মালদা শহরে কংগ্রেসের শক্তি প্রদর্শন
গোলাম আহম্মেদ চিশতী, মালদা, ২৯ জানুয়ারি: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়াতে বৃহস্পতিবার মালদা শহরের রাস্তায় নামলেন ভাই-বোন, কংগ্রেস নেতা ইশা খান চৌধুরী ও প্রাক্তন সাংসদ মৌসম বেনজির নুর। মিছিল ও সভার মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন পর শহরের রাজনীতিতে তাঁদের সক্রিয় ভূমিকায় কার্যত চমকে গিয়েছেন সাধারণ মানুষ। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী এদিন দুপুরে মালদা শহরের বৃন্দাবনি ময়দান সংলগ্ন গান্ধি মূর্তির পাদদেশে কংগ্রেসের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা কংগ্রেস সভাপতি ইশা খান চৌধুরী ও মৌসম নুর। সভা শেষে কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা একটি বিশাল মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসনিক ভবনের উদ্দেশে রওনা দেন। মিছিলে কয়েক হাজার মানুষের অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।
মিছিল শহরের একাংশ পরিক্রমা করে জেলা প্রশাসনিক ভবন চত্বরে প্রবেশের চেষ্টা করলে বাধার মুখে পড়ে। আগে থেকেই প্রশাসনিক ভবনের গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ক্ষুব্ধ কংগ্রেস কর্মীরা গেট ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই সময় দ্রুত এগিয়ে এসে কর্মীদের সংযত করেন ইশা খান চৌধুরী। কিছুক্ষণ বিক্ষোভ চলার পর অবশেষে জেলা কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দল জেলাশাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দেয়।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইশা খান চৌধুরী বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, “কেউ মানুক বা না মানুক, বিজেপি আর তৃণমূলের মধ্যে স্পষ্ট সেটিং রয়েছে। নির্বাচনের সময় নাটক হয়, আর ভোটের পর সব চুপচাপ হয়ে যায়। সারদা কাণ্ডে গরিব মানুষের হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হয়ে গেল। তখন বিজেপি বড় বড় কথা বলেছিল, কিন্তু আজ সব তদন্ত থেমে গিয়েছে। ২০২১ সালে এনআরসি নিয়েও একই খেলা হয়েছে। মানুষকে ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ করে ভোট করানো হয়েছে। কিন্তু এভাবে আর কতদিন চলবে?” এদিন সভায় তৃণমূল কংগ্রেস ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন মৌসম নুরও। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, বেঁচে থাকতে বাংলায় এসআইআর হতে দেবেন না। অথচ আজ রাজ্য সরকারের প্রশাসনই এসআইআর চালাচ্ছে। কেন এই অবস্থান পরিবর্তন? এর জবাব মুখ্যমন্ত্রীকেই দিতে হবে। এসআইআরের কারণে বহু গরিব মানুষ কাজ করতে পারছে না। সকাল থেকে সন্ধে পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এটা শুধু কোনও দলের নয়, সাধারণ মানুষের লড়াই।”
সমগ্র কর্মসূচিকে ঘিরে মালদা শহরে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে কংগ্রেস যে ফের রাজপথে সক্রিয় হতে চাইছে, এদিনের কর্মসূচি তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিল বলে রাজনৈতিক মহলের মত।








