তোমাকে শুঁয়োপোকা থেকে প্রজাপতি হতে হবে
নতুন পয়গাম: চলার পথ খুব মসৃণ বা পিচ্ছিল হলে বিড়ম্বনার। যতই পা টিপে টিপে চল না কেন, বারে বারে আছাড় খেতে হয়। তাই পথ এবড়ো থেবড়ো হওয়াই শ্রেয়। পথিক হতে হলে তোমাকে পায়ে হেঁটে পথ পরিক্রমা করতে হবে। এর বিকল্প নেই। মনে রেখো, চোখ সবকিছুকে দেখতে পায় এবং আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে সবকিছু দেখিয়ে দেয়। কিন্তু চোখের ভিতরে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কিছু পড়লে চোখ সেটা দেখতে পায় না। পায়ে জুতো থাকলে নুড়ি, কাঁকর, পাথর মাড়িয়ে হেলায় অনেক পথ অতিক্রম করা যায়। কিন্তু জুতোর ভিতর নুড়ি, কাঁকর ঢুকে গেলে হাঁটা যায় না।
ঘড়ি আমাদের হাতে থাকলেও সময় কারো হাতে নেই। বাজারে কিংবা অনলাইনে সময় বিক্রি হয় না। সময় কেনার ক্ষমতা করো নেই। তুমি যদি সময়কে যথার্থ ভাবে কাজে না লাগাও, তাহলে সময় বাবাজীবন তোমাকে ছেড়ে অন্য কাউকে সময় দেবে, যে সময়ের মূল্য বোঝে। কারণ, তোমার মতো ফালতু কুড়ে লোককে সময় দেওয়ার মতো সময় তার কাছে নেই। তোমার যদি মনে হয়, এই বেশ ভাল আছি, কোনরকমে কেটে কুটে গেলেই হল, দিনগত পাপ ক্ষয়… তাহলে তুমি জীবন্ত লাশ। পরের ধাপে হবে জীবাশ্ম।
অ্যাম্বিসন না থাকলে সে কাপুরুষ অথবা কালপুরুষ। অ্যাম্বিসন বলতে হাইফাই গাড়ি, বিলাসবহুল বাড়ি, মোটা মাইনের জব… এসবই নয়:; ভালো মনের মানুষ হওয়া, জান্নাত যাওয়ার আকাঙ্খাও মস্তবড় অ্যামবিসন। নেক আমলের ওসিলায় আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের সর্বাত্মক প্রয়াস হল সবথেকে বড় অ্যাম্বিসন। এর থেকে বড় সফলতা, কামিয়াবী আর কিছুই নয়। সুতরাং আমাদের একমাত্র স্লোগান হোক, “রেজায়ে এলাহী, ফালাহে আখিরাত”। লেটস গো অ্যাহেড। আলমাইটি আল্লাহ্ উইথ আস।
নিজেকে ছোট ভেবো না। এই দুনিয়ায় কেউ খোলামকুচি নয়, কেউ অচল নয়, কেউ ফেলনা নয়। আগাছাও কিন্তু এক প্রকার গাছ। তাই আগাছা গাছেদের ক্ষতি করে না, ক্ষতি করে ফসলের। তাই ভালো ফসল পেতে হলে আগাছা নাশ করতে হবে। প্রত্যেকের পৃথক পৃথক বৈশিষ্ট্য ও গুণ আছে। বাইরে থেকে একঝলক দেখে কেউ হয়ত তোমাকে ভাবতে পারে, “প্রাচীরের ছিদ্রে এক নাম গোত্রহীন, ফুটিয়াছে ছোট ফুল অতিশয় দীন”। কিংবা লতা, গুল্ম, পরজীবী। বৎস, লোকের কথায় কী আসে যায়? সে কি জানে, তুমি অরণ্য সম্পদ, বনস্পতি?
একই মাটি, জল, হওয়ায় বেড়ে উঠলেও বিভিন্ন ফুলের রঙ, রূপ ও সুবাস আলাদা হয়। ফুল চেনে মালি আর মৌমাছি। আর মাছি চেনে নোংরা, পচা গলা দুর্গন্ধযুক্ত আবর্জনা। তাই মাছি নয়, তোমাকে হতে হবে মৌমাছি। কারণ, বিভিন্ন প্রজাতির ফুল এবং তার ভিতরে লুক্কায়িত নির্যাস বা মধু সম্পর্কে জ্ঞান রাখে মৌমাছি।
শুয়োপোকা দেখলে সবাই আঁতকে ওঠে, ঘৃণা করে। কারণ, সরীসৃপ প্রজাতির এই অঙ্গুরিমাল প্রাণী কারো গায়ে লাগলে ভীষন কুটকুট করে। চুলকে চুলকে সারা শরীর ফুলে যায়। কিন্তু এই শুয়োপোকা থেকেই জন্মায় দৃষ্টিনন্দন প্রজাপতি। এই দীর্ঘমেয়াদি বিবর্তন প্রক্রিয়ার জন্য শুঁয়োপোকা নিজের অস্তিত্ব এবং স্বরূপ বিলীন করে দেয়। সুতরাং আজ হয়ত তুমি অনেকের কাছে শুঁয়োপোকা, কাল কিন্তু নিজের অধ্যবসায় ও সাধনার জোরে তুমিই হতে পার প্রজাপতি।
যারা তোমাকে দেখতে পারে না, তারা দাঁড়িপাল্লা নিয়ে মাপবে যে, তোমার চলন কতটা ভারী! যারা তোমার ছায়া মাড়ায় না, রোদে টাক ফেটে চৌচির হয়ে গেলেও তারা তোমার ধারেকাছে ঘেঁসবে না। তুমি যাদের দু চোখের বিষ, পান থেকে চুন খসলে তারা তোমার চোদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করে দেবে কিন্তু তোমার চোখে চোখ রেখে কথা বলার হিম্মত হবে না। তুমি যত ভালোই হও, যতই সুবোধ বালক হও, তারা বলবে এত ভালো ভালো নয়, স্মার্ট নয়, আজকের দিনে অচল।
সুতরাং যতই করো, মানুষকে তুমি খুশি করতে পারবে না। দরকারও নেই। তেলা মাথায় তেল দিয়ে লাভ নেই। তুমি বরং নিজের চরকায় তেল দাও। আর তোমার একমাত্র নিয়ত বা সংকল্প হোক, আল্লাহকে খুশি বা সন্তুষ্ট করা।








