রাস্তায়, জলে, দুর্নীতিতে মরছে মানুষ নয়ডা কাণ্ডে বিজেপিকে তুলোধনা রাহুল গান্ধীর
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি: উত্তরপ্রদেশের নয়ডায় ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় ২৭ বছর বয়সী ডেটা সায়েন্টিস্ট যুবরাজ মেহতার। অফিস থেকে গাড়ি চালিয়ে বাড়ি ফেরার সময় নয়ডার সেক্টর ১৫০-এর কাছে রাস্তার একটি ৭০ ফুট গভীর জলমগ্ন গর্তে পড়ে যায় তাঁর গাড়ি। ঘন কুয়াশায় দৃশ্যমানতা কম থাকায় ওই মরণফাঁদ দেখতে পাননি তিনি। মৃত্যুর ঠিক আগে বাবাকে ফোন করে যুবরাজ বলেছিলেন, “বাবা, আমি মরতে চাই না, আমাকে বাঁচাও।”
এই ঘটনার ভিডিও এবং যুবরাজের ছবি শেয়ার করে রাহুল গান্ধী এক হাত নিয়েছেন যোগী আদিত্যনাথের প্রশাসনকে। তিনি তাঁর পোস্টে লেখেন: “মানুষ রাস্তায় মরছে, ব্রিজে মরছে, আগুনে পুড়ে মরছে, জলে মরছে, দূষণে মরছে, দুর্নীতিতে মরছে, বিভাজনে মরছে। অথচ বিজেপির অপদার্থ রাজ্য সরকার জবাবদিহির প্রয়োজন মনে করে না।” রাহুলের দাবি, দেশের শহুরে জীবন প্রযুক্তিগত কারণে নয়; বরং প্রশাসনের চরম গাফিলতি এবং দুর্নীতির কারণে ভেঙে পড়ছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার চেয়েও বিজেপি সরকারের কাছে ক্ষমতার দম্ভ বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শুক্রবার রাতে যুবরাজের মৃত্যুর পর প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। ইতিমধ্যেই নয়ডা প্রশাসনের সিইও এম লোকেশকে বহিষ্কার করেছে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি বিশেষ তদন্ত টিম ‘সিট’ গঠন করে পাঁচ দিনের মধ্যে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। বিরোধী শিবিরের প্রশ্ন, একের পর এক এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনার দায় নিয়ে সরকার কি কেবল আধিকারিক বদলেই দায় সারবে, নাকি সাধারণ মানুষের জীবনের প্রকৃত নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করবে? একটি সর্বভারতীয় মিডিয়ায় সদ্য পুত্রহারা রাজকুমার মেহতা তাঁর অসহায়তার কথা জানিয়ে বলেন, ‘‘আমার জীবনে এই প্রথম এত অসহায় লাগছে। চোখের সামনে ছেলেকে মরতে দেখলাম। ওকে বাঁচাতে পারলাম না। বার বার কানে ভাসছে, বাবা আমি মরতে চাই না।’







