ভুয়া এসটি সার্টিফিকেট রুখতে ১০ দফা দাবিতে আদিবাসী অধিকার মঞ্চের ডেপুটেশন
নতুন পয়গাম, খান সাহিল মাজহার, সিউড়ি: পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী অধিকার মঞ্চের পক্ষ থেকে শুক্রবার ১০ দফা দাবিকে সামনে রেখে সিউড়ি জেলা শাসকের কাছে ডেপুটেশন জমা দেওয়া হয়। সংগঠনের ডাকে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা আদিবাসী মানুষজন এদিন সিউড়িতে জমায়েত হন। শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করে জেলা শাসকের দপ্তরে পৌঁছে নিজেদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের সদস্যরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনের তরফে পর্যাপ্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। ডেপুটেশনে অন্যতম প্রধান দাবি হিসেবে ডেউচা–পাঁচামি এলাকায় কয়লাখনি প্রকল্পের তীব্র বিরোধিতা করা হয়। সংগঠনের দাবি, কয়লাখনি প্রকল্পের নামে আদি আদিবাসীদের জল-জঙ্গল-জমি থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে, যা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। অবিলম্বে ডেউচা–পাঁচামিতে কয়লাখনির সমস্ত কাজ বন্ধ করতে হবে এবং আদিবাসীদের উচ্ছেদ করে সেখানে কোনও প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
এছাড়াও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ভুয়া এসটি সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে, যা প্রকৃত আদিবাসীদের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। এই ধরনের ভুয়া শংসাপত্র অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং এসটি সার্টিফিকেট শুধুমাত্র প্রকৃত আদিবাসীদের জন্যই উপলব্ধ রাখতে হবে। পাশাপাশি চাকরির ক্ষেত্রে ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ তুলে তা অবিলম্বে বন্ধ করার দাবিও জানানো হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, গোটা রাজ্য জুড়ে আদিবাসী ছাত্রছাত্রীদের জন্য থাকা হোস্টেলগুলি একের পর এক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দরিদ্র আদিবাসী পরিবারের পড়ুয়ারা চরম সমস্যার মুখে পড়েছে। অবিলম্বে সমস্ত আদিবাসী হোস্টেল চালু করার জোরালো দাবি জানানো হয়।
আদিবাসী শিল্পীদের প্রসঙ্গ তুলে বলা হয়, বহু আদিবাসী শিল্পী আজও শিল্পী কার্ড ও শিল্পী ভাতা থেকে বঞ্চিত। সরকারকে দ্রুত এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়ে শিল্পী কার্ড প্রদান এবং নিয়মিত শিল্পী ভাতা চালু করার দাবি তোলা হয়। এদিনের ডেপুটেশনে বীরভূম জেলার রামপুরহাটে আদিবাসী নাবালিকা হত্যাকাণ্ডের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। ওই ঘটনায় অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হিসেবে ফাঁসির দাবি জানিয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়। আদিবাসী অধিকার মঞ্চের নেতৃবৃন্দ জানান, তাঁদের এই আন্দোলন সম্পূর্ণভাবে আদিবাসী সমাজের অধিকার, অস্তিত্ব ও সম্মান রক্ষার লড়াই। দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা।








