BREAKING:
নতুন প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল পুরভোটের পর মহারাষ্ট্রে রিসর্ট রাজনীতি! ঘোড়া কেনাবেচার ভয়ে জয়ীরা হোটেল-বন্দি প্রসঙ্গ: বাংলায় মুসলমানদের অবদান আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে জামাআতের সেমিনার শিক্ষায় ইসলামের ঐতিহাসিক অবদান ও বর্তমান প্রাসঙ্গিকতা শিক্ষা কি কেবল চাকরির সিঁড়ি? প্রতিরক্ষা খাতের নিয়ন্ত্রণ কি বিদেশের হাতে? এফডিআই-এর সীমা বাড়িয়ে ঝুঁকির মুখে কেন্দ্র মালদা-মুর্শিদাবাদে দাঙ্গার কারণ অনুপ্রবেশ: মোদি ডিএ মামলার রায় এত প্রলম্বিত হচ্ছে কেন? বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূলের উন্নয়নের পাঁচালী, চুঁচুড়ায় সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রীর সভার আগেই পোস্টার পড়ল, দাবি নতুন রেল স্টেশনের কালিয়াচক কলেজের উদ্যোগে ‘ফিট ইন্ডিয়া ম্যারাথন রেস’, রাজ্য ও ভিনরাজ্যের প্রতিযোগীদের অংশগ্রহণ ৮০ জনেরও বেশি বিশেষভাবে সক্ষম মানুষের অভিনয়ে ব্যতিক্রমী চলচ্চিত্র ওয়ান লিটল ফিঙ্গার কালিয়াচক বনি চাইল্ড মিশনে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা: উচ্ছ্বাসে মাতলো ছাত্রছাত্রীরা টিটোয়েন্টি থেকেও ছিটকে গেলেন সুন্দর, বিশ্বকাপেও অনিশ্চিত ম্যাচ জিতলেও, হতাশ করলো বৈভবরা বিতর্কিত নাজমুল ইসলামকে বহিষ্কার করলো বিসিবি সপ্তগ্রামের কেষ্টপুরে ৫১৯ বছরের অভিনব মাছের মেলা, ভোর থেকেই ক্রেতাদের ভিড়ে জমজমাট ভুল বিধানসভা কেন্দ্রের উল্লেখে এসআইআর নোটিশ ধূপগুড়ি রেলওয়ে স্টেশনে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের স্টপেজের দাবিত অবস্থান বিক্ষোভ! খুদেদের উদ্যোগে অভিনব ফুড ফেস্টিভ্যাল, উৎসবে মাতলো তারঘেরা এস পি প্রাইমারি স্কুল জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিবাদ কর্মসূচি, শাসক দলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ হুমায়ুন কবিরের কান্দিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সভা ইমাম সংগঠনের উদ্যোগে ডেটা অ্যানালিসিস ও এআই বিষয়ক কর্মশালায় নতুন দক্ষতার আলোকপাত এসআইআর নোটিশ ঘিরে উত্তাল মাটিয়া, দিনভর টাকি রোড অবরোধ বয়স মাত্র দশ বছর কিন্তু সাফল্যের নিরিখে সে অনেক বড়দেরও অনুপ্রেরণা  সুন্দরবনের মৈপীঠে অবাধে ম্যানগ্রোভ নিধন চলছে, প্রশাসন নির্বিকার সমুদ্রের জলের স্তর মাপতে গঙ্গাসাগরে ব্যবহার হচ্ছে রিমোট অপারেটেড ভেহিকেল এসআইআর ঘিরে উত্তেজনা ভাঙড়ে, রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ এসআইআর প্রক্রিয়ার নামে হেনস্থার অভিযোগ মকর সংক্রান্তিতে গঙ্গাসাগরে রেকর্ড জনসমাগম নলহাটি ২নং ব্লকে SIR তালিকায় ৩১ হাজার গরমিল আজ শুরু ছোটদের বিশ্বকাপ, প্রথম দিনেই মাঠে নামছে ভৈবরা ব্যর্থ বিরাট, ব্যর্থ ভারতও; কাজে এল না রাহুলের দুরন্ত সেঞ্চুরি শীর্ষে বিরাট, ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে ড্যারিল মিচেল ইন্দাসে আনুমানিক ৪০০ বছরের পুরানো শ্রী শ্রী বাঁকুড়া রায়ের কুড়চি মেলার শুভ উদ্বোধন ভাঙড়ে আইএসএফ-তৃণমূল সংঘর্ষ, আহত উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী কালিয়াচক কলেজের উদ্যোগে ‘ফিট ইন্ডিয়া ম্যারাথন রান আরামবাগে পঞ্চদশ বর্ষের গ্রন্থমেলা ও নাট্যোৎসব ২০২৬ বেশ জমে উঠেছে শীতের রাতে ভরসা হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিশ কর্মসংস্থান ও শিল্পে ব্যর্থতার অভিযোগ, পূর্ব বর্ধমানে তৃণমূলকে আক্রমণ অগ্নিমিত্রা পলের কালিয়াচকে শীতবস্ত্র বিতরণ: দুঃস্থদের পাশে সুজাপুরের আব্দুল হান্নান বিলুপ্তির পথে কালিয়াচকের শেরশাহি ও মোথাবাড়ির বাবলা এলাকার ঐতিহ্যবাহী তাত শিল্প ছবি এঁকে দিল্লিযাত্রা কৃতি ছাত্র ইমরানের পৌষের শেষে ফসল ঘরে, ধর্ম ও সংস্কৃতির মিলনে গ্রামবাংলায় মকর সংক্রান্তির উৎসব শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে নায়ক রাজা। হরমনপ্রীতের দুরন্ত ব্যাটিংয়ে উড়ে গেল দিল্লি ক্যাপিটালস আজ জিতলেই সিরিজ ভারতের, বেগ দিতে মরিয়া নিউজিল্যান্ডও বাংলাদেশের দাবিকে নস্যাৎ করলো আইসিসি বার্সার কাছে হেরে চাকরি হারালেন রিয়াল কোচ জাভি আলান্সো জগন্নাথ ধাম শুধুমাত্র পুরীতে দিঘায় নয়, দাবি পুরীর শঙ্করাচার্যের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্ মুহুর্তে গেরুয়া শিবিরে ভাঙ্গন ধরালো ঘাসফুল শিবির খাদ্যের লোভে লোকালয়ে হাতির হানা, আতঙ্ক এলাকা জুড়ে চাঁচল সিদ্বেশ্বরী ইনস্টিটিউশনে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার (চতুর্থ সেমেস্টার) প্রস্তুতি সভা বিভিন্ন দল ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিল দশটি পরিবার মেলেনি লক্ষীর ভান্ডার, বার্ধক্য ভাতা, অবিবাহিত বৃদ্ধার নতুন ঘর বানিয়ে দিল আনসারী, সাগর, সুজনরা ভোটার তালিকায় সন্দেহভাজন ভোটার, নাম বাদ দেওয়ার দাবিতে চুঁচুড়ায় বিজেপির বিক্ষোভ চুঁচুড়ার একটি এসআইআর শুনানি কেন্দ্রে এসে ক্ষোভ উগরে দিলেন এক বৃদ্ধা সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রীর সভা, তার আগেই শিল্প চাই বলে ব্যানার পড়ল “সৃজন” এর উদ্যোগে তিন দিনের নাট্য উৎসব ও সংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা রক্তদান ও প্রতিবন্ধীদের কৃত্রিম অঙ্গ প্রতঙ্গ বিতরণ শিবির সুনীতা উদ্যোগে ইরানের সঙ্গে বৈঠকের তোড়জোর চলছে: ট্রাম্প পিঠ চুলকে বিপুল আয়, পেশার নাম ‘স্ক্র্যাচ থেরাপি’ ডিব্রুগড়ে চা জনগোষ্ঠীকে ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্তির দাবি সন্তান লালন-পালনে করণীয় ও বর্জনীয় নতুন ঠিকানায় প্রধানমন্ত্রীর দফতর সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দিয়ে গাজাবাসীকে পাঠানোর ছক নেতানিয়াহুর এআই নিয়ে মধ্যমপন্থার পক্ষে কেন্দ্র নীতীশের হিজাব সরানো আসলে কী বলছে রাষ্ট্রকে? ছাত্র সংগঠন এসআইও-র উদ্যোগে রানীনগর-২ ব্লকে মাধ্যমিক পরীক্ষা প্রস্তুতি শিবির বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মৃত্যু ছেলের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে স্বামী বিবেকানন্দের ১৬৪ তম জন্মদিন পালন কবি রমেন্দ্র কুমার আচার্য্যচৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার পেলেন কবি ও গল্পকার মানসী কবিরাজ পড়ুয়া ও শিক্ষক সংকটে ধুঁকছে সরকারি বিদ্যালয় ধর্মের মেরুকরণ নয়, মানবিক ভারত গড়ার আহ্বান স্বামীজির জন্মজয়ন্তীতে যাদবপুর (বাঘাযতীন) স্টেশনে ভয়াবহ আগুন, পুড়ে ছাই একাধিক দোকান তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীরা অবৈধ ব্যবসা টিকিয়ে রাখতেই রাজনীতিতে এসেছে : হাসিবুল ইসলাম মুম্বাইয়ে পিটিয়ে খুন পরিযায়ী শ্রমিক জাতীয় যুব দিবসে ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং ও বিশেষ যুবসমাবেশ আল-আমীন প্রত্যয় ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শীতার্তদের কম্বল বিতরণ নারী সুরক্ষায় পুলিশের মানবিক উদ্যোগ সাড়ম্বরে পালিত হল স্বামী বিবেকানন্দের ১৬৩তম জন্মবার্ষিকী ধূপগুড়িতে বিজেপির প্রতিবাদ মিছিল বারুইপুরে বঙ্গীয় সংখ্যালঘু পরিষদের বার্ষিক অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রস্তুতি মিটিং অনুষ্ঠিত মহাকাশে বাড়ছে আবর্জনার ঝুঁকি মহাবিশ্বের নতুন রহস্য ‘ব্যর্থ ছায়াপথ’ ‘জেনারেশন গ্যাপ’ — সম্পর্কের বোঝাপড়ায় চ্যালেঞ্জিং সঠিক সময়ে রাতের খাবার খাওয়া কেন জরুরি? ইরানে ইসলামী বিপ্লব ও রাজতন্ত্রের অবসান আল-আমীন শামসুন একাডেমিতে শিক্ষক প্রশিক্ষণ শিবির কালিয়াচকে আজাদ সমাজ পার্টির যোগদান সভা আইপ্যাকের দপ্তরে ইডি হানা, প্রতিবাদ মিছিলে বিজেপি কর্মীদের সাথে পুলিশের ধস্তাধস্তি রঘুনাথগঞ্জে ‘নতুন দিশা’ কো-অপারেটিভ সোসাইটির শুভ উদ্বোধন জয়নগরের মোয়ার গুণগত মান যাচাইয়ে খাদ্য দফতরের অভিযান শীতের রবিবার মানেই পিকনিকের ঢল, জমজমাট ক্ষেতী মুজাফফর ফরেস্ট ভাঙড়ে আইএসএফের রক্তদান শিবির ঘিরে তৃণমূল-আইএসএফ সংঘর্ষ, আহত উভয়পক্ষের একাধিক এসআইআর এ সবচেয়ে বেশি নাম বাদ যাবে মতুয়াদের, এই আতঙ্কে মতুয়ারা দিশেহারা: মমতাবালা মাধ্যমিক পরীক্ষা প্রস্তুতি শিবির ২০২৬ লোহাপুরে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে সুপার কাপ জিতলো বার্সেলোনা, নায়ক রাফিনহা ভারত-নিউজিল্যান্ড ম্যাচে ‘বাংলাদেশ’ যোগ, আবার বিতর্ক

ডিএ মামলার রায় এত প্রলম্বিত হচ্ছে কেন?

প্রকাশিত: ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, বিকাল ৫:৪২ | আপডেট: ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:০০
ডিএ মামলার রায় এত প্রলম্বিত হচ্ছে কেন — এ প্রশ্নটি আজ আর কেবল আইনি কৌতূহলের বিষয় নয়; বরং তা পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীর দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক গভীর সামাজিক ও নৈতিক প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।

মহম্মদ মফিজুল ইসলাম: ডিএ মামলার রায় এত প্রলম্বিত হচ্ছে কেন — এ প্রশ্নটি আজ আর কেবল আইনি কৌতূহলের বিষয় নয়; বরং তা পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীর দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক গভীর সামাজিক ও নৈতিক প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। প্রায় এক দশক ধরে চলা এই মামলা নানা পর্যায় পেরিয়ে অবশেষে শুনানি সম্পূর্ণ হয়েছে প্রায় তিন মাস আগে। আদালতের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর প্রত্যাশা ছিল, এবার অন্তত একটি চূড়ান্ত রায় মিলবে। অথচ সেই রায় এখনও অধরা। এই দীর্ঘ প্রতীক্ষার কারণ কী? কোথায় আইনি জটিলতা? পক্ষে ও বিপক্ষে কোন যুক্তিগুলি আদালতের বিবেচনায় রয়েছে? এবং এই অনিশ্চয়তা রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্ককে কোন দিকে নিয়ে যাচ্ছে — এ প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতেই আজ এই আলোচনা।
ডিএ বা মহার্ঘ ভাতা কোনও দয়া বা অনুগ্রহ নয়, এটি কর্মচারীর বেতনেরই এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা মূল্যবৃদ্ধির অভিঘাত থেকে ন্যূনতম সুরক্ষা দেওয়ার জন্য নির্ধারিত। সংবিধানের ১৪ ও ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের আলোকে ‘সমান কাজের জন্য সমান বেতন’ এবং সম্মানজনক জীবনযাপনের অধিকার এই ভাতার নৈতিক ভিত্তি তৈরি করে। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা যখন মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নির্দিষ্ট হারে ডিএ পাচ্ছেন, তখন রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বৈষম্য স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের জন্ম দেয়। এই বৈষম্য থেকেই মামলার সূত্রপাত, যা ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছে এক জটিল সাংবিধানিক ও আর্থিক বিতর্কে।
এই মামলার প্রধান আইনি প্রশ্নটি খুব সরল দেখালেও তার অন্তর্গত স্তরগুলি অত্যন্ত জটিল। রাজ্যের যুক্তি হল, রাজ্য সরকার কেন্দ্রের সমান ডিএ দিতে সাংবিধানিকভাবে বাধ্য নয়। রাজ্যের আর্থিক সক্ষমতা, রাজস্ব কাঠামো ও দায়বদ্ধতা কেন্দ্রের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। অতএব কেন্দ্রীয় হারের সঙ্গে রাজ্য হারের তুলনা করা যুক্তিসঙ্গত নয়। অপরদিকে কর্মচারী পক্ষের যুক্তি বলছে, মূল্যবৃদ্ধি দিল্লি ও কলকাতার জন্য আলাদা হয় না, বাজারের আগুনে পুড়তে হয় সবাইকেই। একই দেশে বসবাস করে একই মুদ্রাস্ফীতির চাপ সহ্য করে যদি এক শ্রেণি পূর্ণ ডিএ পায়, তবে অন্য শ্রেণিকে বঞ্চিত করার নৈতিক ও সাংবিধানিক ভিত্তি কোথায়?
এই দ্বন্দ্বের মধ্যেই আদালতকে দাঁড় করাতে হয়েছে নিজেকে। কারণ, এটি কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বৈধতা যাচাইয়ের মামলা নয়; বরং এর প্রত্যক্ষ আর্থিক প্রভাব রাজ্যের কোষাগারের উপর বিপুল। আদালতের একটিমাত্র নির্দেশে রাজ্য সরকারকে কয়েক হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত দায় নিতে হতে পারে — এই বাস্তবতা অস্বীকার করার উপায় নেই। বিচারব্যবস্থার ইতিহাস বলছে, যে সব মামলার রায়ের সঙ্গে বৃহৎ আর্থিক দায় জড়িয়ে থাকে, সেখানে আদালত স্বাভাবিকভাবেই অধিক সতর্ক হয়। তড়িঘড়ি রায় দেওয়ার বদলে প্রতিটি যুক্তি, প্রতিটি নজির, প্রতিটি সাংবিধানিক ব্যাখ্যা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা হয়।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল, এই মামলার নজিরমূলক চরিত্র। ডিএ সংক্রান্ত এই রায় ভবিষ্যতে শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, অন্যান্য রাজ্যগুলির ক্ষেত্রেও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে পারে। যদি আদালত কেন্দ্রীয় হারের সঙ্গে রাজ্য ডিএ-র সামঞ্জস্য বাধ্যতামূলক বলে ঘোষণা করে, তবে বহু রাজ্য একই দাবির মুখে পড়বে। ফলে এটি কার্যত একটি জাতীয় স্তরের নীতি নির্ধারণের প্রশ্নে পরিণত হচ্ছে। বিচারপতিরা ভালভাবেই জানেন, এই রায়ের প্রতিটি বাক্য ভবিষ্যতে অসংখ্য মামলায় উদ্ধৃত হবে।
শুনানি শেষ হওয়ার পর রায় সংরক্ষিত থাকার অর্থ এই নয় যে, বিচারকরা নিষ্ক্রিয় রয়েছেন। বাস্তবে এই সময়টাই বিচার প্রক্রিয়ার সবচেয়ে কঠিন ও শ্রমসাধ্য পর্যায়। একাধিক বিচারপতির বেঞ্চ হলে প্রত্যেকের আলাদা আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি, ব্যাখ্যা ও নোট থাকে। কখনও কখনও সংখ্যাগরিষ্ঠ মত ও সংখ্যালঘু মতের খসড়া তৈরি হয়। এই মতপার্থক্য মেটাতে সময় লাগে। তাছাড়া সুপ্রিম কোর্ট ও বিভিন্ন হাই কোর্টের পূর্ববর্তী রায়গুলি বিশদে পর্যালোচনা করে দেখতে হয়, কোন নজির এখানে প্রযোজ্য, কোনটি নয়।
এখানে আরেকটি সূক্ষ্ম আইনি জটিলতা রয়েছে। ডিএ কি মৌলিক অধিকার, নাকি এটি সম্পূর্ণরূপে নীতিগত সিদ্ধান্ত? যদি আদালত একে নীতিগত সিদ্ধান্ত বলে মেনে নেয়, তবে সরকারের বিবেচনাধিকার অনেকটাই অক্ষুণ্ণ থাকে। আবার যদি আদালত মনে করে, ডিএ বঞ্চনা জীবনযাত্রার অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করছে, তবে হস্তক্ষেপ অবশ্যম্ভাবী। এই দুই ব্যাখ্যার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আদালতকে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নিতে হচ্ছে।
রায় বিলম্বিত হওয়ার পেছনে প্রশাসনিক বাস্তবতাও রয়েছে। আদালতের উপর মামলার চাপ, বিচারপতির স্বল্পতা, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক মামলার একসঙ্গে শুনানি — সব মিলিয়ে বিচারব্যবস্থার সময়সূচি অত্যন্ত ঘন। তবে এই যুক্তি যতই বাস্তব হোক, দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষমাণ কর্মচারীদের কাছে তা সান্ত্বনা দিতে পারে না। তাঁদের কাছে প্রতিটি মাস মানে আরও কিছু আর্থিক ক্ষতি, আরও কিছু অনিশ্চয়তা।
এই দীর্ঘসূত্রিতা রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের আস্থাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলছে। যখন একটি মামলা শুনানি শেষ হওয়ার পরেও মাসের পর মাস রায় ঝুলে থাকে, তখন সাধারণ মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ জন্মায়, কোথাও কি অদৃশ্য চাপ কাজ করছে? যদিও এই ধারণার পক্ষে সরাসরি প্রমাণ নেই, তবু গণতন্ত্রে আস্থার সংকট তৈরি হওয়াটাই সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক।
সমাধানের পথ একাধিক। প্রথমত, বিচারব্যবস্থার পরিকাঠামো শক্তিশালী করা জরুরি, যাতে সংরক্ষিত রায় দীর্ঘদিন ঝুলে না থাকে। দ্বিতীয়ত, সরকার ও কর্মচারী সংগঠনের মধ্যে আন্তরিক আলোচনার মাধ্যমে অন্তর্বর্তী কোনও সমাধান খোঁজা যেতে পারে, যাতে চূড়ান্ত রায়ের আগেই কিছুটা স্বস্তি মেলে। তৃতীয়ত, ডিএ নির্ধারণের জন্য একটি স্বচ্ছ ও স্থায়ী সূত্র প্রণয়ন করা প্রয়োজন, যা রাজনৈতিক সদিচ্ছার উপর নির্ভরশীল থাকবে না।
ডিএ মামলার রায় কেবল একটি অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত হবে না; এটি হবে রাষ্ট্রের নৈতিক অবস্থানের ঘোষণা। এই রায়ের মাধ্যমে আদালত জানিয়ে দেবে, মূল্যবৃদ্ধির যুগে শ্রমের মর্যাদা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই রায়ের প্রতীক্ষা শুধু আদালতের করিডোরে নয়, প্রতিটি কর্মচারীর রান্নাঘরে, প্রতিটি পরিবারের মাসিক বাজেটে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। যত দেরিই হোক, প্রত্যাশা একটাই — রায় হবে যুক্তিনিষ্ঠ, মানবিক ও ন্যায়সঙ্গত। কারণ, বিচার দেরিতে হলেও তা যেন অস্বীকারে পরিণত না হয়।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder