জগদীশ বসু ন্যাশনাল সায়েন্স ট্যালেন্ট সার্চে সাফল্য
নতুন পয়গাম, বসিরহাট: বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এক উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে বসিরহাটের নাম উজ্জ্বল করলেন এলাকার কৃতী কন্যা সুচেতনা রায়। সম্প্রতি তিনি রাজ্যের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বিজ্ঞানভিত্তিক মেধা বৃত্তি জগদীশ বসু ন্যাশনাল সায়েন্স ট্যালেন্ট সার্চ (JBNSTS)–এর অধীনে সিনিয়র বিজ্ঞানী কানপা মেধা বৃত্তি–২০২৫ অর্জন করেছেন। এই সাফল্য শুধু সুচেতনার ব্যক্তিগত কৃতিত্বই নয়, একই সঙ্গে গোটা বসিরহাটবাসীর কাছেই গর্বের বিষয়। বর্তমানে সুচেতনা রায় কলকাতার ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (IISER), কলকাতা–তে BS–MS কোর্সে অধ্যয়নরত। রাজ্যের মেধাবী ও প্রতিভাবান ছাত্রছাত্রীদের মধ্য থেকে কঠোর ও বহুপদক্ষেপ নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই বৃত্তির জন্য যোগ্য প্রার্থীদের বেছে নেওয়া হয়। লিখিত পরীক্ষা, মেধা মূল্যায়ন ও একাধিক পর্যায়ের বাছাই প্রক্রিয়া অতিক্রম করে এই সম্মান অর্জন করা অত্যন্ত কঠিন। সেই কঠিন পথ অতিক্রম করে সুচেতনার এই সাফল্য তাঁর অধ্যবসায়, একাগ্রতা এবং বিজ্ঞানের প্রতি গভীর অনুরাগেরই প্রমাণ।
জানা গিয়েছে, ছোটবেলা থেকেই সুচেতনা রায় পড়াশোনায় মনোযোগী ও অনুসন্ধিৎসু ছিলেন। বিজ্ঞানের নানা বিষয় সম্পর্কে জানার আগ্রহই ধীরে ধীরে তাঁকে গবেষণার জগতে এগিয়ে নিয়ে যায়। পরিবারের সার্বিক সহযোগিতা, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দিকনির্দেশনা এবং নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরেই আজ তিনি এই সাফল্যের শিখরে পৌঁছাতে পেরেছেন বলে মত শিক্ষাবিদদের। এই মেধা বৃত্তির মাধ্যমে আগামী দিনে বিজ্ঞান গবেষণার ক্ষেত্রে আরও গভীরভাবে কাজ করার সুযোগ পাবেন সুচেতনা। গবেষণার জন্য আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি এই সম্মান তাঁর উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ভবিষ্যৎ পথকে আরও সুগম করবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। তাঁদের মতে, ভবিষ্যতে রাজ্য তথা দেশের বিজ্ঞানচর্চায় সুচেতনা রায়ের অবদান উল্লেখযোগ্য হয়ে উঠতে পারে। সুচেতনার এই সাফল্যের খবরে বসিরহাট জুড়ে আনন্দ ও গর্বের আবহ তৈরি হয়েছে। পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন, শিক্ষক-শিক্ষিকা, সহপাঠী ও এলাকাবাসী সকলেই তাঁকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনে ভরিয়ে দিয়েছেন। অনেকেরই মত, বসিরহাটের এই মেয়ের সাফল্য আগামী প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীদের বিজ্ঞানচর্চার প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলবে। বসিরহাটের কন্যা সুচেতনা রায়ের এই কৃতিত্ব প্রমাণ করে, দৃঢ় সংকল্প ও অধ্যবসায় থাকলে মফস্বল এলাকা থেকেও জাতীয় স্তরে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব। তাঁর এই সাফল্য নিঃসন্দেহে আগামী দিনের তরুণ প্রজন্মের কাছে এক বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।








