত তিন শ্রমিক নেতা মহম্মদ ওয়েস এর নেতৃত্বে বড়জোড়ায় বিরাট মিছিল কুলতলির বিধায়কের উপস্থিতিতে ঢালাই রাস্তার কাজের সূচনা হলো নলগোড়ায় ঘুটিয়ারীশরিফে পুলিশের তৎপরতায় ৫৪ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার গঙ্গাকে দূষণমুক্ত করতে উদ্যোগ সুন্দরবনে বাঘের হামলায় ফের মৃত্যু, সরকারি ক্ষতিপূরণের দাবি এসআইও নিয়ে মিথ্যা মন্তব্যের প্রতিবাদে কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলন জামাআতে ইসলামী হিন্দের ইফতার সামগ্রী বিতরণ বই হোক সই, বইয়ের জন্য করিমপুরে পথে হাঁটল শত শত মানুষ রমজান মাসে ৩০০ দুস্থ পরিবারের পাশে সমাজসেবী হাফেজ নজরুল ইসলাম অবশেষে ধুলিয়ান গঙ্গা স্টেশনে বাংলা স্থান পেল  মুর্শিদাবাদে দুই মেগা প্রকল্পের শিলান্যাস ২৮ ফেব্রুয়ারি ভাঙড়ে ২৮ টি তাজা বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, গ্রেপ্তার দুই জন্মদিনে অবহেলিত ভূদেব মুখোপাধ্যায়, তালাবন্ধ গ্রীলে মালা ঝুলিয়ে জন্মদিন পালন করল বিজেপি বালিভর্তি ট্রাক চলাচল ঘিরে উত্তেজনা, সোনামুখীতে গ্রামবাসীর রাতভর বিক্ষোভ বসিরহাটে দলবদল ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ, তৃণমূলের সভায় বহু নেতার যোগদান ভোটের আগে বিরোধী শিবিরে বড় ভাঙন কুলতলীতে কালিয়াচকের বাহাদুরপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড চুঁচুড়ায় সোমবার সাতসকালে পথ দুর্ঘটনা, জখম যুবকের অবস্থা আশঙ্কাজনক নিহত সেনা জওয়ানের মরদেহ পৌঁছাল শেখপাড়ার বাড়িতে ব্লক প্রাণিসম্পদ বিকাশ দিবস পালিত জয়নগরে অনলাইন বাণিজ্যের প্রসারে ক্ষুদ্র ব্যবসা চাপে: মত বড়জোড়া চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশে ফের পরিযায়ী শ্রমিকের উপর হামলা উত্তরলক্ষীপুরের গর্ব: প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ হতে চলেছেন ডা: মোবারাক হোসেন পুনরাবৃত্তি চায় ভারত, দক্ষিন আফ্রিকা চায় প্রত্যাবর্তন; সুপার এইটে আজ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই টানা দুই ম্যাচে জয় ইস্টবেঙ্গলের, দুই ম্যাচেই জোড়া গোল ইউসুফের বৃষ্টিতে ধুয়ে গেল পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ডের ম্যাচ আজ শুরু সুপার এইটের লড়াই, প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি পাক বনাম নিউজিল্যান্ড আজ ইস্টবেঙ্গলের সামনে স্পোর্টিং দিল্লি, ভরসার নাম ইউসুফ আজ্জেরি প্রত্যাশিত হার, ঘরের মাঠে মহামেডান বধ এফসি গোয়ার ১৫ বছরেও শেষ হয়নি বক্সীপুর ব্রিজ নির্মাণ কাজ, জনস্বার্থ মামলা গড়াল কলকাতা হাই কোর্টে করিমপুর এলাকাবাসীকে বহরমপুর যেতে আর পেরুতে হবেনা বিপদ সংকুল রাস্তা এসআইআর এর চাপ, শ্রীরামপুরে মাঝ গঙ্গায় ঝাঁপ বিএলও’র ছেলেধরা সন্দেহে পুড়িয়ে খুনের চেষ্টার ঘটনায় বলাগড়ে ২৫ জন দোষীকে সাজা শোনালো চুঁচুড়ার ফার্স্ট ট্রাক কোর্ট বেআইনি মাটির গাড়ির ধাক্কায় ২ যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে জি-প্লটের আদিবাসী শিশুরা  জল্পনার অবসান, তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন বাম যুব নেতা প্রতীক উর রহমান কনকচূড় ধানের চাল পেল জাতিসংঘের ঐতিহ্য স্বীকৃতি, খুশির হাওয়া জয়নগর জুড়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসন-এনজিওর যৌথ উদ্যোগে সচেতনতা শিবির ঘোড়ামারা দ্বীপ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপের নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের, গঠিত হচ্ছে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি শেষ সময় ঘনাতেই যুব সাথী প্রকল্পের ফর্ম জমায় দীর্ঘ হচ্ছে লাইন পখন্না রামকৃষ্ণ আশ্রমে শ্রীরামকৃষ্ণের ১৯১তম জন্মতিথি উদ্‌যাপন বড়জোড়া কলেজে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত সায়েম চৌধুরী ওরফে বাবু: সংগঠন, সংগ্রাম ও সেবার রাজনীতি সোনার প্রতিমার প্রলোভনে ১১ লক্ষ টাকার প্রতারণা ঘুঁটিয়ারীশরিফে পুলিশের সাফল্য: ২৪ চুরি যাওয়া মোবাইল উদ্ধার হুগলি জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের উদ্যোগে খাদ্য সুরক্ষা মেলা’য় সুষম খাদ্য খাওয়ার পরামর্শ  উলুবেড়িয়ায় ১৫ টিয়া উদ্ধার, আন্তরাজ্য পাখি পাচারচক্রের সদস্য গ্রেফতার সরকারি জমি দখল ও নয়নজুলি ভরাটের অভিযোগে চাঞ্চল্য ধূপগুড়িতে কাবিলপুর হাই স্কুলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠা দিবস ঘটা করে উদযাপন পবিত্র রমজান মাস শুরুর ঠিক আগে ইফতার সামগ্রী বিতরণ জয়নগরে ২০২৬ নির্বাচন ঘিরে ফারাক্কায় জোর চর্চায় রেহেনা ইয়াসমিন  পিতা-মাতার স্মৃতিতে আট দিনব্যাপী ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন পুলিশকর্মী ছেলের উদ্যোগে সুন্দরবনের মৎস্যজীবীদের মৃত্যু মিছিল থামছেই না, সরকারি ক্ষতিপূরনের দাবি মাটি, মানুষ ও সংগঠন: রাবিউল ইসলামের রাজনৈতিক দর্শন দুবে ঝড়ে উড়ে গেল নেদারল্যান্ডস, বোলিংয়ে নায়ক বরুণ হঠাতই ব্যাটিং বিপর্যয়, রঞ্জি থেকে বিদায় বাংলার ফারহানের দুরন্ত সেঞ্চুরি, সুপার এইটে পাকিস্তানও ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে আজ নামিবিয়ার মুখোমুখি পাকিস্তান সামির ৮ উইকেটেও, ব্যাটিং বিপর্যয়ে হারের মুখে বাংলা চুঁচুড়ায় প্রার্থী ঘোষণার আগেই দেওয়াল লিখনে জোর তৃণমূল, পাল্টা কটাক্ষ বিজেপির কুলতলিতে আয়ুষ মেলা: বিকল্প চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগ রানীনগরে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীসভা ও জাকির হোসেনের উপস্থিতিতে উপচে পড়া ভিড়  কৃষকদের সমস্যা সমাধানে চালু ‘ভারত বিস্তার’ এআই টুল গোবর্ধনডাঙ্গায় তৃণমূল ট্রেড ইউনিয়নের কর্মী সভা কাবিলপুরে মানব সেবা ফাউন্ডেশনের পথচলা শুরু মালদা জেলায় হাই মাদ্রাসা, আলিম ও ফাজিল পরীক্ষা নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন পা দিয়ে লিখেই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা মানকুন্ডুতে সারা বাংলা একদিনের দাবা প্রতিযোগিতা মেরা যুব ভারতের উদ্যোগে মগরাহাটে জেলা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অপসংস্কৃতির স্রোতের বিপরীতে নাট্যচর্চার বার্তা – বাগনানে তিনদিনের নাট্য উৎসবে নজর কাড়ল বাঙালপুর বয়েজ ক্লাব দ্বীপাঞ্চলবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ: আমতায় নির্মীয়মাণ কংক্রিটের সেতুতে বাড়ছে আশার আলো মানসম্মত শিক্ষা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে কলকাতায় স্কুল ম্যানেজমেন্ট কর্মশালা জীবনে কিছু জায়গা থেকে চুপচাপ সরে আসতে হয় ১৪ই ফেব্রুয়ারি: ভালবাসার দিন হিসেবে কেন পালিত হয়? সুদ, মাদক ও জুয়ার অদৃশ্য জোট: সমাজ ধ্বংসের নীরব চক্রান্ত আদ্রায় ‘বিনা পয়সার বাজারে’ উপচে পড়া ভিড়, হাসি ফিরল অসংখ্য মুখে মেডিকেল ভর্তিতে কাট অফ বিতর্কে তোলপাড় দেশ হবু ডাক্তারদের মান, মেধা ও রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন কেরালার আদালতে নতুন অধ্যায় রচিত দৃষ্টিহীন তরুণী বিচারক গড়লেন নজির

বিহারের ভূমিপুত্র ব্যারিস্টার ইউনূস পরাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১৫ নভেম্বর ২০২৫, সন্ধ্যা ৬:৫৮ | আপডেট: ১৫ নভেম্বর ২০২৫, সন্ধ্যা ৬:৫৮

মুদাসসির নিয়াজ

আরও পড়ুন:

স্বাধীনত্তোর ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু – এটা সবারই জানা। কিন্তু নেহরুর আগেও ভারতে ‘প্রধানমন্ত্রী’ পদ ছিল। সর্বপ্রথম সেই পদে আসীন ছিলেন বিহারের রাজধানী পাটনা শহরের বাসিন্দা ব্যারিস্টার মোহাম্মদ ইউনূস। যিনি স্বাধীনতার এক দশক আগে ১৯৩৭ সালের ১ এপ্রিল ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এবং এবং ১৯ জুলাই ১৯৩৭ পর্যন্ত এই পদে বহাল ছিলেন। আসলে স্বাধীনতা-পূর্ব ভারতে ইউনূস বিহারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তখন প্রাদেশিক সরকার প্রধানদের প্রধানমন্ত্রী বলা হত। প্রত্যেক প্রদেশে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হত। ১৯৩৭ সালেই এই প্রথা শুরু হয়েছিল।

আরও পড়ুন:

ইতিহাস রোমন্থন করলে জানা যায়, ১৯৩৫ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ভারত সরকার আইন প্রণয়ন করে। এই আইনের অধীনে ভারতের সকল প্রদেশে নির্বাচন হত এবং নির্বাচিত প্রাদেশিক সরকারের প্রধানকে বলা হত প্রধানমন্ত্রী। সেই সূত্রে বিহার প্রদেশের নির্বাচিত প্রধানই প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন, সেই অর্থে মোহাম্মদ ইউনূস ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী। ১৯০ দিনের মেয়াদে ইউনূস অসাধারণ কাজ করেছিলেন। কৃষকদের সমস্যা সমাধান এবং সাম্প্রদায়িক ঐক্য বজায় রাখার জন্য তিনি বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিলেন। অধুনা বিহার আইনসভা ভবন এবং পাটনা হাইকোর্টের মতো ঐতিহাসিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন ইউনূস। ব্রিটিশ শাসনে ভারতের প্রাদেশিক প্রধানদের মধ্যে মোহাম্মদ ইউনূসই প্রথম শপথ গ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন:

ঘটনাক্রমে ব্রিটিশ রাজত্বকালে, ১৯৩৭ সালে সব প্রদেশে নির্বাচন হয়। বিহার-সহ দেশের সব প্রদেশেই কংগ্রেস বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে জয়লাভ করে। তবে, কংগ্রেস প্রাদেশিক সরকার পরিচালনায় গভর্নরকে (ব্রিটিশ নাগরিক) মানতে প্রস্তুত ছিল না। এই মতবিরোধের কারণে, নির্বাচনে জয়লাভ করা সত্ত্বেও কংগ্রেস দল সরকার গঠন করতে অস্বীকার করে। ফলে বিহারে সরকার গঠনের সুযোগ পান মুসলিম ইন্ডিপেন্ডেন্ট পার্টির মোহাম্মদ ইউনূস।

আরও পড়ুন:

मोहम्मद यूनुस थे पहले 'प्रधानमंत्री'! - BBC News हिंदी

মোহাম্মদ ইউনূসের জন্ম ১৮৮৪ সালের ৪ মে পাটনার কাছে পাথারি ব্লকের পানহারা গ্রামে। তার বাবা মৌলবী আলী হাসান মুক্তার ছিলেন একজন নামজাদা আইনজীবী। ছেলে মোহাম্মদ ইউনূস ছিলেন ব্যারিস্টার। রাজনীতিতে ইউনূসের হাতেখড়ি কংগ্রেসেই। পরে তিনি দল ত্যাগ করেন এবং ১৯৩৭ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনের আগে নিজের দল গঠন করেন। ১৯৫২ সালের ১৩ মে লন্ডনে তাঁর ইন্তেকাল হয়। দেশ স্বাধীন হবার পর ‘কিষাণ মজদুর প্রজা পার্টি’ গঠনে ইউনূস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

আরও পড়ুন:

তাঁর প্রপৌত্র তথা ব্যারিস্টার মোহাম্মদ ইউনূস স্মৃতি রক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান কাশিফ ইউনূস বলেন, জওহরলাল নেহেরু স্বাধীনত্তোর ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু স্বাধীনতার আগেও দেশে অনেক প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। কাশিফ ইউনুস অনেক কসরত করে স্বাধীনতা-পূর্ব রেকর্ডে তার দাদুর নাম খুঁজে পান। কিন্তু পরে ষড়যন্ত্র করে সরকারি আর্কাইভ থেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইউনূসের নাম মুছে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। যদিও কাশিফের উদ্যোগে ২০১৩ থেকে ইউনূসের জন্মবার্ষিকী বিহারের সরকারি পর্যায়ে পালিত হচ্ছে। ২০১২ সালে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেন।

আরও পড়ুন:

তবে, আজও মরহুম জননেতা ইউনূসের নাম বিহার আইনসভার ওয়েবসাইটের মতো অনেক গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় রাখা হয়নি। ওয়েবসাইটে বিহারের প্রধানমন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রীদের তালিকা মোহাম্মদ ইউনূস দিয়ে শুরু হয়নি। সর্বত্র প্রথমে রয়েছে শ্রীকৃষ্ণ সিং-এর নাম। কংগ্রেস নেতা শ্রীকৃষ্ণ সিংহ ইউনূসের পর ২০ জুলাই, ১৯৩৭ সালে বিহারের প্রধানমন্ত্রী হন। তিনি ৩১ অক্টোবর, ১৯৩৯ পর্যন্ত এই পদে ছিলেন। আবার স্বাধীনতার আগে ১৯৪৬ সালের ২৩ মার্চ শ্রীকৃষ্ণ সিং শপথ নেন। স্বাধীনতার পর যখন ভারত নিজস্ব সংবিধান তৈরি করে, ১৯৫০ সালে প্রথমবারের মতো নির্বাচন হয়। তখন প্রদেশগুলিতে গঠিত সরকার প্রধানকে মুখ্যমন্ত্রীর পদ দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন:

১৯৫০ সালের নির্বাচনেও কংগ্রেস জয়লাভ করে এবং বাবু শ্রীকৃষ্ণ সিং আজাদ স্বাধীন ভারতে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হন। রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবী হওয়ার পাশাপাশি ইউনূস একজন সফল উদ্যোক্তা, ব্যাংকার এবং প্রকাশকও ছিলেন। পাটনায় তিনি যে গ্র্যান্ড হোটেল তৈরি করেছিলেন, তা ছিল তৎকালীন বিহারের প্রথম আধুনিক মানের হোটেল। মোহাম্মদ ইউনূস সেই হোটেলের একটি রুমে থাকতেন। সেই সময় এই হোটেল একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কেন্দ্র ছিল। তাঁর নাতি কাশিফ ইউনূস জানান, ওই হোটেলে মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহেরু, মতিলাল নেহরু, মাওলানা আজাদ এবং সুভাষ চন্দ্র বসুর মতো দেশনেতারাও ছিলেন।

আরও পড়ুন:

ব্যারিস্টার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করার পর, তিনি সাংবাদিকতার সাথেও যুক্ত হন। শম্ভুনাথ ঝা সম্পাদিত ইংরেজি দৈনিক ‘পাটনা টাইমস’-এ সিনিয়র এডিটর ছিলেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ ইউনূস। তিনি ১৯৩৭ সালে ‘মুসলিম ইন্ডিপেন্ডেন্ট পার্টি’র (এমআইপি) প্রতীকে নির্বাচিত হন, যা বিহারের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। সৈয়দ আব্দুল আজিজের নেতৃত্বে ১৯৩৬ সালের ডিসেম্বরে প্রতিষ্ঠিত ‘মুসলিম ইউনাইটেড পার্টি’ (এমইউপি), যা পরবর্তীতে ‘মুসলিম লীগ’-এর সাথে মিশে যায়। সেবার কংগ্রেস ও এমআইপি জোটের ২০ জন প্রার্থী জয়ী হন, আরও ৬ জন নির্দল ওই জোটে যোগ দেয়। এমআইপি ৪০টা আসনে লড়াই করে ১৫টায় এবং কংগ্রেসের ৩ জন মুসলিম এবং ২জন হিন্দু প্রার্থী জয়ী হন।

আরও পড়ুন:

কিন্তু জোট করে ভোটে লড়লেও কংগ্রেস এবং এমআইপি যৌথভাবে বিহারে সরকার গঠন করেনি। কংগ্রেস সরকার গড়তে এমআইপি-কে সমর্থন দেয়নি। ফলে সংখ্যালঘু সরকার হওয়ায় বিহারে রাজনৈতিক অচলাবস্থা দেখা দেয়। তাই প্রধানমন্ত্রী পদে ইউনূস বেশিদিন থাকতে পারেননি। তিনি মসনদে ছিলেন মাত্র ১১০ দিন। কংগ্রেস এভাবে বিশ্বাসঘাতকতা করায় মুসলিমদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়। কংগ্রেসীরাও মুসলিমদের প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করতে থাকে।

আরও পড়ুন:

মুসলিম ইন্ডিপেন্ডেন্ট পার্টি (এমআইপি) ছিল একটি রাজনৈতিক দল, যা ১৯৩৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর জামিয়াতুল উলেমা-ই-হিন্দের মাওলানা আবুল মোহাসিন মোহাম্মদ সাজ্জাদের (ইন্তেকাল ১৯৪০) নেতৃত্বে ইমারত-ই-শরীয়াহ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়। ইমারত-ই-শরীয়াহ ছিল মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মুসলিম দরদি রাজনৈতিক এজেন্ডা।

আরও পড়ুন:

যাহোক, সম্প্রীতির কারিগর মোহাম্মদ ইউনূস সব জাতি ও ধর্ম, বর্ণের মানুষকে তাঁর সরকারে গুরুত্বপূর্ণ পদ দিয়েছিলেন। আইন শৃঙ্খলা, বিচার বিভাগ, কারা, শিক্ষা এবং নিবন্ধন বিভাগ নিজের কাছে রেখেছিলেন। বাবু গুরু সহায় লালকে গ্রামোন্নয়ন; কুমার অজিত প্রসাদ সিং দেবকে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন এবং আব্দুল ওহাব খানকে রাজস্ব বিভাগ দেওয়া দিয়েছিলেন। তাঁর সরকার কৃষি সংক্রান্ত সমস্যাগুলিকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সমাধান করতে সক্ষম হয়েছিল।

আরও পড়ুন:

সেই সময় হিন্দি-উর্দু এবং হিন্দু-মুসলিম সমস্যা খুব স্পর্শকাতর বিষয় ছিল। ইউনূস ছিলেন এমন এক জননেতা, যিনি কখনও কারো ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করেননি। তবুও শুধুমাত্র হীন রাজনৈতিক কারণে ১৯৩৭ সালের ৩১ মার্চ কংগ্রেসীরা ইউনূসের বাড়ির সামনে বিশাল ধর্না কর্মসূচি পালন করে; যা হিংসাত্মক রূপ নেয় এবং ইউনূসের বাড়িতে পাথর ছোড়া হয়। ফলে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। পরদিন ১ এপ্রিল শপথ গ্রহণ করেই প্রধানমন্ত্রী ইউনূস সকলকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে নির্দেশ দেন।

আরও পড়ুন:

প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে কারাবন্দী স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অবস্থা দেখতে ঘন ঘন জেল পরিদর্শন করতেন এবং বন্দীদের সাথে ঘন্টার পর ঘন্টা আলাপচারিতা করতেন ইউনূস। ১৯৩৭ সালের ২২ এপ্রিল আওরঙ্গবাদে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা দেখা দিলে তিনি তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে ছুটে যান, উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আলোচনা করেন। পুলিশ প্রশাসনের সাহায্য না নিয়েই তিনি শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের জন্য উভয় পক্ষকে রাজি করান। সংঘর্ষের আশঙ্কায় তিনি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ঠাকুর বিসর্জনে সহায়তা করেন। এরপর আওরঙ্গবাদের হিন্দু-মুসলিমরা যৌথভাবে একটি ভোজসভার আয়োজন করেছিল, যেখানে ইউনূস প্রধান অতিথি হিসেবে উপসস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:

Barrister Muhammad Yunus - First Prime Minister of Bihar - YouTube

১৯৩৭ সালের শেষদিকে তিনি জেলা কালেক্টর, কমিশনার এবং রাজস্ব বোর্ডের সদস্যদের সাথে মুঙ্গের জেলায় জরিপ করেন এবং ওই অঞ্চলের কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে মাস্টার প্ল্যান তৈরি করেন। পাশাপাশি কৃষকদের স্বার্থে খাজনা (রায়তি) অনেকটা কমিয়ে দেন। ৪-৫ বছর আগের বকেয়া খাজনা মুকুব করে দেন এবং পরবর্তী তিন বছরের জন্য ৫০ শতাংশ খাজনা মুকুবের আগাম ঘোষণা দেন ইউনূস।

আরও পড়ুন:

১৯০৮ সালে কংগ্রেসের লাহোর অধিবেশনে অংশগ্রহণ করেন ইউনূস। বহু বছর ধরে তিনি বিহার কংগ্রেস ছাত্র সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯১৬ সালে ইম্পেরিয়াল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলে প্রতিনিধিত্ব করেন এবং ১৯২১-৩২ সাল পর্যন্ত তিনি বিহার লেজিসলেটিভ কাউন্সিল বা বিধান পরিষদের সদস্য বা বিধায়ক ছিলেন।

আরও পড়ুন:

তিরহুত বিভাগের চিনিকল মালিকদের সাথে বৈঠক করে তাদেরকে সমস্ত উৎপাদিত আখ মিলে পৌঁছানোর জন্য রাজি করান এবং এজন্য তিনি রেল ভাড়া ৬০শতাংশ কমিয়ে দেন, যাতে মিলগুলোর জন্য পার্শ্ববর্তী প্রদেশ থেকে আখ আমদানি সহজ হয়। এসব কৃষি ও কৃষক-বান্ধব কর্মসূচি ও পদক্ষেপের জন্য তিনি আমআদমির চোখের মণি হয়ে ওঠেন।

আরও পড়ুন:

ব্যারিস্টার এবং প্রধানমন্ত্রী হয়েও মোহাম্মদ ইউনূস সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত সহজলভ্য ও জনপ্রিয় ছিলেন। গ্রামের মানুষের সমস্যা ও দুর্দশার চালচিত্র বুঝতে তিনি নিজে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করতেন, কৃষকদের সমস্যা সরাসরি শুনতেন; তিনি আখ উৎপাদন এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ মনোযোগ দিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder