ট্রফি তুমি কার!
অপেক্ষার অবসান আর কয়েক ঘন্টায়, বিশ্বকাপ পাবে নতুন চ্যাম্পিয়ন।
এম. রহমান, নতুন পয়গাম, কলকাতা:
ক্রিকেটে ভারত বরাবরই পরাশক্তি,কিন্তু আশ্চর্যজনক-ভাবে ছেলেরা একাধিক বিশ্বকাপ জিতলেও,ভারতের মহিলাদের ঝুলিতে একটাও বিশ্বকাপ নেই।এবার কি সেই আক্ষেপ ঘুঁচবে?
উত্তর পেতে আরও কয়েকঘন্টা অপেক্ষা করতে হবে।তবে এই দূরত্ব এবার ঘুচিয়ে দিতে তৈরি হরমনপ্রীত কাউর-জেমাইমা রড্রিগেজরা। রবিবার নভি মুম্বইয়ের ডি ওয়াই পাতিল স্টেডিয়ামে ক্রিকেট বিশ্বকাপের ফাইনালে তাঁদের প্রতিপক্ষ শুধুই দক্ষিণ আফ্রিকা নয়, পুরুষশাসিত সমাজও। এখনও ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে কন্যাসন্তান জন্ম নিলে মাকে দোষারোপ করা হয়। এরকম অজস্র উদাহরণ আছে। তবে রিচা ঘোষ-স্মৃতি মান্ধানারা যাবতীয় ব্যবধান মুছে ফেলতে বদ্ধপরিকর। ইতিহাসে তাঁরা পড়েছেন রানি লক্ষ্মীবাঈ, রানি পদ্মিনী, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার কিংবা মাতঙ্গিনী হাজরার কথা। দেশের জন্য আত্মবলিদানের মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তাঁরা রিংটোন সেট করেছেন, ‘হাম কিসিসে কম নেহি’।
রবিবার ফাইনালে কে ফেভারিট তা নিয়ে ক্রিকেট কলমচিদের তর্ক জারি থাকুক। কিন্তু মানতেই হবে, নীল জার্সির জন্য এই মুহূর্তে আবেগে ভাসছে আসমুদ্রহিমাচল। প্রস্তুতিতে কোনও খামতি নেই স্মৃতিদের। জোর কদমে চলছে প্রোটিয়া বধের মহড়া। কোচের পোশাকি নাম অমল মুজুমদার। কিন্তু আমরা জানি, তিনি চাণক্যও হতে পারেন। আবার মাস্টারদা সূর্য সেনও। নেলসন ম্যান্ডেলার দেশের যাবতীয় জারিজুরি কীভাবে নিষ্ক্রিয় করতে হয় তা জানেন খাড়ুশ মুম্বইকর।
এর আগে কোনওদিন বিশ্বকাপ জেতেনি টিম ইন্ডিয়ার প্রমীলা-ব্রিগেড। পঞ্চাশ ওভারের ফরম্যাটে তীরে এসে তরি ডুবেছে দু’বার (২০০৫, ২০১৭)। সেই দলের ক্যাপ্টেন মিতালি রাজ বলেছেন, ‘আমরা স্বপ্ন দেখিয়েছিলাম। আর হরমনপ্রীতরা আশার আলো উজ্জ্বল করেছে। রবিবার তাই শুধু স্মৃতিরা খেলবে না, খেলব আমরাও। যাবতীয় অভিজ্ঞতার ঝুলি নিয়ে ওদের সঙ্গে থাকব।’
গ্রুপ লিগে এই দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হার মানতে হয়েছিল টিম ইন্ডিয়াকে। কিন্তু এখন সেই পরিসংখ্যান তুললে রে রে করে তেড়ে আসছেন সব্বাই। মুখে মুখে আন্দোলিত হচ্ছে নেভিল কার্ডাসের সেই ইউনিভার্সাল ট্রুথ, ‘স্কোরশিট ইজ অ্যান অ্যাস।’ আসলে সেমি-ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর শুধু রাধা-গৌড়রা নন, দেশবাসীও আর পিছনে তাকাতে নারাজ।
লিখতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা নেই, বৃহস্পতিবারের পর ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীরা প্রমীলা-ব্রিগেড নিয়েই খোঁজখবর রাখছেন। অস্ট্রেলিয়ায় সূর্যকুমার যাদবদের পারফরম্যান্স নিয়ে তেমন আলোচনা নেই। বাজারে কিংবা চায়ের দোকানে ঘুরে বেড়াচ্ছে স্মৃতি-জেমাইমাদের চোয়ালচাপা লড়াই। কারণ, হারার আগে হারতে যে জানে না ভারতের এই দল। শতরান বা পাঁচ উইকেট নিয়ে উল্লাস প্রকাশ হরমনপ্রীত-ব্রিগেডের লক্ষ্য নয়। তাঁরা জানেন, ইয়ে ইন্ডিয়া মাঙ্গে মোর। তাই দলের জয়, দেশের জয়ের জন্য মাঠে প্রাণ দিতে প্রস্তুত প্রত্যেকে। ম্যাচ শুরুর আগে ডান হাতটা হৃদয়ের উপর রেখে জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে যুদ্ধ শুরু করতে চান স্মৃতিরা। জিততে যে তাঁদের হবেই।
অপেক্ষা এক নতুন রূপকথার।
অপরদিকে প্রথমবার ট্রফির স্বাদ মরিয়া দক্ষিণ আফ্রিকাও।ভারতের মেয়েদের লক্ষ্য যেখানে পুরুষদের অনুসরণ, সেখানে দক্ষিণ আফ্রিকার লক্ষ্য ছেলেদের আক্ষেপ মেটানো।কারন বার বার দরী ডুবেছে দক্ষিণ আফ্রিকার পুরুষ দলের।








