কাজে এল না দুবের দুরন্ত ইনিংস, চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে হার ভারতের
নতুন পয়গাম, এম.রহমান, বিশাখাপত্তনম:
নিউজিল্যান্ড-২১৫-৭(২০)
ভারত-১৬৫-১০(১৮.৪)
নিউজিল্যান্ড জয়ী ৫০ রানে।
একটা পরিবর্তন। আর তাতেই ঘেঁটে ঘ টিম ইন্ডিয়া। ঈশান কিষানের জায়গায় দলে এসেছিলেন অর্শদীপ সিং।ফলে ব্যাটিংয়ে গভীরতা কমে এবং ফলস্বরূপ বিশাখাপত্তনমে বেশ বড় পরাজয়।
প্রশ্ন উঠবে-দলে একাধিক অলরাউন্ডার থাকলেও,কেন একজন প্রোপার ব্যাটারের জায়গায় একজন বোলার?কেন ঈশানের পরিবর্তে শ্রেয়স আয়ার নয়?আসলে বিখাশাপত্তনমে কোচ গৌতম গম্ভীরের ভুল দল নির্বাচনের খেসারত দিতে হল ভারতকে। সেই সঙ্গে হাতছাড়া হল নিউজিল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করার সুযোগও। বুধবার সিরিজের চতুর্থ টি-২০ ম্যাচে ৫০ রানে হারল টিম ইন্ডিয়া। সিরিজে ব্যবধান কমাল কিউয়িরা (১-৩)। শনিবার তিরুঅনন্তপুরমে শেষ ম্যাচ। এদিন টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে মিচেল স্যান্টনারের দল ৭ উইকেটে তোলে ২১৫। জবাবে ভারত গুটিয়ে যায় ১৬৫ রানে। বিফলে গেল শিবম দুবের মরিয়া লড়াই। তিনটি চার ও সাতটি ছক্কা সহ ২৩ বলে ৬৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেও হার এড়াতে পারলেন না তিনি। একজন কম ব্যাটার নিয়ে খেলার জন্যই ভুগতে হল ভারতকে। গম্ভীর হয়তো যুক্তি দেবেন, শ্রেয়স টি-২০ বিশ্বকাপে নেই। তাই তাঁকে খেলানো হয়নি। কিন্তু একজন ব্যাটারের পরিবর্তে স্পেশালিস্ট বোলার খেলানোর সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক। আর বাড়তি বোলার খেলিয়েও যদি বিপক্ষ দল দুশোর বেশি রান তোলে, তাহলে বোলিংয়েও যথেষ্ট সমস্যা রয়েছে। এদিন হর্ষিত রানা তো ১৩.৫ গড়ে রান বিলিয়েছেন। সবচেয়ে কম ইকনমি রেট অর্শদীপের (৮.২৫)। হার্দিক পান্ডিয়াকে দিয়ে তো বলই করানো হল না। টি-২০ বিশ্বকাপের আগে এই সমস্যা না শোধরালে খেতাব ধরে রাখা কঠিন হবে। কারণ, ব্যাটাররা যতই ভালো খেলুক, বোলাররাই কিন্তু টুর্নামেন্ট জেতায়।
বুধবার অবশ্য ব্যাটিং দুর্বলতাও প্রকট। প্রথম তিন ম্যাচে চূড়ান্ত ব্যর্থ হওয়া সঞ্জু স্যামসন এদিন ছিলেন আঁতসকাচের তলায়। তবে চতুর্থ ম্যাচেও বড় রান পেলেন না তিনি। করলেন মাত্র ২৪। আসলে মাত্র ৯ রানে দু’উইকেট খুইয়ে চাপে পড়ে যায় ভারত। ওপেনার অভিষেক শর্মা (০) গোল্ডেন ডাকে ফিরতে সেই ধাক্কা সামলানো যায়নি। তিনে নামা সূর্যের ব্যাটে ৮ রানের বেশি আসেনি। সঞ্জুর জন্য নায়ক হওয়ার প্রমাণের মঞ্চ সাজানোই ছিল। কিন্তু শুরুটা ভালো করেও বেশিক্ষণ থাকেননি তিনি। স্যান্টনার বোল্ড করেন তাঁকে। চারে নামা রিঙ্কু সিং ৩০ বলে করেন ৩৯। শুধু ফিনিশারের রোলেই না, তিনি যে মিডল অর্ডারেও সাবলীল তা দেখিয়ে দিলেন। হার্দিক পান্ডিয়া (২) চূড়ান্ত ব্যর্থ। এই পর্বে ভারতের স্কোর ছিল ৮৩-৫। কিন্তু চাপের মুখে অনবদ্য ইনিংস খেললেন শিবম দুবে। ঝড় তুলে ১৫ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করে ভারতের জয়ের আশা জিইয়ে রেখেছিলেন তিনি। কিন্তু দুবে রান আউট হয়ে ফিরতেই দেওয়াললিখন স্পষ্ট হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ১৮.৪ ওভারে গুটিয়ে যায় ভারতের ইনিংস।তার আগে শুরুটা দুর্দান্ত হয়েছিল কিউয়িদের। পাওয়ার প্লে’র ৬ ওভারেই ওঠে ৭১। সৌজন্যে টিম সেফার্টের ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিং। তাছাড়া স্কোরবোর্ডে পাহাড়প্রমাণ স্কোর না তুললে এই টিম ইন্ডিয়াকে হারানোও যে কঠিন। প্রথম তিন ম্যাচেই তার প্রমাণ হাতেনাতে পেয়েছে স্যান্টনার-ব্রিগেড। তাদের ওপেনিং জুটিতেই ওঠে ১০০ রান। শেষ পর্যন্ত ডেভন কনওয়েকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন কুলদীপ যাদব। তবে সেফার্ট ২৫ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন। প্রথম উইকেট খোয়ানোর পর কিছুটা গতি হারায় কিউয়িরা। তিনে নামা রাচীন রবীন্দ্র (২) চূড়ান্ত ব্যর্থ। এরপর ভয়ঙ্কর সেফার্টকেও (৬২) ডাগ-আউটের পথ দেখান অর্শদীপ। তবে শেষদিকে দায়িত্ব নিয়ে কিউয়িদের দুশোর ওপারে পৌঁছে দেন ড্যারিল মিচেল (অপরাজিত ৩৯)। ভারতের হয়ে অর্শদীপ সিং ও কুলদীপ যাদব ২টি করে উইকেট নিয়েছেন। তবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে এই হার ভারতের জন্য একপ্রকার ওয়েকআপ কল।








