কাশ্মীরে সাংবাদিকদের পুলিশি তলব ও হলফনামায় বাধ্য করার অভিযোগ
নতুন পয়গাম, শ্রীনগর: জম্মু-কাশ্মীরে সাংবাদিকদের পুলিশি তলব এবং জোরপূর্বক হলফনামায় স্বাক্ষর করানোকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এই পদক্ষেপকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর ‘নগ্ন হস্তক্ষেপ’ ও ‘ভীতি প্রদর্শন’ বলে আখ্যা দিয়েছে ‘এডিটরস গিল্ড অফ ইন্ডিয়া’। বুধবার এক বিবৃতিতে গিল্ড জানায়, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং চাপের মুখে বন্ড বা হলফনামা লিখিয়ে নেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।
সম্প্রতি শ্রীনগরের সাইবার থানায় একাধিক জাতীয় সংবাদপত্রের সাংবাদিকদের তলব করা হয়। হিন্দুস্তান টাইমস-এর প্রতিবেদক আশিক হোসেনকে মৌখিকভাবে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যদিও কারণ স্পষ্ট করা হয়নি। অন্যদিকে, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর অ্যাসিস্ট্যান্ট এডিটর বশারত মাসুদ’কে টানা চার দিন থানায় আটকে রেখে ‘শান্তি বিঘ্নিত না করার’ মর্মে আনুগত্য বন্ডে সই করার জন্য চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। যদিও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
গিল্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ সংবাদমাধ্যম। কিন্তু কাশ্মীরে যেভাবে সাংবাদিকদের ওপর প্রশাসনিক চাপ তৈরি করা হচ্ছে, তা মুক্ত সাংবাদিকতার পরিপন্থী। শুধু বর্তমান ঘটনাই নয়, এর আগে গত নভেম্বরে কাশ্মীর টাইমস-এর জম্মু অফিসেও তল্লাশি চালিয়েছিল রাজ্য তদন্তকারী সংস্থা।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স-এ ১৮০টি দেশের মধ্যে ভারতের স্থান ১৫১তম। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও সংবাদমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলোই এই অবনমনের কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। উপত্যকার সাংবাদিক সংগঠনগুলোও এই দমনমূলক আচরণের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। তারা অবিলম্বে স্বচ্ছতা বজায় রেখে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের দাবি জানিয়েছে।








