বিশ্ব জোড়া পাঠশালা।
মনিরা বেগম
জীবনের সর্বস্তরে শিক্ষালাভের জন্য শুধু সিলেবাস নির্ভর পুঁথি শিক্ষা যথেষ্ট নয়। জীবনকে সর্বাঙ্গ সুন্দর করে গড়তে হলে আমাদের শিক্ষা নিতে হয়- প্রকৃতি, পরিবার ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন মানুষের কাছে। প্রকৃতি যেমন অনুকূল পরিস্থিতিতে চলতে শেখায় তেমনি প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে শেখায়। আমার জীবনের মস্ত বড় শিক্ষা পেয়েছিলাম কাটা কলা গাছকে আঁকড়ে ধ’রে জলের মধ্যে ভেসে থাকার প্রচেষ্টায়। পরবর্তীতে হয়েছিলাম দক্ষ সাঁতারু। পিঁপড়ের কাছ থেকেও আমরা দলবদ্ধ হওয়ার শিক্ষা পায় । মৌমাছির কাছ থেকে সময়ের মূল্যের শিক্ষা পায় । বাবুই পাখির কাছ হতে
নিজ হাতে তৈরি খাসা বাসার, শান্তি শিক্ষা পাই।
আমার নৈতিক শিক্ষা সম্পন্ন হয়েছিল দিদিমা -ঠামের কাছ থেকে। আজও যা আমার জীবনকে সমৃদ্ধ করে। মায়ের কাছে পেয়েছিলাম সচেতনতার শিক্ষা ।
মা বলতেন,
দুষ্টু লোকের মিষ্টি কথা
ঘনিয়ে বসে কাছে ।
কথা দিয়ে কথা নেয়
পরাণ মারে শেষে।
এই শিক্ষা আজ ও আমায় সুস্থ ,সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার পাথেয় যোগায়।
একান্নবর্তী পরিবারের মানুষ হয়ে শিখেছি , খাবার ভাগ করে খাওয়ার শিক্ষা। চলনে -বলনে শৃঙ্খলার শিক্ষা। গুরুজনদের সম্মান দেওয়ার শিক্ষা।
সহচরীদের কাছ থেকে পেয়েছি অভিযোগ নয়, সহযোগিতার শিক্ষা। আমাদের নিশি পাহারারত ভুলুটা, আমায় রাত্রি জেগে বিদ্যালয়ে শ্রেণি শিক্ষার প্রতি দায়িত্বশীলা হতে শিখিয়েছিল। কোকিলের তান শুনে গান শেখার সাধ জেগে ছিল মনে। আর তা সার্থক হয়েছে জহর দাদার একনিষ্ঠ যত্নে।
আমরা প্রকৃতি ও পরিবারের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত নিত্যনতুন শিক্ষা গ্রহণ করি ।তাই বিশ্বজোড়া পাঠশালা মোদের।








