এবার কোপ আরটিআই আইনে মানুষ সব তথ্য জানলে কাজে অসুবিধা হচ্ছে
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি: সরকারি কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে মনমোহন সিংয়ের ইউপিএ সরকারের আমলে তৈরি তথ্যের অধিকার আইন (আরটিআই) এবার বড়সড় পরিবর্তনের মুখে। বৃহস্পতিবার লোকসভায় পেশ করা ২০২৬ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষায় স্পষ্ট ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, প্রশাসনের কাজে গতি বাড়াতে এবং আধিকারিকদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়াকে চাপমুক্ত রাখতে এই আইনের পরিধি সঙ্কুচিত করা হতে পারে।
অর্থনৈতিক সমীক্ষা রিপোর্টে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত স্বচ্ছতা অনেক সময় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে বাধা সৃষ্টি করছে। বর্তমানে সরকারি কোনো প্রকল্পের খসড়া প্রস্তাব বা অভ্যন্তরীণ আলোচনার তথ্যও আরটিআই-এর মাধ্যমে প্রকাশ্যে চলে আসছে। ফলে সরকারি আধিকারিকরা কোনো বিষয়ে খোলামেলা মতামত দিতে ভয় পাচ্ছেন, যা প্রকারান্তরে কাজের গতি কমিয়ে দিচ্ছে। সংশোধনী প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার আগে সেই সংক্রান্ত প্রাথমিক খসড়া বা আলোচনার নথি গোপন রাখা প্রয়োজন। সাধারণ মানুষ কেবল চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটুকুই আরটিআই-এর মাধ্যমে জানতে পারবেন।
এ ছাড়াও, সরকারি আধিকারিকদের ব্যক্তিগত তথ্য, তাঁদের চাকরির রেকর্ড এবং বদলি সংক্রান্ত ইতিহাসকেও আরটিআই-এর আওতার বাইরে রাখার কথা ভাবছে কেন্দ্র। সমীক্ষা রিপোর্ট অনুযায়ী, আরটিআই-এর মূল লক্ষ্য ছিল নাগরিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, কিন্তু বর্তমানে একে অনেকের ‘অহেতুক কৌতূহল’ নিরসন বা সরকারি কাজকে প্রভাবিত করার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
স্বাভাবিকভাবেই কেন্দ্রের এই ইঙ্গিতের তীব্র বিরোধিতা করেছে বিরোধী দলগুলো। তাদের দাবি, আরটিআই আইন লঘু করে আসলে দুর্নীতির পথ প্রশস্ত করা হচ্ছে এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে আপস করা হচ্ছে। তথ্য জানার অধিকার সঙ্কুচিত হলে সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক ক্ষমতা খর্ব হবে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।








