‘কুরআন ও বিজ্ঞান’ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন দিল্লিতে
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি: নয়াদিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কুরআন ও বিজ্ঞান’ বিষয়ক তিন দিনব্যাপী এক আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু হয়েছে। জামিয়া মিলিয়া, দিল্লির বেলায়েত ফাউন্ডেশন এবং ইরানের শহীদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের প্রখ্যাত গবেষক ও পণ্ডিতরা অংশ নিয়েছেন।
শুক্রবার পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। উদ্বোধনী অধিবেশনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক শহীদ এবং অতিথিদের পরিচয় করিয়ে দেন অধ্যাপক জুনাইদ হারিস। মাওলানা আজাদ ন্যাশনাল উর্দু ইউনিভার্সিটির প্রাক্তন উপাচার্য ড. আসলাম পারভেজ তার বক্তব্যে বলেন, ধর্ম কেবল আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কুরআন বারবার মানুষকে বুদ্ধি ও বিবেক ব্যবহারের নির্দেশ দেয়। যারা বিবেক-বুদ্ধি ব্যবহার করে না, তারা পশুর চেয়ে অধম।
কুয়েত থেকে আসা ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা আব্বাস বর্তমান প্রযুক্তিগত যুগে কুরআনের প্রাসঙ্গিকতা বিষয়ে বলেন, আমরা ট্রাফিক আইন যতটা গুরুত্ব দিয়ে মানি, কুরআনের বিধান ততটা মানি কিনা, তা ভাববার সময় এসেছে। ইরানের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট শহীদ ইব্রাহিম রাইসির স্ত্রী অধ্যাপক জামিলেহ আলমোলহোদা তার বক্তব্যে বিশ্বজুড়ে কুরআন অবমাননার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং একে অজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ বলে অভিহিত করেন। তিনি বিশেষ করে জেন-জি প্রজন্মের নৈতিক অবক্ষয় রোধে কুরআনি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
প্রখ্যাত স্কলার অধ্যাপক আখতারুল ওয়াসি এবং জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার উপাচার্য অধ্যাপক মাজহার আসিফ তাদের বক্তব্যে বিজ্ঞান ও ধর্মের সমন্বয়ের ওপর জোর দেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা কুরআন পড়ি কিন্তু বুঝি না, আর বুঝলেও তা জীবনে প্রয়োগ করি না।” অনুষ্ঠানে একটি তথ্যসমৃদ্ধ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। সম্মেলনে ইরান, সুইডেন-সহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেছেন, যেখানে আগামী তিন দিন বিভিন্ন কারিগরি অধিবেশনে বিজ্ঞান, নীতিশাস্ত্র এবং বিশ্বজনীন দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা হবে।








