লক্ষ্মী ভাণ্ডারে ৭২ হাজার কোটি টাকা!
৫০ মাস ধরে সুবিধা পাচ্ছেন প্রায় দেড় কোটি মহিলা
নতুন পয়গাম, কলকাতা:
সর্বশেষ ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিশ্রুতি ছিল, তারা তৃতীয়বার ক্ষমতায় এলে চালু করা হবে লক্ষ্মী ভাণ্ডার প্রকল্প। যথারীতি ক্ষমতায় ফিরে ওই বছরের সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্যের ১ কোটি ৪৯ লক্ষ মহিলার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নগদ টাকা পাঠাতে শুরু করে রাজ্য সরকার। তারপর কেটে গেছে ৫টি বছর। বাংলার দুয়ারে ফের এসে হাজির হয়েছে বিধানসভা নির্বাচন। এই গত ৫০ মাসে রাজ্য সরকার লক্ষ্মী ভাণ্ডার প্রকল্পে ২ কোটি ২০ লক্ষ ২৫ হাজার ৩৪২ জন মহিলাকে যুক্ত করেছে। এর জন্য নবান্ন থেকে ৫০ মাসে দেওয়া হয়েছে ৭২ হাজার ১২৯ কোটি টাকা।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী শশী পাঁজা জানিয়েছেন, বিহারে নির্বাচন আসতেই এককালীন ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে মহিলাদের। কিন্তু এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় রয়েছে। ভোট মিটলে আদৌ এই অনুদান থাকবে বলে মনে হয় না। পশ্চিমবঙ্গের দেখাদেখি বিজেপি শাসিত বা ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যগুলো মহিলাদের বিশেষ ভাতা দেওয়া শুরু করেছে। কিন্তু নানান জটিল শর্ত থাকায় ওইসব রাজ্যের মহিলারা সবাই সুবিধা পাচ্ছেন না। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, ভোট মিটতেই প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গ সরকার কিন্তু দল মত নির্বিশেষে নিঃশর্তে সকলকেই সমস্ত সরকারি প্রকল্পের সুবিধা দিয়ে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাবনা থেকে বেরিয়ে আসা সবুজসাথী, স্বাস্থ্যসাথী, শ্মশানসাথী, রূপশ্রী, কন্যাশ্রী, যুবশ্রী, শ্রমশ্রী, উৎসশ্রী থেকে লক্ষ্মী ভাণ্ডার কংগ্রেস, সিপিএম, বিজেপি সবাই পাচ্ছেন। শশী পাঁজা এও বলেন, মা মাটি মানুষ সরকারের এসব জনহিতকর প্রকল্পের অনেকগুলোই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে। যা এ দেশে বিরল নজির সৃষ্টি করেছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, লক্ষ্মী ভাণ্ডার প্রকল্পে সুবিধাপ্রাপ্তদের মধ্যে ২৯ লক্ষ ৪৫ হাজার ৯৭২ জন তফসিলি, ৪ লক্ষ ৭৮ হাজার ৪২৭ জন তফসিলি উপজাতির। এই প্রকল্পে মোট প্রায় ২ কোটি ২১ লক্ষ মহিলার স্থায়ী আয় নিশ্চিত হয়েছে। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে রাজ্যের অর্থনীতিতে। ডিসেম্বরে আরও কয়েক লক্ষ মহিলার নাম এই প্রকল্পে যুক্ত হতে চলেছে।
উল্লেখ্য, প্রথমদিকে লক্ষ্মী ভান্ডারে তফসিলি জাতি ও উপজাতির মহিলারা প্রতি মাসে ১০০০ টাকা এবং অন্যান্যরা পেতেন ৫০০ টাকা। পরে তা বাড়িয়ে করা হয় ১২০০ টাকা ও ১০০০ টাকা।








