BREAKING:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল, উইনার্স হরিপাল, রানার্স নবীন সংঘ ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা ভারতীয় মুসলিম রাজনীতির প্রেক্ষাপট: ইতিহাস, সংকট ও রূপান্তর ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে অসহায়দের পাশে ‘মানবতা’ কৃতজ্ঞতাবোধ মানুষকে সমৃদ্ধ করে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সরকারি ভাতা গ্রহণ কি ইসলামে বৈধ? নজরুলের জন্মদিন: আর কতকাল সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগবে বাঙালি? ভারতীয় মুসলিম সমাজে মোল্লাতন্ত্রের উত্থান; এক ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ ‘মোল্লাতন্ত্র’ শব্দের সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা কুরবানির রাজনীতি: যখন গরুকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে, আর আদর্শ হারিয়ে যায় বিদ্রোহী কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী: নজরুল সাহিত্যে মৌলিকতা ও ধর্মীয় সাম্যতা কাজী নজরুল ইসলাম: শৃঙ্খলভাঙা মানবাত্মার ঘোষণা ডোমকলে স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল খতিয়ে দেখতে আকস্মিক পরিদর্শনে সিপিআইএম বিধায়ক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সাথে সাক্ষাৎ মাদ্রাসা টিচার্স এসোসিয়েশনের বেহাল অবস্থা জয়নগর কুলতলি গ্রামীন হাসপাতালের হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে মগরাহাট স্টেশনে বিক্ষোভ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন ঈদুল আজহার দিনে পরীক্ষা, তারিখ পরিবর্তনের আহ্বান এসআইও’ র আল্লাহপ্রদত্ত ইলম (জ্ঞান) মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি আইনস্টাইন ও গ্যোডেল জুটি: গণিতের সংজ্ঞা বদলে গেল রাতারাতি হজ ২০২৬: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের ইতিহাস ও মর্যাদা ঋতু পরিবর্তন: আল্লাহর এক মহান নিয়ামত আমি ইলম (জ্ঞান) বলছি কুলতলীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে অগ্নিসংযোগ সুন্দরবনের তুলো চাষ পরিদর্শন করেছেন কেন্দ্র ও রাজ্যের কৃষি বিশেষজ্ঞরা চাকবেড়িয়ায় বুদ্ধিজীবী সেমিনার: প্রান্তিক ও সংখ্যালঘুদের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়ের স্থায়ী প্রশান্তি আকাশের রঙ কি নীল-ই থাকবে, নাকি বদলে যাবে? ফলতার পুনর্নির্বাচনে বেপাত্তা তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান নরেন্দ্রপুরে নাবালিকাকে যৌন হেনস্থায় অবশেষে ৬২ বছরের অভিযুক্ত গ্রেফতার জঙ্গলে মধু সংগ্রহকারী মৌলে বাঘের আক্রমণে যখম সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় উচ্চ মাধ্যমিক তো হল, এবার কোন পথে এগোবেন? একমেরু বিশ্বের অধ্যায় শেষ; শুরু বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা বিশ্বজয়ী মেধা ও সংকীর্ণ রাজনীতি: ‘সোনার বাংলা’-র আড়ালে কি হারিয়ে যাচ্ছে ‘সোনার ভারত’-এর স্বপ্ন? ইসরাইল-বান্ধব না হতে আরব আমিরাতকে সতর্ক করল ইরান ১৯ মে: ভাষা-সংস্কৃতি নিয়েও গণসংগ্রাম সম্ভব গোরু বিতর্ক: বহুত্ববাদী বাস্তবতাকে মানলেই সংঘাত কমবে সিএবি পরিচালিত জেলা ইন্টার স্কুল ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন ধূপগুড়ি হাই স্কুল দিনরাত মানুষের সেবায় বনকর্মীরা, ক্ষুধা মেটাতে মুড়ি-চানা খেয়েই কর্তব্য পালন বিন্নাগুড়ির বনকর্মীদের.!” “ঈদকে সামনে রেখে বানারহাট থানায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, উপস্থিত ইমাম ও ইসলামিক সম্প্রদায়ের মানুষজন..! বিজয়গঞ্জ বাজারে মহিলা সংগঠনের প্রতিবাদ মিছিল সরকারি ও বেসরকারি বাসে ছাত্র কনসেশনের দাবিতে মালদায় স্মারকলিপি হুগলিতে পেট্রোলের দর ১১০ টাকা ডিজেল ৯৬ টাকা, সমস্যায় ক্রেতারা হুগলি জেলায় আটদিনব্যাপী জনজাতীয় গরিমা উৎসবের সূচনা সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় হোমিয়োপ্যাথিক ওষুধ নাক্স ভোমিকা এবার হতে পারে দুরন্ত জৈব কীটনাশক এলিয়েনদের গোপন তথ্য কি ট্রাম্পের হাতে আছে? জল্পনা ইসরাইলী কারাগারে ফিলিস্তিনী নারীদের নগ্ন তল্লাশি, নীরব গণহত্যা বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: অহংকারের পতন, ঔদ্ধত্যের পরাজয় প্যারেন্টিং পয়গাম: বাচ্চা খুব বেশি খেলে বা খেতে না চাইলে করণীয় গোলমরিচের কারণেই পরাধীন হয়েছিল ভারত! বৃষ্টির জলে ভেজার উপকারিতা অনেক সবথেকে ধনী ভারতীয় চিকিৎসক কেরলের শামশির ভায়ালিল নিট-ইউজি বাতিল: মেধার নিলামে যখন নটে গাছটি মুড়োল ফের চীন সফরে ট্রাম্প, নেপথ্যে কোন উদ্দেশ্য? উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম দশে ৬৪ জন, পাশের হার ৯১.২৩ শতাংশ, সেরা আদৃত পাল, মেয়েদের মধ্যে প্রথম হুগলীর মেঘা মজুমদার কুরবানী: মনের পশুকে বিসর্জন দেওয়ার উৎসব নির্বাচন কমিশনার বাছাই কমিটিতে প্রধান বিচারপতি না থাকায় প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের, গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ বুলডোজার অভিযান: তপসিয়ায় মিল্লী ইত্তেহাদ পরিষদের প্রতিনিধি দল ফলতা পুনর্নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন পুষ্পা জাহাঙ্গির খান, কটাক্ষ বিজেপি, আইএসএফের স্বরশ্রুতি কালচারাল একাডেমির রবীন্দ্র নজরুল সন্ধ্যা নির্যাতিতার পরিবারের পাশে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রিসভার বৈঠকে সপ্তম বেতন কমিশন অনুমোদন রাজ্যে অবৈধ মাদ্রাসা বন্ধের হুঁশিয়ারি, কড়া মন্তব্য মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সোনারপুরে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে আগুন ডুয়ার্সের গয়েরকাটা চা বাগানে বনদপ্তরের পাতা খাঁচায় বন্দি চিতা বাঘ! চম্পাহাটি এলাকায় বড়সড়ো গ্যাসের কালোবাজারি ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসামান্য কৃতিত্বের জন্যই “বিদ্যাসাগর” উপাধি নবনির্বাচিত চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগকে সংবর্ধনা দিল হুগলি অ্যাসোসিয়েশন অফ কমার্স বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট -এর মুর্শিদাবাদ জেলা শাখার সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা রাজধানী এক্সপ্রেসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, অল্পের জন্য রক্ষা যাত্রীরা তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার কৃষ্ণনগরের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা সরজিৎ আগ্নেয়াস্ত্রসহ এক ব্যক্তি গ্রেফতার গাংনাপুর পুলিশের হাতে গড়িয়ায় বিজেপি কর্মীকে কাটারির কোপ, ধৃত এক তৃণমূল কর্মী জয়নগরে জুয়ার ঠেক চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার ৪

বাংলার মাটিতে তাবলিগি ইজতেমা আত্মিক প্রত্যাবর্তন, নীরব সমাজ-সংলাপ

প্রকাশিত: ৩ জানুয়ারী ২০২৬, দুপুর ১২:৩৩ | আপডেট: ৮ জানুয়ারী ২০২৬, দুপুর ১২:৪৩
গতকাল ২ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে বাংলার মাটিতে শুরু হল তাবলিগের এক বড় ফজীলতপূর্ণ ইজতেমা। একটি ঘটনা, যা কেবল ধর্মীয় ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ নয়, বরং সমাজ ও আত্মার গভীরে পৌঁছে যাওয়া এক দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মুহূর্ত। প্রায় তিন দশকের ব্যবধান পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে আবার এই বিশাল আন্তর্জাতিক ধর্মীয় সমাবেশের আয়োজন বাংলার সাম্প্রতিক ইতিহাসে এক তাৎপর্যপূর্ণ বাঁকচিহ্ন। হুগলি জেলার পুইনান প্রান্তরে ২, ৩ ও ৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই গুরুত্বপূর্ণ ইজতেমা এমন এক সময়ে ফিরে এল, যখন সমাজ বিশ্বাসের সংকট, সহনশীলতার ঘাটতি ও নৈতিক ক্লান্তিতে ভুগছে।

মহম্মদ মফিজুল ইসলাম:গতকাল ২ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে বাংলার মাটিতে শুরু হল তাবলিগের এক বড় ফজীলতপূর্ণ ইজতেমা। একটি ঘটনা, যা কেবল ধর্মীয় ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ নয়, বরং সমাজ ও আত্মার গভীরে পৌঁছে যাওয়া এক দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মুহূর্ত। প্রায় তিন দশকের ব্যবধান পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে আবার এই বিশাল আন্তর্জাতিক ধর্মীয় সমাবেশের আয়োজন বাংলার সাম্প্রতিক ইতিহাসে এক তাৎপর্যপূর্ণ বাঁকচিহ্ন। হুগলি জেলার পুইনান প্রান্তরে ২, ৩ ও ৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই গুরুত্বপূর্ণ ইজতেমা এমন এক সময়ে ফিরে এল, যখন সমাজ বিশ্বাসের সংকট, সহনশীলতার ঘাটতি ও নৈতিক ক্লান্তিতে ভুগছে।
এই মহতী ইজতেমা কোনও উৎসবের রঙিন কোলাহল নয়, কোনও আনুষ্ঠানিক আচারও নয়। এটি এক নীরব অথচ সুদূরপ্রসারী আত্মিক আন্দোলন — যেখানে মানুষের ভেতরের মানুষটির সঙ্গে আবার মুখোমুখি হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। তাবলিগ জামাতের উদ্যোগে পরিচালিত এই মহাসমাবেশের কেন্দ্রে রয়েছে আত্মশুদ্ধি, সংযম, বিনয় ও মানবিক দায়িত্ববোধের শিক্ষা। এখানে বক্তৃতা আছে, কিন্তু উত্তেজনা নেই। সমাগম আছে, কিন্তু প্রদর্শন নেই। ধর্ম আছে, কিন্তু রাজনৈতিক উচ্চারণ নেই। এই নির্লোভ চরিত্রই ইজতেমাকে আলাদা করে চিহ্নিত করে।
বাংলার সামাজিক ইতিহাসে ধর্ম কখনও নিছক ব্যক্তিগত পরিসরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। সুফি দরবেশদের মানবিক আহ্বান, বৈষ্ণব আন্দোলনের প্রেমদর্শন কিংবা গ্রামীণ ইসলামের মরমি ধারা — সব ক্ষেত্রেই ধর্ম সমাজকে শাসন নয়, সংলাপের ভাষা দিয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় এই ইজতেমার প্রত্যাবর্তন বাংলার ধর্মীয় পরিসরে এক নতুন আত্মবিশ্বাসের জন্ম দিচ্ছে। দীর্ঘদিন পর আবার এই সমাবেশ হওয়া একথাই মনে করিয়ে দেয় — ধর্মীয় চেতনা সময়ের চাপে মুছে যায় না, বরং অপেক্ষার মধ্য দিয়ে পরিণত হয়।
আজ যখন বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, গণহত্যা, শরণার্থী সংকট ও ধর্মীয় বিদ্বেষ প্রতিদিনের খবর হয়ে উঠেছে, তখন তাবলিগের এই ইজতেমার মতো একটি সমাবেশ তার নীরব বার্তার জন্য আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। এখানে মানুষকে শেখানো হয় — নিজেকে সংশোধন না করে পৃথিবী বদলানো যায় না। ব্যক্তি যদি নৈতিকভাবে দৃঢ় না হয়, তবে কোনও রাজনৈতিক বা সামাজিক কাঠামোই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। এই উপলব্ধিই ইজতেমার মূল সুর।
লক্ষ লক্ষ মানুষের এই সমাবেশের গুরুত্ব কেবল ভিড়ের পরিসংখ্যানে নয়, বরং তাদের মানসিক যাত্রায়। দেশ-বিদেশ থেকে আগত মুসল্লিরা এখানে আসেন নিজের দৈনন্দিন জীবন, আচরণ, সম্পর্ক ও বিশ্বাসকে নতুন করে পরখ করতে। কুরআন ও সুন্নাহর আলোচনার পাশাপাশি বর্তমান বিশ্বের নৈতিক বিপর্যয়, পারিবারিক ভাঙন, ভোগবাদী আসক্তি ও অহংকারের পরিণতি নিয়ে কথা হয়। ফলে এই ইজতেমা এক অর্থে একটি অস্থায়ী বিশ্ববিদ্যালয় — যেখানে পাঠ্যক্রম আত্মসমালোচনা এবং ডিগ্রি চরিত্রের পরিশুদ্ধতা।
ইজতেমার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল এর সামাজিক বার্তা। এমন এক সময়ে, যখন ধর্মকে প্রায়শই বিভাজনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তখন এই সমাবেশ ভ্রাতৃত্ব ও সহনশীলতার এক বিকল্প ভাষা হাজির করে। এখানে মানুষ এক কাতারে দাঁড়ায় — ধনী-গরিব, দেশি-বিদেশি, শিক্ষিত-অশিক্ষিতের ভেদ ভুলে। এই অভিজ্ঞতা অংশগ্রহণকারীদের মনে এমন এক মানবিক বোধ জাগিয়ে তোলে, যা সমসাময়িক রাজনীতির সংকীর্ণ পরিচয়বোধকে প্রশ্নের মুখে ফেলে।
পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষাপটে এই দিকটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ধর্মীয় পরিচয়কে ঘিরে যে উত্তেজনা ও অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে, তার মধ্যে বিশ্ব ইজতেমা এক শান্ত, সংযত ও অহিংস ধর্মচর্চার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। এটি দেখায় — ধর্ম মানে আতঙ্ক নয়, শাসন নয়; ধর্ম মানে দায়িত্ব, সংযম ও মানবিকতা।Millions attend world's second-largest Muslim gathering | Religion | Al Jazeera
অবশ্যই, এত বড় সমাবেশ প্রশাসনিক দিক থেকেও এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। পরিবহণ, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, পানীয় জল, স্যানিটেশন — সবকিছুর উপরই প্রবল চাপ পড়ে। কিন্তু একই সঙ্গে এই আয়োজন প্রশাসন ও সমাজের সমন্বয়ের পরীক্ষাও বটে। দাদপুর থানার পুলিশ-প্রশাসনের তৎপরতা, স্থানীয় মানুষের স্বেচ্ছাসেবী অংশগ্রহণ এবং স্বনিয়ন্ত্রিত শৃঙ্খলা দেখায় — সঠিক পরিকল্পনা ও পারস্পরিক আস্থার মাধ্যমে বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশও শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত করা সম্ভব।
প্রশ্ন ওঠে, এ ধরনের ধর্মীয় সমাবেশ কি বাস্তব সামাজিক সমস্যার সমাধান দেয়? দারিদ্র্য, বেকারত্ব, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে ধর্মীয় উপদেশ অনেকের কাছে অপ্রাসঙ্গিক মনে হতে পারে। কিন্তু ইতিহাস বলে, নৈতিক ভিত্তি ছাড়া কোনও সামাজিক সংস্কার স্থায়ী হয় না। বিশ্ব ইজতেমা অর্থনৈতিক নীতি বদলায় না, কিন্তু মানুষের মানসিক কাঠামো বদলানোর চেষ্টা করে। আর সেই বদলই দীর্ঘমেয়াদে সমাজকে প্রভাবিত করে।
ইজতেমা থেকে ফিরে আসা বহু মানুষের জীবনে ছোট ছোট পরিবর্তন দেখা যায় — হিংসা ও নেশা থেকে সরে আসা, পারিবারিক দায়িত্বে ফিরে যাওয়া, অসৎ উপার্জন পরিত্যাগের সিদ্ধান্ত। এগুলো সংবাদ শিরোনাম হয় না, কিন্তু সমাজের নৈতিক আবহে নীরব পরিবর্তন আনে।
একই সঙ্গে বিশ্ব ইজতেমা পশ্চিমবঙ্গের মুসলমান সমাজকে আত্মপরিচয়ের এক ইতিবাচক মঞ্চও দেয়। যেখানে মুসলমান পরিচয় প্রায়শই সন্দেহ বা বিতর্কের চোখে দেখা হয়, সেখানে এই শৃঙ্খলাবদ্ধ, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ এক ভিন্ন বাস্তবতা তুলে ধরে। এটি প্রমাণ করে — ধর্মীয় অনুশীলন উগ্রতার সমার্থক নয়; বরং তা হতে পারে আত্মনিয়ন্ত্রণ ও সামাজিক দায়িত্বের পথ।
তবে পরিবেশগত দায়িত্বের প্রশ্ন উপেক্ষা করলে চলবে না। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্নতা ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়গুলি যথাযথ গুরুত্ব না পেলে ভবিষ্যতে এই ধরনের আয়োজন প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। ধর্মীয় চর্চার সঙ্গে পরিবেশ সচেতনতা যুক্ত হলে তার সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা আরও গভীর হবে।
আজ যখন বিশ্ব ইজতেমা শুরু হয়েছে, তখন এই প্রশ্নটাই সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক — আমরা কি এটিকে কেবল একটি ধর্মীয় ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখব, নাকি সমাজের নৈতিক আত্মসমীক্ষার সুযোগ হিসেবে দেখব? বিশ্বাসের সংকট ও পারস্পরিক অবিশ্বাসের এই সময়ে ইজতেমার মূল শিক্ষা — নিজেকে বদলাও, তবেই সমাজ বদলাবে — নতুন করে ভাবার দাবি রাখে।
তিন দশক পর বাংলায় বিশ্ব ইজতেমার প্রত্যাবর্তন তাই কোনও পুনরাবৃত্তি নয়; এটি এক নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত। এই সম্ভাবনাকে আমরা কীভাবে গ্রহণ করব, সেটাই নির্ধারণ করবে — এই সমাবেশ ভবিষ্যতে কেবল স্মৃতি হয়ে থাকবে, নাকি সমাজের নৈতিক মানচিত্রে স্থায়ী ছাপ রেখে যাবে।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder