BREAKING:
কলকাতার রঙ আজ বেগুনি, প্রশ্ন ন্যায্যতার কাবিলপুর হাই স্কুলে ৩৯তম বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ১৫ দিনের মধ্যেই ফেটে চৌচির ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’-এর রাস্তা, দুর্নীতির অভিযোগে চাঞ্চল্য সোনামুখীতে দাবি আদায়ে রাজ্যজুড়ে আশা কর্মীদের আন্দোলন, ইন্দাস থানার সামনে পথ অবরোধ অনলাইন লেনদেন অ্যাপের কর্মীদের বিরুদ্ধে টাকা জালিয়াতির অভিযোগ, চুঁচুড়ায় তীব্র চাঞ্চল্য এসআইআর-এর চাপেই মৃত্যু? বড়ঞায় পঞ্চায়েত সদস্যের প্রয়াণে চাঞ্চল্য বড়জোড়া চৌমাথা মোড়ে আশা কর্মীদের বিক্ষোভ চারদিন পর সুন্দরবনের নদী থেকে উদ্ধার নিখোঁজ পর্যটকের দেহ কর্মরত মায়েদের জন্য ডে-কেয়ার: অধিকার নাকি বিলাসিতা? এসআইআর: সুপ্রিম-পর্যবেক্ষণ স্পষ্ট, ভোটার তালিকা খেয়ালখুশির বিষয় নয় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগে জেলাশাসকের কাছে স্মারকলিপি তৃণমূলের বসিরহাটে এস আই আর ‘হেয়ারিং’-এর নামে চরম হয়রানি সর্বভারতীয় অংকন প্রতিযোগিতায় জয়নগরের মেয়েদের উজ্জ্বল সাফল্য সাম্রাজ্যবাদ, সমাজতন্ত্র ও আজকের বিশ্ব বসিরহাট মালিতিপুর হাই স্কুল-এ বাৎসরিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ইসলামপুরে পূর্ণাঙ্গ সরকারি হাসপাতাল নির্মাণের দাবিতে বাংলা পক্ষের স্মারকলিপি আল্লাহতায়ালা করুণাময়, ক্ষমাশীল রাজনগরের লাউজোড় উচ্চ বিদ্যালয়ে হীরক জয়ন্তী উদযাপন, বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের সূচনা নাগপুরে আজ সম্মান পুনরুদ্ধারে নামছে টিম ইন্ডিয়া শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে নায়ক ওকস্ এসআইআর: কোচবিহারে জমিয়তে উলামার ডেপুটেশন রায়গঞ্জে আইন সচেতনতা কর্মসূচি: নাটক, বিশেষজ্ঞ বক্তৃতা ও আউটরিচ কার্যক্রমে জোর এসআইআর হিয়ারিং-এর নামে হয়রানির অভিযোগে খণ্ডঘোষে সিপিআইএমের মিছিল জয়নগরে বিডিওদের কাছে বিএলওদের অব্যাহতির আবেদন ভোটার তালিকা নিয়ে কারচুপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তৃণমূলের বিক্ষোভ, ইন্দাস বিডিও অফিস ঘেরাও এক বিদ্যালয়ে ছাত্রী ছয়জন, শিক্ষিকা তিনজন ইসলামপুরে পূর্ণাঙ্গ সরকারি হাসপাতাল নির্মাণের দাবিতে বাংলা পক্ষের স্মারকলিপি মালদায় আন্তঃকলেজ জেলা ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সূচনা; অ্যাথলেটিক্সে চ্যাম্পিয়ন কালিয়াচক কলেজ পড়লে পড়ো, না হয় গাছে চড়ো ক্ষুদ্র শিল্পের প্রসারে কেন্দ্রকে কাউন্সিল গড়ার প্রস্তাব হাটজনবাজার ওভারব্রিজ ঘিরে বিতর্ক, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে স্কুল পড়ুয়াদের উপস্থিতি ও উদ্বোধনের আগেই যান চলাচলের অভিযোগ এসআইআর আতঙ্কে আবারও প্রাণহানি, রামপুরহাটে আত্মঘাতী যুবক স্ত্রীকে লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সির নোটিস, করিমপুরে আতঙ্কে আত্মঘাতী গৃহ শিক্ষক, নির্বাচন কমিশনকেই দায়ী করল পরিবার বাংলাদেশকে ‘ডেডলাইন’ আইসিসির ডব্লুপিএল: ৫ ম্যাচে ৫ জয়, প্লে অপে বেঙ্গালুরু ছুটছে রয়্যাল সিটির অশ্বমেধের ঘোড়া, আজ পরীক্ষা ব্যারেটোর দলের নাটকীয় জয় সেনেগালের! রেফারির সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ মেহতাব, বিএসএলে দল তুললো সুন্দরবন লজ্জার ইতিহাস গড়ে নিউজিল্যান্ডের কাছে হার ভারতের, দাম পেল না কোহলির শতরান ইন্দোরে আজ মরণবাঁচন ম্যাচে দলে হয়তো অর্শদীপ সিং ভারত-বাংলাদেশ ছোটদের ম্যাচেও ‘হ্যান্ডশেক-বিতর্ক’। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজে চমকের নাম শ্রেয়স, বিষ্ণোই বয়সভিত্তিক লিগে জয় মোহনবাগানের দুই টিমের,পয়েন্ট নষ্ট লাল হলুদের ছোটদের মৃত্যু ও জানাযার মূল বার্তা নতুন প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল গবেষণা ও সত্যের সন্ধানে কলকাতায় ইতিহাস সম্মেলন বিজেপি-শিণ্ডে দর কষাকষি, কাউন্সিলররা হোটেলবন্দি গ্রেটার মুম্বইয়ের মেয়র পদ আড়াই বছর করে ভাগাভাগি হবে? কেন্দ্রের দাবি, মূল্যবৃদ্ধি মাত্র ১ শতাংশ রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সমীক্ষায় অস্বস্তিতে কেন্দ্র সরকার শংকরাচার্যকে পুণ্যস্নানে বাধা, সাধুদের প্রহার, প্রয়াগরাজে ধু্ন্ধুমারকাণ্ড মুর্শিদাবাদ: মুর্শিদকুলি থেকে মমতা পুরভোটের পর মহারাষ্ট্রে রিসর্ট রাজনীতি! ঘোড়া কেনাবেচার ভয়ে জয়ীরা হোটেল-বন্দি প্রসঙ্গ: বাংলায় মুসলমানদের অবদান আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে জামাআতের সেমিনার ‘বিদ্রোহী’ কবিতার প্রথম ইংরেজি অনুবাদ প্রসঙ্গে ‘দিল্লির জল্লাদদের কাছে মাথা নত নয়’ সিঙ্গুরের জবাব চোপড়া থেকে দিলেন অভিষেক সিঙ্গুরে শিল্প নিয়ে নীরব মোদি ট্রাম্প কালপ্রিট: খামেনেয়ি জ্যোতি বসু: কিছু অজানা কথা (৮ জুলাই ১৯১৪–১৭ জানুয়ারি ২০১০) গোয়েবলসের ফর্মূলা শিক্ষায় ইসলামের ঐতিহাসিক অবদান ও বর্তমান প্রাসঙ্গিকতা শিক্ষা কি কেবল চাকরির সিঁড়ি? প্রতিরক্ষা খাতের নিয়ন্ত্রণ কি বিদেশের হাতে? এফডিআই-এর সীমা বাড়িয়ে ঝুঁকির মুখে কেন্দ্র মালদা-মুর্শিদাবাদে দাঙ্গার কারণ অনুপ্রবেশ: মোদি ডিএ মামলার রায় এত প্রলম্বিত হচ্ছে কেন? আল আমীন মিশন পুনর্মিলন উৎসব ২০২৬ বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূলের উন্নয়নের পাঁচালী, চুঁচুড়ায় সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রীর সভার আগেই পোস্টার পড়ল, দাবি নতুন রেল স্টেশনের কালিয়াচক কলেজের উদ্যোগে ‘ফিট ইন্ডিয়া ম্যারাথন রেস’, রাজ্য ও ভিনরাজ্যের প্রতিযোগীদের অংশগ্রহণ ৮০ জনেরও বেশি বিশেষভাবে সক্ষম মানুষের অভিনয়ে ব্যতিক্রমী চলচ্চিত্র ওয়ান লিটল ফিঙ্গার কালিয়াচক বনি চাইল্ড মিশনে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা: উচ্ছ্বাসে মাতলো ছাত্রছাত্রীরা টিটোয়েন্টি থেকেও ছিটকে গেলেন সুন্দর, বিশ্বকাপেও অনিশ্চিত ম্যাচ জিতলেও, হতাশ করলো বৈভবরা বিতর্কিত নাজমুল ইসলামকে বহিষ্কার করলো বিসিবি সপ্তগ্রামের কেষ্টপুরে ৫১৯ বছরের অভিনব মাছের মেলা, ভোর থেকেই ক্রেতাদের ভিড়ে জমজমাট ভুল বিধানসভা কেন্দ্রের উল্লেখে এসআইআর নোটিশ ধূপগুড়ি রেলওয়ে স্টেশনে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের স্টপেজের দাবিত অবস্থান বিক্ষোভ! খুদেদের উদ্যোগে অভিনব ফুড ফেস্টিভ্যাল, উৎসবে মাতলো তারঘেরা এস পি প্রাইমারি স্কুল জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিবাদ কর্মসূচি, শাসক দলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ হুমায়ুন কবিরের কান্দিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সভা ইমাম সংগঠনের উদ্যোগে ডেটা অ্যানালিসিস ও এআই বিষয়ক কর্মশালায় নতুন দক্ষতার আলোকপাত এসআইআর নোটিশ ঘিরে উত্তাল মাটিয়া, দিনভর টাকি রোড অবরোধ ২০৩৯ সালে হবে ৩টা ঈদ এবং ২টা হজ বয়স মাত্র দশ বছর কিন্তু সাফল্যের নিরিখে সে অনেক বড়দেরও অনুপ্রেরণা  সুন্দরবনের মৈপীঠে অবাধে ম্যানগ্রোভ নিধন চলছে, প্রশাসন নির্বিকার সমুদ্রের জলের স্তর মাপতে গঙ্গাসাগরে ব্যবহার হচ্ছে রিমোট অপারেটেড ভেহিকেল এসআইআর ঘিরে উত্তেজনা ভাঙড়ে, রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ এসআইআর প্রক্রিয়ার নামে হেনস্থার অভিযোগ মকর সংক্রান্তিতে গঙ্গাসাগরে রেকর্ড জনসমাগম নলহাটি ২নং ব্লকে SIR তালিকায় ৩১ হাজার গরমিল আজ শুরু ছোটদের বিশ্বকাপ, প্রথম দিনেই মাঠে নামছে ভৈবরা ব্যর্থ বিরাট, ব্যর্থ ভারতও; কাজে এল না রাহুলের দুরন্ত সেঞ্চুরি শীর্ষে বিরাট, ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে ড্যারিল মিচেল ইন্দাসে আনুমানিক ৪০০ বছরের পুরানো শ্রী শ্রী বাঁকুড়া রায়ের কুড়চি মেলার শুভ উদ্বোধন ভাঙড়ে আইএসএফ-তৃণমূল সংঘর্ষ, আহত উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী কালিয়াচক কলেজের উদ্যোগে ‘ফিট ইন্ডিয়া ম্যারাথন রান আরামবাগে পঞ্চদশ বর্ষের গ্রন্থমেলা ও নাট্যোৎসব ২০২৬ বেশ জমে উঠেছে শীতের রাতে ভরসা হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিশ কর্মসংস্থান ও শিল্পে ব্যর্থতার অভিযোগ, পূর্ব বর্ধমানে তৃণমূলকে আক্রমণ অগ্নিমিত্রা পলের কালিয়াচকে শীতবস্ত্র বিতরণ: দুঃস্থদের পাশে সুজাপুরের আব্দুল হান্নান বিলুপ্তির পথে কালিয়াচকের শেরশাহি ও মোথাবাড়ির বাবলা এলাকার ঐতিহ্যবাহী তাত শিল্প ছবি এঁকে দিল্লিযাত্রা কৃতি ছাত্র ইমরানের

পড়লে পড়ো, না হয় গাছে চড়ো

প্রকাশিত: ২০ জানুয়ারী ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:৩৭ | আপডেট: ২১ জানুয়ারী ২০২৬, রাত ৮:৩৬
স্কটল্যান্ড। আকাশটা সেখানে বেশিরভাগ সময় মেঘে ঢাকা। ঊনিশ শতকের শেষ দিক। ১৮৮৩ সাল। ফরফার নামে এক ছোট্ট শহরে জন্ম নিলেন নীল। বাবা হেডমাস্টার। রাশভারী লোক। মা-ও ভীষণ কড়া। পরিবারে হাসি-ঠাট্টা বারণ। ধর্মভীরু ক্যালভিনিস্ট পরিবার। পান থেকে চুন খসলেই শাস্তি। পড়াশোনায় নীল খুব যে ভাল, তা নয়। বাবার ক্লাসে বসে ভয়ে সিঁটিয়ে থাকত।

সুরাজ পাল:স্কটল্যান্ড। আকাশটা সেখানে বেশিরভাগ সময় মেঘে ঢাকা। ঊনিশ শতকের শেষ দিক। ১৮৮৩ সাল। ফরফার নামে এক ছোট্ট শহরে জন্ম নিলেন নীল। বাবা হেডমাস্টার। রাশভারী লোক। মা-ও ভীষণ কড়া। পরিবারে হাসি-ঠাট্টা বারণ। ধর্মভীরু ক্যালভিনিস্ট পরিবার। পান থেকে চুন খসলেই শাস্তি। পড়াশোনায় নীল খুব যে ভাল, তা নয়। বাবার ক্লাসে বসে ভয়ে সিঁটিয়ে থাকত। এই বুঝি বেত নেমে আসবে পিঠে! বাবা ভাবতেন, শাসন ছাড়া মানুষ হয় না। বেত না মারলে বখে যাবে ছেলে। নীলের পিঠে সেই বেতের দাগ শুধু চামড়ায় নয়, মনের গভীরেও বসে গিয়েছিল। তিনি দেখেছিলেন, ভয় দেখিয়ে অঙ্ক শেখানো যায়, ব্যাকরণ গেলানো যায়, কিন্তু মানুষ তৈরি করা যায় না। ভয় শুধু ভণ্ডামি শেখায়। শিশু তখন মিথ্যা কথা বলে বাঁচার জন্য। মনে মনে নীল পণ করলেন, বড় হয়ে আমি আর যা-ই হই, বাবার মতো মাস্টার হব না।
অথচ, পেটের দায়ে সেই শিক্ষকতাতেই আসতে হল। প্রথম জীবনে নীলও সাধারণ মাস্টার মশাইদের মতোই ছিলেন। হাতে বেত নিতেন। ধমক দিতেন। যদিও মনটা খচখচ করত। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে অপরাধী লাগত। তারপর এল প্রথম বিশ্বযুদ্ধ। ১৯১৪ সাল। ইউরোপ জুড়ে মড়ক। হাজার হাজার তরুণ মারা যাচ্ছে ট্রেঞ্চে। নীল ভাবলেন, এই যে এত সুশিক্ষিত মানুষ, যারা স্কুলে ফার্স্ট হয়েছে, তারা কেন যুদ্ধ থামাল না? কেন তারা একে অপরকে মারতে ছুটল? বুঝলেন, এই প্রচলিত শিক্ষা পচে গেছে। এই শিক্ষা শুধু আজ্ঞাবহ দাস তৈরি করে। ওপরওয়ালা হুকুম দেবে, আর নিচে সব ‘ইয়েস স্যার’ বলে মানুষ মারবে। যুদ্ধ শেষে নীল ঠিক করলেন, ‘অনেক হয়েছে। এবার নতুন কিছু করতে হবে। এমন স্কুল চাই, যেখানে বাচ্চারা যুদ্ধ করতে শিখবে না, ভালবাসতে শিখবে।’
১৯২১ সাল। প্রথমে জার্মানি, তারপর অস্ট্রিয়া, শেষে ইংল্যান্ডের নির্জন গ্রাম লেইস্টন। সেখানেই তৈরি হল সামারহিল। চারদিকে জঙ্গল। মাঝখানে একটা লাল ইটের বাড়ি। নীল বললেন, ‘এটা স্কুল নয়, এটা জীবন। এখানে বই পড়ার চেয়ে জীবন পড়া বেশি জরুরি।’ স্কুলের নিয়ম শুনে সবাই আকাশ থেকে পড়ল। ক্লাসে যাওয়া বাধ্যতামূলক নয়। হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন। সকালবেলা ঘণ্টা বাজে। কিন্তু সেটা ক্লাসে ঢোকার জন্য নয়, ঘুম থেকে ওঠার জন্য। তারপর তোমার ইচ্ছে। তুমি অঙ্ক ক্লাসে যেতে পারো। লাইব্রেরিতে গল্প পড়তে পারো। মাঠে ফুটবল খেলতে পারো। পুকুরধারে বসে মাছ ধরতে পারো। কেউ তোমাকে জিজ্ঞেস করবে না, ‘খোকন, তুমি কেন ক্লাসে আসোনি?’ নীল বিশ্বাস করতেন, ‘জোর করে শেখানো আর ধর্ষণের মধ্যে কোনো তফাত নেই।’ শিখতে হবে ভেতর থেকে। খিদে পেলে মানুষ যেমন খায়, জানার খিদে পেলে তবেই সে পড়বে।
বাইরে থেকে যারা আসত, তারা তো অবাক! এ কী! বাচ্চারা সারাদিন হুল্লোড় করছে! গাছে চড়ছে! সাইকেল চালাচ্ছে! এরা শিখবে কবে? বড় হয়ে তো সব মূর্খ হবে। নীল হাসতেন। পাইপে টান দিয়ে বলতেন, ‘আপনারা শুধু বইটাকেই পড়া ভাবেন, এই যে ছেলেটা সাইকেলের চেন সারাচ্ছে, ও পদার্থবিজ্ঞান শিখছে না? এই যে ওরা দল বেঁধে নাটক করছে, সাহিত্য শিখছে না?’ সামারহিলে একটা ছেলে ছিল। নাম টম। সে কিছুতেই ক্লাসে যেত না। টানা দশ বছর সে শুধু ওয়ার্কশপে কাজ করল। কাঠ কাটল, লোহা পিটল। এক বর্ণও শিখল না। সবাই বলল, ‘গেল ছেলেটা। বখে গেল।’ সতের বছর বয়সে হঠাৎ টম এসে নীলকে বলল, ‘নীল, আমি ইঞ্জিনিয়ার হতে চাই।’ নীল বললেন, ‘বেশ তো। কিন্তু তার জন্য তো অঙ্ক আর ফিজিক্স লাগবে। পড়তে হবে।’ টম বলল, ‘আমি রাজি।’ বিশ্বাস করবেন না, যে ছেলে দশ বছরে বই ছোঁয়নি, সে মাত্র দু-বছরে সব পড়া শেষ করে ফেলল। কারণ, এবার সে ‘চাইছে’। তার লক্ষ্য ঠিক হয়ে গেছে। নীল বলতেন, ‘যে শিশু খেলতে জানে না, সে বাঁচতেও জানে না।’
সামারহিলের সবচেয়ে বড় জাদুর নাম শনিবারের মিটিং। সপ্তাহে একদিন সন্ধেবেলা সবাই হলঘরে জড়ো হয়। সেখানে নীলও বসেন। রাঁধুনিও বসেন। ছ-বছরের বাচ্চাটাও বসে। স্কুল কীভাবে চলবে, তা ঠিক হয় এখানে। মজার ব্যাপার, ভোটের দাম সবার সমান। হেডমাস্টার নীলের ভোটের দাম ‘এক’। ওই ছ’বছরের বাচ্চাটার ভোটের দামও ‘এক’। সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে সব সিদ্ধান্ত হয়। একবার ভোটাভুটি হল স্কুলে ধূমপান নিষিদ্ধ করা হবে কি না? নীল ধূমপান পছন্দ করতেন। কিন্তু বাচ্চারা ভোট দিয়ে তাঁকে হারিয়ে দিল। নীল হাসিমুখে মেনেও নিলেন। শিশু যখন দেখে তার মতের দাম হেডমাস্টারের সমান, তখন তার আত্মবিশ্বাস কোথায় গিয়ে পৌঁছায়! এটাই আসল গণতন্ত্র। বইয়ে পড়া ‘সিভিকস’ নয়, এ হল যাপনের গণতন্ত্র। এখানে বাচ্চারা শেখে স্বাধীনতা মানে স্বেচ্ছাচারিতা নয়। আমি ততক্ষণই স্বাধীন, যতক্ষণ না আমার কাজ অন্যের ক্ষতি করছে।
নীল বলতেন, ‘শিশুরা দুষ্টু হয়ে জন্মায় না। ওরা অ-সুখী হলেই দুষ্টুমি করে।’ যেসব বাচ্চাকে অন্য স্কুল থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে, বাবা-মায়েরা হাল ছেড়ে দিয়েছে, তারা আসত সামারহিলে। চোর, মিথ্যেবাদী, মারকুটে বাচ্চারা। নীল তাদের কোনদিন বকতেন না। উপদেশ দিতেন না। তিনি ব্যবহার করতেন অদ্ভুত মনস্তত্ত্ব। একবার এক ছেলে বারবার পয়সা চুরি করত। নীল তাকে ডাকলেন। বকলেন না। উল্টে পকেট থেকে কিছু টাকা বের করে দিলেন। বললেন, ‘তোমার টাকার দরকার? এই নাও।’ ছেলেটা হাঁ হয়ে গেল! যে চুরির জন্য মার খাওয়ার কথা, সেখানে পুরস্কার, তার চুরির নেশাটাই কেটে গেল। সে বুঝল, এই লোকটা তো আমার শত্রু নয়, আমাকে ভালবাসে। নীলের ভাষায়, ‘সমস্যাগ্রস্ত শিশু বলে কিছু নেই; আছে শুধু সমস্যাগ্রস্ত অভিভাবক আর সমস্যাগ্রস্ত মানবসমাজ।’ তিনি ওদের মনের জট খুলতেন। তাঁর ঘরটা ছিল সবসময় খোলা। বাচ্চারা যখন খুশি ঢুকে পড়ত। তাঁকে নাম ধরে ডাকত, স্যার নয়, হুজুর নয়। শুধুই নীল।
সেকালের সমাজ ছিল ভিক্টোরিয়ান সংস্কারে আচ্ছন্ন। শরীর ও যৌনতা নিয়ে কথা বলা পাপ। নীল সেই দেওয়াল ভেঙে চুরমার করে দিলেন। তিনি বললেন, ‘শরীরটা লজ্জার নয়। শরীরটা স্বাভাবিক।’ শিশুরা যদি কৌতুহলবশত নিজেদের শরীর দেখে বা বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকৃষ্ট হয়, তাহলে সেটাকে পাপ বলা যায় না। বরং, যৌনতাকে গোপন করলেই মনের অসুখ বাড়ে। তাই সর্বোত্তম শিক্ষা হল, যৌনতা সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া এবং সাবধান-সতর্ক করা, সংযমের পাঠ দেওয়া। নীল বললেন, ‘মানবপ্রেম অনেক বড় ধর্ম।’ চার্চ গেল ক্ষেপে। সমাজ ছি-ছি করল। পত্রিকায় লেখা হল ‘সামারহিল শয়তানের আখড়া। ওখানে বাচ্চারা বুনো হয়ে যাচ্ছে।’ নীল গ্রাহ্য করলেন না। তিনি জানতেন, তিনি সত্যের পথে আছেন। তিনি চেয়েছিলেন ‘সুখী’ মানুষ গড়তে, ‘ভদ্র’ মুখোশধারী মানুষ নয়।
ব্রিটিশ সরকার বারবার চোখ রাঙিয়েছে। একবার সরকারি ইনস্পেক্টর এলেন স্কুল পরিদর্শনে। ভেবেছিলেন, দেখবেন নরক গুলজার। বাচ্চারা মারামারি করছে, পড়াশোনার বালাই নেই। গিয়ে দেখলেন উল্টো ছবি। হ্যাঁ, বাচ্চারা ইউনিফর্ম পরে নেই, ধুলোমাখা। কিন্তু তাদের চোখে-মুখে অদ্ভুত দীপ্তি। ইনস্পেক্টর ক্লাসে ঢুকে অবাক। বাচ্চারা শিক্ষকের সঙ্গে তর্ক করছে। নির্ভয়ে প্রশ্ন করছে। অন্য স্কুলে ইন্সপেক্টর দেখলে বাচ্চারা ভয়ে চুপ করে যায়। এখানে বাচ্চারা এসে জিজ্ঞেস করল, ‘তুমি কে? তোমার হ্যাটটা তো বেশ মজার!’ ইন্সপেক্টর রিপোর্টে লিখলেন, ‘এদের পুঁথিগত বিদ্যা হয়ত কম, কিন্তু এদের ব্যক্তিত্ব, সাহস আর সততা যেকোন পাবলিক স্কুলের ছেলের চেয়ে বেশি।’ বন্ধ করা গেল না সামারহিল। সত্যের জোর বড় বেশি।
অনেকে নীলকে প্রশ্ন করত, ‘আপনার ছাত্ররা বড় হয়ে কী হয়েছে? কতজন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হয়েছে?’ নীল বিরক্ত হয়ে বলতেন, জীবন মানে কি শুধু ক্যারিয়ার? জীবন কি শুধুই টাকা? তাঁর বিখ্যাত উক্তি, ‘একজন মানসিক রোগগ্রস্ত প্রধানমন্ত্রী তৈরি করার চেয়ে, আমার স্কুল থেকে একজন সুখী ঝাড়ুদার বের হোক।’ তিনি বলতেন, ডাক্তার হওয়া সহজ, সুখী হওয়া কঠিন। সামারহিল সেই কঠিন কাজটাই করত। সেখান থেকে বেরিয়ে কেউ হয়েছে বিজ্ঞানী, কেউ শিল্পী, কেউ হয়ত সাধারণ মিস্ত্রি। কিন্তু তারা সবাই একটা জিনিস শিখেছে, কীভাবে বুক ফুলিয়ে বাঁচতে হয়। কীভাবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হয়।
বয়স বাড়ল নীলের। চুল পেকে সাদা। মনের তেজ কমল না। ১৯৭৩ সাল। নব্বই বছর বয়সে তিনি চলে গেলেন। যদিও সামারহিল থামল না। হাল ধরলেন নীলের মেয়ে জো। আজও সেই স্কুল আছে। ঠিক একই নিয়মে চলছে। আজও সেখানে ক্লাসে যাওয়া বাধ্যতামূলক নয়। আজও সেখানে ছ-বছরের বাচ্চার ভোটের দামে হেডমিস্ট্রেসের ভাগ্য নির্ধারিত হয়।
ফ্রয়েবেল দিয়েছিলেন বাগান। মন্তেসরি দিয়েছিলেন গুছিয়ে কাজ করার আনন্দ। নীল দিলেন মুক্তি। তিনি বললেন, শিশুর ওপর বিশ্বাস রাখো। ওরা আমাদের চেয়ে অনেক বেশি বোঝে। আমরা বড়রা নিজেদের ভয়, নিজেদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা শিশুদের ওপর চাপিয়ে দিই। আর বলি ‘তোমার ভালর জন্যই করছি।’ তিনি শেখালেন, শিক্ষা মানে বই গেলা নয়, শিক্ষা মানে নিজেকে চেনা। আজকের দিনে, যখন বাচ্চাদের পিঠে ইয়া বড় বইয়ের ব্যাগ, যখন নম্বরের ইঁদুর দৌড়ে শৈশব পিষে মরছে, তখন এ.এস. নীল বড় প্রাসঙ্গিক। তিনি দূর থেকে আমাদের দিকে তাকিয়ে হয়ত মিটিমিটি হাসছেন আর বলছেন, ‘ভয় পেয়ো না। ওদের ডানাটা কেটে ফেলো না। উড়তে দাও। আকাশটা অনেক বড়।’ সামারহিল শুধু স্কুল নয়। বিদ্রোহ। স্বপ্ন। যে স্বপ্ন বলে, মানুষ জন্মায় স্বাধীন হওয়ার জন্য, শেকলে বাঁধা পড়ার জন্য নয়।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder