অতিরিক্ত রাত জাগার ক্ষতি অপূরণীয়
নতুন পয়গাম: কাজের চাপ, পড়াশোনা কিংবা ব্যক্তিগত অভ্যাসের কারণে অনেকেই রাত জেগে থাকেন। মাঝে মধ্যে রাত জাগা তেমন ক্ষতিকর না হলেও নিয়মিতভাবে রাত জাগা শরীর ও মনের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়, দেহ-ঘড়ি বিঘ্নিত হয়। বাড়ে নানা জটিল রোগের ঝুঁকি; এমনকি কমে যেতে পারে আয়ুও।
উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি:
টানা কয়েক দিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের জৈব ঘড়ি বা বায়োলজিক্যাল ক্লক বিঘ্নিত হয়। এর ফলে রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। দীর্ঘদিন উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে হার্ট, কিডনি ও মস্তিষ্কের মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
হৃদ্যন্ত্রের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া:
ঘুমের সঙ্গে হৃদ্যন্ত্রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। নিয়মিত কম ঘুমালে হার্টের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এতে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে, দেখা দিতে পারে অনিয়মিত হার্টবিট, হার্টরেট বৃদ্ধি, এমনকি হার্ট ফেলিওর।
ত্বকের সৌন্দর্য নষ্ট হওয়া:
নিয়মিত রাত জাগার ফলে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে স্ট্রেস হরমোন বাড়ে, যা ত্বকের কোলাজেন ভেঙে দেয়। ফলে অল্প বয়সেই ত্বক নিস্তেজ হয়ে যায়, দেখা দেয় ব্রণ, বলিরেখা, বয়সের ছাপ ও চোখের নিচে কালচে দাগ।
ওজন কমা-বাড়া ও কোলেস্টেরল বৃদ্ধি:
যারা প্রতিদিন গড়ে ৬-৭ ঘণ্টার কম ঘুমান, তাদের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশের ওজন বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। দীর্ঘ সময় জেগে থাকার কারণে ক্ষুধা বাড়ে এবং অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের ফলে ওজন ও কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পায়, যা হৃদ্যন্ত্রের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হ্রাস:
টানা কয়েক মাস পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মস্তিষ্কের কিছু অংশ অতিরিক্ত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। ফলে দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমে যায়। একই সঙ্গে কাজকর্মে মনোযোগে ঘাটতি দেখা দেয় এবং উপস্থিত বুদ্ধিও দুর্বল হয়ে পড়ে।
রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া:
নিয়মিত রাত জাগলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। মানুষ সহজাতভাবে নিশাচর প্রাণী নয়। দিন ও রাতের নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী কাজ না করলে শরীর তার স্বাভাবিক ছন্দ হারায়। যারা মধ্যরাত বা ভোর পর্যন্ত জেগে থাকেন, তারা সকালে সময়মতো উঠতে পারেন না এবং সারাদিন মানসিক ক্লান্তি ও বিষণ্নতায় ভোগেন।








