BREAKING:
জোড়াসাঁকোয় সাহিত্য-সংস্কৃতির মহোৎসবে কলম শিল্পী গ্র্যান্ড ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ খোশবাগ বাসস্ট্যান্ডের কাছে পথ দুর্ঘটনা, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন দন্ত চিকিৎসক বসিরহাট দরবার শরিফে হুমায়ুন কবীর, পেলেন উষ্ণ অভ্যর্থনা লাল বালির চড়া দাম, গ্রামবাসীদের ভরসা পাথরের গুড়ো   রমজানে অসহায়দের পাশে আল হোসাইনী হেল্প ফাউন্ডেশন সুন্দরবনের লবণাক্ত মাটিতে সূর্যমুখী চাষে সাফল্য, লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা হুগলি জেলায় এসআইআর এর প্রথম পর্যায়ের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করলেন জেলা শাসক খুরশিদ আলি কাদরি  বন্যপ্রাণীর উপদ্রব রুখতে তৎপর বনদপ্তর উত্তাপহীন ডার্বিতে মহামেডানকে ৫ গোলে উড়িয়ে দিল মোহনবাগান মরণবাঁচন ম্যাচে আজ সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিততেই হবে ভারতকে রাজনগরে চাঞ্চল্য: গাংমুড়ি গ্রামে বাড়ির ভিতর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার মোবাইল গেম খেলতে খেলতেই নিভে গেল ২১ বছরের তরতাজা প্রাণ  মুর্শিদাবাদের মুকুটে নতুন দুই পালক, বিশ্ববিদ্যালয় ও কাটরা মসজিদের তোরণ প্রকল্পের শিলান্যাস করলেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম! রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিশটি আসনে লড়বে পুকুর খনন করার সময় প্রাচীন বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার হল পান্ডুয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা। রানে ফিরলেন অভিষেক, জয়ে ফিরলো ভারত; বেঁচে রইলো সেমির স্বপ্ন এসআইআর  ইস্যুতে আতঙ্ক নয়, আইনি পথে আপিলের আহ্বান মিল্লি ঐক্য মঞ্চের কালিয়াচক আবাসিক মিশনে বিজ্ঞান বিভাগের প্রবেশিকা পরীক্ষা সম্পন্ন, উৎসাহ চোখে পড়ার মতো পরীক্ষার দিন আচমকা মৃত্যু অষ্টম শ্রেণির ছাত্রের, শোকস্তব্ধ সোনারপুর নাবালিকাকে বিবাহের অভিযোগে জয়নগরে গ্রেপ্তার যুবক জয়নগরে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা, আহত তিন শ্রমিক নেতা মহম্মদ ওয়েস এর নেতৃত্বে বড়জোড়ায় বিরাট মিছিল কুলতলির বিধায়কের উপস্থিতিতে ঢালাই রাস্তার কাজের সূচনা হলো নলগোড়ায় ঘুটিয়ারীশরিফে পুলিশের তৎপরতায় ৫৪ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার গঙ্গাকে দূষণমুক্ত করতে উদ্যোগ সুন্দরবনে বাঘের হামলায় ফের মৃত্যু, সরকারি ক্ষতিপূরণের দাবি এসআইও নিয়ে মিথ্যা মন্তব্যের প্রতিবাদে কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলন জামাআতে ইসলামী হিন্দের ইফতার সামগ্রী বিতরণ বই হোক সই, বইয়ের জন্য করিমপুরে পথে হাঁটল শত শত মানুষ রমজান মাসে ৩০০ দুস্থ পরিবারের পাশে সমাজসেবী হাফেজ নজরুল ইসলাম অবশেষে ধুলিয়ান গঙ্গা স্টেশনে বাংলা স্থান পেল  মুর্শিদাবাদে দুই মেগা প্রকল্পের শিলান্যাস ২৮ ফেব্রুয়ারি ভাঙড়ে ২৮ টি তাজা বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, গ্রেপ্তার দুই জন্মদিনে অবহেলিত ভূদেব মুখোপাধ্যায়, তালাবন্ধ গ্রীলে মালা ঝুলিয়ে জন্মদিন পালন করল বিজেপি বালিভর্তি ট্রাক চলাচল ঘিরে উত্তেজনা, সোনামুখীতে গ্রামবাসীর রাতভর বিক্ষোভ বসিরহাটে দলবদল ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ, তৃণমূলের সভায় বহু নেতার যোগদান ভোটের আগে বিরোধী শিবিরে বড় ভাঙন কুলতলীতে কালিয়াচকের বাহাদুরপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড চুঁচুড়ায় সোমবার সাতসকালে পথ দুর্ঘটনা, জখম যুবকের অবস্থা আশঙ্কাজনক নিহত সেনা জওয়ানের মরদেহ পৌঁছাল শেখপাড়ার বাড়িতে ব্লক প্রাণিসম্পদ বিকাশ দিবস পালিত জয়নগরে অনলাইন বাণিজ্যের প্রসারে ক্ষুদ্র ব্যবসা চাপে: মত বড়জোড়া চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশে ফের পরিযায়ী শ্রমিকের উপর হামলা উত্তরলক্ষীপুরের গর্ব: প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ হতে চলেছেন ডা: মোবারাক হোসেন পুনরাবৃত্তি চায় ভারত, দক্ষিন আফ্রিকা চায় প্রত্যাবর্তন; সুপার এইটে আজ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই টানা দুই ম্যাচে জয় ইস্টবেঙ্গলের, দুই ম্যাচেই জোড়া গোল ইউসুফের বৃষ্টিতে ধুয়ে গেল পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ডের ম্যাচ আজ শুরু সুপার এইটের লড়াই, প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি পাক বনাম নিউজিল্যান্ড আজ ইস্টবেঙ্গলের সামনে স্পোর্টিং দিল্লি, ভরসার নাম ইউসুফ আজ্জেরি প্রত্যাশিত হার, ঘরের মাঠে মহামেডান বধ এফসি গোয়ার ১৫ বছরেও শেষ হয়নি বক্সীপুর ব্রিজ নির্মাণ কাজ, জনস্বার্থ মামলা গড়াল কলকাতা হাই কোর্টে করিমপুর এলাকাবাসীকে বহরমপুর যেতে আর পেরুতে হবেনা বিপদ সংকুল রাস্তা এসআইআর এর চাপ, শ্রীরামপুরে মাঝ গঙ্গায় ঝাঁপ বিএলও’র ছেলেধরা সন্দেহে পুড়িয়ে খুনের চেষ্টার ঘটনায় বলাগড়ে ২৫ জন দোষীকে সাজা শোনালো চুঁচুড়ার ফার্স্ট ট্রাক কোর্ট বেআইনি মাটির গাড়ির ধাক্কায় ২ যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে জি-প্লটের আদিবাসী শিশুরা  জল্পনার অবসান, তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন বাম যুব নেতা প্রতীক উর রহমান কনকচূড় ধানের চাল পেল জাতিসংঘের ঐতিহ্য স্বীকৃতি, খুশির হাওয়া জয়নগর জুড়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসন-এনজিওর যৌথ উদ্যোগে সচেতনতা শিবির ঘোড়ামারা দ্বীপ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপের নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের, গঠিত হচ্ছে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি শেষ সময় ঘনাতেই যুব সাথী প্রকল্পের ফর্ম জমায় দীর্ঘ হচ্ছে লাইন পখন্না রামকৃষ্ণ আশ্রমে শ্রীরামকৃষ্ণের ১৯১তম জন্মতিথি উদ্‌যাপন বড়জোড়া কলেজে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত সায়েম চৌধুরী ওরফে বাবু: সংগঠন, সংগ্রাম ও সেবার রাজনীতি সোনার প্রতিমার প্রলোভনে ১১ লক্ষ টাকার প্রতারণা ঘুঁটিয়ারীশরিফে পুলিশের সাফল্য: ২৪ চুরি যাওয়া মোবাইল উদ্ধার হুগলি জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের উদ্যোগে খাদ্য সুরক্ষা মেলা’য় সুষম খাদ্য খাওয়ার পরামর্শ  উলুবেড়িয়ায় ১৫ টিয়া উদ্ধার, আন্তরাজ্য পাখি পাচারচক্রের সদস্য গ্রেফতার সরকারি জমি দখল ও নয়নজুলি ভরাটের অভিযোগে চাঞ্চল্য ধূপগুড়িতে কাবিলপুর হাই স্কুলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠা দিবস ঘটা করে উদযাপন পবিত্র রমজান মাস শুরুর ঠিক আগে ইফতার সামগ্রী বিতরণ জয়নগরে ২০২৬ নির্বাচন ঘিরে ফারাক্কায় জোর চর্চায় রেহেনা ইয়াসমিন  পিতা-মাতার স্মৃতিতে আট দিনব্যাপী ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন পুলিশকর্মী ছেলের উদ্যোগে সুন্দরবনের মৎস্যজীবীদের মৃত্যু মিছিল থামছেই না, সরকারি ক্ষতিপূরনের দাবি মাটি, মানুষ ও সংগঠন: রাবিউল ইসলামের রাজনৈতিক দর্শন দুবে ঝড়ে উড়ে গেল নেদারল্যান্ডস, বোলিংয়ে নায়ক বরুণ হঠাতই ব্যাটিং বিপর্যয়, রঞ্জি থেকে বিদায় বাংলার ফারহানের দুরন্ত সেঞ্চুরি, সুপার এইটে পাকিস্তানও ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে আজ নামিবিয়ার মুখোমুখি পাকিস্তান সামির ৮ উইকেটেও, ব্যাটিং বিপর্যয়ে হারের মুখে বাংলা চুঁচুড়ায় প্রার্থী ঘোষণার আগেই দেওয়াল লিখনে জোর তৃণমূল, পাল্টা কটাক্ষ বিজেপির কুলতলিতে আয়ুষ মেলা: বিকল্প চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগ রানীনগরে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীসভা ও জাকির হোসেনের উপস্থিতিতে উপচে পড়া ভিড়  কৃষকদের সমস্যা সমাধানে চালু ‘ভারত বিস্তার’ এআই টুল গোবর্ধনডাঙ্গায় তৃণমূল ট্রেড ইউনিয়নের কর্মী সভা কাবিলপুরে মানব সেবা ফাউন্ডেশনের পথচলা শুরু মালদা জেলায় হাই মাদ্রাসা, আলিম ও ফাজিল পরীক্ষা নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন পা দিয়ে লিখেই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা মানকুন্ডুতে সারা বাংলা একদিনের দাবা প্রতিযোগিতা মেরা যুব ভারতের উদ্যোগে মগরাহাটে জেলা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অপসংস্কৃতির স্রোতের বিপরীতে নাট্যচর্চার বার্তা – বাগনানে তিনদিনের নাট্য উৎসবে নজর কাড়ল বাঙালপুর বয়েজ ক্লাব দ্বীপাঞ্চলবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ: আমতায় নির্মীয়মাণ কংক্রিটের সেতুতে বাড়ছে আশার আলো মানসম্মত শিক্ষা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে কলকাতায় স্কুল ম্যানেজমেন্ট কর্মশালা জীবনে কিছু জায়গা থেকে চুপচাপ সরে আসতে হয় ১৪ই ফেব্রুয়ারি: ভালবাসার দিন হিসেবে কেন পালিত হয়? সুদ, মাদক ও জুয়ার অদৃশ্য জোট: সমাজ ধ্বংসের নীরব চক্রান্ত আদ্রায় ‘বিনা পয়সার বাজারে’ উপচে পড়া ভিড়, হাসি ফিরল অসংখ্য মুখে মেডিকেল ভর্তিতে কাট অফ বিতর্কে তোলপাড় দেশ হবু ডাক্তারদের মান, মেধা ও রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন কেরালার আদালতে নতুন অধ্যায় রচিত দৃষ্টিহীন তরুণী বিচারক গড়লেন নজির

বঙ্গভঙ্গের ১২০ বছর: কারণ ও প্রতিবাদীদের ভূমিকা

প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর ২০২৫, বিকাল ৫:৪৫ | আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০২৫, বিকাল ৫:৪৫

ড. ফিরোজ উদ্দিন

আরও পড়ুন:

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ১৯০৫ সালে লর্ড কার্জন কর্তৃক ঘোষিত বঙ্গভঙ্গ ভারতের জাতীয় চেতনায় এক নতুন জাগরণের সূচনা করেছিল। বঙ্গভঙ্গ শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ছিল না, বরং এটি ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের Devided & Rule বা ‘বিভাজন করে শাসন’ নীতির প্রকাশ। এই সিদ্ধান্ত বাংলার রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে এবং পরবর্তীকালে তা ভারতীয় জাতীয়তাবাদের ভিত্তি সুদৃঢ় করতে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন:

ঊনিশ শতকের শেষভাগে বাংলা ছিল ব্রিটিশ ভারতের সবচেয়ে বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশ। তৎকালীন বাংলার অধীন ছিল বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ, বাংলাদেশ, বিহার, উড়িষ্যা ও আসামের একাংশ। জনসংখ্যা প্রায় আট কোটি, যা প্রশাসনিকভাবে পরিচালনা করা ব্রিটিশদের কাছে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে প্রশাসনিক অজুহাতের আড়ালে ছিল রাজনৈতিক কৌশল – বাংলার হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়কে বিভক্ত করে জাতীয় ঐক্যকে দুর্বল করা।

আরও পড়ুন:

বঙ্গভঙ্গের ঘোষণা: ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর, তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড কার্জন বাংলা বিভক্তির ঘোষণা দেন। বিভাজন অনুযায়ী, পূর্ববঙ্গ ও আসাম নামে এক নতুন প্রদেশ গঠিত হয়, যার রাজধানী হয় ঢাকা। অপর অংশ পশ্চিমবঙ্গ থাকে কলকাতা কেন্দ্রিক। নতুন প্রদেশ পূর্ববঙ্গে মুসলমানের সংখ্যা ছিল অধিক, আর পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুরা ছিল সংখ্যাগুরু। ফলে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল, ব্রিটিশরা ধর্মের ভিত্তিতে এবং তাদের স্বার্থে সুকৌশলে বাংলাকে দ্বিখণ্ডিত করেছিল।

আরও পড়ুন:

বঙ্গভঙ্গের মূল কারণসমূহ:

আরও পড়ুন:

Divide and Rule নীতি: ব্রিটিশরা বুঝতে পেরেছিল, বঙ্গদেশের শিক্ষিত হিন্দু ও মুসলমান সমাজ ক্রমেই জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। একত্রে থাকলে তারা ব্রিটিশ বিরোধী শক্তি হিসেবে গড়ে উঠবে। তাই ধর্মীয় বিভাজন সৃষ্টি করে ঐক্য ভাঙা ছিল ব্রিটিশদের কৌশলগত পরিকল্পনা।

আরও পড়ুন:

রাজনৈতিক প্রভাব হ্রাস করা: কলকাতা তখন ভারতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। বঙ্গীয় জাতীয় কংগ্রেস এবং সংবাদপত্রগুলো ব্রিটিশ-বিরোধী জনমত গঠন করছিল। বঙ্গভঙ্গের মাধ্যমে সেই রাজনৈতিক চেতনা ও প্রভাবকে ভেঙে দিতে চেয়েছিল ব্রিটিশ সরকার।

আরও পড়ুন:

মুসলিম সম্প্রদায়ের সমর্থন আদায়: ব্রিটিশরা মুসলমান সমাজকে বোঝাতে চেয়েছিল যে, পূর্ববঙ্গ ও আসাম গঠনের মাধ্যমে মুসলমানদের উন্নতির সুযোগ তৈরি হবে। ঢাকাকে রাজধানী করে তারা মুসলমান নেতৃত্বকে খুশি করতে চেয়েছিল, যাতে হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের বিরোধিতা করা যায়। কিন্তু জাতীয়তাবাদী ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ মুসলিম সম্প্রদায়ের গরিষ্ঠ অংশই বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন।

অর্থনৈতিক স্বার্থ:
কলকাতাকেন্দ্রিক বাণিজ্যিক শক্তিকে দুর্বল করে নতুন প্রশাসনিক কেন্দ্র তৈরি করার মাধ্যমে পূর্ববঙ্গের সম্পদে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করা ছিল অন্যতম উদ্দেশ্য।

প্রশাসনিক অজুহাত:
ব্রিটিশ সরকার দাবি করেছিল, এত বড় প্রদেশ কার্যকরভাবে পরিচালনা করা কঠিন। যদিও ইতিহাসবিদদের মতে, এটি ছিল একটি মিথ্যা ও প্রহসনমূলক কারণ। মূল লক্ষ্য ছিল জাতিগত বিভেদ সৃষ্টি করা।

বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সূচনা:
বঙ্গভঙ্গের ঘোষণার পরপরই সমগ্র বাংলায় প্রবল প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে। হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ আন্দোলনে অংশ নেয়। ‘বন্দে মাতরম’ স্লোগান দেশপ্রেমের প্রতীক হয়ে ওঠে। ছাত্রছাত্রী, সাহিত্যিক, ব্যবসায়ী, কৃষক – সব শ্রেণির মানুষ একযোগে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেয়।

আরও পড়ুন:

আন্দোলনের প্রধান রূপগুলো ছিল:

আরও পড়ুন:

স্বদেশি আন্দোলন: বিদেশি পণ্য বর্জন এবং দেশীয় শিল্পের বিকাশের আহ্বান জানানো হয়।
বয়কট আন্দোলন: ব্রিটিশ পণ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি অনুষ্ঠান বর্জন করা হয়।
জাতীয় শিক্ষা আন্দোলন: বিদেশি শিক্ষার বিকল্প হিসেবে জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সাংস্কৃতিক আন্দোলন: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নেতৃত্বে ‘বঙ্গভঙ্গ রদ’ আন্দোলনে গান, কবিতা ও সাহিত্য দেশপ্রেমের চেতনা জাগিয়ে তোলে।

আরও পড়ুন:

বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের কারিগর ও নেতৃত্ব:

আরও পড়ুন:

লর্ড কার্জন: বঙ্গভঙ্গের মূল কারিগর ছিলেন ব্রিটিশ ভাইসরয় লর্ড কার্জন। তিনি ১৮৯৯ থেকে ১৯০৫ পর্যন্ত ভারতের ভাইসরয় ছিলেন এবং তার ‘বিভাজন নীতি’র মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য বিনষ্টের চেষ্টা করেছিলেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে ঐক্যের প্রতীক হিসেবে ‘রাখি বন্ধন উৎসব’ শুরু করেন এবং তাঁর বিখ্যাত গান ‘আমার সোনার বাংলা’ রচনা করেন, যা পরবর্তীকালে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হয়।

সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়:
বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা ছিলেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বে ‘বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেস’ স্বদেশি ও বয়কট আন্দোলনের সংগঠক কেন্দ্র হয়ে ওঠে।

অরবিন্দ ঘোষ:
তিনি বিপ্লবী চিন্তাধারার প্রবক্তা ছিলেন। তাঁর লেখা ‘বন্দেমাতরম’ পত্রিকা বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে উগ্র জাতীয়তাবাদের সুর বয়ে আনে।

আবুল কাসেম ও মুসলিম নেতারা:
কতিপয় মুসলমান নেতা প্রথমদিকে বিভাজনকে সমর্থন করলেও বৃহত্তর মুসলিম নেতৃত্ব বঙ্গভঙ্গের বিরোধী ছিলেন। তারা বুঝতে পারেন, ব্রিটিশদের উদ্দেশ্য ছিল বিভেদ সৃষ্টি করা। ফলে মুসলমান সমাজ সর্বতোভাবে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেন।
বঙ্গভঙ্গের ফলাফল: বৃহৎ আন্দোলনের ফলে ব্রিটিশ সরকার শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয় বঙ্গভঙ্গ প্রত্যাহার করতে। ১৯১১ সালে রাজা পঞ্চম জর্জের ঘোষণায় বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়। কলকাতার পরিবর্তে দিল্লিকে দেশের নতুন রাজধানী ঘোষণা করা হয়।

আরও পড়ুন:

বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের প্রধান ফলাফল:

আরও পড়ুন:

এই আন্দোলনের মাধ্যমে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়। স্বদেশি শিল্পের উত্থান: দেশীয় শিল্প ও বাণিজ্যের বিকাশ ঘটে। সাধারণ জনগণের মধ্যে ব্রিটিশবিরোধী চেতনা গভীর হয়। প্রথমদিকে কিছু সংখ্যক মুসলিম নেতৃত্বের মধ্যে বিভেদ থাকলেও পরবর্তীতে উভয় সম্প্রদায় ঐক্যবদ্ধভাবে এই আন্দোলন চালায়। বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ছিল না, এটি ছিল ভারতীয় জাতীয়তাবাদের নবজাগরণের সূচনা। ব্রিটিশদের বিভাজন নীতি সাময়িকভাবে সফল হলেও, সেই ষড়যন্ত্র শেষ পর্যন্ত ব্যুমেরাং হয়। বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি সমাজ বুঝতে পারে, ধর্মের চেয়ে জাতীয় ঐক্যই অধিক গুরুত্বপূর্ণ। লর্ড কার্জনের কূটনীতির জবাব হিসেবে জন্ম নেয় এক দৃঢ়, দেশপ্রেমিক ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন বাঙালি জাতি। বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের এই ইতিহাস আমাদের শেখায় “ঐক্যই জাতির শক্তি, আর বিভেদ কেবল ধ্বংসই ডেকে আনে’।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder