সন্তান লালন-পালনে করণীয় ও বর্জনীয়
নতুন পয়গাম: সন্তানকে বড় হতে দেখা এক অনন্য আনন্দ। তবে সন্তান লালন-পালন মোটেই সহজ বিষয় নয়। এটি শুধু বাবা-মায়ের নয়, পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও অভিভাবকদেরও সচেতনতা দাবি করে। অনেক সময় অভিভাবকরা অজান্তেই এমন কিছু আচরণ করেন, যা শিশুর মানসিক ও আচরণগত বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই এই পরিসরে কিছু করণীয় ও বর্জনীয় সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোকপাত করার পাশাপাশি যে ভুলগুলো ভুলেও করা উচিত নয়, সেগুলো সম্পর্কেও সতর্ক করা হল।
অতিরিক্ত শাসন: সন্তান ছোট হোক বা বড়, তার ভুলকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করুন। অনেক অভিভাবক ছোটখাট ভুলেও শিশুকে কঠোর শাসন করেন। এতে সন্তানের আত্মবিশ্বাস কমে যায় এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়।
অন্যের সঙ্গে তুলনা: পরীক্ষার ফল, উচ্চতা বা কর্মকাণ্ডের জন্য সন্তানের তুলনা অন্য ভাইবোন বা বন্ধুদের সঙ্গে করা উচিত নয়। তুলনা শিশুর মনে হীনমন্যতা এবং কুণ্ঠা সৃষ্টি করে, যা তাদের নিজস্ব দক্ষতা বিকাশে বাধা দেয়।
ভুল স্বীকার না করা: কোনো মানুষই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। ভুল সবার হয়। বাবা-মায়েরও ভুল হয়। ভুল হলে তা অকপটে স্বীকার করতে সন্তানের কাছে লজ্জা পাবেন না। এতে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয় এবং সন্তান শেখে, ভুল করা স্বাভাবিক একটি বিষয়। এতে সহজেই ভুল সংশোধনের মানসিকতে গড়ে ওঠে এবং একই ভুলের পুনরাবৃত্তি কম হয়।
প্রশংসা না করা: সন্তানের ছোট ছোট সাফল্যও প্রশংসার যোগ্য। ছবি আঁকা, সুন্দর হাতের লেখা বা সময়মতো পড়াশোনা করা — এসবের জন্য সন্তানের প্রশংসা করুন। এতে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং ভাল কাজের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়।
সময় না দেওয়া: মূল্যবান উপহার বা টাকার চেয়ে সন্তানের জন্য সময় দেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাদের সঙ্গে সময় কাটানো ও তাদের প্রতি মনোযোগ দেওয়া, তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং রেসপন্স করা উচিত। এতে শিশুরা নিজেদের অবহেলিত মনে করে না। এবং এর দ্বারা আপনি সহজে তাদের কাছে ভালবাসা ও সম্মান পাবেন।
সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ না দেওয়া: সন্তানকে ছোট ছোট সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিন। যেমন- কী খাবে, কোন জামা পরবে ইত্যাদি বিষয়ে তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিন এবং এসব তুচ্ছ বিষয়ে তাদেরকে সিদ্ধান্ত নিতে দিন। এটুকু অধিকার তাদের প্রাপ্য। সব ব্যাপারে আপনি হস্তক্ষেপ করবেন না। ছোট ছোট স্বাধীনতা ও অধিকার পেলে শিশুদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়।
সন্তানের সামনে নেতিবাচক কথা বলা: সন্তানের সামনে অন্যকে অপমান বা নেতিবাচকভাবে উল্লেখ করা উচিত নয়। কিন্তু বাস্তব বিষয় নিয়ে শিশুদের সঙ্গে আলোচনা করা যেতে পারে, তবে তা সর্বদা সংযমী ও ইতিবাচকভাবে করা উচিৎ।



