BREAKING:
রাজ্যের বৃহত্তম ঈদের জামাত কালিয়াচকের সুজাপুর নয়মৌজা ঈদগাহে কুলতলিতে বিরোধী শিবিরে বড়সড় ধাক্কা ১৫০০ কর্মী-সমার্থক তৃণমূলে যোগদান প্রাকৃতিক দুর্যোগকে উপেক্ষা করে হুগলি জেলায় সুষ্ঠুভাবে পালিত হল ঈদের নামাজ ‘তিনদিনের যোগী’ বলে সাংসদ রচনাকে কটাক্ষ অসিত মজুমদারের মালদহে আরও চারটি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করলো আম জনতা উন্নয়ন পার্টি অকাল বৃষ্টিতে আলু চাষে বিপর্যয়, ক্ষতিপূরণের দাবিতে কৃষকদের আর্তি গ্রেফতার তৃণমূল ছাত্রনেতা: মেলায় জুয়া খেলার অভিযোগে চাঞ্চল্য থেমে নেই মানবিকতার লড়াই – বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জীবনে আলো জ্বালাচ্ছেন রামপুরহাটের শিক্ষিকা বর্ণালী রুজ উদ্যোক্তা সুব্রত মিদ্যার গ্রাম থেকে গ্লোবাল হওয়ার গল্প বৈষ্ণবনগরে কংগ্রেসের প্রার্থীর দৌড়ে এগিয়ে অধ্যাপক ড. সিদ্ধার্থ শঙ্কর ঘোষ  আন্তর্জাতিক মঞ্চে উজ্জ্বল বসিরহাটের কন্যা, আরাধ্যা কুণ্ডুর সাফল্যে গর্বিত ক্রীড়ামহল বহরমপুরে লাল কেল্লার থিমে জমজমাট ঈদ উদযাপন রাজ্যে অলিখিত রাষ্ট্রপতি শাসন চলছে বলে অভিযোগ তৃণমূল সুপ্রিমোর  নিম্নমানের রাস্তার কাজের অভিযোগে বিক্ষোভ, কাজ বন্ধ করলেন গ্রামবাসীরা ! আস সুফ্ফাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঈদ উপহার বিতরণে মানবিক দৃষ্টান্ত নির্বাচন ঘোষণা হতেই তৎপর প্রশাসন, ব্যান্ডেল জংশন স্টেশনে জোর তল্লাশি খাটিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে অভিনব প্রতিবাদ মিছিল হয়ে গেল জয়নগরে তৃনমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে প্রার্থী ঘোষণা হতেই প্রচারে সিপিআইএম প্রার্থী নিরঞ্জন রায় চা বাগানে ফের খাঁচাবন্দি পূর্ণবয়স্ক চিতাবাঘ, এলাকায় চাঞ্চল্য  সমবায় সমিতির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা চাকুলিয়ায় নজিরবিহীন ইফতার মাহফিল ভিক্টরের, ২০ হাজার মানুষের ঢলে রেকর্ড ভাঙল সমাগম ভোট ঘোষণা হতেই তৃণমূল ত্যাগ সাসপেন্ডেড নেতা আরাবুল ইসলাম মালদহে ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে আন্দোলন বিভিন্ন গণসংগঠনের যৌথ উদ্যোগে পবিত্র রমজান উপলক্ষে মালদহে মানবতার ছোঁয়া, দুস্থদের পাশে বিদেশের মসজিদ মুর্শিদাবাদে প্রায় ১১ লক্ষ মানুষ ‘বিচারাধীন’, স্মারকলিপি সদভাবনা মঞ্চের জাহাজের ধাক্কায় সুমুদ্রে ট্রলার ডুবিতে গুরুতর জখম ৯ নিখোঁজ ২  আমজনতা উন্নয়ন পার্টির বিচারাধীন বৈধ ভোটারদের নাম তালিকায় রাখার দাবিতে ডেপুটেশন মহেশতলায় নির্যাতিতার পাশে মানবাধিকার প্রতিনিধি দল হুগলির পোলবায় অবৈধ পোস্ত চাষের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান ১০৭টি অসহায় পরিবারের পাশে আলোর মানবিক সংস্থা মোথাবাড়ির ভূমিপুত্র নজরুল ইসলামের উদ্যোগে হাজারো দরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্য বিতরণ উত্তরপাড়া এখন চোরেদের আঁতুরঘর, রীতিমতো আতঙ্কিত এলাকাবাসী  মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ, গ্যাস আতঙ্কে ইনডাকশন ওভেন কেনার ধুম চুলাই মদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান, নষ্ট করা হলো সরঞ্জাম সরকারি উদ্যোগে আলু সংরক্ষণ শুরু, ন্যায্যমূল্যের আশায় খুশি কৃষকরা মালদহে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রতিবাদে তীব্র গণ আন্দোলন গড়ে উঠেছে ‘স্বাধীনোত্তর ভারতে নারীর অধিকার ও মর্যাদা’ শীর্ষক সেমিনার কলকাতায় ডিজিটাল আসক্তি বনাম বইমুখী সংস্কৃতি: লাইব্রেরি কি হারিয়ে যাচ্ছে? ভোটাধিকার রক্ষায় জেলা শাসকের দপ্তরে হাজারো মানুষের জমায়েত ও ডেপুটেশন হুমায়ুনের হেতমপুরে তৃণমূলের কোর কমিটি ঘিরে তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, পদত্যাগের হুঁশিয়ারি একাংশ নেতার সিউড়ির হাটজনবাজারে রেল লেভেল ক্রসিং বন্ধ ঘিরে বিক্ষোভ, মানুষের চাপে সিদ্ধান্ত বদল রেলের ভোটার তালিকা নিয়ে মুর্শিদাবাদে ক্ষোভ, জেলাশাসককে স্মারকলিপি মিল্লি ঐক্য মঞ্চের মরণোত্তর চক্ষু ও দেহদান সংগ্রহ কেন্দ্রের উদ্বোধন হাওড়ার আমতায় জলকষ্টের অবসান, মাজুরিয়া আদিবাসী পাড়ায় নতুন পানীয় জল প্রকল্পের উদ্বোধন ভাবতা আজিজিয়া হাই মাদ্রাসার ইফতার ও ঈদ উপহার বিতরণ পশ্চিমবঙ্গ সদগোপ সমাজের মহা সম্মেলন বোলপুরে বড়জোড়া থেকে কলকাতার পথে নাম বাদ পড়া ভোটাররা, সঙ্গে তৃণমূল নেতৃত্ব বড়জোড়ায় ভোটার তালিকা থেকে ৪০০ মতুয়ার নাম বাদ, পথে নামল মতুয়া মহাসংঘ মেসি-ম্যাজিকে টানা দুই জয় ইন্তার মায়ামির ভারত বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, গভীর রাতে মাঠে নামছে বার্সেলোনা বিশ্বকাপের রেকর্ড সূর্যমুখী চাষের উপর দুদিনের প্রশিক্ষন শিবির হয়ে গেল নিমপীঠে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহকারীদের দাবিতে বনদপ্তরে ডেপুটেশন মানবাধিকার সংগঠনের বড়জোড়া কলেজে বর্ণিল আয়োজনে পালন হল বসন্ত উৎসব মৎস্যজীবীদের তিন পক্ষকাল মহল পাশের দাবি এপিডিআরের শিশুদের স্কুলছুট রুখতে সুন্দরবনে অভিনব উদ্যোগ বৈধ ভোটারের নাম সুনিশ্চিত করার দাবিতে সমাবেশ ও পার্টি অফিস উদ্বোধন  ফারাক্কায় সম্প্রীতির নজির আইনজীবী রবিউল আলম গৃহবধূদের উদ্যোগে পালিত আন্তর্জাতিক নারী দিবস কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব শ্রমজীবী মহিলারা আন্তর্জাতিক নারী দিবসে বসিরহাটে মহিলাদের জন্য ফ্রি সেল্ফ ডিফেন্স প্রশিক্ষণ শিবির মথুরাপুরের জনসমুদ্র থেকে বিজেপিকে ৫০এ নামানোর চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন অভিষেক ডোমকলের রাজনীতিতে এখন চর্চিত সক্রিয় মুখ সামিম সেখ রুবাই মাদ্রাসা থেকে জাতীয় সাফল্য UPSC-এ নজির মুর্শিদাবাদের সানা আজমির আঞ্চলিক ইতিহাস নিয়ে চতুর্থ বর্ষের রাজ্যস্তরীয় আলোচনাচক্র  ‘বিচারাধীন’ হাজারো নাম, রাজনগর বিডিও অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ বিজেপির পরিবর্তন যাত্রায় ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী  বিএলও-র নামেও পড়ল বিচারাধীন ছাপ  কুলতলির এক তৃণমূল সদস্যের উপর দুষ্কৃতী হামলা শেওড়াফুলি জংশন রেলস্টেশনে অগ্নিকাণ্ড লালগোলায় দ্বারোদ্ঘাটন হল ‘মহারাজা রাও যোগেন্দ্র নারায়ণ অডিটোরিয়াম’! মালদহে কংগ্রেসের অনির্দিষ্টকালের অবস্থান-বিক্ষোভ বসিরহাট আমিনিয়া মাদ্রাসায় ৮২তম ইসালে সাওয়াব মাহফিল সমাপ্ত, ৬৪ জনকে পাগড়ি প্রদান ও দশ হাজার মানুষের ইফতার পরিবাবের ১০ সদস্যের নাম বিচারাধীন, চাপে মৃত্যু বৃদ্ধের কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ, বাড়ছে ভোটের আগে নিরাপত্তা বার্তা কুমলাই নদী দূষণমুক্ত করতে অবশেষে পদক্ষেপ নিল প্রশাসন দীর্ঘদিন পর হুগলি-চুঁচুড়া পৌরসভায় মজুরি বৃদ্ধির আনন্দে হোলি খেলায় মাতল কর্মচারীরা চোটে কাবু সিআর সেভেন, চিন্তায় ক্লাব এবং দেশ ব্যর্থতার জেরে অভিনব শাস্তি পাক ক্রিকেটারদের ফাইনালের লক্ষ্যে মুম্বইয়ে টিম ইন্ডিয়া, নায়কের মর্যাদা পাচ্ছেন সঞ্জু স্যামসন অস্ট্রেলিয়ার কাছে হোয়াইট ওয়াশ ভারতের মেয়েরা সঞ্জুর দুরন্ত ব্যাটিং, সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করলো ভারত আবর্জনার স্তূপে শ্বাসরুদ্ধ কুমলাই, ৪৮ নম্বর সড়ক অবরোধে নাগরিক মঞ্চের বিক্ষোভ সারবোঝাই ট্রাক নয়ানজুলিতে, অল্পের জন্য প্রাণ রক্ষা চালকের নলহাটিতে অনুব্রত মণ্ডলের কৌশল বার্তা ময়দায় কংক্রিটের রাস্তা ও কবরস্থানের প্রাচীর নির্মাণের সূচনা, উপস্থিত জয়নগরের বিধায়ক আবর্জনার স্তূপে শ্বাসরুদ্ধ কুমলাই, ৪৮ নম্বর সড়ক অবরোধে নাগরিক মঞ্চের বিক্ষোভ জোড়াসাঁকোয় সাহিত্য-সংস্কৃতির মহোৎসবে কলম শিল্পী গ্র্যান্ড ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ খোশবাগ বাসস্ট্যান্ডের কাছে পথ দুর্ঘটনা, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন দন্ত চিকিৎসক বসিরহাট দরবার শরিফে হুমায়ুন কবীর, পেলেন উষ্ণ অভ্যর্থনা লাল বালির চড়া দাম, গ্রামবাসীদের ভরসা পাথরের গুড়ো   রমজানে অসহায়দের পাশে আল হোসাইনী হেল্প ফাউন্ডেশন সুন্দরবনের লবণাক্ত মাটিতে সূর্যমুখী চাষে সাফল্য, লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা হুগলি জেলায় এসআইআর এর প্রথম পর্যায়ের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করলেন জেলা শাসক খুরশিদ আলি কাদরি  বন্যপ্রাণীর উপদ্রব রুখতে তৎপর বনদপ্তর উত্তাপহীন ডার্বিতে মহামেডানকে ৫ গোলে উড়িয়ে দিল মোহনবাগান মরণবাঁচন ম্যাচে আজ সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিততেই হবে ভারতকে রাজনগরে চাঞ্চল্য: গাংমুড়ি গ্রামে বাড়ির ভিতর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার মোবাইল গেম খেলতে খেলতেই নিভে গেল ২১ বছরের তরতাজা প্রাণ 

সুলতানি আমলে বাংলার শিক্ষাব্যবস্থা

প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারী ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৫১ | আপডেট: ২১ জানুয়ারী ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৫৮
সুলতানি আমলে বাংলায় প্রাথমিক শিক্ষার ব্যাপক প্রচার-প্রসার ছিল। শিক্ষা ছিল সামাজিক সম্মান অর্জনের মাধ্যম। বাংলার সুলতানরা তাই শুরু থেকেই শিক্ষার প্রসারে মনোযোগ দিয়েছিলেন। এমনকি ধনাঢ্যরাও পিছিয়ে থাকেননি। প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হত মক্তব থেকে। প্রায় প্রতিটি মসজিদে এবং ধনী ব্যক্তিদের বাড়ির সামনে থাকত মক্তব। বাংলায় এসব মক্তবকে পাঠশালাও বলা হত। সাধারণত চার-পাঁচ বছর বয়সে শিশুদেরকে মক্তবে পাঠানো হত।

সঈফ উদ্দীন মণ্ডল,নতুন পয়গাম: সুলতানি আমলে বাংলায় প্রাথমিক শিক্ষার ব্যাপক প্রচার-প্রসার ছিল। শিক্ষা ছিল সামাজিক সম্মান অর্জনের মাধ্যম। বাংলার সুলতানরা তাই শুরু থেকেই শিক্ষার প্রসারে মনোযোগ দিয়েছিলেন। এমনকি ধনাঢ্যরাও পিছিয়ে থাকেননি। প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হত মক্তব থেকে। প্রায় প্রতিটি মসজিদে এবং ধনী ব্যক্তিদের বাড়ির সামনে থাকত মক্তব। বাংলায় এসব মক্তবকে পাঠশালাও বলা হত। সাধারণত চার-পাঁচ বছর বয়সে শিশুদেরকে মক্তবে পাঠানো হত।
ভারতবর্ষে সাধারণত বছর ও মাসের মিল রাখা হত, যেমন চার বছর চার মাস বয়সে কিংবা পাঁচ বছর পাঁচ মাস বয়সে শিশুদেরকে মক্তবে পাঠানো হত। শিক্ষক কুরআনের একটি আয়াত পাঠ করতেন, শিশু তা পুনরাবৃত্তি করত। এভাবেই শুরু হত শিশুর শিক্ষাজীবন। ধনীরা এই উপলক্ষে খাবারের আয়োজন করতেন। এই অনুষ্ঠানকে বলা হত ‘বিসমিল্লাহ-খানি’। সেসময় ফার্সি ছিল রাজভাষা। ফলে সালতানাতের চাকরি পেতে হলে ফার্সি ভাষা জানতে হত। মক্তবে আরবি ও ফার্সি পড়ানো হত। অমুসলিম বা হিন্দু শিশুরাও মক্তবে পড়ত। সুলতানি আমলে অনেক হিন্দু কর্মকর্তা সাম্রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন।
সাইয়েদ সোলাইমান নাদভি তাঁর ‘হিন্দুয়ো কি তালিমি তরক্কি মে মুসলমান হুকুমরানো কি কোশিশে’ — গ্রন্থে এমন অনেক হিন্দু কর্মকর্তার পরিচয় দিয়েছেন, যাঁরা বাল্যকালে মক্তবে মুসলিম শিশুদের সাথে পড়াশোনা করেছেন।
সেকালে প্রতিটি মসজিদের জন্য লা-খেরাজ ভূমির ব্যবস্থা ছিল। এই জমির আয় থেকে মসজিদের ব্যয় নির্বাহ করা হত। সাধারণত মসজিদের ইমামই মক্তবে পড়াতেন। প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষায় ধর্মীয় শিক্ষাদানই ছিল মূল পাঠ্যক্রম। কবি বিপ্রদাস লিখেছেন, মুসলিম ছেলে-মেয়েদেরকে মক্তবে অজু করা ও নামায পড়ার পদ্ধতি শেখানো হত। এসময় হস্তলিপিও শেখানো হত।
প্রাথমিক শিক্ষার পরের ধাপ ছিল মাধ্যমিক শিক্ষা। মাদ্রাসাসমূহে এই স্তরের পাঠ দেয়া হত। সুলতানি আমলে শুরু থেকেই এই অঞ্চলে প্রচুর মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়। ঐতিহাসিক মিনহাজ-ই-সিরাজ লিখেছেন, বখতিয়ার খলজি লখনৌতি জয়ের পর সেখানে মসজিদ, মাদ্রাসা ও খানকাহ নির্মাণ করেন।
সুলতানি আমলের অন্য সুলতানরাও এই ধারা অব্যাহত রাখেন। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য লা-খেরাজ জমি বরাদ্দ দেয়া হত। শিক্ষকদের জন্যও ভাতা নির্ধারণ করা হত। সুলতানি আমলে শিক্ষকদের এই ধরনের ভাতাকে বলা হত মদদ-ই-মাআশ। সদরুস সুদুর ও শায়খুল ইসলাম নামে দুটি পদ ছিল। এই দুই পদে আসীন কর্মকর্তারা এসব মাদ্রাসা ও শিক্ষকদের দেখভাল করতেন। প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রচুর লা-খেরাজ জমি ওয়াকফ করে দেয়া হত। নওগাঁর মহিসন্তোষে তকিউদ্দিন আরাবি প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসার জন্য বরাদ্দ জমির পরিমাণ ছিল ২৭০০ একর। রাজশাহীর বাঘাতে প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসার জন্য ৪২টি গ্রাম দান করা হয়েছিল। এসব মাদ্রাসায় ছাত্ররা বিনা খরচে আহার, পোশাক, প্রসাধনী, পান্ডুলিপি নকল করার জন্য কাগজ-কলম ইত্যাদি সবই পেত।
সেসময় ধনাঢ্যরা তাদের সন্তানদের পড়াশোনার জন্য গৃহশিক্ষক নিয়োগ করতেন। এলাকার দরিদ্র ছাত্ররাও এই শিক্ষকের কাছে পড়ার সুযোগ পেত। সুলতানি আমলে প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই কালের আবর্তে হারিয়ে গেছে। তবে এখনো গুটিকয় মাদ্রাসার নিদর্শন টিকে আছে। এর মধ্যে নওগাঁর মহিসুনে তকিউদ্দিন আরাবির মাদ্রাসার কথা বলা যায়। এখানে পড়েছিলেন বিহারের বিখ্যাত সুফি শারফুদ্দিন মানেরির পিতা ইয়াহইয়া মানেরি। এই মাদ্রাসার পাঠ্যসূচিতে চিকিৎসাবিজ্ঞান, রসায়ন, জ্যামিতি, ইতিহাস ও অন্যান্য বিষয় পাঠ্য ছিল। সেসময় মহিসুন ছিল সোহরাওয়ার্দি তরিকার সুফিদের আবাসভূমি।
ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষদিকে শায়খ শারফুদ্দিন আবু তাওয়ামা সোনারগাঁওতে একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। ঐতিহাসিক তথ্যমতে, বাংলায় সর্বপ্রথম এখানেই হাদিসের দারস দেয়া হয়। ১৫০৩ খ্রিস্টাব্দে সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ দরসবাড়ি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। চাঁপাই-নবাবগঞ্জে এখনো এই মাদ্রাসার পরিকাঠামো টিকে আছে।
আবদুল করিম লিখেছেন, সুলতানি আমলে যেখানেই মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হত, সেখানেই একটা Religious Complex গড়ে উঠত। মাদ্রাসার সাথে মসজিদ, খানকা, মাজার এবং সরাইখানাও নির্মাণ করা হত। কখনো কখনো শুধু মসজিদ ও মাদ্রাসাও প্রতিষ্ঠা করা হত। সুফিরা মাদ্রাসা নির্মাণ করলে সাথে তাঁরা খানকাহও নির্মাণ করতেন।
এই মাদ্রাসাগুলো ছিল আবাসিক। ছাত্র-শিক্ষক সবাই মাদ্রাসায় থাকতেন। জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ শাহের শিলালিপিতে তালিবুল ইলমদের জন্য ব্যয় করার কথা আছে। বিভিন্ন শিলালিপিতে মাদ্রাসাকে দারুল খাইরাত বা বিনাউল খাইরাত বলা হয়েছে। যা থেকে বোঝা যায়, সুলতান ও আমিরদের পাশাপাশি বিভিন্ন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিরাও মাদ্রাসা ও ছাত্র-শিক্ষকদের জন্য ব্যয় করতেন। জাফর খানের মাদ্রাসার শিলালিপিতে দেখা যায় কাজি নাসির তাঁর ব্যক্তিগত অর্থ থেকে এই মাদ্রাসায় দান করেছিলেন।
এসব মাদ্রাসায় সাধারণত কুরআন, হাদিস, ধর্মতত্ত্ব, আইনশাস্ত্র, তাসাউফ, নাহু-সরফ, ফিকহ, আদব ও অন্যান্য ইসলামী বিষয় পাঠ্য ছিল। এর পাশাপাশি যুক্তিবিদ্যা, গণিতশাস্ত্র, চিকিৎসাবিদ্যা, রসায়ন, জ্যামিতি ও অন্যান্য বিষয়ও পড়ানো হত। এই অঞ্চলে গ্রিক চিকিৎসাবিদ্যার অধ্যয়ন করানো হত। ‘শরফনামা’ গ্রন্থে আমির সাহাবুদ্দিন হাকিম কিরমানি নামে চতুর্দশ শতকের একজন বিশিষ্ট বাঙালি চিকিৎসকের উল্লেখ পাওয়া যায়। সুলতান জামালউদ্দিন ফতেহ শাহ চিকিৎসাবিদ্যায় দক্ষতা অর্জন করেছিলেন। মুহাম্মদ বুদাই লিখিত হিদায়াতুর রমি বা তীর চালনার নির্দেশিকা বইটি অনেক মাদ্রাসায় পাঠ্য ছিল। এ থেকে বোঝা যায়, কোথাও কোথাও প্রাথমিক পর্যায়ের সমরবিদ্যা বা যুদ্ধশাস্ত্র সম্পর্কেও ধারণা দেয়া হত। অনেক মাদ্রাসায় ক্যালিগ্রাফি বা লিপিকলা শেখানো হত।
সুলতানি আমলে মেয়েদের পর্দার কারণে সাধারণত তাদের পড়াশোনা প্রাথমিক স্তর পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিল। বালিকাদেরও ‘বিসমিল্লাহ-খানি’ অনুষ্ঠান করা হত। তারা বালকদের সাথে একত্রে মক্তবে পড়াশোনা শুরু করত। অভিজাত পরিবারের মেয়েরা তাদের ঘরেই কোনো শিক্ষকের কাছে উচ্চশিক্ষা সমাপ্ত করতেন। আলেমগণ অবসরে তাদের কন্যাদেরকে শিক্ষা দিতেন।
সেকালে শিক্ষকরা সমাজে সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন। শিক্ষকের হাতে সন্তানকে তুলে দিয়ে পিতা-মাতা নিশ্চিন্ত হতেন। ছাত্ররাও শিক্ষকের প্রতি প্রচণ্ড ভক্তি ও শ্রদ্ধা অনুভব করত।
রাজ দরবারের পক্ষ থেকে শিক্ষকদের লা-খেরাজ জমি ও ভাতা দেয়া হত। ছাত্ররা শিক্ষকদের সাংসারিক কাজকর্মেও সাহায্য করত। মাদ্রাসার শিক্ষকরা সামাজিক বিভিন্ন বিষয়েও জড়িয়ে যেতেন। যেমন বিয়ে-শাদি ও অন্যান্য অনুষ্ঠান পরিচালনা। ছাত্রদের অনুপস্থিতি, পাঠে অমনোযোগ, বেয়াদবির মতো অপরাধে শাস্তি দেয়া হত। কখনো বেত্রাঘাত, কখনো অন্য শাস্তি দেয়া হত।
প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা মেঝেতে খড়ি-মাটি দিয়ে লিখত। এরপর তারা কলাপাতা, তালপাতা এসবের ওপর লিখত। কলম হিসেবে ব্যবহার করত বাঁশের কঞ্চি, পাখির পালক বা নলখাগড়ার টুকরো। ছাত্ররা বসত মেঝেতে বা ঘর থেকে নিয়ে আসা মাদুরে। ছাত্ররা নিজেরাই লেখার কালি তৈরি করত। হরিতকি ও প্রদীপের নির্বাপিত ফুলকা দ্বারা তারা যে কালি তৈরী করত, তা কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত টিকে থাকত।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder