বিদায়ী সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আবহে স্কলার্স অ্যাকাডেমির ২০ বছরের গৌরবময় পথচলা
নতুন পয়গাম, এম নাজমুস সাহাদাত, মালদহ:
গঙ্গাভাঙনের ভয়াবহ প্রভাব, আর্থসামাজিক প্রতিকূলতা ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শিক্ষার আলো জ্বালিয়ে রাখার যে নিরলস প্রচেষ্টা তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্কলার্স অ্যাকাডেমি। পঞ্চানন্দপুর ও বাঙ্গীটোলা এলাকার পিছিয়ে পড়া জনপদে দীর্ঘদিন ধরে মানসম্মত শিক্ষার প্রসারে কাজ করে চলা এই প্রতিষ্ঠান বৃহস্পতিবার গৌরবের সঙ্গে ২০ বছরে পদার্পণ করল। কালিয়াচক-২ ব্লকের বাঙ্গীটোলার আকন্দবাড়িয়ায় অনুষ্ঠিত বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ পরিণত হয় এক আনন্দঘন মিলনমেলায়। এই উপলক্ষে আয়োজিত হয় বিদায়ী সংবর্ধনা, বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পুরস্কার বিতরণী সভা। দিনভর চলা অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের পরিবেশিত নৃত্য, সংগীত, আবৃত্তি ও নাট্যাংশ উপস্থিত সকলের মন কেড়ে নেয়। মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের সৃজনশীলতা ও আত্মবিশ্বাসের পরিচয় দেয়। একই সঙ্গে বিদায়ী পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য শুভকামনা জানানো হয়। পুরস্কার বিতরণী সভায় কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সম্মানিত করা হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণার সঞ্চার হয়। অনুষ্ঠানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল বিদ্যালয়ের প্রায় এক হাজার ছাত্রছাত্রীর অভিভাবকদের নিয়ে আয়োজিত আলোচনা ও মতবিনিময় সভা। এখানে শিক্ষার মানোন্নয়ন, ছাত্রছাত্রীদের নৈতিক বিকাশ, অভিভাবকদের দায়িত্ব ও বিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অভিভাবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণে সভাটি কার্যকর ও ফলপ্রসূ হয়ে ওঠে। উপস্থিত বক্তারা বলেন, শিক্ষার উন্নতিতে বিদ্যালয় ও পরিবারের মধ্যে সুদৃঢ় সমন্বয় অপরিহার্য।
এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে ছিলেন পঞ্চানন্দপুর সুকিয়া হাইস্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক সুকেশ ঝা, শিক্ষারত্ন পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষিকা তানিয়া রহমত, স্কলার্স অ্যাকাডেমির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গৌরতম চৌধুরী এবং বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও পরিচালক মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া অংশের শিশুদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করাই আজকের সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। শিক্ষা কেবল পুঁথিগত বিদ্যা নয়; এটি মানবিক মূল্যবোধ, সম্প্রীতি ও সুস্থ সমাজ গঠনের অন্যতম ভিত্তি।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, “শিক্ষা দুয়ারে দুয়ারে পৌঁছাতে হবে” এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই স্কলার্স অ্যাকাডেমির পথচলা। আর্থিক অনটনের কারণে যাতে কোনো মেধাবী ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি বিশেষভাবে সচেতন। বিশিষ্ট শিল্পপতি ও শিক্ষানুরাগী মোস্তাক সাহেবের সহযোগিতায় দরিদ্র ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে অথবা স্বল্প খরচে পড়াশোনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর ফলে বহু প্রতিভাবান শিক্ষার্থী নতুন করে শিক্ষার মূল স্রোতে ফিরে আসার সুযোগ পেয়েছে।
২০০৪ সালে সমাজসেবী নজরুল ইসলামের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত স্কলার্স অ্যাকাডেমি আজ এই এলাকার শিক্ষা মানচিত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। শুরুতে নানা বাধা-বিপত্তি থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি তার গ্রহণযোগ্যতা ও সুনাম অর্জন করেছে। বর্তমানে এখানে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রায় এক হাজার ছাত্রছাত্রী এবং ৫২ জন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর সমন্বয়ে বিদ্যালয়টি নিরবচ্ছিন্নভাবে এগিয়ে চলেছে। বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষা মানুষকে মানবিক করে তোলে, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির শিক্ষা দেয় এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যতের পথ দেখায়। তাঁর এই আদর্শকে সামনে রেখেই স্কলার্স অ্যাকাডেমি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। বর্ষপূর্তির এই অনুষ্ঠান শুধু একটি উদযাপন নয়, বরং আগামী দিনের জন্য নতুন অঙ্গীকার ও প্রত্যয়ের বার্তা বহন করে এমনটাই মনে করছেন উপস্থিত অভিভাবক ও অতিথিরা।








